স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।
ভালোবাসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভালোবাসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

প্রেমময় জীবনের লোভ

প্রেম নিয়ে আমার নিজের আবিষ্কৃত তিনটি তত্ত্ব আছে। প্রথমটি হচ্ছে, ‘মাটির ব্যাংক ভালোবাসা’। মাটির ব্যাংকে সঞ্চয়ের মতো মনের সমস্ত ভালোবাসা, দেহের সার্বিক পবিত্রতা, চাহনির সমুদয় নির্মলতা, ভাবনার সামগ্রিক শুদ্ধতা গুছিয়ে রাখতে হয় কাঙ্ক্ষিত স্ত্রীর জন্য। একমাত্র বিয়ের মাধ্যমেই তার সঙ্গে প্রেম হতে পারে।

দ্বিতীয় তত্ত্বের নাম ‘পাললিক প্রেম’। এই পর্বে ঠিক স্বামী হতে হয় না। হতে হয় প্রেমিক বন্ধু। যেখানে এক হয়ে যায় ভেতর বাহির। জ্যামিতিক সুক্ষ্মতায় মিশে যায় সকল প্রাতিপাদিক রেখা। সেই মিলনের স্পর্শবিন্দুই মানবীয় পাললিক প্রেম।

তৃতীয়, চূড়ান্ত এবং স্থায়ী প্রেমের নাম ‘সূর্যমুখী প্রেম’। যা সূর্যমুখী ফুলের মতো সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর দিকে এককেন্দ্রীক নিবদ্ধ। সকল কাজের ভীড়ে মন-মুখ ফিরিয়ে সেখানেই খুঁজি সুখ। আমার খুব ইচ্ছা- আমরা দুজন মিলে ওই সূর্যমুখী প্রেমের সাধনায় আমাদের জীবন পার করে দেবো।

আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া। সেরা সঙ্গীটাই তিনি আমাকে দিয়েছেন। তার মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, আলমে আরওয়াহতে (রুহের জগত) তার সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটেছিল। অনাদিকাল থেকে তার সঙ্গে আমার খুনসুটিময় প্রেম।


ফেসবুক 

প্রেম-ভাবনা


‘মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই।’ (সূরা নিসা-৩)
‘মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভালো লাগে’ আয়াতের এই অংশটুকু খুব গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমান ছেলে-মেয়েরা বিয়ের জন্য পছন্দ করতে, ভালোবাসতে পারবে কিনা- তা এই আয়াত থেকে চিন্তা করার বিষয়।

কিছুদিন আগে একটা লেখা পড়েছিলাম, ‘আমি কি ভালোবেসে বিয়ে করতে পারবো?’ ওই লেখায় বলা হয়েছে, পারিবারিক পছন্দে বিয়ে হওয়াই একমাত্র ইসলামসম্মত পন্থা নয়। মুসলিম ছেলেমেয়েদের নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করার পূর্ণ অধিকার আছে।

সূরা নিসার ওই আয়াতের অনুবাদে মারীফুল কুরআনে বলা হয়েছে, ‘যাদের তোমরা পছন্দ করো’ আর আল কুরআন একাডেমির হাফেজ মুনির আহমেদ অনুবাদ করেছেন, ‘যাদেরকে তোমরা ভালোবাসো’।
তবে ভালো লাগা, পছন্দ করা, ভালোবাসা আর প্রেম এক কথা নয়। প্রেম হচ্ছে সম্পর্ক (রিলেশনশিপ)। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী প্রেম হতে পারে একমাত্র বিয়ের মাধ্যমে।

আমরা নিশ্চয়ই কাউকে হুট করে ‘ভালোবাসি’ বলে প্রেমে জড়াই না। তার সম্পর্কে জেনে বুঝে যখন মনে হয় এই মেয়েটা বা এই ছেলেটার সাথে একটা জীবন পার করে দেওয়া যায়, তখন তাকে বলি, ‘আই লাভ ইউ।’
‘আই লাভ ইউ’ বলার পূর্ব পর্যন্ত চিন্তা-ভাবনা বৈধ (তবে এই জানা-বোঝার জন্য তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে মিশে অভিজ্ঞতা অর্জনের অনুমতি নেই)। প্রেম করতে হলে আগে তাকে চিরদিনের জন্য আপন করে নিতে হবে। ‘তোমরা যখন বিয়ের জন্য এমন ছেলে বা মেয়ে পেয়ে যাবে যার চরিত্র ও জ্ঞান-বুদ্ধিকে তোমরা পছন্দ করবে, তো তখনই তার সাথে বিয়ের সম্বন্ধ স্থাপন করো।’ (তিরমিযী)

এ অধিকার মেয়েদের জন্যও সমান। সাহল ইবন সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একবার এক মহিলা সম্ভবত তার নাম লায়লা বিনতে কায়স ইবনুল খাতিম রাসূলুল্লাহর (সা.) কাছে হাজির হয়ে তার সাথে নিজেকে বিয়ের জন্য সরাসরি প্রস্তাব পেশ করেন। (বুখারি)

অতএব পছন্দের ব্যক্তিকে ভালোবাসি বলতে হবে বিয়ের দ্বারা। আর সেটা অবশ্যই অভিভাবকদের মাধ্যমে। অভিভাকদের কর্তব্য এতে সাড়া দেওয়া। ‘যদি এমন কেউ তোমার কাছে আসে (বিয়ের পয়গাম নিয়ে)– যার চরিত্র এবং তাকওয়া সন্তোষজনক, তাহলে তার কাছে (তোমার মেয়েকে) বিয়ে দাও। যদি এমনটি না করো, তাহলে পৃথিবীতে মারাত্মকরকম ফেতনা ও বিপর্যয় দেখা দিবে’। (তিরমিযি)

দুঃখজনক হচ্ছে, আমাদের সমাজব্যবস্থায় বিয়েকে অনেক কঠিন করে রাখা হয়েছে। নিজের পায়ে দাঁড়ানো, চাকরি পাওয়া, প্রতিষ্ঠিত হওয়া কত কিছু। অথচ বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক কত সহজ! এর জন্য কিছুই লাগে না। অথচ এর চেয়ে সহজ হওয়া দরকার বিয়ে। আমার মতে, ছাত্রাবস্থায় বিয়ে হওয়া দরকার। তবে তখনই কেউ কারো দায়িত্ব (আর্থিক) নিবে না। প্রেম করার সময় তো নেয় না। ঠিক সংসার করারও দরকার নেই। অনেকটা প্রেমের মতোই, তবে মানুষটিকে চিরদিনের জন্য নিজের করে নিয়ে, ভবিষ্যতের আশায় বসে থেকে নয়। সেটা অবশ্যই অবিভাবকদের সহযোগিতায়। এ ধরনের সংস্কৃতি চালু হওয়া কি খুব কঠিন?

যাকে আমি ভালোবাসছি, একসাথে ঘুরছি, বাসা থেকে খাবার রান্না করে এনে পরম মমতায় খাওয়াচ্ছি, কষ্টের টাকা বাঁচিয়ে উপহার কিনে দিচ্ছি, মন খারাপের বিকেলে যার ভালোবাসায় আমার জীবন সুখের হয়ে উঠছে, হৃদয়ের মতো পবিত্রতম জায়গা যার জন্য বরাদ্দ করেছি, তখনও আমি নিশ্চিত নই- এই মানুষটার সাথে আজীবন থাকা হবে কিনা। প্রতিষ্ঠিত হওয়া-না হওয়া, নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা আর পারিবারিক পছন্দের ফাঁদে আটকে যায় আমাদের ভালোবাসার অনুভূতি। এর চেয়ে অমানবিক আর কী হতে পারে! চোখের সামনে কত হৃদয় ভেঙে যেতে দেখলাম!

তরুণ বয়সে আমরা একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হবো এটাই স্বাভাবিক। ভালো লাগবে, ভালো বাসবো এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম। ‘আর তাঁর অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে, তিনি তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের জন্য যুগল সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের মধ্যে স্বস্তি পেতে পারো। আর তিনি তোমাদের মধ্যে প্রেম ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা রুম-২১)

কিন্তু ইসলামের নির্দেশনা না মেনে পারিবারিক-সামাজিক মূর্খতার আনুগত্য করে স্বতঃস্ফুর্ত আবেগ অনুভূতির প্রকাশে চোরাপথে প্রেমের দ্বারস্থ হই। তারপর হয়তো একদিন প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে গতানুগতিক বিয়ে করতে হয়। অথচ অনুভবে মিশে থাকে অন্য কেউ। বিষণ্ণ সন্ধ্যায় পুরনো প্রেমের স্মৃতি মনে করে জীবনটা ছন্দহীন নীরস লাগে।
বিয়ে সহজ হোক। বিয়ের আগে প্রেম নয়, বিয়ের পরে পরকীয়া নয়।

প্রেমিকার গ্যাসীয় উপাদান

প্রতিটি প্রেমিকা গ্যাসীয় উপাদানে গঠিত।

ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি। সিলেট ভ্রমণে গিয়ে হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রের পাশে একটা পুকুরে গেলাম। ওখানকার পানিতে গ্যাসের উপাদান মিশ্রিত। ব্যবহার-অযোগ্য সেই গ্যাস ফেনা হয়ে পানির ওপরে ভাসছে। ফেনায় ম্যাচ ঠুকে দিলে পানির ওপরে আগুন জ্বলে। এ সেই হেলাল হাফিজের ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ অবস্থা।

ছেলেদের মন পানির মতো স্বচ্ছ। প্রেমিকারা সেখানে গ্যাস হয়ে মিশে যায়। তারপর সময়ে অসময়ে প্রেমের বারুদ ঠুকে দেয়। এতে আগুনে পুড়তে থাকে মন। পুকুরের ভাসমান ফেনা একসময় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু প্রেমের ফেনা অনিঃশেষ। তাই ধিকি ধিকি পোহাতে হয় অন্তরের জ্বালা…

দ্রষ্টব্য : ইহা একটি জেন্ডার ডিসক্রিমিনেটরি স্ট্যাটাস। স্যরি!

ফেসবুক 

বউ সম্পর্কে যা বললেন কেজরিওয়াল

‘সব পরিস্থিতিতে ওর (সুনিতা) বুদ্ধিদীপ্ত পরামর্শ, যুক্তিযুক্ত মতামত ও সহায়তা ছাড়া সফলতা অর্জন সম্ভব ছিল না। ও আমার সামনে না আসলেও পেছন থেকে সব সময় সহযোগিতা করেছে। সুনিতা পাশে না থাকলে আমার পক্ষে কিছুই অর্জন সম্ভব নয়।’

নির্বাচনে জেতার পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে প্রথমে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরলেন কেজরিওয়াল। গভীর আলিঙ্গনে রেখে সকল অবস্থায় পাশে থাকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

উপলব্ধি : বউ হোক জ্ঞানে সৌন্দর্যমণ্ডিত। কেবল শরীরে সুন্দরী নয়।

ফেসবুক

আসুন ভালোবাসার বিসিএস পড়ি

  • ভালোবাসা একটিমাত্র আত্মা নিয়ে গঠিত , যা দুটো দেহে বাস করে- এরিস্টটল
  • ভালোবাসা আমার ধর্ম, আমি এর জন্য মরে যেতে পারি – জন কিটস
  • ভালোবাসা চোখে দেখা যায় না, হৃদয়ে অনুভব করতে হয়- উইলিয়াম শেক্সপিয়র
  • ভালোবাসার সূচনা মুচকি হাসি – মাদার তেরেসা
  • যেখানে ভালোবাসা আছে, সেখানে জীবন আছে- মহাত্মা গান্ধী
  • অপক্ক ভালোবাসা বলে, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি কারণ তোমাকে আমার প্রয়োজন।’ কিন্তু পরিণত ভালোবাসা বলে, ‘তোমাকে আমার প্রয়োজন, কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ -এরিখ ফ্রম
  • ভালোবাসা এমন কিছু নয়, যা আপনি খুঁজছেন। ভালোবাসা তা-ই, যা আপনাকে খুঁজছে- লরেত্তা ইয়ং
  • ভালোবাসা তখন হবে যখন নিজের চেয়ে আরেকজনের সুখটা গুরুত্ব পাবে- এইচ জ্যাকসন ব্রাউন
  • যে নারীকে আমি ভালোবাসি, তার কণ্ঠই পৃথিবীর মধুরতম সুর- জিন ব্রুয়েরে
  • ভালোবাসা ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না- ম্যাক্স মুলার
  • ভালোবাসাকে খুঁজে নিতে হবে, খুঁজে পাওয়া সত্তাকে ভালোবাসতে হবে- থমাস মনসন
  • ভালোবাস যুদ্ধের মতো। শুরু করা সহজ, শেষ করা বেশ কঠিন- এইচ এল মেনকেন
  • ভালোবাসা হচ্ছে সেই খেলা, যাতে দুজনই জিততে পারে- ইভা গ্যাবর
ফেসবুক

রোমান্টিকতা

মূর্খ সুন্দরীর সঙ্গে প্রেম করার চেয়ে জ্ঞানী মানুষের সাথে ঝগড়া করা বেশি রোমান্টিক।

ফেসবুক

প্রেমস্রষ্টা

কিছু মানুষ প্রেম সৃষ্টি করে, বাকিরা করে প্রেমের অনুষ্ঠান। বালিকারা প্রথমদের চেনে না, দ্বিতীয়দের সাথে মুর্খ উচ্ছ্বাসে মাতে।

ফেসবুক 

আনন্দময় কষ্ট

প্রিয়জনের জন্য কাজ করা, সময় ব্যয় করা কি কষ্টের? হ্যাঁ, কষ্ট তো অবশ্যই আছে। তবে আমি মনে করি, কিছু কিছু কষ্ট আছে, যা পেতে মানুষ উৎসুক থাকে। সেই কষ্ট করতে পারাটাই সুখ। ভালোবাসা স্বতঃই একটা কষ্টকর ব্যাপার। এই কষ্ট নিজেই আবার আনন্দ।

ফেসবুক 

ভালোবাসা-৩

যাকে ভালোবাসা যায় না, তার উপর রাগ করাও যায় না।

ফেসবুক 

ভালোবাসা-২

কারো কারো ভালোবাসার বন্ধন এত মজবুত এত শক্ত যে, তা কখনো কখনো শিকলের মতো অনুভূত হয়। মনে হয় আমি এ শিকলে বন্দি। আমি পরাধীন। এ পরাধীনতার কারণে অনিচ্ছায়ও তাদের অনেক দাবি মানতে হয়। প্রিয় মানুষের সব কথা না শোনা, কিছু বিপরীত কাজ করাও যে ভালোবাসার প্রকাশ, তা সবাই বুঝতে চায় না।

ফেসবুক

ভালোবাসা

ভালোবাসা আর কিছু নয়- একটা নারী,
আমার ভেতর এই নারীকে বুঝতে পারি।

ফেসবুক

ভালোবাসি তাই আড়ালে থাকি

ভালোবাসি ভালোবাসতে, ভালোবেসে এড়িয়ে চলতে! ভালোবাসা এক বিচিত্র জিনিস। কাছাকাছি থাকা, মুখোমুখি হওয়া যেমন ভালোবাসার অমোঘ নিয়ম, লুকোচুরি খেলাও তার অপরিহার্য অনুষঙ্গ। তোমার সঙ্গে লুকোচুরি খেলতেই আমার ভালো লাগে। কিছু কিছু কথা আমি কখনোই তোমাকে বলি না। অসহ্য সুন্দর সেসব কথা। এগুলো বুকের কাছে রাখতে হয়, যেন প্রকাশ পেলেই তার সৌন্দর্য নষ্ট হবে! তোমার মুখোমুখি না হয়েও, মোবাইলের বাটন না চেপেও তোমার সঙ্গে কথা বলি- একা একা! তুমি কি বুঝতে পার? না পারলেও ক্ষতি নেই। বলাতেই আমার সুখ।

২.
কেউ একজন আমাকে বলেছিল- কয়েকদিন যাবৎ তোমার মোবাইল বন্ধ। সম্ভবত গ্রামের বাড়িতে গিয়েছ। আমিও কল দিয়ে শুনলাম ‘দুঃখিত! এই মুহূর্তে...।’ আমার ভেতরে প্রচণ্ড অস্থিরতা শুরু হলো। এই অস্থিরতার নাম ভালোবাসা কিনা আমি জানি না। খুব ইচ্ছে হলো তোমার সঙ্গে কথা বলতে। কতবার যে চেষ্টা করেছি ফোনে, হিসেব নেই। তবে কি যোগাযোগহীন অদৃশ্য যোগাযোগটাও ছিন্ন হয়ে যাবে? হঠাৎ মনে পড়ল- তোমার গ্রামের বাড়ির একটা নাম্বার আমার কাছে আছে। মেঘ না চাইতে বৃষ্টি পাওয়ার মতো কল রিসিভ করলে তুমি! তোমার কণ্ঠ শুনে আমি লাইন কেটে দিলাম! মেসেজে জানালাম- ‘এতদিন ধরে যাকে খুঁজছি কথা বলার জন্য; যার খোঁজ না জেনে আমি অস্থির, এই স্থানে যদি তাকেই হঠাৎ পেয়ে যাই, তবে আর কোনো কথা বলার থাকে না...!’
অনেক অনেক বছর তোমার সঙ্গে দেখা নেই। এখন তুমি কেমন বদলেছ, আমি জানি না। মাঝে মাঝেই প্রবল ইচ্ছা জাগে তোমাকে দেখতে। একদিন বললাম কুরিয়ারে কয়েকটি ছবি পাঠাতে। তুমি পাঠিয়ে দিয়েছ। আমি রিসিভ করে খামটা খুব যত্নে রেখে দিয়েছি। অথচ একবারও খুলে দেখিনি! কাছে রেখেছি এতেই আমার আনন্দ! না দেখার আনন্দ উপভোগ করছি! দেখছি কল্পনায়। অনুভব করছি আড়ালে দাঁড়িয়ে। কিছু কিছু আড়ালে ভালোবাসা মাখা থাকে।

৩.
তুমি যখন অসম্ভব চঞ্চলতায় আমার দিকে ছুটে আসতে, ফেটে পড়তে অদ্ভুত উচ্ছ্বলতায়। তখন আমি থাকতাম ভাবলেশহীন নির্বিকার! তুমি ধারণা করতে- আমার কোনো উৎসাহ নেই তোমাতে। অথচ তুমি জানলে না- কী নিঃসীম আনন্দ নিয়ে উপভোগ করি তোমার কলকল করে বয়ে চলা। তুমি বুঝতে পার না- তোমার ছটফটানি ঝর্ণার কী এক অফুরন্ত উৎস আছে এখানে, এই আমাতে!
আমার এই অদ্ভুত স্বভাবটা তোমার কাছে কখনো মনে হয় পাগলামি, কখনো ধরে নাও সাহসের অভাব। তাতে আমার কোনো ভাবান্তর হয় না। কিন্তু যখন তুমি উপসংহার টানো- তোমাতে আমার কোনো উৎসাহ নেই, তখন নিজেকে আগন্তুক লাগে। মনে হয় আমি পৌঁছেছি এক অচেনা দেশে, যারা আমার ভাষা বোঝে না। আমার ভালোবাসার অনুবাদ হয় হৃদয়হীন আশ্চর্য উপেক্ষায়!
আড়ালে থাকা, একটু এড়িয়ে চলা মানে অবজ্ঞা করা নয়। কাছে আসাই শুধু ভালোবাসার পরিমাপক না, দূরত্বেও স্পষ্ট হতে পারে প্রেমের ব্যাপ্তি। রেললাইনের দুপাশ কেউ কাউকে ছুঁয়ে দেখে না, অথচ পরস্পরকে ভালোবেসে ছুটে চলছে অবিরাম। তবে মনুষ্য লাইনের একদিন মিল হয়। সেই মিলনের অপেক্ষায় থাকাই ভালোবাসা।

সাপ্তাহিক 

ভালোবাসা-১

ভালোবাসা আমার অগোছালো টেবিলের মতো, যা পরিকল্পনা করে করা হয় না- হয়ে যায়, ঘটে যায়...
ফেসবুক 

ভালোবাসার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

প্রথমেই বলে রাখি, আমার পড়ালেখা ‘রাজনীতি’ নিয়ে। স্বাভাবিক ভাবেই রাজনীতির প্রতি একটু আধটু আগ্রহ আছে। সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করলেও রাজনীতি বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে হয়। দেশীয় হোক; আর আন্তজার্তিক হোক এসব কারণে সকল বিষয়কে রাজনৈতিক ভাবে দেখার একটা বাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার মধ্যে। ভালবাসার মধ্যে তাই রাজনীতি খুঁজতেই পারি। কবি সাহিত্যিকরা ভালবাসা নিয়ে নানা কথাই লিখেছেন। হৃদয়-মন-দেহ এসব বিষয়ে আত্মিক, আবেগী বিশ্লেষণ কম হয়নি। দেবদাস-পার্বতীও সৃষ্টি হয়েছে অগণিত। বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন ভালোবাসার রাসায়নিক বিশ্লেষণ। আজগুবি কী সব পদার্থের ক্রিয়া বিক্রিয়ার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে আবেগ, অনুভূতি, উত্তেজনা, বেদনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমি ভালোবাসার রাজনৈতিক ব্যাখ্যার দিকে কলম চালালাম। তবে লেখালেখি বিষয়ে আনাড়ি হেতু কতদূর কীভাবে পৌঁছাবো বুঝতে পারছি না।
ভালোবাসার আক্ষরিক বিশ্লেষণে গেলে দুটি শব্দ পাই। ভালো বাসা। ভালো বাসার সাথে ভালোবাসার বা রাজনীতির কী সম্পর্ক আছে তা রীতিমতো গবেষণার বিষয়! একটা গল্প শুনেছি এমন-‘একটা ছেলে বাসা ভাড়া নেয়ার জন্য ভালো বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছে ঢাকা শহরে। এক বাসার সামনে “টু লেট” লেখা দেখে গেট নক করলো। সামনে এসে দাঁড়ালো একজন মেয়ে। জানতে চাইলো-কী চাই? ছেলেটি উত্তর দিল ‘ভালো বাসা’। অমনি ঠাস করে এক চড় পড়লো ছেলেটির গালে। বেশ ঝামেলা! ইভটিজিং এর অভিযোগ আরো অনেক কিছু। শেষ পর্যন্ত ছেলেটা আসল ঘটনা বুঝতে পেরেছিলো কি না বা কীভাবে মুক্ত পেয়েছিলো তা আর আপনাদের জানাতে চাই না (আসলে আমি নিজেও জানি না!)। আরেকটা ঘটনা- পরিবার প্রেম মেনে না নেওয়ায় মেয়ে চলে যাচ্ছে ছেলের সাথে। মাকে বলছে, মা প্রেমের জন্য আমি বাসা ছাড়তে রাজি। দোয়া করো যেন পায়ের নিচে মাটি থাকে। মা বললেন, পায়ের নিচে মাটি থাকুক; মাথার উপর ছাদ থাকবে তো? আমার অনুসন্ধানে জানা গেছে ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে ভালো বাসার প্রয়োজন বেশুমার। যদিও বেকার বাউন্ডুল টাইপের প্রেমিকরা বলে থাকেন-‘পাঁচ তলাতে শান্তি নাইরে শান্তি গাছ তলায়।’ সে যাই হোক ভালো বাসার সাথে রাজনীতির আছে প্রগাঢ় সম্পর্ক। রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলে। মন্ত্রী এমপি হলে ফ্রি ফ্লাট পাওয়া যায়। পাওয়া যায় বঙ্গভবন, গণভবন। এসব বাড়িয়ে উপর এক ধরনের ভালোবাসা জন্মে যায়। তাই ক্ষমতা শেষ হলেও ছাড়তে ইচ্ছে হয় না। শেষ পর্যন্ত নিজের নামে লিখে নেয়ার ব্যবস্থা করা হলেও একসময় তা হাতছাড়া হয়ে যায়। অন্যজন ক্যান্টনমেন্টের বাড়ী ছাড়তে না চাইলেও ছেড়ে দিতে হয়েছে। আর রাজনীতির জোরে অন্যের ভাল বাসা দখল করার ব্যাপার তো হরহামেশাই ঘটে।
প্রেম-ভালবাসা বিষয়িক অন্য-আলোচনায় যাবার আগে নিজের একটা যৎসামান্য পরিচয় আপনাদের জানিয়ে রাখা আবশ্যক। নিজেকে আমি স্বঘোষিত ‘প্রেম বিশেষজ্ঞ’ (হয়তো বা বিশেষভাবে অজ্ঞ) বলে দাবি করি। শুধু দাবি করি না পরিচিত মহলে প্রচার করি। যদিও এটা নিয়ে অনেকের তীর্ষক প্রশ্নের সম্মুখীন হই। তবে কৌশলী কথা বলে ভাব বজায় রাখার চেষ্টা করি। যেমন সেদিন একজন বললো, নিজে প্রেম না করে-তুমি ‘প্রেম বিশেষজ্ঞ’ হলে কী ভাবে? অনেক কঠিন প্রশ্ন। বললাম, ‘আগুনে যে হাত পোড়ে এটা বুঝার জন্য আগুনে হাত দেয়া লাগে না।’ আমার বন্ধু খলিলের প্রেমিকা ময়না, একটু চালাক চতুর প্রকৃতির। মাঝে মাঝে আমার সাথে ফোনে কথা বলতো (কখনও দেখা হয়নি)। এর সাথে কথা বলতে গিয়ে বিশেষজ্ঞ ভাবটা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিলো। যদিও রাজনৈতিক কৌশলের সাথে মেয়েটা পেরে উঠেনি। যেমনÑ একদিন ফোন করে বললো, ভাইয়া কাল আমার ‘নবীণ বরণ অনুষ্ঠান’। আমি বললাম, খুব ভালো। সে বললো, আপনি আমাকে ‘উইশ’ করবেন না? অপ্রস্তুত আমি বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়লাম। সত্যি কথা বলতে কাউকে কীভাবে ‘উইশ’ করতে হয় আমার জানা ছিলো না। আজ পর্যন্ত তার কোন প্রয়োজন হয়নি। বললাম, ‘ফোন করেছ তুমি, আর আমি উইশ করলে বেমানান দেখায় না! আমি নিজে তোমাকে ফোন করে উইশ করবো।’ লাইন কেটে দিয়ে বন্ধু রনির কাছে ফোন করলাম। শিখে নিলাম কীভাবে ‘উইশ’ করতে হয়। সিওর হবার জন্য আরেক বন্ধু ফারুকের কাছে ফোন করলাম। সে যাত্রায় মুক্তি পাই এভাবে। তারপর এ লেখা প্রকাশিত হলে পাঠকদের থেকে কী ধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন হবো বা সেখানে ‘বিশেষজ্ঞ’ ভাব বজায় থাকবে কিনা ভেবে শংকা বোধ করছি। অন্য দিনের ঘটনা। সে আমাকে এসএমএস পাঠিয়েছে ‘ভাইয়া, গোলাপ নিবেন না কি চকলেট নিবেন, তাড়াতাড়ি জানান।’ চিন্তা করছি কীভাবে এ চারটা বিশেষত টাইপের উত্তর দেয়া যায়। চিন্তার মাঝখানে আবার ফোন করে উত্তর জানতে চাইলো। বললাম, ‘তুমি যেহেতু এসএমএস দিয়েছো, আমি এসএমএস দিয়েই জানাচ্ছি।’ তারপর লিখে দিলামÑ ‘গোলাপের তৈরি চকলেট; যার স্বাদ নিতে হয় মুখে নয়, বুকে।’ এই এসএমএসের আবার ব্যাখ্যা দাবি করে বসলো সে। মহা যন্ত্রণায় পড়লাম। কী ভেবে অমনটি লিখেছি আমি জানি না। শেষে একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করলাম। বললাম, এখানে ‘বুক’ অর্থ ‘মন’। আর গোলাপের সাথে সম্পর্ক হলো ভালোবাসার। চকলেটটা যেহেতু মুখ দিয়ে খেতে হয় আর মুখের সম্পর্ক হলো ‘কথার সাথে। অতএব ‘চকলেট’ অর্থ ‘কথা’। এখন পুরো বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায়- তোমার নিকট থেকে “ভালোবাসার কথা” শুনতে চাই। যা শুনে তৃপ্ত হয় ‘মন’ (কী অদ্ভূত ব্যাখ্যারে বাবা!)। এই দেখুন প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে কোথায় চলে এসেছি। এই আমার একটা অভ্যাস; এক কথা শুরু করলে নানান কিসিমের কথা চলে আসে। এখন ফিরে যাই ভালোবাসার রাজনীতিতে। খুঁজতে থাকি এর রাজনৈতিক উপাদান।
গত বছর ফেব্র“য়ারির ১০ তারিখে টিএসসিতে গেলাম। দেখলাম ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে একটেল (রবি)-নিউএইজ এর উদ্যোগে একটা ‘লাভ সাপ্লিমেন্ট’ প্রকাশিত হবে, তাই ভালোবাসা বিষয়ক বা প্রিয়জনকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য আহ্বান করা হচ্ছে। ভাবলাম, আমারও কিছু বলা উচিত। পলিটিক্যাল সাইন্সের স্টুডেন্ট হিসেবে পলিটিক্যাল মন্তব্য করা সমীচীন মনে হলো। আমি লিখলামÑডার্লিং! ইফ ইউ ফেইল টু স্যাটিসফাই দ্যা ডিম্যান্ড অব মাই মাইন্ড, আই উইল ‘ওয়াক আউট’ ফ্রম ইউর লাভ পার্লামেন্ট।’ আসলে বিরোধীদলের মতো ভালোবাসার পার্লামেন্ট থেকে ‘ওয়াক আউট’ করার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে একখানকার ওয়াক আউটের জন্য অভিমান বা অপ্রত্যাশিত আচরণ দায়ী থাকে। ‘তোমাকে না বলেছি, কখনো সিগারেট খাবে না’ বা এতো দেরি করে আসলে কেন?’ এ ধরণের কথা বলে সাময়িকভাবে ‘ওয়াক আউট’ করা হয়। প্রেমিক- প্রেমিকা পরস্পরের সম্পর্কে নানান কথা শুনে যখন একে অন্যকে প্রশ্ন করে তখন অনেকে রাজনৈতিক জবাব দিয়ে থাকে। যেমন বলে, তুমি ওদের কথা বিশ্বাস করো না। আসলে আমাদের প্রেম সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অনেক সময় সন্দেহ প্রবণতা, নানা প্রশ্ন, অবিশ্বাস নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বুঝতে ব্যর্থ হওয়া ইত্যাদি কারণে মনের দুঃখে পদত্যাগ করার ঘটনাও ঘটে! আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে কোন ব্যর্থতার জন্য বিরোধীদল সরকারি দলকে আর সরকারি দল বিরোধীদলকে দুষতে থাকে। প্রেমের সম্পর্কে ভেঙে যাবার পর আপনি যদি প্রেমিক-প্রেমিকার সাক্ষাৎকার নেন, দেখবেন রাজনীতির মতোই উভয় উভয়কে দুষছে।
রাজনীতির সাথে সম্পর্ক আছে টেন্ডারবাজির। প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমরা টেন্ডারবাজির সাক্ষাৎ পাই। একটা সুন্দরী মেয়ের পিছনে ঘুরঘুর করতে থাকে কয়েক জন ছেলে। সবাই চেষ্টা করে মেয়েটা আমার সাথে প্রেম করুক, যেমন সবাই চায় টেন্ডারটা আমার ভাগে আসুক। টেন্ডার বাগাতে যেমন হাতাহাতি খুনোখুনির ঘটনা ঘটে, একটা মেয়ের বহু প্রেম-প্রার্থীদের মধ্যে একই ধরণের ঘটনার উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। রাজনীতির ক্ষেত্রে হত্যা, অপহরণ, বোমা হামলার মতো ঘটনা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব ব্যাপার প্রেম ভালোবাসার অনুপস্থিতি থাকবে তা হয়? দীর্ঘ দিন প্রেম করে প্রেমিকা অন্য ছেলের দিকে ঝুঁকেছে তো প্রেমিক সিদ্ধান্ত নেয় প্রেমিকাকে খুন করার। কৌশলে ডেকে নিয়ে বা অপহরণ করে ধর্ষণ নির্যাতনের মাধ্যমে ছলনার প্রতিশোধ নেয় (চট্টগ্রামের মৃধাত হত্যা, ইডেন কলেজ ছাত্রী হত্যা, পাহাড়ে ধর্ষণÑ এগুলোর উদাহরণ)। পরকীয়ার কারণে অনেক স্ত্রী স্বামীকে খুন করে বসে। বোমা হামলার ঘটনা না ঘটলেও ‘এসিড হামলা’র অনেক নজীর আছে।
রাজনীতির একটা চরিত্র হলোÑ দল বদল করা। যখন যে দলে গেলে নিজের স্বার্থসিদ্ধি হয়, সে দলে যোগ দেয়া (জোট করাটাও এর পর্যায়ভুক্ত) নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে বা হলে যারা ছাত্রদল করতো। নির্বাচনের পর তারা ভোল পাল্টিয়ে ছাত্রলীগের নেতা সেজেছে। আগে যারা জিয়াকে নিয়ে মাতামাতি করতো, তাদের অনেকে এখন মেতে আছে শেখ মুজিবকে নিয়ে। প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রেও এটি আমরা টের পাই। প্রেমিকের মানিব্যাগ খালি হলে অন্য প্রেমিক জুটে যায়। অথবা প্রেম যার সাথেই করি না কেন বিয়ের ব্যাপারে ভাবনা অন্যরকম থাকে। ছেলেরা আবার অধিকতর সুন্দরী মেয়ে পেলে অথবা এই প্রেমিকার থেকে স্বার্থ ফুরালে অন্য মেয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। একটা গানও আবার আছে এরকমÑ চলে গেছো তাতে কী/ নতুন একটা পেয়েছি/ তোমার চেয়েও অধিক সুন্দরী...’
রাজনীতি এবং অর্থনীতি পরস্পর অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার গণতন্ত্র তো অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর নির্ভরশীল। ভালোবাসায়ও অর্থনৈতিক ব্যাপার আছে। মোবাইল কোম্পানিগুলো প্রেম-ভালোবাসার কারণেই কোটি কোটি টাকা কামাই করে। একজোড়া প্রেমিক-প্রেমিকার মাসিক মোবাইল খরচ কত ভাবাই যায় না। ভালোবাসা দিবস পালন যে কারণেই শুরু হোক না কেন এখন তার একটা বাণিজ্যিক স্বার্থ দাঁড়িয়েছে। এ দিবসকে কেন্দ্র করে হাজারও পণ্য তৈরি হয়। ফুল আর কার্ডের সংখ্যা তো বলাই বাহুল্য। নারী-পুরুষের স্বাভাবিক আকর্ষণকে উসকে দিয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থ লাভের জন্য তৈরি হয় উপন্যাস, নাটক, সিনেমা, ছায়াছবি। পর্দায় নায়ক-নায়িকারা প্রেমকে যেভাবে উপস্থাপন করে, আহামরি ভালোবাসার কাহিনী সৃষ্টি করে, এদের ব্যক্তি জীবনের প্রেমের সাথে তার কোনই মিল নেই। কিছুদিন পরপর এদের প্রেমিক বদল হয়। পরিবর্তন হয় স্বামী পাঠক খেয়াল করেছেন? আলোচনা আবার অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে)।
ইদানিংকালের পত্রপত্রিকায় এক ধরণের খবর প্রায়ই দেখা যাচ্ছে তা হলোÑ ‘বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন’। এসব ঘটনার অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রেমিকা প্রেমিক কর্তৃক অন্তঃসত্তা হয়ে থাকে। অনেকে আমরণ অনশনের ঘোষণাও দিয়ে থাকে। এটার সাথে আমরা শহীদ মিনারে রাজনৈতিক দাবি আদায়ে আমরণ অনশনের সাথে তুলনা করতে পারি। কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম ‘ভন্ড প্রেমিকের বিচার দাবিতে প্রেমিকার বাবা এলাকাবাসীদের নিয়ে থানা ঘেরাও করেছে।’ অভিযোগ প্রেমিক দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কে রেখে (এর মধ্যে প্রেমিকা অন্তঃসত্তা হয়েছে) এখন আর বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। অনেক খবরে দেখেছি, বিয়ের জন্য ডেটলাইন বেঁধে দিয়ে আত্মহুতির আলটিমেটামও দেয়া হয়েছে। আর এ সবই যে আমাদের জাতীয় রাজনীতির ‘প্রেমীয়’ প্রতিফলন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অদূর ভবিষ্যতে বিয়ের দাবিতে মানববন্ধন, হরতাল, ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দেয়া হলে অবাক হবার কিছু থাকবে না। তবে এক্ষেত্রে একটা দল বা সংগঠন গড়ে তোলা যেতে পারে। ‘বাংলাদেশ লাভলীগ’, ‘জাতীয় প্রেমিক দল’ (এন এল পি), ‘জাতীয় প্রেম সংরক্ষণ কমিটি’। বাংলাদেশ প্রেম-বিবাহ বাস্তবায়ন পরিষদ’Ñ এই টাইপের নাম হতে পারে। প্লেটো যেমন ‘দার্শনিক রাজার শাসন’ চেয়েছিলেন, এরাও তেমনি ‘প্রেমিক রাজার শাসন’ চাইতে পারে (অবশ্য এরশাদ সাহেব কম প্রেমিক ছিলেন না)। দেশে কায়েম হতে পারে ‘প্রেমতন্ত্র’। প্রেমতন্ত্রের সংজ্ঞা হতে পারে ‘অব দ্যা লাভার, বাই দ্যা লাভার, ফর দ্যা লাভার।’ অধিকাংশ প্রেম যেখানে বিয়ে পর্যন্ত গড়াচ্ছে না, সেখানে ম্যাকিয়াভেলির থিওরির বাস্তবায়ন বলে কিঞ্চিত ধারণা জন্মেছে। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক ম্যাকিয়াভেলি বলেছিলেনÑ‘স্টেইট এন্ড রিলিজিয়ন সুড বি সেপারেটড’। আধুনিক যুগের প্রেমিকরাও বলতে পারেÑ ‘লাভ এন্ড ম্যারেজ সুড বি সেপারেটেড’! ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের মতো ‘বিয়ে নিরপেক্ষ প্রেম’ হতে পারে!
রাজনীতিতে কূটনৈতিক ব্যাপার। কুটনীতিকের (রাষ্ট্রদূত) মাধ্যমে বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষা করা হয়। কোন কূটনীতিক যদি প্রথমে ‘হ্যাঁ’ বলে, তবে বুঝতে হবে ‘তা হতে পারে’। আর যদি প্রথমে ‘হতে পারে বলে’ তবে বুঝতে হবে ‘হবে না’। আর যদি প্রথমেই ‘না’ বলে তবে সে কোন কূটনীতিকই নয়। নারীদের ভালোবাসার সম্মতির সাথে কূটনীতিকের আশ্চর্যজনক বিপরীতধর্মী মিল লক্ষ্যণীয়। কোন নারী যদি প্রথমে ‘না’ বলে, তবে বুঝতে হবে ‘হতে পারে’। আর যদি প্রথমে বলে ‘হতে পারে’, তবে বুঝতে হবে ‘হবেই’। আবার প্রথমেই যদি বলে ‘হ্যাঁ’, তবে সে দেহগতভাবে নারী হলেও সে আসলে নারীই নয়।
সেদিন আমার এক ছোট ভাই তকী বললো, ‘রাজনীতিতে ভালোবাসা নেই, কিন্তু ভালোবাসায় রাজনীতি আছে।’ তার কথার সত্যতা পেলাম অন্য একটি ঘটনায়Ñ পুরনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষের পরিবারের মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ছেলে। এক পর্যায়ে বিবাহ হয়। কিন্তু বাসররাতেই খুন করে ফেলে ছেলেটি। সে যাই হোক বলা হয়ে থাকে ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।’ প্রেমের ক্ষেত্রেও একই কথা। অনুরূপভাবে আমার ‘ভালোবাসার রাজনৈতিক বিশ্লেষণের’ও শেষ নেই...!

ভালোবাসার হালখাতা

দিনের পর দিন, সারাটি বছর ধরে তোমাকে ভালোবেসেছি। প্রতিদানে কিছুই পাইনি। অবশ্য প্রতিদানের আশায় ভালোবাসিনি। ভেবেছিলাম, কাউকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা যায়; কারও কল্যাণে কাজ করা যায়; হিতাকাঙ্ক্ষী হওয়া যায় মন থেকে। তাই তোমার কটু কথা আমি গায়ে মাখিনি; রূঢ় আচরণে কষ্ট পাইনি; হাসিতে উড়িয়েছি তোমার চাহনির রুক্ষতা। কিন্তু আজ, এই চৈত্রের শেষে আমি দারুণভাবে রিক্ত, ভীষণভাবে পর্যদুস্ত। মুখে হাসি নেই। ভালোবাসার কাঙাল; নিজের ভালোবাসা যেন ফুরিয়ে গেছে!

ভালোবাসা কি কখনও ফুরিয়ে যায়? কাউকে ভালোবাসলে নিজের ভাণ্ডার কি কমতে থাকে? আমি জানি না। কেউ একজন একবার আমাকে একটা ধাঁধা জিজ্ঞেস করেছিল- 'বলো তো, কোন জিনিস কাটলে বাড়ে?’ আমি বলতে পারিনি। সে বলেছিল, ‘পুকুর’। তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসার সময় এ ধাঁধাটির কথা আমার মনে পড়তো। মনে হতো, কাউকে ভালোবাসলে নিজের মধ্যে ভালোবাসা বাড়ে। তোমাকে আরও বেশি করে ভালোবাসতাম। কিন্তু আজ সে ধারণায় মরিচা পড়েছে। এখন মনে হয়, পুকুর বেশি কাটলে; বেশি গর্ত করলে চারপাশের পাড় ভেঙে পড়তে পারে। আমার মন পুকুরের পাড় কি ভাঙছে?


সারাটা সময় দেখি ব্যস্ত থাকো পড়া নিয়ে, বই নিয়ে। কী এত জ্ঞানার্জন কর? আমার হৃদয় নামক বইটি কি পড়তে পারো না? ফিজিক্স, কেমেস্ট্রি, বায়োলজি, ইংরেজি সবই বোঝো; এটা কি বোঝো না? অথচ এর শব্দগুলো সব পরিচিত; এখানে দুর্বোধ্য, কঠিন শব্দের প্রয়োগ নেই। এর বাক্যগুলো সব সরল; যৌগিক, জটিল বাক্যের ব্যবহার নেই। সারাদিন গণিত কষো; গাড়ির চাকার গতি নির্ণয় কর, অথচ আমার চাহনির গতি নির্ণয়ে ভুল কর কেন? ব্যর্থ হও কেন ভালোবাসা পরিমাপ করতে? এখনো মনের নামতা তোমার অজানাই রয়ে গেছে, হৃদ্যতার যোগ-বিয়োগে তোমার ভুল হয় নিদারুণ! প্লিজ, আমাকে বুঝতে চেষ্টা করো...।


আমার হৃদয় দোকানে আজ ভালোবাসার হালখাতা খুলেছি। বাতাসা, লুচি, জিলাপি, বালুসার পসরা সাজিয়েছি। সারা বছর তোমাকে ভালোবাসা বিলিয়েছি। তুমি কোনো মূল্য দাওনি। যা নিয়েছো, সব বাকিতে। ‘দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা/শুধিতে হইবে ঋণ'- আজ, এই বৈশাখে তুমি হালখাতা করবে কি? ভালোবাসবে কি আমাকে? আলেকজান্ডার বার্কলি বলেছেন, ‘ভালোবাসার মূল্য কেবল ভালোবাসা দিয়েই পরিশোধ করা যায়।’ রবীন্দ্রনাথের একটা কথা মনে পড়ছে ‘নিশি অবসান প্রায় ওই পুরাতন বর্ষ হয় গত/ আমি আজি ধূলিতলে জীর্ণ জীবন করিলাম নত/ বন্ধু হও, শত্রু হও, যেখানে যে রও/ ক্ষমা করো আজিকার মতো/ পুরাতন বর্ষের সাথে পুরাতন অপরাধ যত...।’


পরিশেষে তোমাকে বলি, পেছনের সব কথা ভুলে গিয়ে ছোট ভাই নয়, বন্ধু হয়ে এসে পাশে এসে দাঁড়াও; জিজ্ঞেস কর আমার মন খারাপ কেন...।