স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।

ভালোবাসার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

প্রথমেই বলে রাখি, আমার পড়ালেখা ‘রাজনীতি’ নিয়ে। স্বাভাবিক ভাবেই রাজনীতির প্রতি একটু আধটু আগ্রহ আছে। সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করলেও রাজনীতি বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে হয়। দেশীয় হোক; আর আন্তজার্তিক হোক এসব কারণে সকল বিষয়কে রাজনৈতিক ভাবে দেখার একটা বাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার মধ্যে। ভালবাসার মধ্যে তাই রাজনীতি খুঁজতেই পারি। কবি সাহিত্যিকরা ভালবাসা নিয়ে নানা কথাই লিখেছেন। হৃদয়-মন-দেহ এসব বিষয়ে আত্মিক, আবেগী বিশ্লেষণ কম হয়নি। দেবদাস-পার্বতীও সৃষ্টি হয়েছে অগণিত। বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন ভালোবাসার রাসায়নিক বিশ্লেষণ। আজগুবি কী সব পদার্থের ক্রিয়া বিক্রিয়ার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে আবেগ, অনুভূতি, উত্তেজনা, বেদনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমি ভালোবাসার রাজনৈতিক ব্যাখ্যার দিকে কলম চালালাম। তবে লেখালেখি বিষয়ে আনাড়ি হেতু কতদূর কীভাবে পৌঁছাবো বুঝতে পারছি না।
ভালোবাসার আক্ষরিক বিশ্লেষণে গেলে দুটি শব্দ পাই। ভালো বাসা। ভালো বাসার সাথে ভালোবাসার বা রাজনীতির কী সম্পর্ক আছে তা রীতিমতো গবেষণার বিষয়! একটা গল্প শুনেছি এমন-‘একটা ছেলে বাসা ভাড়া নেয়ার জন্য ভালো বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছে ঢাকা শহরে। এক বাসার সামনে “টু লেট” লেখা দেখে গেট নক করলো। সামনে এসে দাঁড়ালো একজন মেয়ে। জানতে চাইলো-কী চাই? ছেলেটি উত্তর দিল ‘ভালো বাসা’। অমনি ঠাস করে এক চড় পড়লো ছেলেটির গালে। বেশ ঝামেলা! ইভটিজিং এর অভিযোগ আরো অনেক কিছু। শেষ পর্যন্ত ছেলেটা আসল ঘটনা বুঝতে পেরেছিলো কি না বা কীভাবে মুক্ত পেয়েছিলো তা আর আপনাদের জানাতে চাই না (আসলে আমি নিজেও জানি না!)। আরেকটা ঘটনা- পরিবার প্রেম মেনে না নেওয়ায় মেয়ে চলে যাচ্ছে ছেলের সাথে। মাকে বলছে, মা প্রেমের জন্য আমি বাসা ছাড়তে রাজি। দোয়া করো যেন পায়ের নিচে মাটি থাকে। মা বললেন, পায়ের নিচে মাটি থাকুক; মাথার উপর ছাদ থাকবে তো? আমার অনুসন্ধানে জানা গেছে ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে ভালো বাসার প্রয়োজন বেশুমার। যদিও বেকার বাউন্ডুল টাইপের প্রেমিকরা বলে থাকেন-‘পাঁচ তলাতে শান্তি নাইরে শান্তি গাছ তলায়।’ সে যাই হোক ভালো বাসার সাথে রাজনীতির আছে প্রগাঢ় সম্পর্ক। রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলে। মন্ত্রী এমপি হলে ফ্রি ফ্লাট পাওয়া যায়। পাওয়া যায় বঙ্গভবন, গণভবন। এসব বাড়িয়ে উপর এক ধরনের ভালোবাসা জন্মে যায়। তাই ক্ষমতা শেষ হলেও ছাড়তে ইচ্ছে হয় না। শেষ পর্যন্ত নিজের নামে লিখে নেয়ার ব্যবস্থা করা হলেও একসময় তা হাতছাড়া হয়ে যায়। অন্যজন ক্যান্টনমেন্টের বাড়ী ছাড়তে না চাইলেও ছেড়ে দিতে হয়েছে। আর রাজনীতির জোরে অন্যের ভাল বাসা দখল করার ব্যাপার তো হরহামেশাই ঘটে।
প্রেম-ভালবাসা বিষয়িক অন্য-আলোচনায় যাবার আগে নিজের একটা যৎসামান্য পরিচয় আপনাদের জানিয়ে রাখা আবশ্যক। নিজেকে আমি স্বঘোষিত ‘প্রেম বিশেষজ্ঞ’ (হয়তো বা বিশেষভাবে অজ্ঞ) বলে দাবি করি। শুধু দাবি করি না পরিচিত মহলে প্রচার করি। যদিও এটা নিয়ে অনেকের তীর্ষক প্রশ্নের সম্মুখীন হই। তবে কৌশলী কথা বলে ভাব বজায় রাখার চেষ্টা করি। যেমন সেদিন একজন বললো, নিজে প্রেম না করে-তুমি ‘প্রেম বিশেষজ্ঞ’ হলে কী ভাবে? অনেক কঠিন প্রশ্ন। বললাম, ‘আগুনে যে হাত পোড়ে এটা বুঝার জন্য আগুনে হাত দেয়া লাগে না।’ আমার বন্ধু খলিলের প্রেমিকা ময়না, একটু চালাক চতুর প্রকৃতির। মাঝে মাঝে আমার সাথে ফোনে কথা বলতো (কখনও দেখা হয়নি)। এর সাথে কথা বলতে গিয়ে বিশেষজ্ঞ ভাবটা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিলো। যদিও রাজনৈতিক কৌশলের সাথে মেয়েটা পেরে উঠেনি। যেমনÑ একদিন ফোন করে বললো, ভাইয়া কাল আমার ‘নবীণ বরণ অনুষ্ঠান’। আমি বললাম, খুব ভালো। সে বললো, আপনি আমাকে ‘উইশ’ করবেন না? অপ্রস্তুত আমি বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়লাম। সত্যি কথা বলতে কাউকে কীভাবে ‘উইশ’ করতে হয় আমার জানা ছিলো না। আজ পর্যন্ত তার কোন প্রয়োজন হয়নি। বললাম, ‘ফোন করেছ তুমি, আর আমি উইশ করলে বেমানান দেখায় না! আমি নিজে তোমাকে ফোন করে উইশ করবো।’ লাইন কেটে দিয়ে বন্ধু রনির কাছে ফোন করলাম। শিখে নিলাম কীভাবে ‘উইশ’ করতে হয়। সিওর হবার জন্য আরেক বন্ধু ফারুকের কাছে ফোন করলাম। সে যাত্রায় মুক্তি পাই এভাবে। তারপর এ লেখা প্রকাশিত হলে পাঠকদের থেকে কী ধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন হবো বা সেখানে ‘বিশেষজ্ঞ’ ভাব বজায় থাকবে কিনা ভেবে শংকা বোধ করছি। অন্য দিনের ঘটনা। সে আমাকে এসএমএস পাঠিয়েছে ‘ভাইয়া, গোলাপ নিবেন না কি চকলেট নিবেন, তাড়াতাড়ি জানান।’ চিন্তা করছি কীভাবে এ চারটা বিশেষত টাইপের উত্তর দেয়া যায়। চিন্তার মাঝখানে আবার ফোন করে উত্তর জানতে চাইলো। বললাম, ‘তুমি যেহেতু এসএমএস দিয়েছো, আমি এসএমএস দিয়েই জানাচ্ছি।’ তারপর লিখে দিলামÑ ‘গোলাপের তৈরি চকলেট; যার স্বাদ নিতে হয় মুখে নয়, বুকে।’ এই এসএমএসের আবার ব্যাখ্যা দাবি করে বসলো সে। মহা যন্ত্রণায় পড়লাম। কী ভেবে অমনটি লিখেছি আমি জানি না। শেষে একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করলাম। বললাম, এখানে ‘বুক’ অর্থ ‘মন’। আর গোলাপের সাথে সম্পর্ক হলো ভালোবাসার। চকলেটটা যেহেতু মুখ দিয়ে খেতে হয় আর মুখের সম্পর্ক হলো ‘কথার সাথে। অতএব ‘চকলেট’ অর্থ ‘কথা’। এখন পুরো বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায়- তোমার নিকট থেকে “ভালোবাসার কথা” শুনতে চাই। যা শুনে তৃপ্ত হয় ‘মন’ (কী অদ্ভূত ব্যাখ্যারে বাবা!)। এই দেখুন প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে কোথায় চলে এসেছি। এই আমার একটা অভ্যাস; এক কথা শুরু করলে নানান কিসিমের কথা চলে আসে। এখন ফিরে যাই ভালোবাসার রাজনীতিতে। খুঁজতে থাকি এর রাজনৈতিক উপাদান।
গত বছর ফেব্র“য়ারির ১০ তারিখে টিএসসিতে গেলাম। দেখলাম ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে একটেল (রবি)-নিউএইজ এর উদ্যোগে একটা ‘লাভ সাপ্লিমেন্ট’ প্রকাশিত হবে, তাই ভালোবাসা বিষয়ক বা প্রিয়জনকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য আহ্বান করা হচ্ছে। ভাবলাম, আমারও কিছু বলা উচিত। পলিটিক্যাল সাইন্সের স্টুডেন্ট হিসেবে পলিটিক্যাল মন্তব্য করা সমীচীন মনে হলো। আমি লিখলামÑডার্লিং! ইফ ইউ ফেইল টু স্যাটিসফাই দ্যা ডিম্যান্ড অব মাই মাইন্ড, আই উইল ‘ওয়াক আউট’ ফ্রম ইউর লাভ পার্লামেন্ট।’ আসলে বিরোধীদলের মতো ভালোবাসার পার্লামেন্ট থেকে ‘ওয়াক আউট’ করার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে একখানকার ওয়াক আউটের জন্য অভিমান বা অপ্রত্যাশিত আচরণ দায়ী থাকে। ‘তোমাকে না বলেছি, কখনো সিগারেট খাবে না’ বা এতো দেরি করে আসলে কেন?’ এ ধরণের কথা বলে সাময়িকভাবে ‘ওয়াক আউট’ করা হয়। প্রেমিক- প্রেমিকা পরস্পরের সম্পর্কে নানান কথা শুনে যখন একে অন্যকে প্রশ্ন করে তখন অনেকে রাজনৈতিক জবাব দিয়ে থাকে। যেমন বলে, তুমি ওদের কথা বিশ্বাস করো না। আসলে আমাদের প্রেম সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অনেক সময় সন্দেহ প্রবণতা, নানা প্রশ্ন, অবিশ্বাস নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বুঝতে ব্যর্থ হওয়া ইত্যাদি কারণে মনের দুঃখে পদত্যাগ করার ঘটনাও ঘটে! আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে কোন ব্যর্থতার জন্য বিরোধীদল সরকারি দলকে আর সরকারি দল বিরোধীদলকে দুষতে থাকে। প্রেমের সম্পর্কে ভেঙে যাবার পর আপনি যদি প্রেমিক-প্রেমিকার সাক্ষাৎকার নেন, দেখবেন রাজনীতির মতোই উভয় উভয়কে দুষছে।
রাজনীতির সাথে সম্পর্ক আছে টেন্ডারবাজির। প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমরা টেন্ডারবাজির সাক্ষাৎ পাই। একটা সুন্দরী মেয়ের পিছনে ঘুরঘুর করতে থাকে কয়েক জন ছেলে। সবাই চেষ্টা করে মেয়েটা আমার সাথে প্রেম করুক, যেমন সবাই চায় টেন্ডারটা আমার ভাগে আসুক। টেন্ডার বাগাতে যেমন হাতাহাতি খুনোখুনির ঘটনা ঘটে, একটা মেয়ের বহু প্রেম-প্রার্থীদের মধ্যে একই ধরণের ঘটনার উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। রাজনীতির ক্ষেত্রে হত্যা, অপহরণ, বোমা হামলার মতো ঘটনা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব ব্যাপার প্রেম ভালোবাসার অনুপস্থিতি থাকবে তা হয়? দীর্ঘ দিন প্রেম করে প্রেমিকা অন্য ছেলের দিকে ঝুঁকেছে তো প্রেমিক সিদ্ধান্ত নেয় প্রেমিকাকে খুন করার। কৌশলে ডেকে নিয়ে বা অপহরণ করে ধর্ষণ নির্যাতনের মাধ্যমে ছলনার প্রতিশোধ নেয় (চট্টগ্রামের মৃধাত হত্যা, ইডেন কলেজ ছাত্রী হত্যা, পাহাড়ে ধর্ষণÑ এগুলোর উদাহরণ)। পরকীয়ার কারণে অনেক স্ত্রী স্বামীকে খুন করে বসে। বোমা হামলার ঘটনা না ঘটলেও ‘এসিড হামলা’র অনেক নজীর আছে।
রাজনীতির একটা চরিত্র হলোÑ দল বদল করা। যখন যে দলে গেলে নিজের স্বার্থসিদ্ধি হয়, সে দলে যোগ দেয়া (জোট করাটাও এর পর্যায়ভুক্ত) নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে বা হলে যারা ছাত্রদল করতো। নির্বাচনের পর তারা ভোল পাল্টিয়ে ছাত্রলীগের নেতা সেজেছে। আগে যারা জিয়াকে নিয়ে মাতামাতি করতো, তাদের অনেকে এখন মেতে আছে শেখ মুজিবকে নিয়ে। প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রেও এটি আমরা টের পাই। প্রেমিকের মানিব্যাগ খালি হলে অন্য প্রেমিক জুটে যায়। অথবা প্রেম যার সাথেই করি না কেন বিয়ের ব্যাপারে ভাবনা অন্যরকম থাকে। ছেলেরা আবার অধিকতর সুন্দরী মেয়ে পেলে অথবা এই প্রেমিকার থেকে স্বার্থ ফুরালে অন্য মেয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। একটা গানও আবার আছে এরকমÑ চলে গেছো তাতে কী/ নতুন একটা পেয়েছি/ তোমার চেয়েও অধিক সুন্দরী...’
রাজনীতি এবং অর্থনীতি পরস্পর অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার গণতন্ত্র তো অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর নির্ভরশীল। ভালোবাসায়ও অর্থনৈতিক ব্যাপার আছে। মোবাইল কোম্পানিগুলো প্রেম-ভালোবাসার কারণেই কোটি কোটি টাকা কামাই করে। একজোড়া প্রেমিক-প্রেমিকার মাসিক মোবাইল খরচ কত ভাবাই যায় না। ভালোবাসা দিবস পালন যে কারণেই শুরু হোক না কেন এখন তার একটা বাণিজ্যিক স্বার্থ দাঁড়িয়েছে। এ দিবসকে কেন্দ্র করে হাজারও পণ্য তৈরি হয়। ফুল আর কার্ডের সংখ্যা তো বলাই বাহুল্য। নারী-পুরুষের স্বাভাবিক আকর্ষণকে উসকে দিয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থ লাভের জন্য তৈরি হয় উপন্যাস, নাটক, সিনেমা, ছায়াছবি। পর্দায় নায়ক-নায়িকারা প্রেমকে যেভাবে উপস্থাপন করে, আহামরি ভালোবাসার কাহিনী সৃষ্টি করে, এদের ব্যক্তি জীবনের প্রেমের সাথে তার কোনই মিল নেই। কিছুদিন পরপর এদের প্রেমিক বদল হয়। পরিবর্তন হয় স্বামী পাঠক খেয়াল করেছেন? আলোচনা আবার অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে)।
ইদানিংকালের পত্রপত্রিকায় এক ধরণের খবর প্রায়ই দেখা যাচ্ছে তা হলোÑ ‘বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন’। এসব ঘটনার অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রেমিকা প্রেমিক কর্তৃক অন্তঃসত্তা হয়ে থাকে। অনেকে আমরণ অনশনের ঘোষণাও দিয়ে থাকে। এটার সাথে আমরা শহীদ মিনারে রাজনৈতিক দাবি আদায়ে আমরণ অনশনের সাথে তুলনা করতে পারি। কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম ‘ভন্ড প্রেমিকের বিচার দাবিতে প্রেমিকার বাবা এলাকাবাসীদের নিয়ে থানা ঘেরাও করেছে।’ অভিযোগ প্রেমিক দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কে রেখে (এর মধ্যে প্রেমিকা অন্তঃসত্তা হয়েছে) এখন আর বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। অনেক খবরে দেখেছি, বিয়ের জন্য ডেটলাইন বেঁধে দিয়ে আত্মহুতির আলটিমেটামও দেয়া হয়েছে। আর এ সবই যে আমাদের জাতীয় রাজনীতির ‘প্রেমীয়’ প্রতিফলন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অদূর ভবিষ্যতে বিয়ের দাবিতে মানববন্ধন, হরতাল, ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দেয়া হলে অবাক হবার কিছু থাকবে না। তবে এক্ষেত্রে একটা দল বা সংগঠন গড়ে তোলা যেতে পারে। ‘বাংলাদেশ লাভলীগ’, ‘জাতীয় প্রেমিক দল’ (এন এল পি), ‘জাতীয় প্রেম সংরক্ষণ কমিটি’। বাংলাদেশ প্রেম-বিবাহ বাস্তবায়ন পরিষদ’Ñ এই টাইপের নাম হতে পারে। প্লেটো যেমন ‘দার্শনিক রাজার শাসন’ চেয়েছিলেন, এরাও তেমনি ‘প্রেমিক রাজার শাসন’ চাইতে পারে (অবশ্য এরশাদ সাহেব কম প্রেমিক ছিলেন না)। দেশে কায়েম হতে পারে ‘প্রেমতন্ত্র’। প্রেমতন্ত্রের সংজ্ঞা হতে পারে ‘অব দ্যা লাভার, বাই দ্যা লাভার, ফর দ্যা লাভার।’ অধিকাংশ প্রেম যেখানে বিয়ে পর্যন্ত গড়াচ্ছে না, সেখানে ম্যাকিয়াভেলির থিওরির বাস্তবায়ন বলে কিঞ্চিত ধারণা জন্মেছে। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক ম্যাকিয়াভেলি বলেছিলেনÑ‘স্টেইট এন্ড রিলিজিয়ন সুড বি সেপারেটড’। আধুনিক যুগের প্রেমিকরাও বলতে পারেÑ ‘লাভ এন্ড ম্যারেজ সুড বি সেপারেটেড’! ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের মতো ‘বিয়ে নিরপেক্ষ প্রেম’ হতে পারে!
রাজনীতিতে কূটনৈতিক ব্যাপার। কুটনীতিকের (রাষ্ট্রদূত) মাধ্যমে বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষা করা হয়। কোন কূটনীতিক যদি প্রথমে ‘হ্যাঁ’ বলে, তবে বুঝতে হবে ‘তা হতে পারে’। আর যদি প্রথমে ‘হতে পারে বলে’ তবে বুঝতে হবে ‘হবে না’। আর যদি প্রথমেই ‘না’ বলে তবে সে কোন কূটনীতিকই নয়। নারীদের ভালোবাসার সম্মতির সাথে কূটনীতিকের আশ্চর্যজনক বিপরীতধর্মী মিল লক্ষ্যণীয়। কোন নারী যদি প্রথমে ‘না’ বলে, তবে বুঝতে হবে ‘হতে পারে’। আর যদি প্রথমে বলে ‘হতে পারে’, তবে বুঝতে হবে ‘হবেই’। আবার প্রথমেই যদি বলে ‘হ্যাঁ’, তবে সে দেহগতভাবে নারী হলেও সে আসলে নারীই নয়।
সেদিন আমার এক ছোট ভাই তকী বললো, ‘রাজনীতিতে ভালোবাসা নেই, কিন্তু ভালোবাসায় রাজনীতি আছে।’ তার কথার সত্যতা পেলাম অন্য একটি ঘটনায়Ñ পুরনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষের পরিবারের মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ছেলে। এক পর্যায়ে বিবাহ হয়। কিন্তু বাসররাতেই খুন করে ফেলে ছেলেটি। সে যাই হোক বলা হয়ে থাকে ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।’ প্রেমের ক্ষেত্রেও একই কথা। অনুরূপভাবে আমার ‘ভালোবাসার রাজনৈতিক বিশ্লেষণের’ও শেষ নেই...!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন