স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।

তখন রাস্তা ছিল না

পর্বতরাষ্ট্র নেপালে তখন কোনো রাস্তা ছিল না। কিন্তু রাজার ছিল বিলাসবহুল গাড়ি। সেই গাড়ি কাঁধে করে বয়ে বেড়াতেন কুলিরা। শুধু সমতল ভূমিতে নয়, খাড়া পাহাড়ি ঢালেও গাড়ি কাঁধে করে রাজাদের আরামে রাখতেন তারা। বিশ্ব থেকে অনেকটাই ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন নেপালের এসব গাড়িকুলির সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি হচ্ছে ধান বাহাদুর গোলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘মানুষ-গাড়ি’ নামেই বেশি পরিচিত।

৯২ বছর বয়সে নিজের বাড়িতে বসে এএফপির কাছে রোমন্থন করেছেন রাস্তাবিহীন তার গাড়ি-কুলির জীবন। ১৯৩৯ সালে নেপালের তৎকালীন শাসক যোদ্ধা শোমসের জং বাহাদুর রানাকে একটি মার্সিডিজ বেঞ্চ গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন হিটলার। যাতে তার গুর্খা সৈন্যদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাইরে রাখেন। কিন্তু এই গাড়ি চালানোর মতো রাস্তা নেপালে ছিল না। দেশটির প্রথম হাইওয়ে তৈরি হয় ১৯৫৬ সালে। মার্সিডিজ বেঞ্চ গাড়ির আগেও স্থানীয় কিছু গাড়ি ছিল যেগুলোতে রাজপরিবার চলাফেরা করত। আর তা কাঁধে করে বহন করত কুলিরা।

বিশ বছর বয়সে কুলি হয়ে কাজ শুরু করেন, ধান বাহাদুর তখন কোনো গাড়ির নাম শোনেননি। প্রথমদিকে ৬৩ জন কুলির সঙ্গে কাঁধে কার্গো নিয়ে হাঁটতেন তিনি। তার বাবা একজন কৃষক ও রাজার পক্ষে কর সংগ্রাহক ছিলেন। কিন্তু শাসকরা কানাকড়িও বেতন দিতেন না।

কয়েক বছরের মধ্যেই কাঁধে গাড়ি টানা শুরু করলেন ধান বাহাদুর গোলে। এক মাস কাজ করে মাত্র ২৫ রুপি (০.২৫ ডলার) পেতেন তিনি। গোলে বলেন, ‘কাঁধে গাদি নিয়ে যখন পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতাম কিংবা পানির ওপর দিয়ে হাঁটতাম, তখন গাড়ির নিরাপত্তার জন্য তটস্থ থাকতাম। তবে আমরা মজা করতাম, বন্ধুরা মিলে আনন্দের সঙ্গে কাজ উপভোগ করতাম।
ফেসবুক 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন