স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।
আমার আমি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আমার আমি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

প্রেমময় জীবনের লোভ

প্রেম নিয়ে আমার নিজের আবিষ্কৃত তিনটি তত্ত্ব আছে। প্রথমটি হচ্ছে, ‘মাটির ব্যাংক ভালোবাসা’। মাটির ব্যাংকে সঞ্চয়ের মতো মনের সমস্ত ভালোবাসা, দেহের সার্বিক পবিত্রতা, চাহনির সমুদয় নির্মলতা, ভাবনার সামগ্রিক শুদ্ধতা গুছিয়ে রাখতে হয় কাঙ্ক্ষিত স্ত্রীর জন্য। একমাত্র বিয়ের মাধ্যমেই তার সঙ্গে প্রেম হতে পারে।

দ্বিতীয় তত্ত্বের নাম ‘পাললিক প্রেম’। এই পর্বে ঠিক স্বামী হতে হয় না। হতে হয় প্রেমিক বন্ধু। যেখানে এক হয়ে যায় ভেতর বাহির। জ্যামিতিক সুক্ষ্মতায় মিশে যায় সকল প্রাতিপাদিক রেখা। সেই মিলনের স্পর্শবিন্দুই মানবীয় পাললিক প্রেম।

তৃতীয়, চূড়ান্ত এবং স্থায়ী প্রেমের নাম ‘সূর্যমুখী প্রেম’। যা সূর্যমুখী ফুলের মতো সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর দিকে এককেন্দ্রীক নিবদ্ধ। সকল কাজের ভীড়ে মন-মুখ ফিরিয়ে সেখানেই খুঁজি সুখ। আমার খুব ইচ্ছা- আমরা দুজন মিলে ওই সূর্যমুখী প্রেমের সাধনায় আমাদের জীবন পার করে দেবো।

আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া। সেরা সঙ্গীটাই তিনি আমাকে দিয়েছেন। তার মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, আলমে আরওয়াহতে (রুহের জগত) তার সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটেছিল। অনাদিকাল থেকে তার সঙ্গে আমার খুনসুটিময় প্রেম।


ফেসবুক 

ঢাবির শেষ ক্লাস

আজ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ ক্লাস ছিল। আমি যাই নি। দুপুরে ক্লাসমেট রাকিব এসে শেষ ক্লাসের বর্ণনা দিল। 

প্রেমে সেঞ্চুরি করা আমাদের সাগর নাকি আক্ষেপ করেছে, অনার্স মাস্টার্সের পাঁচ বছরে সে কোনো মেয়ের হাত ধরে ক্যাম্পাসে হাঁটতে পারে নি! সাগরের আশা পূরণ করার জন্য ম্যাডাম ক্লাসের মেয়েদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আরো নানান গল্প শুনে আমার একটু আধটু আফসোস হচ্ছিল, ধুর! কষ্ট হলেও যাওয়ার দরকার ছিল। 

তারপর দিনভর দেখলাম ফেসবুকজুড়ে বন্ধুদের শেষ ক্লাসের সেলফি, গল্প আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ। সবার ভেতরে হাহাকার। সকলেই বিষণ্ন। আমি কোনো শূন্যতা বোধ করছি না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার ছিল, আমার আছে। 

পুনশ্চ: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাসেও আমি অনুপস্থিত ছিলাম।

ফেসবুক 

নিজের সাথে বকবকানি

লিখতে চাই। কী লিখবো জানি না। লিখছি স্যারের কথায়। কোথায় এই লেখার শেষ- তা জানা নেই।
-কেন লিখছো? লিখে কী হবে? স্যার বললেই কি লিখতে হবে?
-হ্যাঁ, লিখতে হবে।
-কেন?
-কারণ এ লেখা অর্থহীন!
-অর্থহীন লেখা লিখছো কেন?
-অর্থহীনের মধ্যেও একটা অর্থ আছে? অর্থহীন লেখামালা তোমাকে একটা অর্থ দিবে। তুমি কি সেই অর্থ বুঝতে পারবে? বোঝার ক্ষমতা কি আছে? নিরর্থকের অর্থ বুঝতে একটা বোধ দরকার। তোমার কি তা আছে?
-না, নাই। বোধ না থাকলে কি লেখক হওয়া যাবে না? বোধের পরিমাণ কি সবার সমান? কোনো কিছু দেখলেই যদি একটা বোধ তৈরি হয়, তবেই কি সে লেখক? আর যদি না হয়?


ফাঁকি

নিজের ওপর শ্রদ্ধা হারাচ্ছি। নানাভাবে ফাঁকি দিচ্ছি নিজেকে, চেতনাকে। বঞ্চিত হচ্ছি ভালোবাসা থেকে। মানুষের ভালোবাসা পাই না পাই, নিজের ভালোবাসা পাচ্ছি না। ভালোবাসার অভাব সহ্য করা যায় না। মনের যুক্তি সবসময় ঠিক না, ক্ষেত্রবিশেষ বিপজ্জনক। কিছু বিষয়ে শর্তহীন আনুগত্য করতে হয়।

ফেসবুক 

বাবার কাছে চিঠি


আব্বা,
আসসালামু আলাইকুম। নিশ্চয়ই ভালো আছো। আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ! তুমি কি অবাক হচ্ছো, আমি চিঠি লিখলাম কেন? আমি তো আগে কখনো চিঠি লিখিনি! তোমার কি মনে হচ্ছে কোনো বড় ঘটনা ঘটেছে? কিংবা কোনো অঘটন, যা আমি মোবাইলে বলতে পারছি না? আসলে কিছু না। এমনিতেই লিখছি। হাতে লিখলে হয়তো সব বুঝতে পারবে না, তাই কম্পিউটারে ছাপার অক্ষরে লিখছি।

মাঝে মধ্যে তোমাকে স্বপ্ন দেখি। অস্পষ্ট ধরনের স্বপ্ন। স্বপ্নের কথা তেমন কিছু মনে থাকে না। বেশির ভাগ স্বপ্ন ছোটবেলার। তোমার পাশে বসে বই পড়ছি, তোমার গল্প শুনছি এই ধরনের। 

আল কুরআন

কুরআন পড়ার সময় কিছু ভিন্ন ধরনের অনুভূতি হয়। এতে তো আমার কথাই লেখা। যখন আমার একান্ত কথা, নিজস্ব অভিব্যক্তি, ব্যক্তিগত দুঃখবোধ কুরআনের কাছে সান্ত্বনা পায়, তখনকার সুখ কোনোকিছুর সাথে তুলনীয় নয়। সময়ের সাথে এসব অনুভূতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।

ভাবছি, এসব অনুভূতিগুলো লিখে রাখা দরকার। কোন বয়সে, কী পরিস্থিতিতে কেমনভাবে কুরআনের কাছে পথনির্দেশ পেয়েছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি- তার একটা ব্যক্তিগত ডায়েরি হবে।

তবে এটা ঠিক কেমনভাবে শুরু করবো, বুঝতে পারছি না। আবার সাহসও পাচ্ছি না। আরো চিন্তা-ভাবনা করা দরকার।
‘আমি তোমাদের কাছে এমন একটি কিতাব নাযিল করেছি, যাতে ‘তোমাদের কথা’ আছে, অথচ তোমরা চিন্তা-ভাবনা করো না (আম্বিয়া-১০)।’
 
বলে রাখি, কুরআন শুধু মুসলমানদের কিতাব নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য নির্দেশনা। সবচেয়ে বড় কথা, কুরআন পড়ে আমি ভালোবাসতে শিখি, সকল ধর্মের, সকল বর্ণের মানুষকে। কুরআন সাম্প্রদায়িকতা (বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য অন্যায় প্রীতি), জাতীয়তাবাদ (নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জন্য অন্ধ প্রেম) উপড়ে ফেলতে চায়।

 ফেসবুক

কান্না

কোনো মানুষের কাছে আঘাত পেয়ে কাঁদতে নেই। একটা মানুষের ভেতরের আদ্রতা আরেকজন অনুভব করতে পারে না। মানুষের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। রাগ-অনুরাগ, পরিবেশ ও যুক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়। কারো কান্না ভান লাগে। কারো ক্ষেত্রে মনে হয়, ‘ঠিকই আছে,ওর কান্না করাই উচিত।’ কেউ ভাবে, ‘দোষ করেছে, এখন কাঁদতে তো হবেই।’ কখনো মনে হয়, 'কেন বুঝতে চায় না? কান্নাকাটি করলে আমি কী করতে পারি?' সবচেয়ে বড় কথা, কেউ হয়ত কখনো জানবেই না, আপনি তার জন্য কাঁদেন।

চোখের পানির দাম দেওয়ার ক্ষমতা কোনো প্রাণীর নেই। পৃথিবীতে কেবল একটা কান্নার মূল্য আছে। আল্লাহর কাছে কান্না। মানুষের কাছে কান্না লুকোতে হয়, স্রষ্টার কাছে প্রাণ খুলে কাঁদতে হয়। চোখের পানি যদি ফেলতেই হয়, সর্বশক্তিমানের ভয়ে অশ্রুপাত করুন। আর শেষ রাতে কাঁদতে পারার একটা অন্যরকম সুখ আছে। একটা গভীর স্বস্তি আছে। তখনই বোঝা যায়, কান্নাকাটি কোনো দুঃখবোধ নয়, একটা আনন্দের ব্যাপার। একটা নির্ভার প্রশান্তি।
আপনার ভেতরের জমাটবাঁধা বরফ যদি গলতে পারে, আপনি একটা শক্তি পাবেন। আপনার ভীরু মন হঠাৎ সাহসী হয়ে উঠবে। যেকোনো সিদ্ধান্ত আপনার জন্য সহজ হবে। আপনার ভবিষ্যতের জন্য কেবল তার ওপরেই ভরসা করতে পারবেন।

ফেসবুক 

পদ্মফুল

উৎসর্গ : মাহবুব ভাইকে


আমি এমনই একটা জীবন চেয়েছিলাম।
প্রতিদিন সকালে তোমার উজ্জ্বল মুখের সামনে দাঁড়ালে আমার চোখ থেকে অন্ধকার ঝরে পড়ে।
তুমি জানো না, তোমার অলক্ষ্যে তোমায় ভেবে ভেবে, আমি একটু একটু করে আমাকে আবিষ্কার করছি।

বাঁধভাঙা স্রোতে ছুটতে ছুটতে আমি ভুলেছিলাম শান্ত সরোবর। উন্মুক্ত সৈকতে আধুনিকতার অভিনয়ে আমি স্বস্তি পাই নি। ওইসব ভাষা, ওইসব ভঙ্গি আমি রপ্ত করেছিলাম, বপ্ত করি নি। তবু সুপ্ত আমাকে না দেখতে পেলে আমার তৃপ্তি হতো না।

এই পাড়বাঁধা দীঘিই আমার কোমল আশ্রয়। এবার আমি পদ্মফুল হয়ে যাবো।


ফেসবুক

আমার আমি-৭

আমি ইদানিং আমাকে ডিস্টার্ব করছি, খুব। নিজের সাথে নিজের বৈরিতায় কষ্ট পাচ্ছি নিজে। এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায় কী?
ফেসবুক 

আমার আমি-৬

কিছু কিছু মানুষের ব্যতিক্রমী কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, যেমন- কথা কম বলা, মানু্ষের সাথে কম মেশা। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে তাদেরকে আমার ভালো লাগে। মজার বিষয় হচ্ছে এই গুণাবলী যখন আমার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, আমার খারাপ লাগে। যে কারণে ভালোবাসি, সে কারণে কষ্ট পাই।
ফেসবুক 

আমার আমি-৫

ছেলে মেয়ের উর্দ্ধে উঠে মানবিক বন্ধুত্বের স্তরে স্থির যদিও আমরা।
তবুও যখন জীবনের কথায় কানাকানি করে ওঠে আমাদের যৌগিক সত্তা; রোমান্টিক রসিকতায় ভাগাভাগি হয় দুজনের দিবা রাত্রির কাব্য-
তখন কীসের আশঙ্কায়- নাকি শিহরণে, কেঁপে কেঁপে দূরে যেতে চাই আমি! বুঝি না এখনও তা, জানি না মনের পাগলামি!
ফেসবুক 

আমার আমি-৪

কারো ভেতরে হৃদয়হীনতা দেখে আকৃষ্ট হই। খুব কাছাকাছি যাই। এই তার ভেতরে এতটুকু হৃদয়বৃত্তি না দেখে কষ্ট পাই!

তুমি হয়তো বলবে- হৃদয়হীনের কাছে হৃদয়বৃত্তি খোঁজা বোকামি নয় কি? নয় কি হাস্যকর?

কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে- এতদিন ধরে আমি যে হৃদয়বৃত্তি ঢেলেছি উজাড় করে, তাতে কি জন্মাতে পারে না ছোট্ট ভালোবাসার ফুল? কিংবা সামান্য ভদ্রতার ছায়া?

তবে কি আমি নিজেই হৃদয়হীন?

আমার আমি-৩

আমি তাকে ভালোবাসি, খুব। সে আমাকে ভালোবাসে, গভীরভাবে। এই আড়াই বছরে কখনো আমাদের ঝগড়া হয়নি! আমার ইচ্ছে করছে তার সাথে ঝগড়া করতে, অকারণে! কিন্তু আমি তার সরলতাকে ভয় পাই- যদি আগের অবস্থা ফিরে না পাই! না, না, আমি তা চাই না! অথচ আমার কেবলই ইচ্ছে করে ঝগড়া করতে...।
ফেসবুক 

আমার আমি-২

মন খারাপ হলে এক ভিন্ন ধরনের সুখ অনুভব করি আমি! যখন একা একা থাকি, কল্পনায় মন খারাপের একটা অবস্থা তৈরি করে নিই। তখন খুব দুখের একটা উপন্যাস পড়তে ইচ্ছে করে। উপন্যাসের করুণ অংশটা যখন পড়ি, পাথরের মত হয়ে যাই। যদিও ভেতর আন্দোলিত হতে থাকে। দুখের অংশ শেষে যদি সুখের কোনো অংশ পাই- আমি আর স্থির থাকতে পারি না, চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ে...।

আমার আমি-১

বুকের মধ্যে আগুন আছে, নিয়ন্ত্রিত।
মনের ভেতর প্রেমের নদী, বিশেষ ধারায় প্রবাহিত।
হৃদয়ে অসীম ভালোবাসা, অনুচ্চারিত।