স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।

নতুন প্রজন্মের ধর্মমানসিকতা

সমকালীন তরুণ কবি সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী বিশ্লেষকদের মতামত আমি খুব গুরুত্বের সঙ্গে পড়ি। ফেসবুকে এমন অনেকেই আছেন, যারা অসম্ভব জনপ্রিয়। আমি নিজেও তাদের লেখা পড়ার জন্য ফেসবুকে উঁকি দেই। ফেসবুক খোলামেলা মত প্রকাশের জায়গা। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব চিন্তাধারা এখানে প্রকাশিত হয়। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অধিকাংশ যেহেতু তরুণ,তাদের প্রকাশিত ভাবনায় আপন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়।

ধর্ম, ইসলাম বা মুহাম্মদ (সা)সম্পর্কে অবস্থান নিয়ে দুই প্রান্তসীমার মানুষ রয়েছে। একদল ধর্ম নিয়ে সত্যিকারার্থে বাড়াবাড়ি করছে। অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা, সে যেটা বোঝে সেটাই ঠিক মনে অন্যকে সেটা মানতে জোর করাকে ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করছে। এরা নিজেদের জোশ প্রমাণ করতে সশস্ত্র হয়ে যাচ্ছে এবং অন্যদের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে। এরা চরমপন্থী কথিত মুসলিম। প্রগতিশীলরা যাদেরকে মৌলবাদী বলে।

অন্যদিকে আছে চরমপন্থী নাস্তিক। ধর্ম, ইসলাম, মুহাম্মদ (সা) এর নাম শুনলে এদের গা জ্বলে যায়। এরা সবাইকে আধুনিক করার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিয়ে নিয়েছে। এরাই নানাভাবে চরমপন্থী মৌলবাদীদের ক্ষেপিয়ে তোলে। এরা নিজেদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে প্রচার করে। এরা এতটাই ভণ্ড যে, যে যার ইচ্ছামতো ধর্ম পালনের অধিকার আছে বলে মিথ্যা প্রচারণা চালায়। তবে আসলে তারা ধর্মনিরপেক্ষ মৌলবাদী। আমি বলি সেক্যুলার ফান্ডামেন্টালিস্ট।
ইসলামপন্থী মধ্যবর্তী আরেকটা শ্রেণি আছে, যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে। পীরবাবার দরবার খুলে আর মাজার পুজা করে ইসলামের বিকৃত হাস্যকর পাগলামি একটা রূপ তারা দাঁড় করিয়েছে।

তরুণ প্রজন্ম এই সবগুলোকে ঘৃণা করে। সবার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে। এদের কারো দ্বারা মানবতা আক্রান্ত হলে প্রজন্ম সরব হয়। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম প্রায় সবাই আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল ও (মুহাম্মদ সা) এর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে। কিন্তু সংকটটা হচ্ছে এই ভালোবাসা মৌখিক। বক্তব্য লেখালেখি আর স্টাটাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ঈদ-ই মিলাদুন্নবীতে রাসূলের ভালোবাসায় স্টাটাস দিচ্ছে, কিন্তু নামাজ পড়াটা জরুরি মনে করছে না।

লেখালেখিতে যারা খ্যাতি পেয়েছেন, তারা নিজেরা কোনো উপদেশ শুনতে আগ্রহী নয়। ব্যাপারটা এমন, ‘ভাই, সবার ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে। কী করতে জবে না হবে সবাই বোঝে। নামাজ পড়তে হবে, এটা আমি মানি। এখন পড়তে পারছি না। আপনাকে এত বোঝানোর দরকার নেই। আর কোনো দাড়িওয়ালা হুজুর এসে বললে তো মনে হয়,ওই ব্যাটা আমার চেয়ে বেশি বোঝে নাকি!’

সাধারণরা কেন জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়? মৌলবাদীদের খপ্পরে পড়ে? ধর্মব্যবসায়ীদের ফাঁদে পা দেয়? কারণ তারা ধর্মীয় জায়গায় তাদেরকেই আস্থা করছে। বিকৃত ইসলাম ও ধর্মব্যবসা থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হলে, সঠিক ইসলাম আপনাকে দেখাতে হবে। মৌখিক ভালোবাসায় সত্যিকারার্থে আপনি মুক্তি পেতে পারেন না (এটা ইসলামেরই বক্তব্য,যদি আপনি তাতে বিশ্বাস করেন), মানুষকেও প্রগতির পথ দেখাতে পারেন না।

ফেসবুক

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন