ভালোবাসি ভালোবাসতে, ভালোবেসে এড়িয়ে চলতে! ভালোবাসা এক বিচিত্র জিনিস। কাছাকাছি থাকা, মুখোমুখি হওয়া যেমন ভালোবাসার অমোঘ নিয়ম, লুকোচুরি
খেলাও তার অপরিহার্য অনুষঙ্গ। তোমার সঙ্গে লুকোচুরি খেলতেই আমার ভালো
লাগে। কিছু কিছু কথা আমি কখনোই তোমাকে বলি না। অসহ্য সুন্দর সেসব কথা।
এগুলো বুকের কাছে রাখতে হয়, যেন প্রকাশ পেলেই তার সৌন্দর্য নষ্ট হবে! তোমার
মুখোমুখি না হয়েও, মোবাইলের বাটন না চেপেও তোমার সঙ্গে কথা বলি- একা একা!
তুমি কি বুঝতে পার? না পারলেও ক্ষতি নেই। বলাতেই আমার সুখ।
২.
কেউ একজন আমাকে বলেছিল- কয়েকদিন যাবৎ তোমার মোবাইল বন্ধ। সম্ভবত গ্রামের বাড়িতে গিয়েছ। আমিও কল দিয়ে শুনলাম ‘দুঃখিত! এই মুহূর্তে...।’ আমার ভেতরে প্রচণ্ড অস্থিরতা শুরু হলো। এই অস্থিরতার নাম ভালোবাসা কিনা আমি জানি না। খুব ইচ্ছে হলো তোমার সঙ্গে কথা বলতে। কতবার যে চেষ্টা করেছি ফোনে, হিসেব নেই। তবে কি যোগাযোগহীন অদৃশ্য যোগাযোগটাও ছিন্ন হয়ে যাবে? হঠাৎ মনে পড়ল- তোমার গ্রামের বাড়ির একটা নাম্বার আমার কাছে আছে। মেঘ না চাইতে বৃষ্টি পাওয়ার মতো কল রিসিভ করলে তুমি! তোমার কণ্ঠ শুনে আমি লাইন কেটে দিলাম! মেসেজে জানালাম- ‘এতদিন ধরে যাকে খুঁজছি কথা বলার জন্য; যার খোঁজ না জেনে আমি অস্থির, এই স্থানে যদি তাকেই হঠাৎ পেয়ে যাই, তবে আর কোনো কথা বলার থাকে না...!’
অনেক অনেক বছর তোমার সঙ্গে দেখা নেই। এখন তুমি কেমন বদলেছ, আমি জানি না। মাঝে মাঝেই প্রবল ইচ্ছা জাগে তোমাকে দেখতে। একদিন বললাম কুরিয়ারে কয়েকটি ছবি পাঠাতে। তুমি পাঠিয়ে দিয়েছ। আমি রিসিভ করে খামটা খুব যত্নে রেখে দিয়েছি। অথচ একবারও খুলে দেখিনি! কাছে রেখেছি এতেই আমার আনন্দ! না দেখার আনন্দ উপভোগ করছি! দেখছি কল্পনায়। অনুভব করছি আড়ালে দাঁড়িয়ে। কিছু কিছু আড়ালে ভালোবাসা মাখা থাকে।
৩.
তুমি যখন অসম্ভব চঞ্চলতায় আমার দিকে ছুটে আসতে, ফেটে পড়তে অদ্ভুত উচ্ছ্বলতায়। তখন আমি থাকতাম ভাবলেশহীন নির্বিকার! তুমি ধারণা করতে- আমার কোনো উৎসাহ নেই তোমাতে। অথচ তুমি জানলে না- কী নিঃসীম আনন্দ নিয়ে উপভোগ করি তোমার কলকল করে বয়ে চলা। তুমি বুঝতে পার না- তোমার ছটফটানি ঝর্ণার কী এক অফুরন্ত উৎস আছে এখানে, এই আমাতে!
আমার এই অদ্ভুত স্বভাবটা তোমার কাছে কখনো মনে হয় পাগলামি, কখনো ধরে নাও সাহসের অভাব। তাতে আমার কোনো ভাবান্তর হয় না। কিন্তু যখন তুমি উপসংহার টানো- তোমাতে আমার কোনো উৎসাহ নেই, তখন নিজেকে আগন্তুক লাগে। মনে হয় আমি পৌঁছেছি এক অচেনা দেশে, যারা আমার ভাষা বোঝে না। আমার ভালোবাসার অনুবাদ হয় হৃদয়হীন আশ্চর্য উপেক্ষায়!
আড়ালে থাকা, একটু এড়িয়ে চলা মানে অবজ্ঞা করা নয়। কাছে আসাই শুধু ভালোবাসার পরিমাপক না, দূরত্বেও স্পষ্ট হতে পারে প্রেমের ব্যাপ্তি। রেললাইনের দুপাশ কেউ কাউকে ছুঁয়ে দেখে না, অথচ পরস্পরকে ভালোবেসে ছুটে চলছে অবিরাম। তবে মনুষ্য লাইনের একদিন মিল হয়। সেই মিলনের অপেক্ষায় থাকাই ভালোবাসা।
সাপ্তাহিক
২.
কেউ একজন আমাকে বলেছিল- কয়েকদিন যাবৎ তোমার মোবাইল বন্ধ। সম্ভবত গ্রামের বাড়িতে গিয়েছ। আমিও কল দিয়ে শুনলাম ‘দুঃখিত! এই মুহূর্তে...।’ আমার ভেতরে প্রচণ্ড অস্থিরতা শুরু হলো। এই অস্থিরতার নাম ভালোবাসা কিনা আমি জানি না। খুব ইচ্ছে হলো তোমার সঙ্গে কথা বলতে। কতবার যে চেষ্টা করেছি ফোনে, হিসেব নেই। তবে কি যোগাযোগহীন অদৃশ্য যোগাযোগটাও ছিন্ন হয়ে যাবে? হঠাৎ মনে পড়ল- তোমার গ্রামের বাড়ির একটা নাম্বার আমার কাছে আছে। মেঘ না চাইতে বৃষ্টি পাওয়ার মতো কল রিসিভ করলে তুমি! তোমার কণ্ঠ শুনে আমি লাইন কেটে দিলাম! মেসেজে জানালাম- ‘এতদিন ধরে যাকে খুঁজছি কথা বলার জন্য; যার খোঁজ না জেনে আমি অস্থির, এই স্থানে যদি তাকেই হঠাৎ পেয়ে যাই, তবে আর কোনো কথা বলার থাকে না...!’
অনেক অনেক বছর তোমার সঙ্গে দেখা নেই। এখন তুমি কেমন বদলেছ, আমি জানি না। মাঝে মাঝেই প্রবল ইচ্ছা জাগে তোমাকে দেখতে। একদিন বললাম কুরিয়ারে কয়েকটি ছবি পাঠাতে। তুমি পাঠিয়ে দিয়েছ। আমি রিসিভ করে খামটা খুব যত্নে রেখে দিয়েছি। অথচ একবারও খুলে দেখিনি! কাছে রেখেছি এতেই আমার আনন্দ! না দেখার আনন্দ উপভোগ করছি! দেখছি কল্পনায়। অনুভব করছি আড়ালে দাঁড়িয়ে। কিছু কিছু আড়ালে ভালোবাসা মাখা থাকে।
৩.
তুমি যখন অসম্ভব চঞ্চলতায় আমার দিকে ছুটে আসতে, ফেটে পড়তে অদ্ভুত উচ্ছ্বলতায়। তখন আমি থাকতাম ভাবলেশহীন নির্বিকার! তুমি ধারণা করতে- আমার কোনো উৎসাহ নেই তোমাতে। অথচ তুমি জানলে না- কী নিঃসীম আনন্দ নিয়ে উপভোগ করি তোমার কলকল করে বয়ে চলা। তুমি বুঝতে পার না- তোমার ছটফটানি ঝর্ণার কী এক অফুরন্ত উৎস আছে এখানে, এই আমাতে!
আমার এই অদ্ভুত স্বভাবটা তোমার কাছে কখনো মনে হয় পাগলামি, কখনো ধরে নাও সাহসের অভাব। তাতে আমার কোনো ভাবান্তর হয় না। কিন্তু যখন তুমি উপসংহার টানো- তোমাতে আমার কোনো উৎসাহ নেই, তখন নিজেকে আগন্তুক লাগে। মনে হয় আমি পৌঁছেছি এক অচেনা দেশে, যারা আমার ভাষা বোঝে না। আমার ভালোবাসার অনুবাদ হয় হৃদয়হীন আশ্চর্য উপেক্ষায়!
আড়ালে থাকা, একটু এড়িয়ে চলা মানে অবজ্ঞা করা নয়। কাছে আসাই শুধু ভালোবাসার পরিমাপক না, দূরত্বেও স্পষ্ট হতে পারে প্রেমের ব্যাপ্তি। রেললাইনের দুপাশ কেউ কাউকে ছুঁয়ে দেখে না, অথচ পরস্পরকে ভালোবেসে ছুটে চলছে অবিরাম। তবে মনুষ্য লাইনের একদিন মিল হয়। সেই মিলনের অপেক্ষায় থাকাই ভালোবাসা।
সাপ্তাহিক
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন