বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি ২০০১ সাল থেকে গুজরাটের
মুখ্যমন্ত্রী। টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়ে বর্তমান মেয়াদেও শাসন
করছেন তিনি। ১৯৯৫ সল থেকেই বিজেপি এখানে ক্ষমতায়। ধারাবাহিকভাবে পাঁচবার
নির্বাচিত দল। ১৮২ আসনে কখনো একশ’র নিচে আসন পায়নি দলটি।
কিন্তু এখানকার ৬ কোটি জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটাই
পছন্দ- কংগ্রেস। হিন্দু আধিপত্যের বিপরীতে তাদের আশা ভরসার একমাত্র দল
কংগ্রেস।
গুজরাটের দীর্ঘ সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ইতিহাস আছে। ২০০২ সালের মুসলিম
বিরোধী দাঙ্গায় ২০০০ লোক নিহত হয়। সেসময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি।
স্বয়ং মোদির বিরুদ্ধেই এই দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।
মোদি এই শহরকে ‘আধুনিকতার মডেল’ বললেও মুসলিমদের ধারণা পুরোপুরি আলাদা। আহমেদাবাদের বৃহত্তম মুসলিম পাড়া জুহাপুরার একজন অধিবাসী বলেন, ‘কীসের উন্নয়ন? এখানকার রাস্তা-ঘাট, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, শিক্ষা দেখেন তো! রাষ্ট্র আমাদের ছুঁড়ে ফেলেছে, আমরা পরিত্যক্ত।’
মোদি এই শহরকে ‘আধুনিকতার মডেল’ বললেও মুসলিমদের ধারণা পুরোপুরি আলাদা। আহমেদাবাদের বৃহত্তম মুসলিম পাড়া জুহাপুরার একজন অধিবাসী বলেন, ‘কীসের উন্নয়ন? এখানকার রাস্তা-ঘাট, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, শিক্ষা দেখেন তো! রাষ্ট্র আমাদের ছুঁড়ে ফেলেছে, আমরা পরিত্যক্ত।’
প্রায় ২ লাখ অধিবাসী বিজেপি রাজনীতির অন্ধকারে বসবাস করছেন। জুহাপুরাকে ‘মিনি পাকিস্তান’ বলে ডাকে তারা।
ইন্দো-আমেরিকান সাংবাদিক জহির জান মুহাম্মাদ বলেন, ‘এটা কোনো বস্তি নয়, এখানের যানবাহন ঘরবাড়ি দেখেন। ধনী-গরিব সবই আছে। এই অবস্থার একটাই কারণ, এর অধিবাসীরা মুসলিম। তারা তাদের প্রতিবেশীদের সাথে নিরাপদ বোধ করে না। ভীতিই তাদেরকে জীবনের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে বলে।’ জহির জান মুহাম্মাদ ২০০২ সালের দাঙ্গার পর থেকে এখানে বসবাস করছেন।
ইন্দো-আমেরিকান সাংবাদিক জহির জান মুহাম্মাদ বলেন, ‘এটা কোনো বস্তি নয়, এখানের যানবাহন ঘরবাড়ি দেখেন। ধনী-গরিব সবই আছে। এই অবস্থার একটাই কারণ, এর অধিবাসীরা মুসলিম। তারা তাদের প্রতিবেশীদের সাথে নিরাপদ বোধ করে না। ভীতিই তাদেরকে জীবনের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে বলে।’ জহির জান মুহাম্মাদ ২০০২ সালের দাঙ্গার পর থেকে এখানে বসবাস করছেন।
তরুণ প্রজন্মের মুসলিমরা নতুন দল পছন্দ করেন। তারা আম আদমি পার্টির
প্রতি উৎসাহী। কিন্তু বয়স্করা এতে নারাজ। বয়স্ক একজন জানান, ‘আমি যদি
কংগ্রেসকে ভোট না দিই, তবে এটা আমাদের আহত করবে। কংগ্রেস একটি ভোট হারাবে,
বিজেপি এক ভোটে এগিয়ে থাকবে।’
২০১২ সালে বিজেপি এখানে ভোট পেয়েছিল ৪৭.৯ শতাংশ। অন্যদিকে কংগ্রেস পায়
মাত্র ৯ শতাংশ। কংগ্রেসের ক্ষমতা আরো কমে আসছে। গুজরাটের উপজাতি ও নিচু
জাতের মধ্যে কংগ্রেসের ব্যাপক সমর্থন আছে। তবে অনেকেই এখন বিকল্প দল
খুঁজছে।
‘তারা একটা (কংগ্রেস) একটা অকেজো দল। আমাদের নিজেদের স্বার্থে বিকল্প দল
খোঁজা উচিত। আম আদমি একটা সুযোগ হতে পারে।’ বলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকরি
কর্মকর্তা। ১৯৪৭ সালে তার পরিবার করাচিতে চলে গেছে। এই ভূমি ছেড়ে কখনো কোথাও যেতে চান না তিনি। ইনডিয়ায় মুসলমোনদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি হতাশ নন।
গুজরাটের নাগরিক সমাহের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য ও নাইরিকশাক জার্নালের
সম্পাদক প্রকাশ এন শাহ বলেন, গুজরাট ও ইনডিয়ার রাজনীতি কেবল নির্বাচন দিয়ে
বিচার করলে চলবে না। ভোট এদিক ওদিক হতে পারে, নির্বাচনের ফল পরিবর্তন হতে
পারে, অর্থনৈতিক চাহিদাও পূরণ হতে পারে, কিন্তু সাম্প্রদায়িক রাজনীতির
মানসিক বিভেদ থেকে যাবে। অবিশ্বাস অনাস্থা দূর হবে না। ‘ভিন্ন কিছু’র জন্য
আমাদের অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে।
ডন থেকে অনূদিত। প্রকাশিত: অনলাইন বাংলা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন