স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।

নিজের সাথে বকবকানি

লিখতে চাই। কী লিখবো জানি না। লিখছি স্যারের কথায়। কোথায় এই লেখার শেষ- তা জানা নেই।
-কেন লিখছো? লিখে কী হবে? স্যার বললেই কি লিখতে হবে?
-হ্যাঁ, লিখতে হবে।
-কেন?
-কারণ এ লেখা অর্থহীন!
-অর্থহীন লেখা লিখছো কেন?
-অর্থহীনের মধ্যেও একটা অর্থ আছে? অর্থহীন লেখামালা তোমাকে একটা অর্থ দিবে। তুমি কি সেই অর্থ বুঝতে পারবে? বোঝার ক্ষমতা কি আছে? নিরর্থকের অর্থ বুঝতে একটা বোধ দরকার। তোমার কি তা আছে?
-না, নাই। বোধ না থাকলে কি লেখক হওয়া যাবে না? বোধের পরিমাণ কি সবার সমান? কোনো কিছু দেখলেই যদি একটা বোধ তৈরি হয়, তবেই কি সে লেখক? আর যদি না হয়?



-আমি জানি না। আমারও বোধ নাই।
-আচ্ছা, বোধ কাকে বলে? বোধ তৈরি হয়েছে কিনা সেটা বুঝতে কি বোধের প্রয়োজন? বোধকে বোধ করবো কীভাবে? কিছু বুঝতে পারা, মনে আলোড়ন তৈরি হওয়া যদি বোধ হয়, তবে না বুঝতে পারা, আন্দোলিত না হওয়া কি বোধ নয়? আন্দোলিত হওয়া একটা অবস্থা। না হওয়াও তো একটা অবস্থা। তবে? না হওয়াও তো একটা বোধ। তবে কি সবার মধ্যে বোধ আছে?
-হ্যাঁ, আছে। সবাই বোধের অধিকারী।
-কী আশ্চর্য! আমার যে বোধ আছে, তা তো আমি জানি না।
-এই না জানাটাই একটা বোধ।
-বাহ! অদ্ভুত তো!
এখানে অদ্ভুতের কী আছে? জগতের কোনো কিছুই অদ্ভুত নয়। অদ্ভুত হচ্ছে বুঝতে পারার ক্ষমতা।
-কোনো কিছু অদ্ভুত না হলে, বুঝতে পারার ক্ষমতা কেন অদ্ভুত হবে? এটাও তো জগতের একটা কিছু।
-আরে তাই তো! আসলে আমি জানি না...

(২০১২ সালের ১০ এপ্রিল বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ প্রকল্পে খাইরুল আলম সবুজ ক্লাস নিচ্ছিলেন। তিনি বললেন, ‘তোমরা ১০ মিনিট একটানা লিখবে। কোনো বিরতি নেওয়া যাবে না, কলম তোলা যাবে না।’ আমি ৯ মিনিটে ওপরের অংশটুকু লিখি। তারপর কলম থেমে যায়, আমিও আটকে যাই। আজ ওই খাতাটা চোখে পড়লো। শিরোনামটা এখন দিলাম।)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন