স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।
অনুবাদ-প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনুবাদ-প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

নরেন্দ্র মোদির কবিতা

মৌমাছি প্রস্তাবনা

ভাষান্তর : তানিম ইশতিয়াক

মাঝে মাঝে আমি মৌমাছি হয়ে যাই
শীতসকালের সূর্যেও এনে দিই বৈশাখী তাপ
মৌমাছির মতো আমি এখানে সেখানে উড়ে বেড়াই
প্রতিটি স্থানে আমি বসি, অথচ থাকি না কোথাও...।
এক মুহূর্ত ফুলের পাশে বসি। ডুবে যাই পুষ্পসৌরভে,
মুক্ত উদাসীন আমি বাতাসে দুলে দুলে খুঁজে ফিরি গোলাপ।
কখনো কখনো আমি মৌমাছি হয়ে যাই।


যেখানে বাগান আছে, আছে সুরের ঝঙ্কার
উন্মুক্ত অরণ্যে রঙিন দৃশ্যরাজি,
জীর্ণ পথে আমি চলি না
স্বতন্ত্র আমার যাত্রা এলোমেলো বেশ।


তুমি দেখো এই উদাসীন নিঃস্ব ফকির
অথচ তার অন্তরে আমি ঐশ্বর্যের বৃক্ষ।
সময়ে সময়ে আমি মৌমাছি হয়ে যাই।


নরেন্দ্র মোদিকে আমরা রাজনীতিবিদ হিসেবে চিনলেও তিনি একজন কবি। তার আছে শৈল্পিক মন। তাই সময় সুযোগ পেলেই গুজরাটে বসে তিনি কবিতা লেখেন।

তবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিবিদ হিসেবে তার কুখ্যাতি থাকলেও তার কবিসত্তায় রাজনীতি নেই। মোদির পূর্বসূরি অটলবিহারী বাজপেয়ীও হিন্দি কবি হিসেবে বেশ বিখ্যাত।

গত ২০ এপ্রিল ইনডিয়ার প্রকাশনা সংস্থা ‘রূপা’ নরেন্দ্র মোদির ৬৭টি গুজরাটি কবিতার ইংরেজি অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছে। ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত নরেন্দ্র মোদির কাব্যগ্রন্থের নাম ‘এ জার্নি : পোয়েমস বাই নরেন্দ্র মোদি’।

কবি মনথা অনূদিত সেসব কবিতায় দেশপ্রেমের পাশাপাশি আছে রোমান্টিক প্রেমের কবিতাও। এছাড়া তার কবিতায় ফুটে উঠেছে মানবপ্রেম, মৈত্রী ও সাম্য। একটি কবিতাতেও নেই রাজনীতির ছিটেফোঁটা। তার পরিবারের কোনো কথাও উঠে আসে নি এসব লেখায়।

নিজের কবিতা সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমি মনে করি না- আমার কবিতা অসামান্য কিছু। তবে এখানে চিন্তার প্রবাহ আছে, যেন জলের ভেতর ঢেউ। আমি যা দেখেছি, যা অভিজ্ঞতা আছে ও কল্পনায় যা ভেবেছি, তা-ই লিখেছি।’



ফেসবুক 

হাবাগোবা সেই ছেলেটি এখন দিল্লির শিরোমণি



হিসারের বারা মহল্লায়, বাড়ির আঙিনায় শীতের রোদ পোহানো বয়স্ক মানুষগুলো আজ দারুণ খুশি। হরিয়ানার এই জিন্দাল কলোনিতে ৪৭ বছর আগে জন্ম নেয়া এক শিশু দিল্লির মুুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছে। ১৯৬৮ সালের ১৬ আগস্ট গীতা দেবী ও গোবিন্দ রামের কোল আলো করে নেমে এসেছিল এক চাঁদের টুকরো। এখন তা ধূমকেতু হয়ে আবির্ভূত হয়েছে ভারতের রাজনীতিতে। ধর্মীয় প্রভাব, গোত্রীয় সমর্থন কিংবা ক্যাডার বাহিনী ছাড়াই অবিশ্বাস্য বিপ্লব এনেছেন দিল্লির রাজক্ষমতায়। জন্মাষ্টমীতে জন্ম হওয়ায় দাদা-দাদি যাকে কৃষ্ণ বলে ডাকতেন। সেই কৃষ্ণদ্যুতিতেই ম্লান হয়ে গেছে নরেন্দ্র মোদির ‘সন্ন্যাস রশ্মি’।

কেজরিওয়ালের বাবা ছিলেন একজন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। দরিদ্র পরিবারের মালিকানায় ছিল একটি স্কুটার। ছোটবেলার স্মৃতি খুব বেশি মনে নেই কেজরিওয়ালের। শনিপাত ও গাজিয়াবাদে ইংরেজি মাধ্যম মিশনারি স্কুলের পর হিসারের ক্যাম্পাস স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তার সেসময়ের বন্ধুরা জানান, হাবাগোবা টাইপের ছেলে ছিল ও। ক্লাসের সামনের সারিতে চুপচাপ বসে থাকত। ঘন কালো চুলের ছেলেটিকে বেশ দুর্বল লাগত। ক্রিকেট, ফুটবলের পরিবর্তে বইপড়া ও দাবার ঘুটি খেলা পছন্দ করত। ১১ বছর বয়সে তার হাতে সবসময় পেন্সিল ও স্কেচ বক্স থাকত। গাছ-প্রাণী-ভবন যা কিছু দেখত খাতায় আঁকতে পারত সে। গ্রীষ্মের ছুটিতে নয়-দশ জন চাচাতো-মামাতো ভাইদের একটি দল এদিক-সেদিক হৈ হুল্লোড় করতে বেরিয়ে পড়ত। সেই ক্ষুদ্র দলের প্রধান কুসুম গয়াল (বর্তমানে চার্টার্ড অ্যাকাউট্যান্ট) বলেন, ‘আজকের মতো নেতৃত্বের গুণাবলী তখন কেজরিওয়ালের মধ্যে দেখিনি।’

শিশু বয়স থেকে ধর্মের প্রতি অনুরাগী ছিলেন কেজরিওয়াল। চার্চ স্কুলে নিয়মিত বাণী শ্রবণ ও বাড়িতে হিন্দুধর্মের নৈতিক শিক্ষায় প্রভাবিত ছিলেন তিনি। ঘুম থেকে উঠে, রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে নিয়মিত পূজা করতেন। তখন থেকেই কেজরিওয়ালের মধ্যে প্রবল দায়িত্ববোধ জন্ম নিয়েছিল। একবার আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নিজ স্কুলের দলপ্রধান ছিলেন তিনি। কিন্তু প্রতিযোগিতার আগের রাতে প্রচণ্ড জ্বর উঠেছিল তার। অথচ পরদিন গায়ে কম্বল পেঁচিয়ে বাবার স্কুটারে উঠে ঠিকই সেই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ছোট বোন রঞ্জনা অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে কেজরিওয়াল সরারাত জেগে বোনকে বই পড়ে মুখস্থ করিয়ে দিয়েছিলেন।
খড়গপুরের আইআইটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময়ই মূলত কেজরিওয়ালের মধ্যে রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার বীজ বপন হয়। নিজের তুলনায় যারা হতভাগ্য, তাদের জন্য কিছু করার আকর্ষণ বোধ করতেন তিনি। নেহেরু হল হোস্টেলে চার বছর কেজরিওয়ালের সঙ্গে থেকেছেন নমিত অরোরা। তিনি বলেন, ‘কেজরিওয়াল অত্যন্ত স্পষ্টভাষী, আÍবিশ্বাসী ও ভাবুক ছিলেন।’ আরেক ব্যাচমেট জর্জ লোবো (এখন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী) বলেন, ‘সবাই যখন ক্যারিয়ার নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকত, কেজরিওয়াল প্রায়ই বলতেন, এমন কিছু করা দরকার যাতে ভারতে পরিবর্তন আসবে।’

১৯৯২ সালে বিজেপির রামমন্দির আন্দোলন ও বাবরি মসজিদ ভাঙার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন কেজরিওয়াল। টাটা স্টিলে কাজ করার সময় কোম্পানির ‘সমাজকল্যাণ’ বিভাগে দায়িত্ব চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার কেজরিওয়ালকে তার অনুমতি দেয়া হয়নি। চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে মাদার তেরেসার সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। কেজরিওয়াল বলেন, ‘ওটা আমার জীবনের স্বর্গীয় মুহূর্ত।’ দু’মাস তেরেসার সঙ্গেই থাকেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে প্রথমবারেই রাজস্ব কর্মকর্তা হন। কিন্তু কেজরিওয়ালের লক্ষ্য ছিল জনসেবা করার জন্য গোয়েন্দা পুলিশ হওয়ার। দ্বিতীয়বারও সেই রাজস্ব কর্মকর্তা।

১৯৯৩ সালের সরকারি ট্রেনিংয়ের সময় আরেক রাজস্ব কর্মকর্তা সুনিতার সঙ্গে পরিচয়। ৬২ সপ্তাহের ট্রেনিংকালে সুনিতার প্রতি মুগ্ধ হন তিনি। একদিন কেজরিওয়াল সুনিতার দরজায় গিয়ে বলেন, ‘আপনি কি আমাকে বিয়ে করবেন?’ প্রস্তাব গ্রহণ করেন সুনিতা। বিয়ের পর সরকারি ফ্ল্যাটে ওঠেন তারা। জনগণের ‘তথ্য অধিকার’ আইন বাস্তবায়নের জন্য অবদান রাখেন তিনি। এর স্বীকৃতি স্বরূপ ম্যাগসাইসাই পুরস্কার লাভ করেন। আয়কর বিভাগে কাজ করে জনগণের দুর্দশা দূর করা সম্ভব নয় ভেবে চাকরি ছেড়ে ‘পরিবর্তন’ নামের এনজিও গড়েন তিনি। পরবর্তী সময়ে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি অনুভব করেন, রাজনীতি ছাড়া দেশে পরিবর্তন সম্ভব নয়। ২০১২ সালে গঠন করেন আম আদমি পার্টি। ২০১৩ সালে কংগ্রেসের সহায়তায় সরকার গঠন করেন। লোকপাল বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয়ে ৪৯ দিনের মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। এবার একচেটিয়া জনসমর্থন নিয়ে দিল্লির মসনদে ফিরলেন জনগণের বন্ধু কেজরিওয়াল।

ফেসবুক 

আসুন ভালোবাসার বিসিএস পড়ি

  • ভালোবাসা একটিমাত্র আত্মা নিয়ে গঠিত , যা দুটো দেহে বাস করে- এরিস্টটল
  • ভালোবাসা আমার ধর্ম, আমি এর জন্য মরে যেতে পারি – জন কিটস
  • ভালোবাসা চোখে দেখা যায় না, হৃদয়ে অনুভব করতে হয়- উইলিয়াম শেক্সপিয়র
  • ভালোবাসার সূচনা মুচকি হাসি – মাদার তেরেসা
  • যেখানে ভালোবাসা আছে, সেখানে জীবন আছে- মহাত্মা গান্ধী
  • অপক্ক ভালোবাসা বলে, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি কারণ তোমাকে আমার প্রয়োজন।’ কিন্তু পরিণত ভালোবাসা বলে, ‘তোমাকে আমার প্রয়োজন, কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ -এরিখ ফ্রম
  • ভালোবাসা এমন কিছু নয়, যা আপনি খুঁজছেন। ভালোবাসা তা-ই, যা আপনাকে খুঁজছে- লরেত্তা ইয়ং
  • ভালোবাসা তখন হবে যখন নিজের চেয়ে আরেকজনের সুখটা গুরুত্ব পাবে- এইচ জ্যাকসন ব্রাউন
  • যে নারীকে আমি ভালোবাসি, তার কণ্ঠই পৃথিবীর মধুরতম সুর- জিন ব্রুয়েরে
  • ভালোবাসা ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না- ম্যাক্স মুলার
  • ভালোবাসাকে খুঁজে নিতে হবে, খুঁজে পাওয়া সত্তাকে ভালোবাসতে হবে- থমাস মনসন
  • ভালোবাস যুদ্ধের মতো। শুরু করা সহজ, শেষ করা বেশ কঠিন- এইচ এল মেনকেন
  • ভালোবাসা হচ্ছে সেই খেলা, যাতে দুজনই জিততে পারে- ইভা গ্যাবর
ফেসবুক

গুজরাটের রাজনীতি ও মুসলিম সম্প্রদায়

Indian election officials carry their Electronic Voting Machines (EVM) to a waiting bus on their way to various polling stations from a distribution centre in Ahmedabad on April 29, 2014. Gujarat state goes to the polls on April 30 for 26 Constituencies in the Lok Sabha - lower house - elections. — Photo by AFPভোটের দিন অনেকটাই শান্ত আর নীরব ছিল ইনডিয়ার আহমেদাবাদ। উৎসবমুখর পরিবেশের কোনো আমেজ পাওয়া যায়নি। কোনো দেয়ালে মেলেনি পোস্টার। বিজেপির প্রার্থী আদভানির বিলবোর্ড থাকলেও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোটের ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে নামিয়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিক বা রাজনৈতিক কর্মীদের তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো না। সবাই জানে, ভোটের ফলাফল কী হবে। এখানকার ভোটে কোনো রহস্য নেই। কোনো দলের পক্ষে বিজেপিকে পরাজিত করা সম্ভব নয়।

বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি ২০০১ সাল থেকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়ে বর্তমান মেয়াদেও শাসন করছেন তিনি। ১৯৯৫ সল থেকেই বিজেপি এখানে ক্ষমতায়। ধারাবাহিকভাবে পাঁচবার নির্বাচিত দল। ১৮২ আসনে কখনো একশ’র নিচে আসন পায়নি দলটি।

কিন্তু এখানকার ৬ কোটি জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটাই পছন্দ- কংগ্রেস। হিন্দু আধিপত্যের বিপরীতে তাদের আশা ভরসার একমাত্র দল কংগ্রেস।

গুজরাটের দীর্ঘ সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ইতিহাস আছে। ২০০২ সালের মুসলিম বিরোধী দাঙ্গায় ২০০০ লোক নিহত হয়। সেসময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। স্বয়ং মোদির বিরুদ্ধেই এই দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।

মোদি এই শহরকে ‘আধুনিকতার মডেল’ বললেও মুসলিমদের ধারণা পুরোপুরি আলাদা। আহমেদাবাদের বৃহত্তম মুসলিম পাড়া জুহাপুরার একজন অধিবাসী বলেন, ‘কীসের উন্নয়ন? এখানকার রাস্তা-ঘাট, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, শিক্ষা দেখেন তো! রাষ্ট্র আমাদের ছুঁড়ে ফেলেছে, আমরা পরিত্যক্ত।’

প্রায় ২ লাখ অধিবাসী বিজেপি রাজনীতির অন্ধকারে বসবাস করছেন। জুহাপুরাকে ‘মিনি পাকিস্তান’ বলে ডাকে তারা।

ইন্দো-আমেরিকান সাংবাদিক জহির জান মুহাম্মাদ বলেন, ‘এটা কোনো বস্তি নয়, এখানের যানবাহন ঘরবাড়ি দেখেন। ধনী-গরিব সবই আছে। এই অবস্থার একটাই কারণ, এর অধিবাসীরা মুসলিম। তারা তাদের প্রতিবেশীদের সাথে নিরাপদ বোধ করে না। ভীতিই তাদেরকে জীবনের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে বলে।’ জহির জান মুহাম্মাদ ২০০২ সালের দাঙ্গার পর থেকে এখানে বসবাস করছেন।

তরুণ প্রজন্মের মুসলিমরা নতুন দল পছন্দ করেন। তারা আম আদমি পার্টির প্রতি উৎসাহী। কিন্তু বয়স্করা এতে নারাজ। বয়স্ক একজন জানান, ‘আমি যদি কংগ্রেসকে ভোট না দিই, তবে এটা আমাদের আহত করবে। কংগ্রেস একটি ভোট হারাবে, বিজেপি এক ভোটে এগিয়ে থাকবে।’

২০১২ সালে বিজেপি এখানে ভোট পেয়েছিল ৪৭.৯ শতাংশ। অন্যদিকে কংগ্রেস পায় মাত্র ৯ শতাংশ। কংগ্রেসের ক্ষমতা আরো কমে আসছে। গুজরাটের উপজাতি ও নিচু জাতের মধ্যে কংগ্রেসের ব্যাপক সমর্থন আছে। তবে অনেকেই এখন বিকল্প দল খুঁজছে।

‘তারা একটা (কংগ্রেস) একটা অকেজো দল। আমাদের নিজেদের স্বার্থে বিকল্প দল খোঁজা উচিত। আম আদমি একটা সুযোগ হতে পারে।’ বলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকরি কর্মকর্তা। ১৯৪৭ সালে তার পরিবার করাচিতে চলে গেছে। এই ভূমি ছেড়ে কখনো কোথাও যেতে চান না তিনি। ইনডিয়ায় মুসলমোনদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি হতাশ নন।

গুজরাটের নাগরিক সমাহের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য ও নাইরিকশাক জার্নালের সম্পাদক প্রকাশ এন শাহ বলেন, গুজরাট ও ইনডিয়ার রাজনীতি কেবল নির্বাচন দিয়ে বিচার করলে চলবে না। ভোট এদিক ওদিক হতে পারে, নির্বাচনের ফল পরিবর্তন হতে পারে, অর্থনৈতিক চাহিদাও পূরণ হতে পারে, কিন্তু সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মানসিক বিভেদ থেকে যাবে। অবিশ্বাস অনাস্থা দূর হবে না। ‘ভিন্ন কিছু’র জন্য আমাদের অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে।

ডন থেকে অনূদিত। প্রকাশিত: অনলাইন বাংলা

ব্রিটিশ মুসলিমরা কেন সিরিয়ার যুদ্ধে?

১২ মে ২০১৪ আল-জাজিরায় প্রকাশিত রবিন সিমকক্স এর ‘হোয়াই ব্রিটিশ বয়েজ আর ফাইটিং ইন সিরিয়া ওয়ার’ নিবন্ধটির অনুবাদ করেছেন  তানিম ইশতিয়াক


সম্প্রতি প্রকাশিত সিরিয়ার এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে ব্রিটিশ যোদ্ধারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব যোদ্ধাদের আল-কায়দার আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেইট অব ইরাক এন্ড দ্য লেভান্ট) এর সাথে যোগাযোগ রয়েছে।

দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে, ব্রিটিশ নাগরিকরা এ ধরনের কাজ করছে এটা কারো কাছে আশ্চর্যের মনে হচ্ছে না। গত কয়েক দশক ধরে ব্রিটিশরা এসব যুদ্ধাঞ্চলে গিয়ে মানুষ হত্যা করছে বা নিজেরা নিহত হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এই সংখ্যাটা দিন দিন কমার পরিবর্তে বাড়ছে।

১৯৯০ এর দশকে এই ধরনের যুদ্ধের সামান্য অথচ অদম্য ঢেউ উঠেছিল চেচনিয়া, বসনিয়া, কাশ্মির ও আফগানিস্তানে। মুজাহিদিনপন্থী ওয়েবসাইটগুলোতে বসনিয়ায় নিহত দাউদ আল ব্রিটনি ও আবু মুসলিম আল তুর্কির ঘটনাকে বড় করে তুলে ধরা হয়। ১৯৯৬ সালে মনে করা হয়, ব্রিটেনের কেউ এই প্রথম (অবশ্য এর শেষ সম্পর্কে ধারণা করা যাচ্ছে না) আফগানিস্তানে তালেবানের সাথে আত্মঘাতি হামলায় অংশ নিয়েছে। এই ঘটনার চার বছর পর বার্মিংহামের অধিবাসী জাইশ-ই মোহাম্মদ কাশ্মিরে একই ধরনের হামলার জন্য বিলাল আহমেদকে নিযুক্ত করে।

এসব ঘটনায় সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান হয়নি। সন্ত্রাসী নিয়োগ কেন্দ্রগুলো প্রকাশ্য অনেকটা ভার্চুয়ালি। এক হিসেবে দেখা যায়, শুধু লন্ডন মসজিদ এলাকা থেকে অন্তত ৫০ জন বিদেশের মাটিতে যুদ্ধে নিহত হয়েছে।

৯/১১ ও আফগান যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। কয়েক ডজন ব্রিটিশ মুসলিম ‘খাঁটি’ ইসলামি রাষ্ট্রে বাস করার বাসনায় তালেবানের সাথে যুদ্ধে যোগ দিতে যায়। আবার ব্রিটিশ সৈন্যরাও প্রতিপক্ষের হয়ে সেসব যুদ্ধের কয়েকটাতে অংশ নেয়।

সরকার অনেক বিলম্বে সমস্যার সম্যক ধারণা করতে পারে। ৯/১১ এর পরে ইরাকে ব্রিটিশ সৈন্যের উপস্থিতে পশ্চিমা বিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৩ সালে লন্ডনের আসিফ হানিফ তেল আবিবের একটি বারে আত্মঘাতি হামলা চালিয়ে তিন জনকে হত্যা করে। ২০০৬ সাল নাগাদ ইরাকের তৎকালীন আল কায়েদা প্রধান আবু মুসাব আল-জারকাওয়াই এর তত্ত্বাবধানে অন্তত ১৫০ জন ব্রিটিশ ইরাকে যায়। তারা মার্কিন ও ব্রিটেশ সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশে নেয়।

মার্কিন নের্তৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের ইরাক হামলার কারণে ব্রিটিশ মুসলিমদের এই প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হয়নি। ২০০৭ সালে লন্ডনের এক অধিবাসী আত্মঘাতি হামলায় মোগাদিসুতে ২০ জন সোমালিয় সৈন্যকে হত্যা করে। ২০০৯ সাল নাগাদ সোমালিয়ায় অন্তত ১০০ ব্রিটিশ নাগরিক ট্রেনিং নেয়। এই সংখ্যা এখন আরো বাড়ার কথা। ইয়ামেনে আল কায়েদার শক্তিশালী অবস্থান আরব অঞ্চলের কর্মকাণ্ডে কয়েক ডজন ব্রিটিশ স্বেচ্ছাসেবীকে টানতে সক্ষম হয়।

এখন এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে সিরিয়ায়। দেশটির নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন, ব্রিটিশ থেকে যে পরিমাণ লোক বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে, তা ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে আসা সম্মিলিত সংখ্যার চেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক মৌলবাদীকরণ গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ এর ডিসেম্বর নাগাদ এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৬ তে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলেপ্পোর আত্মঘাতি বোমা হামলায় আব্দুল ওয়াহিদ মজিদ নিহত হলে এই সংখ্যা একজন কমে যায়। অর্থাৎ বর্তমানে ৩৬৫ জন।

আশঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে এসব যোদ্ধারা সিরিয়ার ‘জিহাদ’ শেষে ব্রিটেনে ফেরত আসছে। এটার কী নিশ্চয়তা আছে যে, এরা দেশে ফিরে নিজেরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াবে না? এই হুমকি খু্বই তাৎপর্যের দাবি রাখে।
তবে ব্রিটিশ সরকার প্রতিক্রিয়া দেখানো শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরিয়া থেকে দেশে ফেরা নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দ্বৈত-জাতীয়তার কয়েকজনের নাগরিকত্ব আটকে দিয়েছে। গত মাসে পুলিশ মুসলিম নারীদের অনুরোধ করেছে তাদের স্বজনদের যেন সিরিয়ায় যেতে না দেওয়া হয়। সিরিয়া ফেরতদের ব্যাপারে পুলিশ অতীতের তুলনায় এখন বেশি তৎপর।

কয়েক ডজন সিরিয়া ফেরতের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে গুয়ান্তানামোর সাবেক বন্দি মোয়াজ্জেম বেগও রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা যাচ্ছে না, তাদেরকে বিকল্প হিসেবে ‘বি-মৌলবাদকরণ’ প্রোগ্রামে পাঠানো হচ্ছে।

সিরিয়ার চলমান যুদ্ধ এখনো ব্রিটিশ নাগরিকদের টানছে, যারা আল কায়েদার আদর্শের প্রতি মুগ্ধ। অনেকেই আছেন যারা আল কায়েদার সাথে যুক্ত হতে চান না, কিন্তু মুসলিম ভুক্তভোগীদের প্রতি দরদ পোষণ করেন।
শেষ বিচারে অবশ্য মুসলিমদের নিপীড়িত হওয়ার দৃশ্যই বিশ্ববাসীর কাছে প্রধান হয়ে উঠছে। পশ্চিমাদের কাছে টানার কাজে এই সুযোগটা আল কায়েদা ব্যবহার করবে। সরকার এক্ষেত্রে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় সহিংসতা যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে, তাতে এসব রোধ করার প্রক্রিয়া ক্রমশই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে।

প্রকাশিত: অনলাইন বাংলা

পশ্চিমা ভণ্ডামি : ক্রাইমিয়া ও ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধ


 মূল : ভাকি ভ্লানজা

রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের অজুহাত একটি পরিষ্কার ভণ্ডামি ও প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। ক্রাইমিয়ায় রাশিয়ার দখলদারিত্বের চেয়ে মারাত্মক ইসরাইলের ঔপনিবেশিক ভূমি বন্দোবস্তের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল।

ক্রাইমিয়া দখল করে নিয়েছে রাশিয়া। অথচ তার চেয়েও মারাত্মক হল ইসরাইলের ফিলিস্তিন দখল। পুরা ঔপনিবেশিক কায়দায় ভূমি বন্দোবস্ত করে ফিলিস্তিন দখল করেছে ইসরাইল। কিন্তু ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেই পশ্চিমের। অথচ এ ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ধারা-৮ অনুযায়ী ইসরাইলের এই সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া যুদ্ধাপরাধের সামিল।


১৬ মার্চ ক্রাইমিয়ায় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেখা গেল, ক্রাইমিয়ার জনগণ ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাশিয়ার সাথে অঙ্গীভূত হতে অভাবনীয় সাড়া দেয়। ২০ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রাশিয়ার ওপর দ্বিতীয়বারের মতো অবরোধ আরোপ করে। রাশিয়ার প্রধান কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেয় তারা। এর জের ধরে রাশিয়ার শেয়ারবাজারেও ধাক্কা লাগে।


এরপর রাশিয়ার পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে ক্রাইমিয়া চুক্তি পাশ করে। এতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রাইমিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। এর মধ্য দিয়ে চুক্তিটি আইনে পরিণত হয়। 


এ ঘটনার পর আবার সেদিনই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ক্রাইমিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইউক্রেনের ঋণগ্রস্ত অর্থনীতিকে টেনে তুলতে শুল্ক কমানোরও সুবিধা দেয়া হয়।

ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তে রাশিয়ার সৈন্য উপস্থিতি জোরদার করার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক আস্ফালন খেলায় মেতে ওঠে। রাশিয়ায় যে যৌথ মহড়া হওয়ার কথা ছিল সেটা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র সে মহড়া ইউক্রেনে করার ঘোষণা দেয়। ‘অ্যাটলাস ভিশন’কে এখন ‘র‌্যাপিড ট্রিডেন্ট’-এ পরিণত করে বহুজাতিক সামরিক অনুশীলনের খেলা দেখানো হয়।


১৯৪৭ সালে ফিলিস্তিন বিভক্তিতে জাতিসংঘ প্রচেষ্টা ফিলিস্তিনি জনগণ নিরঙ্কুশ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রত্যাখান করেছে। অবশ্য ক্রাইমিয়ার মতো ফিলিস্তিনের জনগণ গণভোটের সুযোগ পায় নি। কারণ স্বদেশী জনগণ জায়নবাদী বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। অথচ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই জায়নবাদীদেরই সমর্থন করছে।


ইসরাইল যখন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি নারী শিশুর ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। একইসাথে ৫০০ গ্রাম ধ্বংস করে ৭ লাখ ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক তাড়িয়ে দিয়ে একতরফাভাবে ইসরাইল রাষ্ট্রের ঘোষণা দিয়েছিল, তখন পশ্চিমারা আন্তর্জাতিক আইন লংঘনের কথা বলে ইসরাইলের ওপর কোনো অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে নি। কোনো সামরিক শক্তিও পাঠায়নি।


১৯৬৭ সালের ২৮ জুন ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল ইসরাইল। ইসরাইলের এ দখলদারিত্বকেও পশ্চিমারা উপেক্ষা করেছিল।
পূর্ব জেরুজালেমের পুরণো শহরে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি আইন ও প্রশাসনের অধীনে বসবাস করছে। একইভাবে ইসরাইল যখন সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করেছিল তখনও পশ্চিমারা নীরব ছিল।


তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ থেকে এ উভয় দখলদারিকেই অবৈধ বলা হয়েছিল। নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত প্রস্তাবের ৪৭৮, ২৬৯ ও ৪৯৭ ধারা ইসরাইল ৬৭ বছর ধরে অমান্য করে আসছে। এছাড়া অব্যাহতভাবে ফিলিস্তিনের মিমাংসিত ভূমিগুলো দখল করে নিচ্ছে।


২০ মার্চ, যখন ইউক্রেন সংকট তুঙ্গে, ইসরাইলের সিভিল প্রশাসন পশ্চিম তীরে তাদের দুই হাজার অবৈধ বস্তি স্থাপন অনুমোদনের মাধ্যমে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।


বর্তমানে ১০১টি বসতি স্থাপনে ইসরাইল ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকায় ফিলিস্তিনিদের হটিয়ে তাদের ভূমি দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপন করেছে ইসরাইল। এ অঞ্চলের ইসরাইলি বসতিতে বিশ্বব্যাপী ধনী জায়নবাদী দাতব্য সংস্থা (জেএনএফ) থেকে অনুদান দেয়া হয়। উপরন্তু জেএনএফ’র বর্ণবাদী নীতি ও কার্যক্রম বিনাপ্রশ্নে প্রবেশাধিকার পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায়।


অবৈধ দখল করা বসতিগুলোতে প্রায় ৫ লাখ ইসরাইলি দখলদার বসবাস করছে। তাদের অস্ত্রবহনের অধিকার ও দায়মুক্তি দিয়েছে ইসরাইলি দখলদার সেনাবাহিনী।


ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের জন্য নানান কায়দা অনুসরণ করে ইসরাইলি দখলদাররা। ফসলী মাঠে হামলা, হাজার হাজার ফলবৃক্ষ, জলপাই গাছ উপড়ানো, সম্পদ ধ্বংস, বিষপ্রয়োগ, মাজার-মসজিদ ধ্বংস, পানি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিভূমির ক্ষতিসাধন, রাস্তা অবরোধ, স্কুলবাস ও স্কুলশিশুদের আক্রমণ, হুমকি, মারধর, গুলিসহ এমন কোনো পদ্ধতি নাই যা তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রয়োগ করে নি।


শান্তি আলোচনার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আল-আকসা মসজিদ নিয়ে দখলদার সামরিক বাহিনীর উস্কানিমূলক আচরণ জায়নবাদী ভীতি বাড়িয়ে তুলেছে। মসজিদে আকসায় তৃতীয় ইহুদি মন্দির স্থাপন, প্রপাগান্ডার চলচ্চিত্র নির্মাণ করে মুসলমানদের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্ট করছে।


ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর বিরতিহীন অত্যাচার, জোরজুলুম, উচ্ছেদ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল সরকার। তাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া, সম্পত্তি আইনের অনুপস্থিতি, বৈষম্যমূলক করনীতি, বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতিসহ নানান কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সরকার।


সোজা কথায়, সেখানকার জনগোষ্ঠীকে নিধন করা ৪র্থ জেনেভা সম্মেলনের ৫৩ ধারার লঙ্ঘন। এ ধারায় বলা হয়েছে, ‘দখলদার শক্তির দ্বারা ব্যক্তিগত কিংবা সামষ্টিক জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধন নিষিদ্ধ।’


ঔপনিবেশিক বন্দোবস্তের প্রতিটি ইট স্থাপনের পদক্ষেপ একেকটি যুদ্ধাপরাধ। ফিলিস্তিন সীমান্তে প্রতিদিন বিশ্বনেতাদের চোখের সামনে এ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ৬৭ বছরের দীর্ঘ আধুনিক সভ্যতার নির্মম দখলদারির ব্যাপারে বিশ্বনেতাদের চোখ কানা হয়ে যায়। অথচ ক্রাইমিয়ার জনগণের ইচ্ছানুযায়ী রাশিয়ার ক্রাইমিয়াকে অঙ্গিভূত করার প্রক্রিয়া বড় অবিচার আর যুদ্ধাপরাধ বলে হঠাৎ বিবেচ্য হয়ে ওঠে।


ফিলিস্তিনে ইসরাইলের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য দখলদারি মূলত ফিলিস্তিনের মর্যাদা-অধিকার ও স্বাধীনতা নস্যাতেরই নামান্তর। যখন আন্তর্জাতিক আইনের ইচ্ছাকৃত মানববিদ্বেষী ব্যবহার হয় তখন বিশ্বনেতাদের দ্বিমুখী আচরণে শুধু ফিলিস্তিনের লোকজনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, এর জন্য আমরা সবাই ভুক্তভোগি হই। 

বোকো হারামের নেপথ্যে সিআইএ, দোষারোপ ইসলামকে!

1.jpgউইকিলিকসে ফাঁস হওয়া একটি রিপোর্ট অবলম্বনে ‘বোকো হারাম ইজ এ সিআইএ কভার্ট অপারেশন’ নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘দ্য আফ্রিকান রেনেসাঁ নিউজ’। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় গত ১ মে। পরে ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘গ্লোবাল রিসার্স ডট সিএ’ নামের একটি ওয়েবসাইটে বোকো হারাম ও সিআইএর ভূমিকা নিয়ে এক দীর্ঘ বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়।
ওই বিশ্লেষণ থেকে সংক্ষিপ্তাকারে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন তানিম ইশতিয়াক


৭০ ও ৮০’র দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলোর স্বাধীনতা অর্জনে নাইজেরিয়া ব্যাপক সহযোগিতা করে। সেসময় নাইজেরিয়ার ভূমিকা স্পষ্টতই মার্কিন ও পশ্চিমা স্বার্থের বিরোধী হয়ে ওঠে।


আফ্রিকা অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় নাইজেরিয়াকে প্রতিবন্ধক মনে করা হয়। বুশ প্রশাসনের সময় থেকে নাইজেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের চক্ষুশুল হয়ে ওঠে।

নাইজেরিয়া নের্তৃত্বাধীন ইকোমোগ (ইকোনোমিক কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেইটস মনিটরিং গ্রুপ) মার্কিন স্বার্থের বিরোধী হয়ে ওঠে। বিশেষ করে লাইবেরিয়া ও সিয়েরালিওনে শান্তিরক্ষী মিশনে পাঠনোর সময় নাইজেরিয়া থেকেই ৯০ শতাংশ সৈন্য নিতে বাধ্য হয় দেশটির সামরিক শাসক জেনারেল ইব্রাহিম বাদামোসি বাবানগিদার চাপে।

পশ্চিমা শক্তি ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং আফ্রিকা অঞ্চলে নাইজেরিয়ার প্রভাব দূর করার জন্য ইকোমোগ এর সমান্তরালে একটি সংগঠন গড়ার চেষ্টা চালায়। তখন ‘আফ্রিকা ক্রাইসিস রেসপন্স ইনিশিয়েটিভ’ (এসিআরআই) গঠিত হয়। পরবর্তীতে আবার আফ্রিকম (ইউএস আফ্রিকা কমান্ড) প্রজেক্ট হাতে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

5.png
উইকিলিকসের ফাঁসকৃত রিপোর্টে বলা হয়, এসব কিছুতে তেমন সাফল্য না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডার পথ বেছে নেয়।
এর কয়েক বছর পর নাইজেরিয়ায় গোষ্ঠীগত কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স এজেন্সি) সুকৌশলে এই উপদলীয় সংঘাত কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

উপজাতীয় কয়েকজন নেতা ও বেকার গোঁড়া মুসলিমদের সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয় সিআইএ। তথ্যে বলা হয়, নাইজেরিয়া, শাদ ও ক্যামেরুনের সীমান্ত অঞ্চলে সিআইএ’র তত্ত্বাবধানে বোকো হারামের ট্রেনিং হয়। আর এর পুরোটাই সমন্বয় করে নাইজেরিয়ার মার্কিন দূতাবাস।


কিছু এজেন্টের মাধ্যমে এখানে লোক অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গরীব, সুবিধাবঞ্চিত ও অনেক ক্ষেত্রে নিরক্ষর তরুণদের এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়। এজেন্টরা তাদেরকে উন্নত জীবন পেতে ও আল্লাহর রাস্তায় কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে।
কয়েক মাস ধরে মতদীক্ষা ও কৌশল আয়ত্বের কাজ শেখানো হয়। তারপর অস্ত্রচালনা ও অপারেশনের ট্রেনিং দেওয়া হয়।

পরবর্তী পদক্ষেপে অপারেশনের জন্য স্থান চিহ্নিতকরণ ও টার্গেট নির্ধারণ মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমেই করা হয়। যদি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু কোনো ভবন হয়, তবে অস্ত্র ও কারিগরি যন্ত্রপাতি নিরাপদ বাড়িতে রেখেই কাজ করা হয়। হামলার পর তাদের পালিয়ে যাওয়া ও অস্ত্রপাতি অদৃশ্য করে দেওয়ার ব্যবস্থা আগেই করা থাকে।

2.jpg
গণমাধ্যমে ইমেইল বা মেসেজ পাঠিয়ে বোকো হারামের নামে হামলার দায় স্বীকার করার নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবস্থাও দূতাবাসের নিয়ন্ত্রণে করা হয়। ফলে হামলার ধরন-নকশা ও তাদের অবস্থান সনাক্ত করা যায় না।
তারা দেশের এক প্রান্তে অবস্থান করলেও দেশের সর্বত্র অপারেশন চালাতে পারে। সুসংগঠিত নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা নির্বেঘ্নে কাজ চালাতে সক্ষম হয়।
সিআইএ কার্যক্রমের সময়ভিত্তিক কিছু তথ্য সরবরাহ তুলে ধরা হয় ‘দ্য আফ্রিকান রেনেসাঁ নিউজ’ এর প্রতিবেদনে।

3.jpg
• ২০১১ সালের ডিসেম্বরে আলজেরিয়া ভিত্তিক সিআইএ শাখা বোকো হারামের সাথে ৪ কোটি নাইরা সরবরাহ করে ‘অধিক কিছু করা’র প্রতিশ্রুতি নেয়।
• ২০০৯ সালের ২৯ জুন উইকিলিকস প্রকাশিত মার্কিন রিপোর্টে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বোকো হারামের ভয়াবহ প্রাণঘাতি সন্ত্রাসী হামলার ভবিষ্যৎবাণী করছে। এমনকি বোকো হারামের সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করার দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে।
• বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে অস্ত্র সরবরাহ করে। সৌদি আরব লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেয়। পরে তাদের মাধ্যমে মালিয়া বিদ্রোহী ও বোকো হারাম অস্ত্র পায়। এই ধারাবাহিক যোগসূত্র সিআইএ খুব সুক্ষ্মভাবে পরিচালনা করে।
• উইকিলিকসের গোয়েন্দা ডকুমেন্ট থেকে জানা যায়, মার্কিন গুপ্তচর কোম্পানি এসএস-৮ নাইজেরিয়ায় ট্রজান ভাইরাস সরবরাহ করে। এর মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত কম্পিউটার, মোবাইল ও অন্যান্য যন্ত্র থেকে তথ্য ছিনতাই করা যায়। এই সফটওয়ার নাইজেরিয়ায় নিয়ে আসে ও ব্যবহার করে সিআইএ। রাজনীতিবিদদের দুর্নীতির তথ্য এবার নাইজেরিয়ানদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
• আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে খ্রিষ্টান চার্চে বোমা হামলার প্রধান আসামী বোকো হারামের কাবিরু সোকোতোর অবস্থান একমাত্র সিআইএ জানত।


4.jpg 

এই রিপোর্টে বলা হয় ২০১৫ সালের মধ্যে তিনটি ধাপের মাধ্যমে নাইজেরিয়াকে বিশ্বে অপাংক্তেয় করে তোলার পরিকল্পনা আছে যুক্তরাষ্ট্রের। প্রথমত, উপর্যুপুরি হামলা ও সংকট সৃষ্টি করে নাইজেরিয়াকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা। দ্বিতীয়ত, এই সংকটের একটা আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়া এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রকাশিত:  অনলাইন বাংলা

বিশ্বাস

মূল : সেলিমুল কাদের।
ভাষান্তর : তানিম ইশতিয়াক

বিশ্বাস-একটু তীর্যকভাবে পরীক্ষা করলে- একটা রূপকথার অট্টালিকা মনে হয়, যা নির্মাণ করতে বছরের পর বছর, দশকের পর দশক লাগে। কিন্তু মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বাস-একটু বিস্তৃতভাবে বলতে গেলে- পারস্পরিক বোঝাপড়ার এক মজবুত বন্ধন, যা সেতু স্থাপন করে হৃদয় থেকে হৃদয়ের- যা শুধু অনুভব করা যায়।
বিশ্বাস-সরলভাবে সংজ্ঞায়িত করলে- কারো উপর নির্ভরের নিশ্চয়তা, যাতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা যায়।

বিশ্বাস-স্পষ্ট করে বুঝাতে হলে- পছন্দের ব্যক্তি থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রশান্তি।

বিশ্বাস- প্রকৃতিগতভাবে বিচার করলে- তা স্বর্গীয় কিছু, যা সকলপ্রকার কৃত্রিমতা ও হাস্যকর উপাদানমুক্ত।

বিশ্বাস-পৌনঃপুনিক গণনায়- একটি অস্ত্র, প্রতারকরা সহজাত সারল্যহীন চাকচিক্যের শিল্পের সাথে এটা ব্যবহার করে অন্যের বিশ্বাসকে আঘাত করে।

বিশ্বাস-আরো সাদৃশ্য খুঁজতে গেলে- কোন বিক্ষুব্ধ সাগরের মাঝখানে পতিত নাবিকের ধ্রুবতারার দিকে তাকিয়ে থাকা, যে দৃষ্টিতে একরাশ আশা আর আকুতি।

বিশ্বাস-সক্ষমতা বিবেচনায়- একটা 'নিবিড় পরিচর্যা বিভাগ' (ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট, যেখানে একজন অতি আন্তরিক সেবা ও পরিচর্যায় নতুন জীবন পায়।

বিশ্বাস-জীবন্তরূপ আবিষ্কার করতে গেলে- রেখাহীন নিশানাবিহীন আভাহীন বিন্দুতে এক আলোর দিগন্ত।

বিশ্বাস-ফলপ্রসুভাবে প্রত্যক্ষ করলে- এমন আস্থা, যার কোনো ব্যা খ্যা ও প্রমাণের প্রয়োজন নেই। দরকার নেই জামানত বা দলিলের।

বিশ্বাস-ভিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করলে- এমন এক স্রোত, যার কোনো বিপরীত গতি নেই। নিউটনের 'তৃতীয় সূত্র' এখানে অকার্যকর।

সংক্ষেপে ইতি টানলে বলবো, বিশ্বাস আশ্রয়ের আরেক নাম, বিশেষ করে এমন একজনের জন্য- যার কোন আচ্ছাদন নেই।

অবশেষে, বিশ্বাস-বর্তমানের অবলোকন অনুযায়ী- সরলদের জন্য ভোগান্তি, ধুর্তদের জন্য ধারালো অস্ত্র ও হাতিয়ার।

আরো স্পষ্ট করে, বিশ্বাসের একাধিক মাত্রা আছে। বিশ্বাস হতে পারে অবিমিশ্র কিংবা অংশীদারমুলক। অবিমিশ্র তথা শর্তহীন বিশ্বাস কেবলমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি।

ফেসবুক 

কোথায় ছিলাম, কেন ছিলাম?

মূল : হেনরি ডেভিড থরো


আমি অরণ্যে গিয়েছিলাম কেননা আমি চেয়েছিলাম সতর্কতার সাথে জীবনধারণ করতে, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মুখোমুখি হতে এবং জীবন যা শেখাতে চেয়েছে তা আমি শিখতে পেরেছি কি-না তা অনুধাবন করতে। যখন আমার মৃত্যু সমাগত, তখন হৃদয়ঙ্গম করলাম যে আমি সত্যিকারার্থে জীবনধারণ করতে পারিনি। আমি এরকমভাবে বাঁচতে চাইনি যা আসলে জীবন ছিল না। বেঁচে থাকা মহার্ঘতুল্য। আমি হালছাড়া ভাব প্রয়োগ করতে যাইনি, যদি না তা খুবই প্রয়োজন হত। আমি গভীরভাবে বাঁচতে এবং জীবনের সকল নির্যাস শুষে নিতে চেয়েছি, খুব বলিষ্ঠভাবে জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য সম্পর্কে উদাসীন থেকে বাঁচতে চেয়েছি। জীবনকে একটা পর্যায়ে উপনিত করতে এবং এর সংকীর্ণতা বা বিস্ময় ও সম্ভ্রম উদ্রেককর দিক পৃথিবীর কাছে গোচরীভূত করতে চেয়েছি। অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এটাকে জানা এবং আমার পরবর্তী সংক্ষিপ্ত ভ্রমণে এ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন দিতে চেয়েছি। আমার দৃষ্টিতে বেশিরভাগ মানুষ এ সম্পর্কে বিস্ময়করভাবে অনিশ্চিত- এটা কি শয়তানের পক্ষ থেকে নাকি স্রষ্টার পক্ষ থেকে। কেউ দ্রুততার সাথে উপসংহারে পৌঁছে যে, এটা মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য- স্রষ্টাকে ভক্তি ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর এবং চিরকাল তার কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা লাভ কর।
আমরা এখনও হীনভাবে পিঁপড়ার মতো বেঁচে আছি; যদিও শাস্ত্রানুযায়ী আমরা মানুষে রূপান্তরিত হয়েছি বহু পূর্বে। আমরা পিগমী হয়ে সারসের সাথে লড়াই করছি; ভুলের উপর ভুল, আঘাতের উপর আঘাত। আমাদের সদগুণগুলো এখন অনর্থক ও পরিতাজ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের জীবন পুরোটাই অপচয় হয়েছে। একজন সৎ মানুষের হাতের দশটা আঙ্গুলের বেশি কিছু প্রয়োজন হয় না। জরুরি অবস্থায় দশটা পদাঙ্গুলিও কাজে লাগাতে পারে, এর বেশি নয়। সরলতা, সরলতা, সরলতাই সব! আমি বলি, তোমার চাওয়া একটা হোক, দুটো হোক, তিনটা হোক, শত কিংবা হাজার নয়। তোমার চাওয়াকে হাতের নাগালে রাখো। সভ্য জীবনের এই মধ্যসাগরে মেঘ-ঝড় আর চোরাবালির ছড়াছড়ি। মানুষকে এর মাঝে বাস করতে হয়। অনেক সময় ডুবে যেতে হয়, সর্বদা তীরে ওঠা যায় না। যে সফল হয়, মৃত্যুর হিসাব কষেই হয়। সাদামাটা জীবন-যাপন করো, সহজ-সরল। তিন বেলার পরিবর্তে পারলে একবেলা খাও। হাজার সানকির কী দরকার? পাঁচটাই তো যথেষ্ট। অন্য ব্যাপারও আনুপাতিক হারে কমিয়ে দাও। আমাদের জীবন জার্মান রাষ্ট্রের সীমানার মতো ওঠানামা করে। এ জাতি তার তথাকথিত আভ্যন্তরীন উন্নতি করেছে। কিন্তু তা আপাতদৃষ্ট। এগুলো বেয়াড়া ও স্থুল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ জাতি আপন সজ্জায় এলোমেলো হয়েছে! নিজের ফাঁদেই আটকা পড়েছে! বিলাসিতা আর অনবধান ব্যয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। তারা ছিল বেহিসেবী ও লক্ষ্যহীন। এখন তাদের দরকার স্থির অর্থব্যবস্থা। এজন্য তাদের জীবনে দৃঢ়তা ও সরলতা প্রয়োজন, থাকতে হবে উচ্চতর লক্ষ্য। মানুষ ভাবে তাদের জাতি বড় ব্যবসা করুক, বরফ রপ্তানি করুক, টেলিফোনে কথা বলুক, ঘণ্টায় ত্রিশ মাইল অতিক্রম করুক। সন্দেহ নেই তারা যাই করুক, অথবা না করুক, তা পরিবর্তনশীল। কিন্তু আমাদের ভাবতে হবে আমরা কি ‘বেবুনের মতো বাঁচবো? নাকি মানুষের মতো? আমরা যদি নিদ্রা না কমাই, রেলধাতব না গড়ি, এ কাজের জন্য রাত দিন উৎসর্গ না করি, বরং ভ্রাম্যমান ঝালাইকারকে এগুলোর উন্নতি করতে বলি, তাহলে কি রেলপথ তৈরি হবে? আর যদি রেলপথ তৈরি না হয়, তবে কীভাবে পরে আরাম পাবো? আমরা যদি বাড়িতে অবস্থান করি, আপন কাজে মনোযোগী থাকি, তাহলে রেলপথ চাইবে কে? আমরা রেলপথ অধিকার করতে পারছি না, রেলপথ আমাদের অধিকার করছে। তুমি কি সেসব স্লিপার সম্পর্কে ভেবেছো, যেগুলো রেলপথের ভিত্তি? প্রতিটি যেন একেকজন মানুষ। তাদের বুকের উপর থাকে রেল। আমি জোর দিয়ে বলছি, এরা ‘সাউন্ড স্লিপার’! সুতরাং যদি কারো রেলে চড়ার আনন্দ অনেকের দুর্ভাগ্যজনক নিষ্পেষণের কারণ হয়। যখন তারা এমন ঘুমন্ত ব্যক্তিদের চাপা দিয়ে চলে যায়, তখন এ অসংখ্য ঘুমন্ত সত্ত্বারা বেকায়দায় পড়ে যায়। তাদের নিদ্রা টুটে যায়। তারা গাড়ী থামাতে চায়। শোরগোল করে। তারা আর্তচিৎকার করে, যেন তা অযাচিত।
কেন আমরা জীবনে এমন অস্থিরতা ও ব্যর্থতা নিয়ে বেঁচে থাকি? আমরা তো বুভুক্ষতার পূর্বে উপোষ যাপনে দৃঢ় প্রত্যয়ী। মানুষ বলে, সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়। তাই তারা ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার জন্য এখন হাজার রকম কাজ করে। আসলে আমাদের অদ্ভুত স্নায়ুবৈকল্য আছে। আমরা আমাদের মাথা যথাসাধ্য সোজা রাখতে পারি না।
আমি যদি গীর্জার ঘন্টারশিতে আগুন লাগিয়ে দেই, তাহলে খুব কম লোক পাওয়া যাবে যারা লেলিহান অগ্নিশিখা থেকে সম্পদ রক্ষায় এগিয়ে আসবে। তারা এসব পরিত্যাগ করে পালাবে। অথচ কি নারী কি পুরুষ, তারা প্রতি সকালে শপথ নেয়। আসলে তা আরোপিত অঙ্গিকার!

বাস্তবতা যখন অবিশ্বাস্য কঠিন হয় তখন প্রতারণা, ছলনা বড় সত্য হয়ে দেখা দেয়। মানুষ যদি প্রতিনিয়ত বাস্তবতাকে আমাদের চেনা জগতের সাথে তুলনা করে পর্যবেক্ষণ করে, এবং সেগুলো বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত রাখতে চায়, তবে জীবন একটা রূপকথা বা আরব্য রজনীর আখ্যানের মতো হয়ে যাবে। যা হবার মতো এবং অনিবার্য তা যদি আমরা মেনে নিতে পারতাম, তবে আমাদের পথে গান কবিতা প্রতিধ্বনিত হতো। আমরা যদি ধৈর্যশীল এবং বিচক্ষণ হই, তবে এ কথা বুঝতে পারবো যে, কেবল মহৎ এবং শ্রেষ্ঠ কর্মই স্থায়ী ও চিরবিদ্যমানÑ যেখানে সামান্য ভয় কিংবা কিঞ্চিৎ সুখ জীবনেরই ছায়া।
আসুন আমরা অন্তত একটা দিন কাটাই প্রকৃতির মতো সুমিতভাবে, যেন বাদামের খোসার মতো রাস্তায় নিক্ষিপ্ত না হই, ভেঙে না পড়ি মশার পাখার মতো। আমরা চলি দ্রুত, অথবা থেমে যাই দ্রুত। কিংবা ধীরভাবে, বাধা-বিঘœ ছাড়াই। আমাদের অতিথি আসুক, অথবা চলে যাক। ঘন্টা বেজে উঠুক। চেঁচামেচি করুক বাচ্চারা। এ সবকিছু দিয়েই সাজাই আমাদের দিন। আমরা কেন স্রোতের নিচে চাপা পড়বো? অথবা তার সাথে ছুটবো? মধ্যরেখার অগভীর ঘুর্ণিস্রোতে কেন আমরা বিপর্যস্ত ও ভারাবনত হবো? বিপদাশঙ্কা মাড়িয়ে সামনে গিয়ে দেখুন আপনি অক্ষত, এবং অবশিষ্ট পথ ক্রমশ ঢালু। অশিথিল স্নায়ু আর প্রাভাতিক বলিষ্ঠতা নিয়ে, পথের বিকল্প বেছে নিয়ে, মাস্তুল বেঁধে পাল তুলে দিন।
যদি কেউ ঘন্টা বাজিয়ে আমাদের আহ্বান করে, আমরা কি তখনই দৌঁড় শুরু করবো? আমরা বুঝতে চেষ্টা করবো, এ সুরটা কীসের সুর? আমরা আমাদের বিবেকের সাথে বোঝাপোড়া করবো। আমাদের প্রথা, অতীত সংস্কারকার্য, অদৃশ্য বিশ্বাস, দৃশ্যমান সত্ত্বা সবকিছু বিবেচনায় আনবো_ যা ভূমণ্ডলের সবকিছু পরিব্যপ্ত করেÑ প্যারিস বা লন্ডন, নিউইয়র্ক বা বোস্তন, চার্চ বা রাষ্ট্র, কবিতা বা দর্শন কিংবা ধর্ম। তখন আমরা একটা জায়গায় পৌঁছাতে পারবো, যাকে সত্য বা ‘রিয়েলিটি’ বলতে পারি। প্রমাদ নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ শুরু হবে এই প্রেক্ষণবিন্দু থেকে।
সময় আর কিছু নয়Ñ নদীস্রোত। আমি এতে মৎস্যশিকারে যাই। এর পানি পান করি। যখন পান করি, দেখি এর বালুময় তলদেশ। আমি এর অগভীরতা নির্ণয় করতে পারি। আমি আজীবন আক্ষেপ করেছি যে, আমার বয়সের সমান জ্ঞানার্জন করতে পারিনি। বুদ্ধিমত্তা ছুরির মতো। বস্তুর গূঢ়বিষয় ফেড়ে বের করে আনতে পারে। আমি আমার হাতকে প্রয়োজনের তুলনায় ব্যস্ত রাখতে চাইনি। আমি আমার সমস্ত মানসিক শক্তি এতে নিয়োজিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। আমার বিবেক আমাকে বলেছে, এ মস্তিস্ক একটা খননযন্ত্র_ যা পাহাড় কেটে আমার পথ পরিস্কার কওে, যেভাবে কিছু প্রাণী তাদের নাক মুখ এ কাজে ব্যবহার করে। আমি মনে করি শক্তিশালী রক্তনালী এর কাছাকাছি থাকে। সুতরাং ঐশ্বরিক কাঠিন্য আর বাষ্প দিয়ে সবকিছু বিবেচনা করি। এখানেই আবিষ্কার করি আমার নিজস্ব খনি। (সংক্ষেপিত)