১২ মে ২০১৪ আল-জাজিরায় প্রকাশিত রবিন সিমকক্স এর ‘হোয়াই ব্রিটিশ বয়েজ আর ফাইটিং ইন সিরিয়া ওয়ার’ নিবন্ধটির অনুবাদ করেছেন তানিম ইশতিয়াক।
দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে, ব্রিটিশ নাগরিকরা এ ধরনের কাজ করছে এটা কারো
কাছে আশ্চর্যের মনে হচ্ছে না। গত কয়েক দশক ধরে ব্রিটিশরা এসব যুদ্ধাঞ্চলে
গিয়ে মানুষ হত্যা করছে বা নিজেরা নিহত হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এই
সংখ্যাটা দিন দিন কমার পরিবর্তে বাড়ছে।
১৯৯০ এর দশকে এই ধরনের যুদ্ধের সামান্য অথচ অদম্য ঢেউ উঠেছিল চেচনিয়া,
বসনিয়া, কাশ্মির ও আফগানিস্তানে। মুজাহিদিনপন্থী ওয়েবসাইটগুলোতে বসনিয়ায়
নিহত দাউদ আল ব্রিটনি ও আবু মুসলিম আল তুর্কির ঘটনাকে বড় করে তুলে ধরা হয়।
১৯৯৬ সালে মনে করা হয়, ব্রিটেনের কেউ এই প্রথম (অবশ্য এর শেষ সম্পর্কে
ধারণা করা যাচ্ছে না) আফগানিস্তানে তালেবানের সাথে আত্মঘাতি হামলায় অংশ
নিয়েছে। এই ঘটনার চার বছর পর বার্মিংহামের অধিবাসী জাইশ-ই মোহাম্মদ
কাশ্মিরে একই ধরনের হামলার জন্য বিলাল আহমেদকে নিযুক্ত করে।
এসব ঘটনায় সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান হয়নি। সন্ত্রাসী নিয়োগ
কেন্দ্রগুলো প্রকাশ্য অনেকটা ভার্চুয়ালি। এক হিসেবে দেখা যায়, শুধু লন্ডন
মসজিদ এলাকা থেকে অন্তত ৫০ জন বিদেশের মাটিতে যুদ্ধে নিহত হয়েছে।
৯/১১ ও আফগান যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। কয়েক ডজন ব্রিটিশ মুসলিম ‘খাঁটি’ ইসলামি রাষ্ট্রে বাস করার বাসনায় তালেবানের সাথে যুদ্ধে যোগ দিতে যায়। আবার ব্রিটিশ সৈন্যরাও প্রতিপক্ষের হয়ে সেসব যুদ্ধের কয়েকটাতে অংশ নেয়।
সরকার অনেক বিলম্বে সমস্যার সম্যক ধারণা করতে পারে। ৯/১১ এর পরে ইরাকে
ব্রিটিশ সৈন্যের উপস্থিতে পশ্চিমা বিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৩ সালে
লন্ডনের আসিফ হানিফ তেল আবিবের একটি বারে আত্মঘাতি হামলা চালিয়ে তিন জনকে
হত্যা করে। ২০০৬ সাল নাগাদ ইরাকের তৎকালীন আল কায়েদা প্রধান আবু মুসাব
আল-জারকাওয়াই এর তত্ত্বাবধানে অন্তত ১৫০ জন ব্রিটিশ ইরাকে যায়। তারা
মার্কিন ও ব্রিটেশ সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশে নেয়।
মার্কিন নের্তৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের ইরাক হামলার কারণে ব্রিটিশ
মুসলিমদের এই প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হয়নি। ২০০৭ সালে লন্ডনের এক অধিবাসী
আত্মঘাতি হামলায় মোগাদিসুতে ২০ জন সোমালিয় সৈন্যকে হত্যা করে। ২০০৯ সাল
নাগাদ সোমালিয়ায় অন্তত ১০০ ব্রিটিশ নাগরিক ট্রেনিং নেয়। এই সংখ্যা এখন আরো
বাড়ার কথা। ইয়ামেনে আল কায়েদার শক্তিশালী অবস্থান আরব অঞ্চলের কর্মকাণ্ডে
কয়েক ডজন ব্রিটিশ স্বেচ্ছাসেবীকে টানতে সক্ষম হয়।
এখন এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে সিরিয়ায়। দেশটির নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন, ব্রিটিশ থেকে যে পরিমাণ লোক বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে, তা ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে আসা সম্মিলিত সংখ্যার চেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক মৌলবাদীকরণ গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ এর ডিসেম্বর নাগাদ এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৬ তে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলেপ্পোর আত্মঘাতি বোমা হামলায় আব্দুল ওয়াহিদ মজিদ নিহত হলে এই সংখ্যা একজন কমে যায়। অর্থাৎ বর্তমানে ৩৬৫ জন।
এখন এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে সিরিয়ায়। দেশটির নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন, ব্রিটিশ থেকে যে পরিমাণ লোক বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে, তা ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে আসা সম্মিলিত সংখ্যার চেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক মৌলবাদীকরণ গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ এর ডিসেম্বর নাগাদ এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৬ তে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলেপ্পোর আত্মঘাতি বোমা হামলায় আব্দুল ওয়াহিদ মজিদ নিহত হলে এই সংখ্যা একজন কমে যায়। অর্থাৎ বর্তমানে ৩৬৫ জন।
আশঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে এসব যোদ্ধারা সিরিয়ার ‘জিহাদ’ শেষে ব্রিটেনে ফেরত
আসছে। এটার কী নিশ্চয়তা আছে যে, এরা দেশে ফিরে নিজেরা সন্ত্রাসী
কর্মকাণ্ডে জড়াবে না? এই হুমকি খু্বই তাৎপর্যের দাবি রাখে।
তবে ব্রিটিশ সরকার প্রতিক্রিয়া দেখানো শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সিরিয়া থেকে দেশে ফেরা নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দ্বৈত-জাতীয়তার
কয়েকজনের নাগরিকত্ব আটকে দিয়েছে। গত মাসে পুলিশ মুসলিম নারীদের অনুরোধ
করেছে তাদের স্বজনদের যেন সিরিয়ায় যেতে না দেওয়া হয়। সিরিয়া ফেরতদের
ব্যাপারে পুলিশ অতীতের তুলনায় এখন বেশি তৎপর।
কয়েক ডজন সিরিয়া ফেরতের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে গুয়ান্তানামোর সাবেক বন্দি মোয়াজ্জেম বেগও রয়েছে। যাদের
বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা যাচ্ছে না, তাদেরকে বিকল্প হিসেবে ‘বি-মৌলবাদকরণ’
প্রোগ্রামে পাঠানো হচ্ছে।
সিরিয়ার চলমান যুদ্ধ এখনো ব্রিটিশ নাগরিকদের টানছে, যারা আল কায়েদার
আদর্শের প্রতি মুগ্ধ। অনেকেই আছেন যারা আল কায়েদার সাথে যুক্ত হতে চান না,
কিন্তু মুসলিম ভুক্তভোগীদের প্রতি দরদ পোষণ করেন।
শেষ বিচারে অবশ্য মুসলিমদের নিপীড়িত হওয়ার দৃশ্যই বিশ্ববাসীর কাছে
প্রধান হয়ে উঠছে। পশ্চিমাদের কাছে টানার কাজে এই সুযোগটা আল কায়েদা ব্যবহার
করবে। সরকার এক্ষেত্রে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও
আফ্রিকায় সহিংসতা যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে, তাতে এসব রোধ করার প্রক্রিয়া
ক্রমশই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে।
প্রকাশিত: অনলাইন বাংলা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন