স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।
ফিচার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফিচার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

তখন রাস্তা ছিল না

পর্বতরাষ্ট্র নেপালে তখন কোনো রাস্তা ছিল না। কিন্তু রাজার ছিল বিলাসবহুল গাড়ি। সেই গাড়ি কাঁধে করে বয়ে বেড়াতেন কুলিরা। শুধু সমতল ভূমিতে নয়, খাড়া পাহাড়ি ঢালেও গাড়ি কাঁধে করে রাজাদের আরামে রাখতেন তারা। বিশ্ব থেকে অনেকটাই ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন নেপালের এসব গাড়িকুলির সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি হচ্ছে ধান বাহাদুর গোলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি মানুষ-গাড়ি নামেই বেশি পরিচিত।

৯২ বছর বয়সে নিজের বাড়িতে বসে এএফপির কাছে রোমন্থন করেছেন রাস্তাবিহীন তার গাড়ি-কুলির জীবন। ১৯৩৯ সালে নেপালের তৎকালীন শাসক যোদ্ধা শোমসের জং বাহাদুর রানাকে একটি মার্সিডিজ বেঞ্চ গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন হিটলার। যাতে তার গুর্খা সৈন্যদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাইরে রাখেন। কিন্তু এই গাড়ি চালানোর মতো রাস্তা নেপালে ছিল না। দেশটির প্রথম হাইওয়ে তৈরি হয় ১৯৫৬ সালে। মার্সিডিজ বেঞ্চ গাড়ির আগেও স্থানীয় কিছু গাড়ি ছিল যেগুলোতে রাজপরিবার চলাফেরা করত। আর তা কাঁধে করে বহন করত কুলিরা।

বিশ বছর বয়সে কুলি হয়ে কাজ শুরু করেন, ধান বাহাদুর তখন কোনো গাড়ির নাম শোনেননি। প্রথমদিকে ৬৩ জন কুলির সঙ্গে কাঁধে কার্গো নিয়ে হাঁটতেন তিনি। তার বাবা একজন কৃষক ও রাজার পক্ষে কর সংগ্রাহক ছিলেন। কিন্তু শাসকরা কানাকড়িও বেতন দিতেন না।

কয়েক বছরের মধ্যেই কাঁধে গাড়ি টানা শুরু করলেন ধান বাহাদুর গোলে। এক মাস কাজ করে মাত্র ২৫ রুপি (০.২৫ ডলার) পেতেন তিনি। গোলে বলেন, কাঁধে গাদি নিয়ে যখন পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতাম কিংবা পানির ওপর দিয়ে হাঁটতাম, তখন গাড়ির নিরাপত্তার জন্য তটস্থ থাকতাম। তবে আমরা মজা করতাম, বন্ধুরা মিলে আনন্দের সঙ্গে কাজ উপভোগ করতাম।
ফেসবুক 

‘দমা দম মাস্ত কালান্দার’ এর সুরকার এখন বস্তিবাসী

 Dama-Dam2.JPG

‘দমা দম মাস্ত কালান্দার’ এর অন্যতম সুরকার পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষ সঙ্গীত পরিচালক আশিক হোসেন বস্তিতে বাস করেন।

পুরনো লাহোরের ভাট্টি গেট নিকটবর্তী বাজারি হাকিমানের বস্তিতে কষ্টে জীবন কাটছে তার। ওস্তাদের ওই ঘরে বিদ্যুতের দাবি যেন বিলাসিতা, যেখানে খাদ্যের নিশ্চয়তাই নেই।

শোচনীয় আর্থিক অবস্থায় পড়ে আশিকের ছেলে মেধাবী যন্ত্রবাদক আসিফ আলী রাস্তায় পাকুরা বিক্রি করতেন। কিছুদিন আগে হৃদরোগে তিনি মারা যান।

অসংখ্য জনপ্রিয় গানের সুরকার ‘ওস্তাদ’ আশিক হোসেন এখন দিন কাটান নিদারুণ নীরবতায়। পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষ সঙ্গীত পরিচালক এই মানুষটির জীবন কাটছে সুরহারা গানের স্বরলিপিতে। পাঁচ দশক ধরে তিনি পাকিস্তান সিনেমার জন্য গানের সুর করেছেন।

অনেকেই হয়ত জানেন না, কবি সাগর সিদ্দিকীর অনুরোধে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত ধামাল গান 'লাল মেরি পাত’ এর সুর করে দিয়েছিলেন আশিক হোসেন। আশিকের সুরেই গানটি পাকিস্তানি বহু সিনেমায় ব্যবহৃত হয়।
পাকিস্তানের রূপালি পর্দায় আশিকের অপরিসীম অবদান থাকলেও তার সমসাময়িক নিসার বাজমি, রশিদ আত্রাই কিংবা রবিন ঘোষের তুলনায় তার মূল্যয়ন হয় নি মোটেও।

এই শ্রেষ্ঠ সুরস্রষ্টাকে কেবল সংগীত জগতই ভুলে যায়নি, পাকিস্তানের সরকার এমনকি তার বন্ধুরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

সত্য এই যে, ৯০ বছর বয়স্ক আশিক হোসেন কখনো কারো কাছে সাহায্য চাননি। ‘শিল্পীর কদর না দেওয়া’ জনগণের কাছেও কিছু চাননি তিনি।

আশিক হোসেনের অসাধারণ সুর করা ‘দমা দম মাস্ত কালান্দার’ গানটি গেয়েছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শ্রেষ্ঠ সংগীত শিল্পীরা। নূর জাহান, নুসরাত ফতেহ আলী খান, রুনা লায়লা, জগজিৎ সিং, আবিদা পারভীন তাদের অন্যতম।

উল্লেখ্য, কয়েক শতাব্দী আগে বাবা বুল্লেহ শাহ ‘দমা দম মাস্ত কালান্দার’ গানটি রচনা করেন। তিনি সুফি সাধক শাহবাজ কালান্দারের প্রশস্তি করে এই গানটি রচনা করেন।


সূত্র: ডন


প্রকাশিত : অনলাইন বাংলা

আসামের আক্রান্তদের গল্প




assam-muslim.jpg

আকাশ থেকে ঝরে পড়া বৃষ্টিধারাও তাদের অশ্রু লুকাতে পারে। কিন্তু আসামের জাইন উদ্দিনের কান্না বোধ হয় এ জনমে আর মুছবে না। জাইন উদ্দিন আলী তার সাত বছর বয়সী কন্যা জয়গুন্নেসাকে হারিয়েছেন। গত ২ মে আসামের খাগড়াবাড়ি গ্রামে বোড়ো সন্ত্রাসীরা তার মেয়েকে হত্যা করে।

assam-muslim-6.jpg
‘আমি বিকাল তিনটার দিকে বেকি নদীর ওপারে ভাঙ্গারপাড় বাজারে ছিলাম। বাজারের লোকেরা আমাদের গ্রামে আগুন দেয়া নিয়ে আলাপ করছিল। অনেকের সাথে আমিও নদী পার হয়ে বাড়ির দিকে আসি। আমাদের গ্রামে পৌঁছালে গুলির শব্দ শুনি আর আগুনের শিখা দেখতে পাই। আক্রমণের ভয়ে আমরা একটি জঙ্গলে পালিয়ে থাকি। এক ঘণ্টা পর বাড়ি ফিরে দেখি তিনটা গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে আছে। ঘরগুলোতে আগুন জ্বলছে। কিন্তু আমার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে খুঁজে পেলাম না।’

৩৫ বছর বয়সী কৃষক জাইন উদ্দিন এভাবেই তার সব হারানোর বর্ণনা দেন। আসামের গুয়াহাটি থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে বাকসা জেলার গোবারধানা থানায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

assam-muslim-5.jpg
পরদিন সকালে বেকি নদীর তীরে জাইন তার কন্যা জয়গুনের লাশ পাওয়া যায়। কিন্তু তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের খোঁজ এখনও পাওয়া যায় নি।

জাইনের ধারণা, প্রাণের ভয়ে তার স্ত্রী সন্তানেরা বেকি নদী পার হয়ে ওপারের ভাঙ্গারপাড় বাজারে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।
পুলিশ পোস্ট মর্টামের জন্য ৮টি লাশ ট্রাকে তুলছিল। জাইন তার কন্যা জয়গুনের মুখটা একবার দেখে নেন। আরো ৭টি লাশের পাশে শুয়ে আছে তার প্রিয় জয়গুন। আছে ছয় মাস বয়সী একটি শিশু মোতালেব আলী। আরও যারা আছে: আরিফুল ইসলাম (৮), লিনা খাতুন (৪), জয়ফুল খাতুন (৮), আরিফুল ইসলাম (৭), হাসনা বেওয়া ((৬৫) ও মর্জিনা খাতিুন (৩২)। এর সবাই ২ মে বৃহস্পতিবারের হামলায় নিহত হয়েছেন।

একই গ্রামের কৃষক ফখরুদ্দিন (৫৩) তার ১২ বছর মেয়ে আলিয়ার ছবি নিয়ে সারা গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বৃহস্পতিবারের হামলার পর তাকে আর পাওয়া যায় নি।

ফখরুদ্দিন তার মোবাইল ফোনে মেয়ের ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘ওরা আমাদের গ্রামে হামলা করলে আমি তাড়াতাড়ি বাজার থেকে বাড়ি ফিরে আসি। কিন্তু গুলির আর আগুনের মুখে আমি এগুতে পার নি। আমার পরিবারের সাত জন সদস্য জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু আলিয়াকে পাওয়া যাচ্ছে না।


আট বছর বয়সী সাজিদা জানান, তার চোখের সামনে মা রহিমা আর ছোট বোন আমিনাকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়। 
সাজিদা বলেন, ‘জানের ভয়ে আমরা দৌড় দিই। আমার মা আর দুই বোন আমার পেছনে ছিল। বিকট শব্দ শুনে আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি- আমার মা আর দুই বোন পড়ে গেছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে সব। রক্ত দেখে আমি চিৎকার দিই। ছোট বোন হাফিজাকে আঁকড়ে ধরে দৌড়ে পালিয়ে যাই। চারিদিকে খুব অন্ধকার। আমি হাফিজাকে বলি, কাঁদিস না, ওরা শুনতে পেলে এসে আমাদেরও মেরে ফেলবে।’
সাজিদা এখন নারায়ণগুড়ি আজাদ প্রাইমারি স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন। হামলার পর ঘরবাড়ি ছেড়ে এখানে ৫০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বাকসা জেলা প্রশাসনিক অফিসার ত্রাণ বিতরণ পরিদর্শন করার সময় বলেন, এখানকার ৫০০ লোকের মধ্যে ২০০ জনের মতো শিশু রয়েছে। তারা এখনও আতঙ্কিত।
হালিমা খাতুন যখন সন্ত্রাসী আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য তার পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে বেকি নদীতে ঝাপ দিয়েছিলেন, তিনি কল্পনাও করেন নি, তিনি শেষবারের মতো তার সন্তানকে কোল নিচ্ছেন।

‘চারিদিকে শুধু গুলির শব্দ। কয়েকজন ফরেস্ট গার্ডের দিকে দৌড়াতে গিয়ে গুলিতে মারা গেছে। আমার ১০ বছরের মেয়ে ও ৭ বছরের ছেলেকে পিছনে হারিয়ে ফেলেছি। নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোনো পথ ছিল না। ঘটনার সময় আমার স্বামী নদীর ওপারে বাজারে ছিল। আমি নদী পার হতে ঝাপ দিলে কোলর সন্তানকে ধরে রাখতে পারি নি। আমার চোখের সামনে সে স্রোতে ভেসে চলে যায়। ভাসমান একটা কাঠ দেখে আমি আঁকড়ে ধরি। আমার সন্তানকে আর পাই নি।’

হালিমা আরো বলেন, অনেকেই নদীতে ঝাপ দেয়। ওরা নদীতেও গুলি করতে থাকে। ভাগ্য ভালো যে আমার গায়ে গুলি লাগে নি। কিন্তু অনেকে পানিতে মারা গেছে।’



ওই আক্রমণে হালিমার দুই দেবরও নিহত হয়েছেন। নদীর প্রবল স্রোতে হালিমা তার কাপড়ও হারিয়ে ফেলেছিলেন। দুই ঘণ্টা পর সেনা কর্মকর্তারা তাকে উদ্ধার করে শরীর ঢাকার জন্য একটা লুঙ্গি দেন।

হাগরাবাড়ি গ্রামের আজিমুদ্দিন আলী বলেন, ‘আমি বাজারে ছিলাম। এপারে আসার মতো নৌকা ছিল না। আমি এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে নিদী পার হয়ে গ্রামে এসে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে। দেখি আমার তিন ছেলে আর এক মেয়ের লাশ পড়ে আছে।’


পেশায় দর্জি আলী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার স্ত্রী দুবছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে নদীতে ঝাপ দিয়েছিল। নদীর স্রোত তাকে নিয়ে গেছে। এখনো আমার একটা ছেলে ও একটা মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছি না।
assam-muslim-4.jpg

১৪ বছরের কিশোরী হাবিবাহ নেছা বলেন, আমার বাবা ও মাকে ওরা গুলি করে মেরে ফেলেছে। আমি খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলাম।

এমন গল্প আছে ৭৫ বছর বয়সী ইমান আলীর। তিনি তার স্ত্রীকে খুঁজে পাচ্ছেন না।

‘ফার্স্ট পোস্ট ইনডিয়া’, ‘ডেকান ক্রনিকল’ ও ‘গার্ডিয়ান’ অবলম্বনে

প্রকাশিত: অনলাইন বাংলা 

হারিয়ে যাওয়া ১১ পেশা

মানুষ তার সৃজনশীল মন দিয়ে যুগে যুগে অনেক কিছু করেছে। মনের আনন্দেও মানুষ নানান রকম পেশা ও কাজ উদ্ভাবন করেছে। জরুরি প্রয়োজনের তাগিদেও সৃষ্টি করতে হয়েছে অনেকরকম কাজ। কিন্তু এমন অনেক পেশা মানুষ সৃষ্টি করেছিল, বর্তমানে তা যেন কালের গহবরে হারিয়ে গেছে।  

শুধু স্মৃতিতে ঠাঁই নেয়া এমন ১১টি পেশার কথাই স্মরণ করা যায়। ইউরোপে শুরু হওয়া এসব পেশার কোনো অস্তিত্বই এখন আর দেখা যায় না। যেমন:

১. কাঠের বলে পিন বসানো
এটি এক ধরনের খেলা ছিল। যেটাকে বৌল খেলা বলা হতো। বলটি নিক্ষেপ করে এটি খেলতে হতো। ছোট ছোট ছেলেদের এ খেলায় নেয়া হতো। এতে তাদের কাজ ছিল, যারা এসব খেলা দেখতে আসত তাদের জন্য খেলায় ব্যবহৃত কাঠের বিশেষ গতিপথে পিন বসানো।


২. মানবঘড়ি এলার্ম।
এটাও একধরনের পেশা ছিল। এটি মানুষকে জাগানোর কিংবা কোনো কাজ বা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ছিল এক পেশা।

এতে মানুষ তাদের কর্মক্ষেত্রের সময়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতো। কাজটি করিয়ে দিত একদল লোক। যাদের কোনো ব্যাপারে মনে করিয়ে দেয়ার জরুরত থাকত তারা ওই দলটির সাথে যোগাযোগ করে তাদের ঠিক করতো।
পয়সার বিনিময়ে দলটির লোকেরা গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্ধারিত সময়ে হাজির হতো। এরপর লাঠি, মুগুর, নুড়ি ইত্যাদি দিয়ে তাদের গ্রাহকদের দরজা বা জানালায় টোকা দিত। এতে গ্রাহকরা তাদের পূর্ব নির্ধারিত কাজটি করার জন্য দ্রুত তৈরি হয়ে নিত।  

৩. বরফ-কর্তন
ইউরোপসহ পশ্চিমের প্রায় সব দেশেই বছরের বেশিরভাগ সময় জুড়ে খুব ঠাণ্ডা পড়ে। বরফ জমে যায়। বরফ জমে এমন হয়, যাতে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে যায়। একসময় এই বরফ সরিয়ে যার যার চলাচলের সুবিধার জন্য কোনো আধুনিক প্রযুক্তি ছিল না।  মানুষের হাতের তৈরি যেটুকু শনাতন উপায় বা প্রযুক্তি ছিল সেটাও সবার কাছে সহজলভ্য ছিল না।  


ফলে আধুনিক ফ্রিজ প্রযুক্তির অনেক আগে বরফ-কর্তনকারীরা জমাট হ্রদে বরফ কেটে কেটে মদ বা খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের জন্য হিমায়িত করার ব্যবস্থা করতো। রাস্তাঘাঁট চলাচলের উপযোগী করে তুলত। এর জন্য বিশেষ শ্রমিক শ্রেণী ছিল। যাদের কাজই ছিল বরফ সরানো।

এটি একটি ঝুকিপূর্ণ পেশা। খুব ভয়ংকর অবস্থায় পড়তে হতো কখনো কখনো। তবে এখন আর এ শ্রেণীটি নাই। এখন বরফ কাটার আধুনিক প্রযুক্তি এসে গেছে। আর তাছাড়া রাস্তাঘাঁটসহ বিভিন্ন জায়গায় বরফ সরানোর কাজের জন্য সরকারের বিশেষ টিমই নির্ধারিত রয়েছে।

৪. রাডারপূর্ব শত্রুবিমান সনাক্ত
রাডার যুগের পূর্বে সৈন্যরা এমন এক শ্রবণযোগ্য প্রতিবিম্বক ব্যবহার করতো, যার মাধ্যমে নিকটবর্তী বিমানের বা কোনো ইঞ্জিনের শব্দ শনাক্ত করতে পারে। তবে কাজটি করার জন্য সে সময়কার সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট থাকত যাদের দায়িত্ব ছিল বিশেষ এ কাজটি করা।


৫. ইঁদুর ধরা
ইঁদুরের উৎপাত নিয়ন্ত্রণে ইওরোপে ইঁদুর ধরা আলাদা লোকই ছিল। যারা ইঁদুরের উৎপাতে অতিষ্ট হতো বা যাদের দরকার হতো ইঁদুর ধরা লোকদের ডেকে আনত। এরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে দৌড়ে ইঁদুর ধরতো। এতে তারা ইঁদুরের কামড়, এবঙ অন্যান্য পোকামাকড়কেও সহ্য করত।


৬. বাতি জ্বালানো
যখন বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কৃত হয়নি, তখনো শহরে নগরে রাতের বেলায় বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা ছিল। এখন যেমন নগর উন্নয়নের জন্য সিটি করপোরেশন আছে যাদের অন্যতম কাজ হল, শহরের রাস্তায় রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা করা। এখন যেমন সিটি করপোরেশনের অটো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকে যাতে নির্ধারিত সময়ে নগরের লাইট জ্বলে ও নেভে। সেসময় এমনটি না থাকলেও রাস্তায় দীর্ঘ দূরত্বে বাতি জ্বালানো, নেভানো এবং সেগুলোতে সময়মত জ্বালানি ভরার জন্য লোক নিয়োগ করা হতো।


৭. দুধ সরবরাহ
খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ বা উপযুক্ত সংরক্ষণাগার আগে ছিল না। সেকারণে সেসময় প্রতিদিনই দুধ চালান করতে হতো। অন্যথায় নষ্ট হয়ে যাবে। দৈনন্দিন নির্ধারিত জায়গায় দুধ পৌঁছে দেয়ার জন্য তখন আলোদা লোক নিয়োগ দেয়া হতো।  


৮. কাষ্ঠগাড়ি চালানো
যোগাযোগের অবকাঠামো ও যানবাহনহীন সেই যুগে কাঠের গুড়ি ছিল একপ্রকার গাড়ি। এতে ভারি মাল টানাও হতো। যার সংশোধিত সংস্করণকে আমরা ঠেলাগাড়ি বলতে পারি।

সেসময় কাঠের গুড়ি নদীতে নামিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় কিছুটা দূরত্বে যাওয়া যেতো। এই কাষ্ঠগাড়ির জন্য চালক নিয়োগ করা হতো।

৯. সুইচবোর্ড পরিচালনা
আধুনিক টেলিফোন প্রযুক্তির আগে সুইচ অপারেটররা সেকেলে টেলিফোন নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ। অংশের পরিচালনা করতো। দূরবর্তী কলের সংযোগ ঘটানো এবং এমন অনেক কিছুই করতো যা আজকের যুগে ডিজিটাল কায়দায় করা হয়।


১০. শব উত্তলন করা
১৯ শতকে শব বা লাশ উঠানো লোকদের ভাড়া করা হতো। তারা কবর খুঁড়ে অনেক আগের সমাধিস্থ মানুষের দেহ তুলে আনতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো লাশ এনে গবেষণার কাজে লাগাতো।

সেসময়ে বৈধ উপায়ে মৃতদেহ পাওয়া দুর্লভ এবং কষ্টসাধ্য ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ছাত্রদের জন্য শব জোগাড়ে লোক ঠিক করতো।

১১. লেক্টর
লেক্টর বলা হতো তাদের, যাদের ভাড়া করে নিয়ে আসা হতো ফ্যাক্টরি শ্রমিকদের আনন্দ দেয়ার জন্য।


নিউজ লিংক 
অনলাইন বাংলা 

বৈশাখের উত্সব, উত্সবের বৈশাখ

‘আজ বাংলা মাসের কত তারিখ?’ এমন প্রশ্নে কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি। হঠাত্ মনে পড়লো, এখন এপ্রিল মাস, আর ১৪ এপ্রিল হলো পহেলা বৈশাখ। মনে মনে হিসাব কষতে থাকি। গুণে গুণে বের করার চেষ্টা করি আজকের বাংলা তারিখ। কিন্তু সমস্যা বাধে আরেক জায়গায়। চৈত্র মাস ৩০ দিনে নাকি ৩১ দিনে? দ্বিধায় পড়ে যাই। এমন অবস্থা আমার মতো অনেকের। বাংলা মাসের হিসাব রাখি না। কেননা, আমাদের সবকিছু চলে ইংরেজী মাস অনুযায়ী। তবু আমরা ভুলে যাই না পহেলা বৈশাখের কথা, পান্তা-ইলিশ উত্সবের কথা। মঙ্গল শোভাযাত্রার কথা। বৈশাখকে বরণ করতে নানা আয়োজন করি। আমরা বলে উঠি-‘এসো হে বৈশাখ এসো/তাপস নিঃশ্বাস বায়ে/মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে/বছরের আবর্জনা/দূর হয়ে যাক যাক/এসো এসো. . .।’

পহেলা বৈশাখে আমাদের ঘুম ভাঙে অন্যরকম উন্মাদনায়। জেগে দেখি এক নতুন প্রভাত। আজকের আকাশে উদিত হবে নতুন বছরের সূর্য, তাই নতুন করে দেখি ভোরের আকাশ। গায়ে মাখি ভোরের হাওয়া। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘বৈশাখের এই ভোরের হাওয়া/আসে মৃদুমন্দ/আনে আমার মনের কোণে/সেই চরণের ছন্দ।’ এই ছন্দে আমরা মাতাল হই। ছেলেরা লাল সাদা পাঞ্জাবি পরে। মেয়েরা শাড়ি পড়ে, গালে রঙিন আল্পনা এঁকে। খোপায় ফুলের মালা সাজিয়ে রাস্তায় বের হই। সবাই হাটতে থাকি। রমনার বটমূলে যাই। জড়ো হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে। চারুকলার শোভাযাত্রায়। চারপাশে ভিন্ন আমেজ। বর্ণিল পরিবেশ। সর্বত্র আজ অনুষ্ঠান। শহীদ মিনার, শিশু একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি, ঢাকা ক্লাব, গুলশানে ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব, পুরনো ঢাকাসহ সব জায়গায় উত্সবের ঢেউ। শুধু ঢাকা নয়; সারাদেশেই। কাজী নজরুল ইসলাম বলেন-ওই নতুনের কেতন ওড়ে/কালবোশেখীর ঝড়/তোরা সব জয়ধ্বনি কর. . .।’


পহেলা বৈশাখ ঘিরে এত আনন্দ উত্সব হলেও সারা বৈশাখ জুড়ে এখন আর আগের আমেজ পাওয়া যায় না। কবিতার সেই ‘ঝড়ের দিনে মামার দেশে’ আর ‘আম কুড়ানো’ নেই। ঘুড়ি উড়ানোর উত্সবও দেখা যায় না। ঢাকার আকাশ তো হারিয়ে গেছে বহুতল ভবনে। গ্রামের আকাশও আজকাল রঙিন ঘুড়িতে বর্ণিল হয়ে ওঠে না। যান্ত্রিক জীবনযাতহ্রার আনন্দ বর্ষবরণ কেন্দ্রীক। এ দিনই সবাই আনন্দ মাতে। যদিও দরিদ্র নিরন্নদের কাছে সব দিনই সমান। উত্সবের উচ্ছ্বলতা তাদের স্পর্শ করে না। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘মানুষের উত্সব কবে? মানুষ যেদিন আপন মনুষত্বের বিশেষভাবে স্মরণ করে, বিশেষভাবে উপলব্ধি করে সেই দিন।. . . প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন একাকী। কিন্তু উত্সবের দিনে মানুষ বৃহত্, সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহত্, সেদিন সে সমস্ত মানুষত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহত্।’


পহেলা বৈশাখ মানে নতুন বছরের শুরু। কালের গর্ভে একটি বছর হারিয়ে যাওয়া। জীবন থেকে ৩৬৫টি দিন চলে যাওয়া। কবি বলেন, ‘কালের যাত্রার ধ্বনি শুনতে কি পাও?’ এ যাত্রার ধ্বনি আমরা অনুধাবন করতে চাই। অতীতের ভুলগুলো শুধরে নিতে চাই। আকাঙ্ক্ষা করি আগামীর দিনগুলো সুন্দর হবে। নিজের একটি কবিতায় লিখেছি-‘প্রতিদিনই পড়ছে খসে/জীবন ডালের পাতা/আগামীর ঐ দিনগুলো হোক/সফল বিজয়গাঁথা।’ 


দৈনিক আমার দেশ, ১১ এপ্রিল ২০১১।

ফাগুনের ভালোবাসা ভালোবাসার ফাগুন


‘আহা! আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে...।’ কবিগুরুর এমন কথা অনেকের মনে না থাকলেও প্রকৃতিতে ফুটছে জানা, না জানা হরেক ফুল। আমরা যেমন ক’দিন আগের কম্বল, জ্যাকেট, কোট-সোয়েটার থেকে বেরিয়ে এসেছি। তেমনি খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গমও জেগে উঠেছে। রক্তিম উচ্ছ্বলতায় দুলছে শিমুল পলাশের ডাল। যদিও সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলতে চান—‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক/আজ বসন্ত।’
গাছে গাছে স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতা, ফুলের সমাহার আর কোকিলের কুহুতানে প্রকৃতিতে যখন সাজসাজ রব তখন আমরাও অনেকে গেয়ে উঠি—মনেতে ফাগুন এলো...। তাই লাল-হলুদ পাঞ্জাবি বা ফতুয়া, বাসন্তী শাড়ি, খোঁপায় বাহারি ফুল আর গালে ও কপালে নকশায় সাজিয়ে তুলি নিজেদেরও। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস। এদিনে দেখা যায় বাড়তি কিছু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ভেতরের খোলা বারান্দা, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সামনে পুকুর পাড়, মল চত্বর, ডাস চত্বর, হাকিম চত্বর, চারুকলা, মেয়েদের হলগুলোর সম্মুখ প্রাঙ্গণ। শামসুন্নাহার হলের গলি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা বিভিন্ন পার্ক, রেস্তোরাঁ হয়ে উঠে তরুণ-তরুণীর মিলনমেলা। আসলে ভালোবাসার কি কোনো দিনক্ষণ আছে? বছরের নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে কি ভালোবাসতে হয়? কবি আবু হাসান শাহরিয়ার বলেন, ‘পাখি যদি ডাকে তবে প্রতিদিনই ভ্যালেন্টাইন ডে।’ তবে কি বলতে হবে ফাগুন এলে কোকিলের সঙ্গে ডেকে উঠে মনের পাখিও!
ভালোবাসা আসলে কী? এ প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি আজও। একপলক দেখাতেই কি ভালোবাসা হয়? আড় চোখের মায়াবী চাহনিতেই লুকিয়ে থাকে প্রেম? জগত এলোমেলো হয় এমন অনুভূতির নাম কি ভালোবাসা? বিজ্ঞানীদের দাবি অন্যরকম। তাদের মতে, প্রেমে পড়লে মস্তিষ্ক থেকে নিঃসৃত হয় কিছু রাসায়নিক পদার্থ—ফিনাইল, ইথাইল অ্যামিন, অ্যামফিটামিন যাদের নাম। স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে তা সব কোষে ছড়িয়ে যায়। এদের বিক্রিয়াই আনন্দ, উত্তেজনা, বেদনা সৃষ্টি করে।
‘প্রেমে পতন ছাড়া কিছু নেই’—এ উক্তি কি সত্য। হয়তোবা। তা না হলে পত্রিকায় কেন দেখি প্রেমিক খুন করেছে তার প্রেমিকাকে? ভালোবাসা কি যুক্তিহীন অন্ধ আবেগ? শুধুই মোহ? সে জন্যই বুঝি স্থায়ী হয় না আকর্ষণের তীব্রতা। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে যাকে দেখা হয়, করিডোরে-বারান্দায় ইশারায় কথা চলে, রাত জেগে ফোনে ফিসফিস, যাকে এক মুহূর্ত না দেখলে পুরো পৃথিবী অর্থহীন মনে হয়, সে কেন এক সময় হারিয়ে যায়? সামান্য সন্দেহ, তুচ্ছ ঘটনা ভেঙে দেয় কেন সব? রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, সখী ভালোবাসা কারে কয়/সে কি কেবলই যাতনাময়/ সে কি কেবলই চোখের জল/সে কি কেবলই দুখের শ্বাস?
দিনবদলের এ সময়ে প্রেমেও চলে দিনবদল। সামান্য সন্দেহে তুমি আর কখনও ফোন করবে না’ বলে সম্পর্ক শেষ। আবার শুরু। নতুন আরেকজন। নতুন নম্বর। ফেসবুকের নতুন বন্ধু। প্রেমে ঢুকেছে যৌনতা। মিথ্যা প্রেমের ফাঁদে ফেলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ছেড়ে দেয় ইন্টারনেট। কাচের মতো টুকরো টুকরো হচ্ছে মূল্যবোধ, বিশ্বাস, নৈতিকতা। নাটক-ছায়াছবির মাধ্যমে যারা প্রেম শিখায় তাদের ব্যক্তিজীবনে এগুলো বেশি। এদের প্রেম, এদের বিবাহ স্থায়ী হয় না। কিছুদিন আগে বাংলাদেশি এক মডেল কন্যার কথা আমরা শুনেছি। তাহলে কি সুবীর নন্দীর মতো বলতে হবে—
‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই?’
অনেকে বলেন, সত্যিকার প্রেম হলো বিয়ের পর। বিয়ে-পূর্ব প্রেম অযৌক্তিক যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থায়ী হয় না। গত বছর এ সময়ে যার জীবন ছিল ভালোবাসায় ভরপুর, আজ সে একা, নিঃসঙ্গ। তবে কি সবার ভালোবাসায় ফাগুন আসে না?