স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।
ফেসবুক স্টাটাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফেসবুক স্টাটাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঢাবির শেষ ক্লাস

আজ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ ক্লাস ছিল। আমি যাই নি। দুপুরে ক্লাসমেট রাকিব এসে শেষ ক্লাসের বর্ণনা দিল। 

প্রেমে সেঞ্চুরি করা আমাদের সাগর নাকি আক্ষেপ করেছে, অনার্স মাস্টার্সের পাঁচ বছরে সে কোনো মেয়ের হাত ধরে ক্যাম্পাসে হাঁটতে পারে নি! সাগরের আশা পূরণ করার জন্য ম্যাডাম ক্লাসের মেয়েদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আরো নানান গল্প শুনে আমার একটু আধটু আফসোস হচ্ছিল, ধুর! কষ্ট হলেও যাওয়ার দরকার ছিল। 

তারপর দিনভর দেখলাম ফেসবুকজুড়ে বন্ধুদের শেষ ক্লাসের সেলফি, গল্প আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ। সবার ভেতরে হাহাকার। সকলেই বিষণ্ন। আমি কোনো শূন্যতা বোধ করছি না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার ছিল, আমার আছে। 

পুনশ্চ: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাসেও আমি অনুপস্থিত ছিলাম।

ফেসবুক 

ভালোবাসার ডাব

মেয়েটা ছেলেটাকে ডাব কিনে দিয়েছে। ছেলেটা খাচ্ছে, মেয়েটা গভীর মমতায় তাকিয়ে আছে। আগ্রহভরে খাওয়ার ভঙ্গিতে ছেলেটাকে শিশুর মতো লাগছে।
মেয়েটা ভাবছে, 'আহারে, ছেলেটা ঠিক মতো খায় না!'
ছেলেটা মনে মনে বলছে, 'বেঁচে থাকা এমন খারাপ কিছু না, আরো কিছুদিন পৃথিবীতে থাকা যায়...'


ফেসবুক

গান

রাতে অফিস থেকে ফিরছিলাম। লালবাগের একটু ভিতরে গলির মোড়ে এক রিকশাওয়ালা ভাই আরাম করে বিশ্রাম নিচ্ছেন। জামাটা খুলে ঘাড়ের ওপর রাখা। বাতাস লাগাচ্ছেন গায়।

তিনি হঠাৎ গান গেয়ে উঠলেন, ‘চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে…’
মনির খানের এই গানটা কেন জানি ছোটবেলায় আমার খুব প্রিয় ছিল। এখনো গানটা মুখস্ত আছে। একটু সামনে এসে আমিও আপন মনে গান ধরলাম,
‘দুই টাকার চাকরি ছাড়ি
তুমি ফিরে এসো বাড়ি
আমি গাঁয়ের মেয়ে অনেক সুখি একটু নুন আর ভাতে,
চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে…’


ফেসবুক 

রমজান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

টিএসসিতে প্রেমিকার সাথে ইফতার করলেন তিনি। প্রেমিকা নিজের হাতে ইফতারি বানিয়ে এনেছেন। ভালোবাসায় ভরপুর সেই ইফতারে তৃপ্ত প্রেমিক। মহা উৎসাহে সেই গল্প বললেন। অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট, তার মতো সুখী বোধহয় এই মুহূর্তে কেউ নেই।

আমি বলি, ‘তাকে বিয়ে করে ফেলেন। চূড়ান্তভাবে আপন হওয়ার আগে এই ভালোবাসায় সুখী হবার কিছু নেই। হারানোর ভয় তো আছে। আর রোজা রেখে এভাবে প্রেমিকাকে অনুভব করে ইফতার করা ইসলামের দাবি পূরণ করবে?’

তিনি একটু মন খারাপ করলেন। বললেন, ‘আরে ভাই, ইফতারির মধ্যে ধর্ম টেনে আনছেন কেন?’

সত্যিই তো! সবকিছুর মধ্যে ধর্ম টেনে আনার দরকার কী? ধর্ম আলাদা জিনিস। সেটা তার মতো থাকুক। আমি আমার মতো থাকি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো আমাদের কাছে উৎসব। ইফতারি উৎসব, ঈদ উৎসব। এগুলো আনন্দের উপকরণ, আলাদা কোনো চেতনা নেই!

ভুলোমনা ও অলসতার ভোগান্তি

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ল্যাপটপে একটু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ওয়ারেন্টি আছে। সার্ভিসিং সেন্টারে যাওয়া দরকার। আজ যাই কাল যাই করে গেলাম অক্টোবরের শেষ দিকে। নতুন হার্ডডিস্ক লাগিয়ে দিলেন। আর বললেন, একটা স্ক্রু পার্টস বাকি আছে। ওটা এখন নাই। কিছুদিন পরে এসে লাগিয়ে নিয়ে যাবেন।

তারপর আমি আর সমস্যা বোধ করি নি। ওটার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। মাঝে মধ্যে অবশ্য মনে হয়েছে। ভেবেছি একসময় যাবো। এর মধ্যে ডিসেম্বরে ল্যাপটপের ওয়ারেন্টি মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মাসখানিক ধরে দেখছি, ল্যাপটপ ভাঁজ করার সংযোগ স্থল একটু ফাঁকা হয়ে গেছে।


বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০১৪

এক রুমে আমরা দুইজন থাকি। আমার রুমমেট Himel আর্জেন্টিনার সমর্থক। তবে ক্রেজি সাপোর্টার বলতে যা বোঝায়, তা তিনি নন। নীরবে মেসির দলকে সমর্থন করেন। আর্জেন্টিনার খেলার সময় উচ্চবাচ্য না করে অধীর আগ্রহে খেলা দেখেন। দল জেতার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।

রুমমেটের এই সমর্থন নিয়ে আমার চিন্তা-ভাবনা মাথাব্যথা ছিল না। জার্মানির সমর্থক আমি তুমুল বিতর্ক আর সমালোচনার ঝড় তুলতাম পাশের রুমের দুইজন ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার ক্রেজি সমর্থকের সাথে। আমি দুজনকেই ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করতাম। ওই দুজন নিজেরা বাদানুবাদ করার পর আর্জেন্টিনার সমর্থক আমার রুমে আসতেন। সহমতের রুমমেটের সাথে কথা বলে সান্ত্বনা খুঁজতেন। এসব আমার নজরে পড়লেও রুমমেটের সাথে খেলা নিয়ে খুব একটা কথা হতো না। আমার বচসা চলতো ওদের রুমে গিয়ে ওদের সাথে।

আজ বাসায় ফিরে অবাক হয়ে লক্ষ করি, আমার রুমমেট আর্জন্টিনার জার্সি গায়ে দিয়ে আছেন। হঠাৎ যেন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। মুহূর্তেই আমরা খেলা নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠি। তারপর কী বিস্ময়ে খেয়াল করি, বিশ্বকাপ আমাদের রুমেই থাকছে। জার্মানি জিতলে আমার, আর্জেন্টিনা জিতলে তার। তবু আমরা আমরাই তো!

এক রুমের দুজনের দলই ফাইনাল খেলছে, শতাব্দীতে এমন ঘটনা খুব কমই ঘটে।

 ফেসবুক

ভাব

বাংলালিংক কাস্টমার কেয়ারে বসে আছি। ব্যাপক সিরিয়াল। আমার পাশে একজন ভদ্রলোক বসা। মাঝারি দামের ফোন নিয়েও বেশ ভাব নিচ্ছেন। হঠাত্‍ আমার কাছে জানতে চাইলেন, 'আচ্ছা, বাংলালিংকে টাকা আসে কেমনে?'
-টাকা আসে মানে?
-না, ওই যে কত নাম্বার চাপলে টাকা পাওয়া যায় যে?
- দশ টাকা লোনের কথা বলছেন?
-হ্যাঁ, হ্যাঁ, লোন।
-ও আচ্ছা, *874#

এবার তিনি ভাব আরেকটু বাড়ালেন, 'আমি আসলে কখনো লোন নিই না তো! কিছুদিন পর পর পনের শ করে টাকা ঢুকাই। লোন নেওয়ার দরকার হয় না।'
আমি বললাম, 'ও আচ্ছা।'

ভদ্রলোক এবার এডভ্যান্স নেওয়ার জন্য ডায়াল করলেন। রিপ্লাই আসলো, 'স্যরি ইউ ডু নট হ্যাভ পেইড...'
তিনি বললেন, এটা কী বলে?
আমি বললাম, 'আগে যে লোন নিয়েছেন, তা শোধ না করলে হবে?'
-'অসম্ভব! আমি তো কখনোই লোন নিই না...'


 ফেসবুক

পরাজয়

আমার ভেতর গুমরে কাঁদে আমার পরাজয়,
কেমন করে নিজের হাতে নিজের মরা সয়?


 ফেসবুক

গাজা

ছয় বছরের শিশুটি আমাকে বলে, 'জানো, এই জীবনে তিন তিনটে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। রক্ত ঝরাতে ঝরাতে আমি বেড়ে উঠি।'
আমি বলি, 'তুমি কেমন আছো?'
কচি মেয়েটার মুখে ব্যথার হাসি। সে বলে, 'আমি বেঁচে আছি। তোমার বিবেক কাজ করছে তো?'
আমি কিছুই বুঝতে পারি না। জানলা দিয়ে বাইরে তাকাই। দেখি ঢাকার আকাশে তুমুল বৃষ্টি। অসমানের মালিককে বলি, 'আল্লাহ! তুমি ফিলিস্তিনে একটু বৃষ্টি দাও। রক্তের দাগগুলো মুছে যাক...'


ফেসবুক 

ইসরাইল

জন্মাবধি দেখে আসছি তুই বেজন্মা
আমাদের উচ্ছেদে তৈরি হয়েছে তোর রাষ্ট্রীয় অনুচ্ছেদ...


আমি তানিম ইশতিয়াক। তোকে ঘৃণা করি। ‪#‎HateIsrael‬
Strongly ‪#‎SupportGaza‬ ‪#‎SupportHamas‬


 ফেসবুক

পিচ্চি আল মাহমুদ!

পাশে একটা পিচ্চি দাঁড়িয়ে আছে। সাথে তার বাবা। তারা সিট পায় নি। আমার দিকে তাকিয়ে পিচ্চিটা মিষ্টি করে একটা হাসি দিল। সেই হাসির মধ্যে অন্তরঙ্গ ভাব জমানো একটা ইঙ্গিত আছে। আমিও প্রতিদানে যথাসম্ভব মিষ্টি হাসি দিলাম। দেখি পিচ্চির চোখে মুখে দ্বিগুণ দীপ্তি। আমি এবার আরো এক ধাপ অগ্রসর হই।
-তোমার নাম কী?
-আল মাহমুদ। মুখের সেই হাসিমাখা আভা বদলে সে এখন সুবোধ শিশু।
-তুমি আমার কোলে বসো আল মাহমুদ।
মাহমুদ লাফ দিয়ে আমার কোল দখল করে নিল।


গ্রামের ঈদ ঘোষণা

আমাদের গ্রামে বিদ্যুতব্যবস্থা নেই। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা এই অঞ্চলে নেই একটা পিচের রাস্তাও। বেশ আগের ইটবিছানো রাস্তাটাও আইলাবিধ্বস্ত হয়ে বেহাল দশায়।

থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পশলা বাঁচিয়ে কাদাপানি ঠেলে মসজিদ পর্যন্ত যেতেই জুতোর ওজন হয়ে গেল কয়েক কেজি। সবার সাথে ইফতারি করে নামাজ পড়লাম।

নামাজ শেষে মসজিদ কমিটি ঘোষণা করলো, 'বরাবরের মতো রেডিওর সংবাদ শুনে আগামিকাল ঈদ হবে কিনা সে ব্যাপারে মসজিদের মাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।'

মাহবুব ভাই

আজ সকালে আমার ঘুম ভাঙলো অপেক্ষমান দুর্লভ এক ডাকে। অতি পরিচিত সেই কণ্ঠস্বর আমার কানে পৌঁছতেই আমি সাধ্যাতীত দ্রুততায় চোখ খুললাম।

সে জানে না, তার মুখের দিকে তাকালে আমার চোখ থেকে অন্ধকার ঝরে পড়ে। আমি স্বপ্ন সংঘাত সব ঝেড়ে ফেলে যেকোনো মুহূর্তে বলতে পারি, 'লাব্বাইক! আমি তোমাকে দেখতে চাই।'

ফেসববুক 

বিয়ের দাওয়াত

আমাদের বাসার নিচতলায় একটা বিয়ে হয়ে গেল। ওপরে শুধু আমরাই থাকি। অথচ দাওয়াত দেওয়া দূরে থাক, আমাদের দিকে তাকানোর সময় পেল না। কয়েকদিন ধরে বাসায় ফেরার সময় ব্যাপক রান্না বান্নার আয়োজন দেখি, ভেতরে গান-বাজনা- সেকি উৎসব! 

একবার মনে হলো, গিয়ে খোঁজখবর নিই- সবকিছু ঠিক আছে কিনা। বাজার করতে আর কি কিছু বাকি আছে? গুরুত্বপূর্ণ কেউ দাওয়াতে বাদ গেল না তো! বিয়ের কার্ড কি আর পড়ে আছে? রান্না বান্না কিন্তু সেইরকম করতে হবে। বৃষ্টির সময় অনেক ঝামেলা হতে পারে, সেগুলো আগে থেকে ভাবতে হবে। বাচ্চা-কাচ্চারা আনন্দ করুক, তবে তাদের সামলে রাখারও ব্যাপার আছে। অনেক মানুষের যাতায়াত, দারোয়ানকে আরো সতর্ক করে দেওয়া দরকার। 

অনন্ত জলিল

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে সবাই হাসি ঠাট্টা করি। সব সিনেমার কাহিনী প্রায় একই। এক মিনিট দেখে পুরো সিনেমার বাকি অংশ বলে দেওয়া যায়। ব্যতিক্রমী কিছু থাকলেও কাহিনী ধার করা। সিনেমার দৃশ্যায়নও চলে ওই এফডিসিতে। ওটাই ঢাকা, ওটাই কলকাতা, সিঙ্গাপুর, আমেরিকা। কলেজ, হাসপাতাল, কর্পোরেট অফিস সবকিছুই ওই ছোট্ট স্থান।

তারেক মাসুদ বা গোলাম রব্বানীর মতো কিছু মেধাবীরা সিনেমায় এগিয়ে এসেছিলেন। গভীর দর্শন ও জীবনবোধের চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছিলেন। সেগুলোর মার্কেটিং প্রচারণা সেভাবে হয় নি।


বাংলা সিনেমা নিয়ে যখন আমরা হতাশা ও হীনম্মন্যতায় ভুগে এই শিল্পের ধারেকাছ দিয়ে যাই না। হলিউড বলিউড নিয়ে মেতে উঠি। তখন অনন্ত জলিল সাহস করে স্ত্রী বর্ষাকে নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পে নামলেন। ব্যাপক বিনিয়োগ ও উন্নত আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তিনিই শুরু করলেন বাংলা সিনেমায়। তাকে নিয়ে নিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ হাসি ঠাট্টা কম হয় নি। ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’য় হৃৎপিণ্ড টেনে বের করা নিয়ে অত্রিমাত্রায় হাসির খোরাক ও সমালোচনার পাত্র হন ‘অসম্ভবকে সম্ভব করা’ অনন্ত।


একটা কথা

একটা কথা- সেই কথাটা উচ্চারিত হওয়ার পর আর কিছুই বাকি থাকে না। সবকিছুই অর্থহীন হয়ে যায়। মাথার উপরের আকাশ হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। পায়ের নিচে মাটি সরে যায়। একটা মানুষ নিদারুণ অসহায় হয়ে সাঁতরাতে থাকে। তলিয়ে যেতে থাকে অন্তহীন শূন্যতায়। তার সামনে সামান্য খড়কুটোও থাকে না...

একটা সময় ছিল, খুব সামান্য কারণে কিংবা অকারণে মন খারাপ হতো। তখন খুব দুঃখের একটা উপন্যাস পড়তাম কিংবা ঘর অন্ধকার করে শুয়ে থাকতাম আর ঘুমিয়ে যেতাম। হায়! ইদানীং পড়তেও ভালো লাগে না, ঘুমও আজকাল ছাড়া ছাড়া দুঃস্বপ্নের। আবার সুযোগও থাকে না।

একটা মানুষ সবসময় মনে করে, তার মনখারাপ। কেউ তাকে সান্ত্বনা দিক, সুখের ছোঁয়া দিক। কিন্তু সে জানে না, একই সময়ে আরেকজন ভয়ংকর কষ্টের উনুনে জ্বলছে। তার মাটির ঢাকনায় চাপা আছে ভেতরের টগবগ করা ফুটন্ত অবয়ব...

সেই মানুষটা যখন সহ্য করতে না পেরে কাউকে স্মরণ করে, তখন সান্ত্বনা দিতে চায়, পেতেও। তখন কি কোমল হওয়া যায় না?

ফেসবুক 

বিচারব্যবস্থা

যাবজ্জীবন শাস্তি থেকে কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেওয়াতে পেরেছিল শাহবাগ। আর ২০০ শিবিরকর্মী জীবন দিয়ে সাঈদীর ফাঁসিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড বানালো।

কী বুঝলাম? আমাদের বিচারব্যবস্থা শক্তির পূজারী। আমরাও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সত্য জানা, ন্যায়বিচার, প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি বা নির্দোষের খালাস আশা করি না। আমরা আমাদের মতো রায় চাই- ফাঁসি অথবা মুক্তি। 

জয়তু রাজনীতি!

ফেসবুক 

ঢাকা

প্রতিদিন অসংখ্যবার ঢাকা শহরের ওপর বিরক্ত হই। অজস্র ইচ্ছা আমি কবর দিই ঢাকার রাজপথে। রাস্তার পিচে পিষে ফেলি সময়ের ভালো থাকা। ঢাকার বৈরি বাতাসে উড়ে যায় আমার হাতের মুঠোয় থাকা হাজারও সুযোগ। প্রতিরাতে ঘরে ফিরে ঢাকার গোষ্ঠী উদ্ধার করতে করতে ঢলে পড়ি।

প্রতিবার ঘুম থেকে উঠে মনে হয় ঢাকা অনেক সম্ভাবনার। বিকশিত জীবনের হাতছানি দিয়ে ঢাকা আমার উচ্চাভিলাশে পাখনা লাগায়। আমি ঢাকায় থাকার সুবিধা নিয়ে চোখ মেলে দুনিয়া দেখি। ঢাকাকে ঘিরে বড় হয় আমার আপন সত্তা।

আহা, ঢাকা!
আমার অগণিত ক্লাস-অফিস ধ্বংস করেছে ঢাকা। অনেক মানুষের পরীক্ষা আস্তাকুড়ে দিয়েছে ঢাকা। মানুষকে রোবট বানিয়েছে ঢাকা। জীবনকে দুর্বিষহ করেছে ঢাকা। মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছে ঢাকা।


আজ ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছি ভুলে যাওয়া জীবনের সিনেমা দেখতে। আবার ঢাকায় ফিরবো বেঁচে থাকার ঘানি টানতে…

ফেসবুক 

প্রেমিকার গ্যাসীয় উপাদান

প্রতিটি প্রেমিকা গ্যাসীয় উপাদানে গঠিত।

ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি। সিলেট ভ্রমণে গিয়ে হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রের পাশে একটা পুকুরে গেলাম। ওখানকার পানিতে গ্যাসের উপাদান মিশ্রিত। ব্যবহার-অযোগ্য সেই গ্যাস ফেনা হয়ে পানির ওপরে ভাসছে। ফেনায় ম্যাচ ঠুকে দিলে পানির ওপরে আগুন জ্বলে। এ সেই হেলাল হাফিজের ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ অবস্থা।

ছেলেদের মন পানির মতো স্বচ্ছ। প্রেমিকারা সেখানে গ্যাস হয়ে মিশে যায়। তারপর সময়ে অসময়ে প্রেমের বারুদ ঠুকে দেয়। এতে আগুনে পুড়তে থাকে মন। পুকুরের ভাসমান ফেনা একসময় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু প্রেমের ফেনা অনিঃশেষ। তাই ধিকি ধিকি পোহাতে হয় অন্তরের জ্বালা…

দ্রষ্টব্য : ইহা একটি জেন্ডার ডিসক্রিমিনেটরি স্ট্যাটাস। স্যরি!

ফেসবুক 

নতুন প্রজন্মের ধর্মমানসিকতা

সমকালীন তরুণ কবি সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী বিশ্লেষকদের মতামত আমি খুব গুরুত্বের সঙ্গে পড়ি। ফেসবুকে এমন অনেকেই আছেন, যারা অসম্ভব জনপ্রিয়। আমি নিজেও তাদের লেখা পড়ার জন্য ফেসবুকে উঁকি দেই। ফেসবুক খোলামেলা মত প্রকাশের জায়গা। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব চিন্তাধারা এখানে প্রকাশিত হয়। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অধিকাংশ যেহেতু তরুণ,তাদের প্রকাশিত ভাবনায় আপন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়।

ধর্ম, ইসলাম বা মুহাম্মদ (সা)সম্পর্কে অবস্থান নিয়ে দুই প্রান্তসীমার মানুষ রয়েছে। একদল ধর্ম নিয়ে সত্যিকারার্থে বাড়াবাড়ি করছে। অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা, সে যেটা বোঝে সেটাই ঠিক মনে অন্যকে সেটা মানতে জোর করাকে ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করছে। এরা নিজেদের জোশ প্রমাণ করতে সশস্ত্র হয়ে যাচ্ছে এবং অন্যদের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে। এরা চরমপন্থী কথিত মুসলিম। প্রগতিশীলরা যাদেরকে মৌলবাদী বলে।

অন্যদিকে আছে চরমপন্থী নাস্তিক। ধর্ম, ইসলাম, মুহাম্মদ (সা) এর নাম শুনলে এদের গা জ্বলে যায়। এরা সবাইকে আধুনিক করার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিয়ে নিয়েছে। এরাই নানাভাবে চরমপন্থী মৌলবাদীদের ক্ষেপিয়ে তোলে। এরা নিজেদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে প্রচার করে। এরা এতটাই ভণ্ড যে, যে যার ইচ্ছামতো ধর্ম পালনের অধিকার আছে বলে মিথ্যা প্রচারণা চালায়। তবে আসলে তারা ধর্মনিরপেক্ষ মৌলবাদী। আমি বলি সেক্যুলার ফান্ডামেন্টালিস্ট।
ইসলামপন্থী মধ্যবর্তী আরেকটা শ্রেণি আছে, যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে। পীরবাবার দরবার খুলে আর মাজার পুজা করে ইসলামের বিকৃত হাস্যকর পাগলামি একটা রূপ তারা দাঁড় করিয়েছে।

তরুণ প্রজন্ম এই সবগুলোকে ঘৃণা করে। সবার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে। এদের কারো দ্বারা মানবতা আক্রান্ত হলে প্রজন্ম সরব হয়। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম প্রায় সবাই আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল ও (মুহাম্মদ সা) এর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে। কিন্তু সংকটটা হচ্ছে এই ভালোবাসা মৌখিক। বক্তব্য লেখালেখি আর স্টাটাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ঈদ-ই মিলাদুন্নবীতে রাসূলের ভালোবাসায় স্টাটাস দিচ্ছে, কিন্তু নামাজ পড়াটা জরুরি মনে করছে না।

লেখালেখিতে যারা খ্যাতি পেয়েছেন, তারা নিজেরা কোনো উপদেশ শুনতে আগ্রহী নয়। ব্যাপারটা এমন, ‘ভাই, সবার ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে। কী করতে জবে না হবে সবাই বোঝে। নামাজ পড়তে হবে, এটা আমি মানি। এখন পড়তে পারছি না। আপনাকে এত বোঝানোর দরকার নেই। আর কোনো দাড়িওয়ালা হুজুর এসে বললে তো মনে হয়,ওই ব্যাটা আমার চেয়ে বেশি বোঝে নাকি!’

সাধারণরা কেন জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়? মৌলবাদীদের খপ্পরে পড়ে? ধর্মব্যবসায়ীদের ফাঁদে পা দেয়? কারণ তারা ধর্মীয় জায়গায় তাদেরকেই আস্থা করছে। বিকৃত ইসলাম ও ধর্মব্যবসা থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হলে, সঠিক ইসলাম আপনাকে দেখাতে হবে। মৌখিক ভালোবাসায় সত্যিকারার্থে আপনি মুক্তি পেতে পারেন না (এটা ইসলামেরই বক্তব্য,যদি আপনি তাতে বিশ্বাস করেন), মানুষকেও প্রগতির পথ দেখাতে পারেন না।

ফেসবুক