স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।
অধরা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অধরা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

অধরা-২৩


বাইশ বছর পর আবার তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল।
 
‘চোখ মেলে’ দেখা বলতে কী বোঝায়- আমি জানি না। তোমার দিকে তাকিয়ে আমার প্রথম চক্ষু শীতল হয়েছিল সেই বাসর রাতে। তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে, লাজুক বাঁকা চাহনিতে কী ভীরু ভাব ছিল তোমার। ছিল মৃদু শিহরণ। পঁচিশ বছর ধরে কল্পনায় আঁকা মুখের সামনে দাঁড়িয়ে আমি বলেছিলাম আলহামদুলিল্লাহ! তুমি জানালে, আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি তোমার জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার। একটু একটু করে আমাদের কথা এগুতে লাগল। নীরব রাত্রির গায়ে লেখা হল নতুন কবিতা।

দিন-মাস-বছর গড়িয়ে চলে। আমরা খুঁজে ফিরি নিজেদের রহস্য। আবিষ্কার করি নতুন নতুন জগত। আমাদের যেসব গ্রাম জনপদ অনাবাদি পড়ে ছিল, সার্বভৌম সত্ত্বার আইনে তা একীভূত হলো রাষ্ট্রে। ধীরে ধীরে জানতে পারি কার কী পছন্দ, ভালো লাগা। দুজনের ভিন্ন ভিন্ন অপূর্ণ বৈশিষ্ট্য অঙ্গীভূত হয়ে গড়ে ওঠে এক পরিপূর্ণ অবয়ব।

আমি জানি অধরা, সাতান্ন বছরের দাম্পত্য জীবনে আমাদের রোমাঞ্চের কমতি ছিল না। পুকুর থেকে শাপলা তুলে তোমার গলায় মালা পরাতাম। তুমি নারিকেল পাতার কারুকাজ ছিল আমার রঙিন সানগ্লাস। আমাদের কোনোদিন বলতে হয়নি ‘আই লাভ ইউ’। কখনো সংশয়ে টলেনি চিত্ত।

একদিন দূর শহরে এসে উপন্যাস পড়ে জেনেছি কীভাবে বিয়ের আগে প্রেম করতে হয়। সিনেমা দেখে শিখেছি, লিভ টুগেদার ছাড়া একে অপরকে বোঝা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা তো এসব কিছুই করি নি। তোমাকে দেখে নিয়েছিলাম বটে, মেশার কথা তো ভাবি নি। শুধু জেনেছিলাম কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য। আমাদের বিয়ের ভিত্তি ছিল এই যে, স্রষ্টার নির্দেশমতো দুজনের দৈনিক পাঁচবার প্রেমের প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে স্বীকার করি নিজের সীমাবদ্ধতা।

আজ  এতদিন পরে যখন এসব বিষয়ে ভাবছি, তখন তুমি আমি অনেক দূরে। প্রগতিশীল প্রেমের চর্চা নিয়ে একদিন তোমার দিকে হাঁটতে গিয়ে এক মহাবিস্ফোরণ ঘটে যায়। মহাজাগতিক বিগব্যাঙে তুমি হারিয়ে গেছো অন্য গ্রহে। যেখানে আমার পৌঁছাতে প্রয়োজন বিকট শব্দে শিঙ্গায় ফুৎকার। রাখাল ইস্রাফিল কবে বাঁশি বাজাবে কে জানে! তবুও তোমার সঙ্গে আমার মাঝে মধ্যে দেখা হয়ে যায়। যেটুকু সময় দেখা হয় না, সেটুকু সময় আমি নিজের মধ্যে থাকি না।

অধরা-১৯


দীর্ঘদিন পরে তোমাকে অনুভব করতে গিয়ে কেঁপে উঠি অধরা। তোমাকে দিতে চাওয়া গোপন চিঠিটা দেখি বুকপকেটে জোনাকি হয়ে উঠেছে। এই গভীর রাত্রে আমার হৃদপিণ্ডের ওঠানামার সমান্তরালে জ্বল জ্বল করছে। উগ্র সুখের বদলে বিচ্ছেদের স্বস্তি তোমাকে আরো বুকের কাছে এনে দিয়েছে।

অথচ দেখো, বৈশাখী দাবদাহে তুমি পুড়ে যাচ্ছিলে। তোমার হৃদয়ে ফুটছিল গরম বালুকণা। আবক্ষ তৃষ্ণায় তুমি চেয়েছিলে আষাঢ়ের বৃষ্টি। আর আমি তোমাকে দিয়েছি চোখভর্তি কান্না। তোমার অশ্রুতে প্লাবিত হয়েছে বুকের উপকূল।

এই রমজানের পবিত্র রজনীতে প্রার্থনা: সংযমের অনুশীলনে তোমাকে ধারণ করবো প্রত্যাশিত ধারায়। পরিশুদ্ধ অনুভূতিতে গড়ে দিবো তোমার নাকফুল।

ফেসবুক 

অধরা-২০

হঠাৎ হঠাৎ তোমার মুখটা আমি দেখতে পাই। মুহূর্তেই আবার ভুলে যাই। কিছুতেই মনে করতে পারি না ওই গঠন, ভেজা অধরের মায়াবী প্রতিচ্ছবি।
তবে কি আমার হৃদয়ে তুমি নেই? তা কেন হবে? ভুলে যাই বলেই তো তোমাকে দেখার ইচ্ছে জাগে। তোমার অস্পষ্ট আকৃতিই এক অন্তহীন আকর্ষণ।

অধরা, তোমাকে বলি: আমার শৈশবের প্রেম কাশফুলের মতো বালিকা। ঝিরঝিরে বাতাসে তার মুখ দুলে ওঠে মনের পর্দায়। সেই অবয়ব কখনো স্পষ্ট হয়ে আমার সামনে দাঁড়ায় না। কিংবা এমনও হতে পারে, আমার চোখজোড়া তা ধারণ করতে পারে না।

কিন্তু জানো অধরা? এখন সেই শুভ্র চেহারায় আমি ফিনকি দেওয়া রক্ত দেখি। লাল পাড় এঁকে সাদা শাড়ির আঁচল ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় দিগন্তে। তার ঝাপসা মুখের দিকে তাকালে আমার বুক ভেঙে যায়।

ফেসবুক 

অধরা-২১

আমি তোমাকে বলি, কেঁদো না। অথচ তোমার বেদনাগুলো আমারই সৃষ্টি। আমি অহোরাত্র তোমার ভেতরে অস্থিরতার বীজ বুনি। আবার আমিই অবাক হই, মনখারাপের বেড়ে ওঠা বৃক্ষ দেখে। বিশ্বাস করো, এসবে আমার কোনো প্রবৃত্তি থাকে না।

আমি ভালোবাসার ডাকঘর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। অথচ প্রেমের চিঠি বিলাতে পারি না। আমার হিমশীতল বরফ তোমাকে রক্তাক্ত করে, তুলার আঘাতে তোমার পাজর ভেঙে যায়। তোমার আঙিনায় যে ফুরফুরে বাতাস, তার ভাঁজে ভাঁজে দেখি কান্নার ঢেউ।

আমি তখন প্রতিকূলতার দাঁড় টানতে টানতে ঘুমিয়ে পড়ি। ভেতর থেকে প্রবাহিত রক্তস্রোতে বুকের নিচে বিছানা তৈরি হয়। জমাটবাঁধা জলশয্যায় দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠি। সবকিছু অর্থহীন মনে হয়- বেঁচে থাকা, মরে যাওয়া…। 

অধরা, তোমাকে ধরতে যাওয়াটা যে অপার আনন্দের উৎস, সেখানেও আর উৎসাহ পাই না…

অধরা-২২

তুমি তো জানোই আমার কান্নাগুলো শুকনো। জল নেই অথচ প্রবল স্রোত। ঠিক সেই নদীটার মতো- যার কুল ছিল না, জল ছিল না, শুধু ছিল ঢেউ! আমি সেই পানিশূন্য খরস্রোতে একেলাই ডুবে মরি।

একবার নিজেকে জিজ্ঞেস করো তো অধরা! তুমি ছাড়া কে বুঝবে এই চৈত্রের কান্না? একদিন তুমি তো সব বুঝতে। আমার আমিত্বের জায়গাটা সনাক্ত করেছিলে তুমি। আর তাই তোমার 'আমিত্বে'র সমুদ্রে মিশে যেতে আমাকে বেচে দিয়েছিলাম তোমার কাছে। আজ তুমি সন্দেহ করো তোমারই আবিষ্কার করা নদীকে। হেঁয়ালিতে দেখিয়ে দেওয়া কিছু অগভীর নালা কিংবা খালকে বানিয়ে নিলে তোমার প্রতিপক্ষ সাগর!

অধরা, তুমি অভিমান খুনসুটি আর রাগের বহিঃপ্রকাশে পার্থক্য রাখো না। তুমি বোঝো না- হেঁয়ালি আর মৌলিক চরিত্রের ব্যবধান। ভিত্তিহীন রাগ ভাঙতে দেরি হলে তীব্র অভিমান লাগে আমার নিজেরই। আবেগের মূল্যায়ন করতে চাই কিন্তু যৌক্তিকতা না বুঝলে রাগ লাগে। কোনো সংঘাত পছন্দ নয়, তাই একাকিত্ব আর শুকনো কান্নাই নিশীথের দোসর হয়ে আমার পাশে থাকে। আমার অতল আবেগে জল ঝরানোর সক্ষমতা নেই যে।
আফসোস! যে বোঝার, সে বোঝে না...

ফেসবুক

অধরা-১৮

শুনেছো অধরা! কর্পোরেট মানবেরা জানতে চায় আমার পেশা কী? কেউ ভুলেও জিজ্ঞেস করে না আমার নেশার কথা। পেশা তো পেট চালানো, বেঁচে থাকার জন্য। অথচ কেউ জানতে চায় না- বেঁচে আছি কী নেশায়!

সারাদিন পেশার কাজে ছোটাছুটি করি। সন্ধ্যায় তোমাকে নিয়ে রচনা করি আগামীর মেনিফেস্টো, বেঁচে থাকার ইশতেহার। তোমার আমার আন্তঃ এবং অন্তঃনেশার সমন্বয় হলে পৃথিবী জেনে যেত- কী আশ্চর্য এই বেঁচে থাকা! কী সুন্দর মৃত্যুকে বরণ করা!

এসো অধরা, আমাদের নেশাকে পেশা বানিয়ে ফেলি।


ফেসবুক 

অধরা-১৭

নতুন বৈশাখে নতুন করে বিচ্ছেদের বীজ বুনি আমরা। আমাদের বিচ্ছেদগুলো মিলনের চেয়েও মধুর। দূরে গেলেই যদি চলে যাওয়া হতো, তবে পৃথিবীর ইতিহাস হতো বিবর্ণ বিরস। দূরত্ব রয়েছে বলেই আছে ছোঁয়ার ব্যাকুলতা।

আমার সারা গায়ে জোছনা মাখামাখি করলেও কখনো ছুঁয়ে দেখতে পারি না। স্পর্শের চেয়ে অনুভব কখনো কখনো প্রধান হয়ে ওঠে। চলো অধরা, আমরা নাহয় অনুভূতির জগতে ফিরে যাই।


ফেসবুক 

অধরা-১৬

তুমি একবার এসো অধরা। এসো একবার মুখোমুখি বসি। হাতের মুঠোয় সকাল পুরে বসে থাকি লাইব্রেরির কোণে কিংবা কলাভবনের বারান্দায়। দু’চারটে কথা বোলো, অথবা বোলো না। চুপচাপ দেখবো দুপুর গড়িয়ে যাওয়া। তপ্ত রোদের আঁচলে বেঁধে দিবো ‘স্পা’র বোতল।

চলো দুজন রেললাইনের বিপরীত পধ ধরে পরস্পরের দিকে হেঁটে আসি। তারপর বিকেলের গায়ে হেলান দিয়ে দেখি দিগন্তের দুঃখ। গোলাপ বিছিয়ে দিই মহাশূন্যে, ছায়াপথে।

এসো অধরা, ভালোবাসার সিঁড়ি বেয়ে পৃথিবীর ছাদে উঠি। দুজন দুজনের রহস্য খুঁজি অনন্তকাল।


ফেসবুক 

অধরা-১৫

তোমার কোনো স্বাধীনতায় আমি বিশ্বাস করি না অধরা! তুমি আমার কাছে পরাধীন হয়ে থাকবে। যাকে তাকে ভালোবাসার স্বাধীনতা তোমার নেই। যখন তখন হারিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তোমার থাকবে না।

আমি সবসময় তোমাকে পেতে চাই। ইচ্ছে হলেই দেখতে চাই। যখন তখন ঘুরে আসবো তোমার মনোজগত। তোমার রাজ্য আমার উপনিবেশ। ভালোবেসে কেউ স্বৈরাচার হয়ে গেলে তাকে দোষ দিও না।

আমি একটি মনের দখলদার হয়েছি। শত শত গোলাপ তোমাকে পাহারা দেবে। কবিতার সৈন্যরা তোমাকে ঘিরে থাকবে। তোমার হৃদয়ের দিকে তাক করা আছে ভালোবাসার মিসাইল। তোমার কোনো স্বাধীনতা নেই।

একটি স্বাধীনতা তোমাকে দিতে পারি। তুমি যতবার ইচ্ছা আমার প্রেমে পড়তে পারবে।


ফেসবুক 

অধরা-১৪

আমাকে জাগিয়ে দিয়ে অধরা ঘুমিয়ে যায়। আমি চোখজোড়া টানা টানা করে ওকে দেখি। ওর চোখ-নাক-গালে নকশা আঁকছে নিষ্কাম ঘাম, শ্রান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়া মুখে প্রশান্তির ছায়া। আমি নয়নভরে অবলোকন করি, অবগাহন করি না।

অধরা জানে, আমাকে জাগাতে পারলে সে পালাতে পারবে। আমি নিদ্রিত হলে তাকে বিস্তৃত হতে হবে। আমাকে সঙ্গ দিতে হবে অতীত জাদুঘরে। কামনার তুলিতে আঁকতে হবে ভবিষ্যত।
আমার নিদ্রায় কোনো বর্তমান নেই, আমার বর্তমানে কোনো নিদ্রা নেই!

অধরা, আমার জাগ্রত ধ্যানে একদিন তুমি ঘুমের ভান কোরো।


ফেসবুক 

অকবিতা

অনেক দূর থেকে অধরা আমাকে ডেকে যায়, খুব নীরবে। আমি বেশ বুঝতে পারি। তার শব্দহীন আহ্বান সশব্দে আমার কানে বাজে। আমি আনমনা হয়ে পড়ি।

আমি ঠিকই দেখতে পারি, তার জলে ভেজা দুটো চোখ আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। আমার চোখও আদ্র হয়ে উঠতে চায়। আমি শুনতে পাই, তার অনুতপ্ত হৃদয় আমাকে ছুঁতে চাচ্ছে। আমার মনও কাউকে স্পর্শ করতে চায়। তার ক্লান্ত শরীর আমার আশ্রয় খুঁজছে। আমার বাহুগুলোও ডানা মেলতে চায়। আমি ঠিক জানতে পারি, মানতে পারি না। আমি কাঁদতে পারি, সাধতে পারি না। ভালোবাসতে পারি, ফিরে আসতে পারি না। অভিমানের উপত্যকায় দাঁড়িয়ে হাসতে পারি না।

মেঘলা আকাশকে আমার তখন আপন মনে হয়। হারাতে ইচ্ছে করে চোরাবালিতে। কষ্টের পর্বতে উঠতে ইচ্ছে করে। বেদনার গিরিখাতে নেমে যেতে চায় আমার সমস্ত সত্তা।
অধরার কাছে যাওয়ার আকুলতা জাগতেই, কাছে পাওয়ার ব্যাকুলতা আসতেই আমি প্রাণপণে দূরে দৌড়াই। ভালোবাসার অত্যাচার আর করতে চাই না।

অধরা-১৩

তোর কাছে হেরে যাবো রে পাগলি, তোর কাছেই জিতে যাবো।
আমি জন্মেছিলাম জেতার জন্য, আড়ালে আছি হারার জন্য।
আমি বের হতে গিয়ে টের পেয়েছি কতটা ভেতরে আছিস তুই,
আমি অদৃশ্যে থেকে জেনেছি কতটা প্রকাশ্যে তোকে ছুঁই!
তোকে বুঝতে গিয়ে নিজের ক্ষমতা জেনেছি,
তোকে খুঁজতে গিয়ে শত অক্ষমতা মেনেছি।

আমি মরতে গিয়ে তাই ঘুমিয়ে পড়েছি,
বাঁচতে গিয়ে তোকেই চেয়েছি!
তোর কোনো চলে যাওয়া নেই, ফিরে আসা নেই;
তোকে হারিয়ে দেওয়া নেই, ছাড়িয়ে যাওয়া নেই;
তাড়িয়ে দেওয়া নেই, আঁকড়ে ধরা নেই!
'তুই' আর 'আমি' বলে আলাদা কিছু নেই!


ফেসবুক 

অধরা-১১

তুমি নাহয় জিতেই গেলে অধরা! একতরফা নির্বাচনে, একক সিদ্ধান্ত গ্রহণে না জেতারই বা কী আছে! তুমি জিতে কতটা সুখ পেয়েছো- জানি না, তবে আমি হেরে গিয়ে অসুখী নই! আমি তো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাই নি! ভালোবাসার প্রতিযোগিতা হয় না। নিজেকে সূর্য বানিয়ে মোমের আলোর সাথে পরীক্ষায় নামার কী মানে?

আমি চেয়েছিলাম এই ধুলিভরা কুটির ঘরে জোছনালোকের সমঝোতা! তখন দেখতে আমার সকল চাওয়া পাওয়া তোমার হাতে তুলে দিয়ে এই শীতরাত্রির তীব্র ঠাণ্ডায় তোমার এলো চুলে মুখ লুকোতাম। মেনে নিতাম তোমার সকল শাসন। স্বর্গ নেমে আসতো এই ছোট্ট ঘরে।

এখন আকাশপারে একতরফা যে প্রাসাদ তুমি বানালে, এই মর্ত্যলোকের মনখারাপের মেঘে মেঘে ঢেকে যাবে সেই আকাশ। তোমার একগুঁয়েমির অন্ধকার থেকে বের হওয়া যেসব সাপ ও শাপ তোমাকে ঘিরে থাকবে, তা তোমাকে পান করাবে সুখের বিষ।


ফেসবুক 

অধরা-১০

তোমার কাছে আসি ছুটে এই আমি খুব অবুঝ,
তুমি আমার প্রেমপতাকা তুমিই লালে সবুজ।

অনেক কথা বলেছি আর অনেক নীরবতা,
তুমি আমায় দণ্ড দিলে, দিলে স্বাধীনতা।

রক্ত দিয়ে দেশ পেয়েছি নিজের স্বাধীন ভূমি,
আর পেয়েছি তোমার দেখা তাই ভূমিকে চুমি।

অবাক করা ঠোঁটের পাতা গালের কালো তিল,
তোমার চোখে খেলা করে স্বাধীন আকাশ নীল।

এই আকাশ আর মাটি ছাড়া তোমায় ছোঁয়া যেত না,
তুমি আমার বিজয়-কেতন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

ভালোবাসার ঘর গঠনে তবে কেন ভুল,
ভুলে গেছো প্রেমচেতনা মিলে থাকার মূল।

বুঝলে না তো আমায় তুমি; খুঁজলে চতুর্দিক,
পরের কাছে যা শুনেছো তা'ই ভেবেছো ঠিক!

সুখ মেলেনি স্বাধীন ভূমির, মুক্তি হয়নি আমার!
দলবাজিতে ভাগ হয়েছে যৌথ প্রেমের খামার।

তোমায় ভাবি শীতল পানি তুমি মরু খরা,
পরাজিত তোমার প্রেমে তাই তুমি অধরা!


মুক্তিকন্যার প্রেম 

অধরা-৯

গুলি-গ্রেফতার-অবরোধে
সমান বাঁচা-মরা,
তোমার বুকেই গুঁজবো মাথা
ঠাঁই দিও অধরা।


facebook 

অধরা-৮

একটা খবরের শিরোনাম দেখে চমকে উঠলাম: ‘পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মূল আসামী অধরা!’ আমার তো স্ট্রোক করার মতো অবস্থা! এ কী শুনলাম অধরা? শেষ পর্যন্ত তুমি...

অধরা, তুমি আমাকে তো খুন করেছো অনেক আগেই। মৃত হৃদয়েও আগুন জ্বালাচ্ছো অহর্নিশ। আমি তো কোনো মামলা করি নি। একাকী তোমাকে কারাদণ্ড দিয়েছি- ‘ভালো থাকার কারাদণ্ড’।

কাঁপা কাঁপা হাতে পত্রিকা নিয়ে ঝাপসা চোখে খবরের পুরোটা পড়লাম। একনজর পড়ায় যা বুঝেছি: কারা আগুন দিচ্ছে- কেউ জানে না। তারা আইনের আওতায় আসছে না। মামলা হচ্ছে নেতাদের নামে। শিরোনামে তবে তোমার নাম বললো কেন? সন্দেহ করেছে?

অধরা, তুমি চিৎকার করে প্রতিবাদ করো, ‘আমি কোনো নাশকতায় জড়িত নই। আমি কেবল একজনকে খুন করেছি, বারবার একজনকেই খুন করি! একজনের হৃদয়ই পোড়াই প্রেমের আগুনে, প্রতিনিয়ত পোড়াই।’


facebook 

অধরা-৭

অধরার অসহযোগিতায় সম্পর্কের তফসিল ঘোষণা হচ্ছে না। অথচ প্রার্থী হিশেবে মনোনয়ন ফরম কিনে ফেলেছি অনেক আগেই। বিশ্বাসের জায়গায় ফাটল ধরলে বা পারস্পরিক আস্থায় সংকট তৈরি হলে নির্বাচনী বিবাহোৎসব আদৌ হবে কিনা- আমি খুব দ্বিধায়। দুই পরিবারের সামাজিক ব্যবধান যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করেছে, সেখানে সমঝোতা না হলে আমাদের প্রেমের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত! দুই মেরুর দুইজন হয়েও মনোজাগতিক চেতনায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম সমৃদ্ধ দাম্পত্যের স্বপ্নে। অথচ আজ অধরার অনাকাঙ্ক্ষিত জেদে প্রেমতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যহত হবার উপক্রম।

অধরা, সামান্য মান-অভিমান যেন আমাদেরকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দেয়! ভালোবাসায় পারস্পরিক খুনসুটি থাকবেই। কিন্তু তার প্রকাশ যেন সহিংস না হয়! এসো, প্রেমালাপ-ডেটিংয়ে অবরোধ-হরতালের কর্মসূচি এড়িয়ে আমরা আপাতত টেলিসংলাপ করি! মোবাইল খুলে দেখো- অভিসারী বাসরে অংশগ্রহণের প্রস্তাবসম্বলিত ভালোবাসার ক্ষুদেবার্তায় ভরে দিয়েছি তোমার ইনবক্স। প্রেমের স্বার্থে এ আমার সর্বোচ্চ ছাড়! তবে এটা জেনে রেখো- তোমার হৃদয় থেকে আমি পদত্যাগ করতে রাজি নই।
facebook 

অধরা-৫

বন্ধ মোবাইল খুললে কেন অধরা? মনের নিস্তরঙ্গ দিঘিতে অস্থিরতার যে ঢেউ তুললে, কীভাবে সামাল দেবে এখন? এ যে প্লাবিত করবে তোমার আঙিনাও!
আমি তো ভালোই ছিলাম একাকী! চুপিসারে ডেকে যেতাম ঘুমন্ত তোমাকে। তোমার জাগ্রত অবস্থা জেনে গেলে আর তো পারি না তোমার উদ্দেশে মোবাইলের বাটন টিপতে! কিন্তু বুকের বাটনে যে উন্মাতাল চাপ, তা কি তুমি কোনোদিন জানবে?
জানবে না। কোনোদিনও না!
 

অধরা-৬

বুঝলাম, অধরা তোমার
ঈমানের শক্ত ভিত আছে;
দেখলাম, আমি তো দাঁড়িয়ে
বৃহত্‍ অগ্নিকুণ্ডের কাছে!

এসো না, এসো না তুমি
পাছে,
পুড়ে যাবে আগুনের
আঁচে!


 facebook

অধরা-৪

হরতালের মধ্যে আমার চলাফেরা নিয়ে অধরা উদ্বিগ্ন থাকে। আমি যেন বাইরে বের না হই- সেজন্য থাকে তার সতর্কবার্তা। ইথারে ভেসে আসা সাবধানবাণী আর কণ্ঠস্বরের উদ্বিগ্নতা আমাকে মোহিত করে। একজন মানুষের জন্যে মায়াবতী কারো উদ্বিগ্নতা দেখতে এত ভালো লাগে! মাঝে মধ্যে আমার ইচ্ছে হয়- আমি অধরার সাথে ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠি, সত্যমিথ্যার ভীতিকর গল্পে ওকে চরম উৎকণ্ঠার দিকে ঠেলে দিই! শুকনো পাতার মতো ফ্যাকাশে মুখের দিকে তাকিয়ে উপলব্ধি করতে পারবো- মমতার কী গভীর সমুদ্র ওখানে!
ফেসবুক