স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

আবেগ

কেউ কেউ এমনই থাকে
কেউ কেউ এমনও হয়,
প্রথম দেখাতেই বোধ করি
যুগ জনমের পরিচয়।


কখনো কথা না-হোক
কখনো দেখা না-হোক
মনে হয় আছি পাশাপাশি,
কোনো স্থির সিদ্ধান্ত নয়
কোনো পরিকল্পনা নয়-
তাকে নিয়ে স্বপ্ন রাশি রাশি।


এমনও চোখ থাকে
এমনও মুখ থাকে-
দেখে সব কষ্ট ভুলে যাওয়া যায়,
তাকে নিয়ে এমন দরদ থাকে,
তাকে ঘিরে এমন মমতা থাকে-
সব অপরাধ ক্ষমা করা যায়।


তার শত অক্ষমতা
পারা-না-পারা ব্যর্থতা
কত সহজেই বুঝে নেয়া যায়!
যা কিছু বলুক
যা কিছু করুক-
কোনো কষ্ট যেন তাকে খুঁজে না পায়।


২.
কেউ কেউ কাছে থাকে
সব কাজে মিশে থাকে-
তবুও কোথাও যেন নেই!
এত এত মিল
নাক মুখ তিল
তাতেও হারায় যেন খেই।


তার কাছে যুক্তি থাকে
হয়তবা মুক্তি থাকে-
অথচ তাল পায় না বেগ,
মন থাকে ঊচাটন
ক্ষণে ক্ষণে অকারণ
রেগে ওঠে আবেগ।


যতটা দাবি থাকুক
আঁচলে চাবি থাকুক
খোলে না মনের তালা,
যতই এগিয়ে যায়
ততই পেঁচিয়ে যায়
অন্তরে বাড়ে জ্বালা।


৩.
জানো নাকি মন
মানো কি এখন
এই হলো সত্যি,
কোথায় দাঁড়াবে চলো
কোথায় হারাবে বলো
জায়গা তো এক রত্তি।


ফেসবুক 

স্পর্ধা

তুমি চলে গেলে-
জেগে উঠবে আমার স্পর্ধা, বুকের বাদ্য;
আদিগন্ত আলোড়নে অলৌকিক উৎসব হবে
দিকে দিকে দাপিয়ে বেড়াবো আমি দীপ্ত অহংকারে।


কেন তুমি ধরে আছো বিষণ্ণ বাঁধন?
সরে যাও খুলে দাও দোর-
সূর্য উপুড় হোক, হুড়মুড়িয়ে ঢুকুক আলো
উত্তাল জোয়ারে ভাসুক শান্তির সাম্পান।

তুমি চলে গেলে আর কোনো ঝঞ্ঝাট থাকবে না,
কেবল ঝংকারে ঝংকারে ধ্বনিত হবে জগৎসংসার।
সংগোপন সান্ত্বনা বলে আমি রাখবো না কিছু,
সমারোহে সাজাবো সুখের সান্নিধ্য!


তুমি চলে গেলে হারিয়ে যাবে হাহাকার হরদম-
হা হা করে বেজে উঠবে শত সহস্র হুইসেল;
চলতি পথে আমি আর খাবো না হোচট
হইহই করে হেঁটে যাবো আমি নির্দ্বিধায় হেসে খেলে।


তুমি দাঁড়িয়ে থাকলে কীকরে তাড়িয়ে দেব জীবনের জড়তা
কীভাবে সুড়সুড়ি পাবে আমার উসখুস আত্মা!
তোমার রক্ত ও বৃষ্টিতে কীভাবে গরম হবে আমার নিঃশ্বাস
খুঁজো না খুঁজো না তুমি আমার সৃষ্টি; সবই তো অবিশ্বাস।


হে নুন-নয়না বেহুলা নারী,
জেনে রেখো আমি সব পারি
তুমি চোখ ফেরালেই আমি ওড়াবো পকেট ও রুমাল,
দূরে যাও অপেক্ষায় থাকো দেখে নিও অনাগত কাল।


তুমি চলে গেলে আমি দুর্বার দুর্বিনীত হবো
মৃত্যু আর দুঃখকে দেখাবো তুমুল তাচ্ছিল্য
বেপরোয়া আমি বন্দুক উঁচাবো বিরহের বুকে
তুমি না থাকলে নিভিয়ে দেব অকারণ অস্থিরতা।
তবে আর কী চাই, এবার জানাতে পারো বিদায়
তোমার প্রস্থানে পুষ্প ফোটে আমি আছি অপেক্ষায়!


তোমার গোমড়ামুখে থেমে আছে রাত্রিসখা অনন্ত অকাল
তুমি চলে গেলে ঘুরবে পৃথিবী ফিরে পাবো সাধের সকাল।

নরেন্দ্র মোদির কবিতা

মৌমাছি প্রস্তাবনা

ভাষান্তর : তানিম ইশতিয়াক

মাঝে মাঝে আমি মৌমাছি হয়ে যাই
শীতসকালের সূর্যেও এনে দিই বৈশাখী তাপ
মৌমাছির মতো আমি এখানে সেখানে উড়ে বেড়াই
প্রতিটি স্থানে আমি বসি, অথচ থাকি না কোথাও...।
এক মুহূর্ত ফুলের পাশে বসি। ডুবে যাই পুষ্পসৌরভে,
মুক্ত উদাসীন আমি বাতাসে দুলে দুলে খুঁজে ফিরি গোলাপ।
কখনো কখনো আমি মৌমাছি হয়ে যাই।


যেখানে বাগান আছে, আছে সুরের ঝঙ্কার
উন্মুক্ত অরণ্যে রঙিন দৃশ্যরাজি,
জীর্ণ পথে আমি চলি না
স্বতন্ত্র আমার যাত্রা এলোমেলো বেশ।


তুমি দেখো এই উদাসীন নিঃস্ব ফকির
অথচ তার অন্তরে আমি ঐশ্বর্যের বৃক্ষ।
সময়ে সময়ে আমি মৌমাছি হয়ে যাই।


নরেন্দ্র মোদিকে আমরা রাজনীতিবিদ হিসেবে চিনলেও তিনি একজন কবি। তার আছে শৈল্পিক মন। তাই সময় সুযোগ পেলেই গুজরাটে বসে তিনি কবিতা লেখেন।

তবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিবিদ হিসেবে তার কুখ্যাতি থাকলেও তার কবিসত্তায় রাজনীতি নেই। মোদির পূর্বসূরি অটলবিহারী বাজপেয়ীও হিন্দি কবি হিসেবে বেশ বিখ্যাত।

গত ২০ এপ্রিল ইনডিয়ার প্রকাশনা সংস্থা ‘রূপা’ নরেন্দ্র মোদির ৬৭টি গুজরাটি কবিতার ইংরেজি অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছে। ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত নরেন্দ্র মোদির কাব্যগ্রন্থের নাম ‘এ জার্নি : পোয়েমস বাই নরেন্দ্র মোদি’।

কবি মনথা অনূদিত সেসব কবিতায় দেশপ্রেমের পাশাপাশি আছে রোমান্টিক প্রেমের কবিতাও। এছাড়া তার কবিতায় ফুটে উঠেছে মানবপ্রেম, মৈত্রী ও সাম্য। একটি কবিতাতেও নেই রাজনীতির ছিটেফোঁটা। তার পরিবারের কোনো কথাও উঠে আসে নি এসব লেখায়।

নিজের কবিতা সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমি মনে করি না- আমার কবিতা অসামান্য কিছু। তবে এখানে চিন্তার প্রবাহ আছে, যেন জলের ভেতর ঢেউ। আমি যা দেখেছি, যা অভিজ্ঞতা আছে ও কল্পনায় যা ভেবেছি, তা-ই লিখেছি।’



ফেসবুক 

গুম

গুম হয়ে ঘুম পড়েছি শীতলক্ষ্যার জলশয্যায়
ঘনীভূত মেঘে জমাট বেঁধেছে র‌্যাবের নৈতিকতা
বৃষ্টির ফোঁটায় আমার হত্যাকে রোমান্টিক মনে হচ্ছে...

গাঢ় ঘুমে তলিয়ে যেতে যেতে আমি তোমার দীর্ঘশ্বাস শুনি
উদাস দৃষ্টিতে কেন আকাশ দেখে বাংলাদেশ?


ফেসবুক 

নোটখাতা

বেশ ‘ভালো’ সময়ে হারিয়ে গেলে তুমি!
আমার জীবন থেকে আড়ালে যাওয়ার এর চেয়ে উত্তম মুহূর্ত আর হয় না।

আমি একটু একটু করে তোমাকে গড়ে তুলেছি
পরম যত্নে এঁকেছি তোমার চোখ-মুখ-অধর
তোমার দেহের অবয়ব আমারই আকাঙ্ক্ষায় সৃষ্টি


দীর্ঘ অপেক্ষার পর
তোমাকে খুলে খুলে দেখার রাত্রে
তোমার রহস্য উন্মোচনের বাসরে
তোমাকে ধারণ করে ভবিষ্যত পথ চলার মুহূর্তে
তুমি হঠাৎ উধাও
অস্তিত্বহীন শূন্য শয্যায় তোমাকে খুঁজতে থাকি...


তোমার চলে যাওয়ায় একটুও আফসোস নেই
হাহাকার হতাশাও নেই
তোমার সময়-জ্ঞানকে আমি মূল্যায়ন করি
জেগে ওঠার মুহূর্তে আমাকে মৃত্যু দিয়েছো
মৃত্যুর মতো সুন্দর অভিজ্ঞতা আর হয় না।


আমি আবার তোমাকে গড়ে তুলবো
রাত্রির অন্ধকারে নির্মাণ করবো তোমার আলোকিত সত্তা
অক্লান্ত অবসাদে তোমাকে গড়তে গড়তে দেখবো, গঠিত হয়েছে অন্য কেউ
তোমার মতো, কিন্তু ঠিক তুমি নও।


তোমাকে একটা ধন্যবাদ দেওয়া দরকার
তোমার-আমার একটা গোপন মিল আছে
আমার খুব ইচ্ছা,
সমস্ত সৃষ্টিকে আমি একদিন জাগিয়ে তুলবো
আমাকে দেখার জন্য তারা একযোগে প্রাণ পাবে
আর তাদের জাগরণের ঠিক আগমুহূর্তে
আমি হঠাৎ ডুবে যাবো...


(উৎসর্গ : ক্লাস লেকচার ও নোট সম্বলিত আমার খাতাকে, যিনি মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষার আগের দিন হারিয়ে গিয়েছেন।)

ফেসবুক 

আমন্ত্রিত আগন্তুক

আজন্ম চেনাজানা তোমার সেই একান্ত মানুষটি
আজ তোমারই শহরে আগন্তুক!
আমন্ত্রিত অতিথির অভিনব বেশভূষায় তুমি হকচকিয়ে গেলে
তোমার চোখ বিভ্রান্ত হলো তার বাহ্যিক অবয়বে…


হায়, তুমি বুঝলে না-
উড়নচণ্ডী লোকটার শিরা-উপশিরায় তোমারই রক্তের নুন,
তার মুখে আবোল তাবোল উচ্চারিত হাজার নামের কোনো দাম নেই-
লোকটার বুকপকেটে রাখা আছে তোমার নামে গড়া রাজমুকুট।


লালগালিচার আড়াই হাত দূরে দাঁড়িয়ে দেখি,
তোমার মনের রাস্তায় আস্থাহীনতার গাড়ি
আর তখনই মর্মান্তিক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো বুক
রানী, তোমার দেশে এখন আমি আমন্ত্রিত আগন্তুক!


ফেসবুক 

শীতটা এলেই


শীতটা এলেই ভুলে যাবো আমার সকল ছন্দ-ছড়া
শীতটা এলেই জেনে যাবো তোমার চুলের গন্ধ কড়া
দেখো তখন থাকবো না আর এখন যেমন ছন্নছাড়া
সন্ধ্যা হলেই বুঝে যাবো ঘরে ফেরার বড্ড তাড়া


শীতটা এলেই মাতাল হবো তোমার চোখের কুয়াশায়
নীরবতার কথা হবে শরীর-মনের দু’ভাষায়
কারণ ছাড়াই হারিয়ে যাবো শস্যক্ষেতের আড়ালে
এই আমি ঠিক তোমার হবো একটুকু হাত বাড়ালে


শীতসকালে আমি তোমার ভালোবাসার চাদর হবো
হিমনিশীথে মুখ লুকিয়ে উষ্ণ বুকের আদর ছোঁবো
শীতটা এলেই হয়ে যাবো শিশিরভেজা ঘাসবিছানা
প্রাকৃতিক প্রেমই হবে তোমার আমার খাস নিশানা


শীতটা এলেই জলে দেবো ব্যাচেলর এই ডিগ্রিটাও
তবে তুমি কোথায় আছো আমায় দেখা শিঘ্রী দাও


ফেসবুক




আত্মহত্যা


দুই দিন আগে আমি আত্মহত্যা করেছি
মরে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনা নয়, জীবনেরই গল্প পরম্পরা

ভালোবাসার ইট গেঁথে গেঁথে যে দেয়াল গড়ে ওঠে
এতটুকু অশ্রদ্ধায় সেতো হুড়মুড় করে ভাঙে
বিশ্বাসের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আমার নিঃশ্বাস।


জীবনকে ভালোবাসি বলেই
মৃত্যুর শীতল ফ্রিজে তাকে সাজিয়ে রেখেছি
অনাকাঙ্ক্ষিত অসম্মান যেন ছুঁতে না পারে


প্রেমের পালকে একদিন আকাশে উঠেছিলাম
কখনো শখ হয়নি স্কাইডাইভের
তবুও বিরহে সেদিন লাফিয়ে পড়ে
ইচ্ছে করেই খুলিনি প্যারাসুট!
ডুবুরীর মতো জলের গভীরে নেমে
ফেলে দিয়েছি অক্সিজেন সিলিন্ডার…


তারপর একা একা আনমনে হাঁটি
ডুবতে ডুবতে আমি ঘুমিয়েছি তলদেশে
আহা! এই নির্জনতা- সাগরের শীতলপাটি…


মৃত্যুর এপারে আমি চাইনি কিছুই
না বহ্ণি, না একফোঁটা জল
তবু কেন চারদিকে থই থই করে ভাসে
তোমারই স্মৃতি, প্রেমের অনল?


ফেসবুক 

নিদ্রিত অনিদ্রা

আমি ভালোবাসি ঘুম, শুয়ে থাকা রাত
অতল নিদ্রায় একা কোথাও হারাই
সুনশান নীরবতা
কী অবাধ স্বাধীনতা!


আমি জেগে উঠি শিশিরের টুপটাপে
গভীর নিশীথে কান পাতি হাওয়ায়
মুঠোফোনের ওপারে ফিসফিস আওয়াজ
তুমি থাকো অনুভবে চাওয়ায় পাওয়ায়
শিহরিত কারুকথা
ভিজে ওঠা দেহলতা


স্মৃতিতে রাখি না আমি বুকের আঘাত
ভালোবাসি জেগে থাকা, ঘুমহীন রাত!


ফেসবুক 

ভান

সত্যি আমি তোমার কথা ভুলেই গেছি সব
কেমন করে বুকের ভেতর তুলতে কলরব
দৃষ্টিজোড়া শীতল ছায়া এখন চোখের বালি
রাত্রিজাগা হুতুমপেঁচার চোখের নিচে কালি।


সত্যি আমার আজ মনে নেই ভালোবাসার সুখ
পাপড়িমেলা জলছাপে তার দুখবিলাসী মুখ
বরফভেজা কাচগেলাসের জলটা কি বিচ্ছিরি!
তেষ্টালাগা বুকে দিল গরম অগ্নিগিরি।


সত্যি আমি প্রেম বুঝি না কেমন রোমান্টিক
মাথার ভেতর কবর খুঁড়ি মনের জবান ঠিক
জানবে না তো গভীর রাতে মন কেমন আনচান
এই কবিতা তোমার মায়া ভুলতে চাওয়ার ভান।


ফেসবুক 

অপ্রকাশিত আলোড়ন

প্রথম যেদিন দূর গ্রহ থেকে ভেসে আসে তারবার্তা
অস্বাভাবিক কৌতূহলে আমি জেগে উঠি
অদ্ভুত খেয়ালে চতুর্দিকের দেয়ালে আঘাত করি
তোমার প্রতিধ্বনি কেন ফেরত আসে না?
একদিন তোমার কণ্ঠ শুনে ছিটকে বেরিয়ে আসি পৃথিবীর বাইরে
সেদিন থেকে আমি এক ভাসমান সত্ত্বা


কতবারই তো তোমার সামনে দাঁড়াই
বাদামী খোসায় ঢাকা শরীর, নেকাবে লুকানো মুখ
চারপাশ সচকিত করে মুখোমুখি বর-বউ
আমি দেখে ফেলি এক অত্যুজ্জ্বল বৈদ্যুতিক বাল্ব
তোমার মুখের এত আলো আমাকে আনমনা করে।
করাল সৈকতে ছেঁড়া দ্বীপের মতোন দাঁত
সেই বাঁক ঘেঁষে বের হওয়া হাসির স্রোতধারা
প্রবল বিস্ময়ে আমি ওদিকেই ঝুঁকি, নিজেকে হারাই।


আমি ঠিক অনুভব করি
মলাটের অভ্যন্তরে অক্ষরের শরীর নয়, হৃদয়ের সৌন্দর্য।
চোখের সামর্থ নেই তা ধারণ করে
এ তো অনুভূতির অবাধ অবগাহন…


আমার ঐশ্বর্য সব তোমাতে বিলীন
দ্বন্দ্ব মন্দ সব ঝেড়ে ফেলে ভেতর থেকে নিঃস্ব আমি
একেলা এখন আমি যখন তখন
রাতদুপুরে ঢুকে পড়ি তোমার অন্তঃপুরে
বুকের বৃন্তে উত্তর দক্ষিণ গোলার্ধে আমার ঘর
হাঁটু গেড়ে পরিচর্যা করি নাভীমূল
এইখানে গড়ে উঠবে আগামীর সভ্যতা।


 ফেসবুক

প্রিয়তমা

প্রিয়তমা! তাকাও আমার দিকে,
চোখের কোণে জল কেন আজ তোমার?
বিষাদে ওই মুখটা কেন ফিকে?
এ বুক জেনো চিরদিনই ক্ষমার।


অশ্রু মোছার রুমাল তো এই আমি
কষ্টগুলো বানাবো ঠিক মধু,
তোমার কাছেই থাকছি দিবাযামী
ও পাশ ফিরে শোচ্ছো কেন বধূ!


প্রিয়তমা! আমার কথা শোনো-
নিজের ভেতর আর থেকো না লুকে,
আমার চোখের নাচনগুলো গোনো
আঁচলে নয়, মুখ লুকাও এই বুকে।


 ফেসবুক

যতবার আমি নিজের দিকে তাকাই

যতবার আমি নিজের দিকে তাকাই,
ততবার আমাকে তোমার অযোগ্য মনে হয়।

আমার অভাব-স্বভাব,
নেশা কিংবা পেশা
তুমি ভাবো শিল্প;
অথচ তোমার জানা নেই পর্দার অন্তরাল।
আমার ভেতরের ক্ষত জানলে তুমি আহত হবে,
অজ্ঞাত মোহে আমি ফাঁকি দিয়েছি নিজেকেই।

জীবনের অন্তহীন লড়াইয়ে নেমে দেখি-
আমার পাথেয় কিছু নেই,
শূন্য হাতের দৈন্যদশার খবর তুমি রাখো না।

যতবার আমি তোমার কথা ভাবি,
ততবার তোমার থেকে দূরে সরে যাই।

আমি ভুলে গেছি কর্তব্যবোধ,
তুমি আমাকে জাগিয়ে দাও;
তোমার স্পর্শে মুছে দাও সব তমসা,
তোমার আরশির বিম্বিত আলোকে
আমাকে তোমার করে নাও।


ফেসবুক 

আমার অযোগ্যতা

আমি আজও কোনো দায়িত্বের যোগ্য হয়ে উঠি নি,
শেখা হয় নি কোনো কাজ-
না ঘরের, না বাইরের;
না মনের, না বনের;
আমি খাট আর মাঠের পার্থক্য বুঝি না।

ছেলেবেলায় যখন সবাই খেলতে গেছে,
আমি জানালায় বসে দেখেছি পাখিদের ওড়াউড়ি;
সেই থেকে আমি কেবল স্বপ্নেই উড়ে বেড়াই!
দূর থেকে পুকুর দেখে কতবার মুগ্ধ হয়েছি
অথচ শিখি নি সাঁতার!

আমি সময় কিংবা অসময়ের মানে জানি নি,
বুঝিনি আলো আর কালোর ফারাক;
তাই এখন স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্নের পার্থক্য করতে পারি না।

আমি বইপড়ুয়া তুখোড় ছাত্র, কিংবা হইহুল্লোড় করা দুরন্ত পোলা হতে পারি নি।
পারি নি ধ্যানী কিংবা জ্ঞানী হতে,
শ্রমিক কিংবা প্রেমিক হতে,
কারো মিত্র দূরে থাক, শত্রুও হতে পারলাম না!

আমার সকল পদক্ষেপ না কোনো কর্মের, না কোনো ধর্মের!
আমি নিদারুণ অযোগ্য অথর্ব অপদার্থ একজন।
তোমরা আমার কাছে কিছুই আশা কোরো না।


ফেসবুক 

খুনি

খুন করে ফেললাম তাকে!
ভেবেছিলাম ওকে খুন না করলে আমি নিজেই খুন হয়ে যাবো।
একটি গোলাপ চেয়েছিল মেয়েটা।

আমার হাতে এখনো খুনের দাগ লেগে আছে,
পৃথিবীর সব সাবানে হাত ধুইলেও হত্যার চিহ্ন মুছবে না
এক কোটি গোলাপে হাত বুলালেও রক্তের গন্ধ ঘুচবে না।
আমি বাঁচার জন্য তাকে হত্যা করেছি,
এখন আমি নিজেই খুন হচ্ছি প্রতিদিন।
আজ মনে হয়, সে বেঁচে থাকলে আমিও বাঁচতে পারতাম!


ফেসবুক 

সকাল

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি
আমার শরীরে এখনো আঁধার লেগে আছে।
চোখের সামনে সফেদ সকাল, কী নির্মল পৃথিবী
অথচ আমি বয়ে বেড়াই কালো কালো ক্ষতচিহ্ন!

বহুদিন আমি সকাল দেখি না, ভুলে গেছি স্নিগ্ধ সৌরভ
আজ আকশের দিকে তাকিয়ে দেখি কোনো শূন্যতা নেই
মায়াময় ছায়া হয়ে জেগে আছে আমার মাথায়।
ঠিক তখনি তোমাকে মনে পড়ে গেল
কী মনে হলো, হঠাৎ রাস্তায় নেমে পড়লাম।

শহরের কোলাহল এখনো জেগে ওঠে নি,
দু’একটা মালবাহী ট্রাক শা শা করে চলে যাচ্ছে
কারওয়ানবাজারে কাঁচা সবজি উঠবে
কারখানায় পৌঁছে যাবে কাঁচামাল
আমার গন্তব্য কোথায়?
তোমার কাছে পৌঁছানোর পথ হারিয়ে ফেলেছি।

একবার খালি পায়ে হাঁটতে ইচ্ছে হলো
মনে হলো ঘাসের ঘ্রাণ মাখি, পবিত্র মৃত্তিকায় মাথা ঠেকাই
এই শহরে মাটি নেই, কোমল আশ্রয় পাবো কোথায়!

মাথার ওপরে কিছু কাক উড়ছে
ঝগড়া শুরু করেছে বস্তির মহিলারা
শীর্ণ শিশুটা রাস্তার পাশে মলত্যাগে ব্যস্ত
বুড়ো লোকটা একমনে যিকিরে মশগুল...
আর হাঁটার সময় নেই,
আমাকেও ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

একবার শিশিরের জলে স্নান করিয়ে দাও,
আমার সমস্ত পাপ ঝরে পড়ুক।
বক্ষ বিদীর্ণ করে তুলে নাও সব সংকীর্ণতা
আমি উন্মুক্ত আকাশ হয়ে যাই।


ফেসবুক 

সময় হলেই

নির্দ্বিধাতে তোমার সাথে বাকী জীবন চলতে পারি,
এক জীবনের সকল কথা তোমার কাছেই বলতে পারি।
তোমার চোখে আমার আকাশ স্বপ্নরঙিন আঁকতে পারি,
আমার জগত তোমায় দিয়ে তোমার মনেই থাকতে পারি।

তোমায় ভালো বাসতে গিয়ে আমার আমি জানতে পারি,
যখন তুমি যেমন বলো তোমার কথাই মানতে পারি।
ভুলত্রুটি দুর্বলতা খুব সহজেই ভুলতে পারি,
অযুত নিযুত সম্ভাবনার সকল দুয়ার খুলতে পারি।

রাগ-অনুরাগ, সাধ-আহলাদ না বলাতেই বুঝতে পারি,
রহস্যময় বারমুডাতেও তোমায় আমি খুঁজতে পারি।
সরল চোখে অশ্রু এলে রুমাল হয়ে মুছতে পারি,
বুকজোড়া এক প্রেমের তুলোয় দুঃখ-ব্যথা শুষতে পারি।

বৈধ বাঁধন পেয়েই কেবল সকাল হয়ে ফুটতে পারি,
স্বামী তো নয়, তখন আমি প্রেমিক হয়ে উঠতে পারি।
তুমি যখন আমার হবে, তখন কেবল ভাবতে পারি
সময় হলেই স্বপ্নসমান শিহরণে কাঁপতে পারি।


ফেসবুক 

দুঃস্বপ্ন

ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন আমাকে ঘুমোতে দেয় না। ঘুমের ঘোরে আমার দুটো সত্তা দেখি। একটি আরেকটিকে হত্যা করছে। আমারই হাতে আমার খুন হবার দৃশ্য দেখে আমি জেগে উঠি। আমি ভীত হই, প্রীত হই। হত্যা থেকে পালানোর দৃশ্য আমাকে ভীত করে। খুন করার ধরন আমাকে মুগ্ধ করে!

আজকাল একা থাকতে আমার ভয় লাগে। নিজেকে নিজের শত্রু মনে হয়। এই বুঝি আমি ছিঁড়ে খাবো আমার মস্তিষ্ক, আমার বিবেক। বিষ ঢেলে নিবো ভালোবাসার পেয়ালায়। সুচারু শৈল্পিকরূপে ধ্বংস করবো আমার হৃদয়।

আমি এভাবে আর খুন হতে চাই না, খুনি হতে চাই না। তোমার স্পর্শ পারে খুন সারাতে, খুনিকে সরাতে।

তুমি আমাকে পাহারা দাও, আশ্রয় দাও।


ফেসবুক 

অধরা-১৬

তুমি একবার এসো অধরা। এসো একবার মুখোমুখি বসি। হাতের মুঠোয় সকাল পুরে বসে থাকি লাইব্রেরির কোণে কিংবা কলাভবনের বারান্দায়। দু’চারটে কথা বোলো, অথবা বোলো না। চুপচাপ দেখবো দুপুর গড়িয়ে যাওয়া। তপ্ত রোদের আঁচলে বেঁধে দিবো ‘স্পা’র বোতল।

চলো দুজন রেললাইনের বিপরীত পধ ধরে পরস্পরের দিকে হেঁটে আসি। তারপর বিকেলের গায়ে হেলান দিয়ে দেখি দিগন্তের দুঃখ। গোলাপ বিছিয়ে দিই মহাশূন্যে, ছায়াপথে।

এসো অধরা, ভালোবাসার সিঁড়ি বেয়ে পৃথিবীর ছাদে উঠি। দুজন দুজনের রহস্য খুঁজি অনন্তকাল।


ফেসবুক 

একদা আমি ঘর চেয়েছিলাম

বড় ছন্নছাড়া জীবন আমার।
আজন্ম অগোছালো আমার কিছুই ঠিক নেই
রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ঘুমিয়ে পড়ি, ঘুমের ভেতরে দৌড়াই!
মাথার ওপরে আকাশ নেই, কালো কালো মেঘ।

বড্ড বাঁধনহারা মানুষ আমি, ভবঘুরে পথিক।
সহস্র বছর হেঁটে চলছি
মরুভূমি থেকে অরণ্যে,
পাহাড় থেকে সমুদ্রে...
বুকের উনুনে কষ্ট রান্না করি
উছলে ওঠা ঢেউয়ের মতো ক্লান্তিতে আমি ভেঙে পড়ি
পৃথিবীর কেউ আমার খোঁজ জানে না, যেন আমি এমএইচ৩৭০!

ঘরছাড়া সন্নাসী জীবন আমার, আশ্রয়হীন উদ্বাস্তু!
আমি ঘুরে বেড়াই সিরিয়ার সীমান্তে, সভ্যতার শিকল হাতে।

একদা আমি ঘর চেয়েছিলাম, ঘরের ভেতর নারী।


ফেসবুক