স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।

ফাগুনের ভালোবাসা ভালোবাসার ফাগুন


‘আহা! আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে...।’ কবিগুরুর এমন কথা অনেকের মনে না থাকলেও প্রকৃতিতে ফুটছে জানা, না জানা হরেক ফুল। আমরা যেমন ক’দিন আগের কম্বল, জ্যাকেট, কোট-সোয়েটার থেকে বেরিয়ে এসেছি। তেমনি খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গমও জেগে উঠেছে। রক্তিম উচ্ছ্বলতায় দুলছে শিমুল পলাশের ডাল। যদিও সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলতে চান—‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক/আজ বসন্ত।’
গাছে গাছে স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতা, ফুলের সমাহার আর কোকিলের কুহুতানে প্রকৃতিতে যখন সাজসাজ রব তখন আমরাও অনেকে গেয়ে উঠি—মনেতে ফাগুন এলো...। তাই লাল-হলুদ পাঞ্জাবি বা ফতুয়া, বাসন্তী শাড়ি, খোঁপায় বাহারি ফুল আর গালে ও কপালে নকশায় সাজিয়ে তুলি নিজেদেরও। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস। এদিনে দেখা যায় বাড়তি কিছু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ভেতরের খোলা বারান্দা, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সামনে পুকুর পাড়, মল চত্বর, ডাস চত্বর, হাকিম চত্বর, চারুকলা, মেয়েদের হলগুলোর সম্মুখ প্রাঙ্গণ। শামসুন্নাহার হলের গলি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা বিভিন্ন পার্ক, রেস্তোরাঁ হয়ে উঠে তরুণ-তরুণীর মিলনমেলা। আসলে ভালোবাসার কি কোনো দিনক্ষণ আছে? বছরের নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে কি ভালোবাসতে হয়? কবি আবু হাসান শাহরিয়ার বলেন, ‘পাখি যদি ডাকে তবে প্রতিদিনই ভ্যালেন্টাইন ডে।’ তবে কি বলতে হবে ফাগুন এলে কোকিলের সঙ্গে ডেকে উঠে মনের পাখিও!
ভালোবাসা আসলে কী? এ প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি আজও। একপলক দেখাতেই কি ভালোবাসা হয়? আড় চোখের মায়াবী চাহনিতেই লুকিয়ে থাকে প্রেম? জগত এলোমেলো হয় এমন অনুভূতির নাম কি ভালোবাসা? বিজ্ঞানীদের দাবি অন্যরকম। তাদের মতে, প্রেমে পড়লে মস্তিষ্ক থেকে নিঃসৃত হয় কিছু রাসায়নিক পদার্থ—ফিনাইল, ইথাইল অ্যামিন, অ্যামফিটামিন যাদের নাম। স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে তা সব কোষে ছড়িয়ে যায়। এদের বিক্রিয়াই আনন্দ, উত্তেজনা, বেদনা সৃষ্টি করে।
‘প্রেমে পতন ছাড়া কিছু নেই’—এ উক্তি কি সত্য। হয়তোবা। তা না হলে পত্রিকায় কেন দেখি প্রেমিক খুন করেছে তার প্রেমিকাকে? ভালোবাসা কি যুক্তিহীন অন্ধ আবেগ? শুধুই মোহ? সে জন্যই বুঝি স্থায়ী হয় না আকর্ষণের তীব্রতা। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে যাকে দেখা হয়, করিডোরে-বারান্দায় ইশারায় কথা চলে, রাত জেগে ফোনে ফিসফিস, যাকে এক মুহূর্ত না দেখলে পুরো পৃথিবী অর্থহীন মনে হয়, সে কেন এক সময় হারিয়ে যায়? সামান্য সন্দেহ, তুচ্ছ ঘটনা ভেঙে দেয় কেন সব? রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, সখী ভালোবাসা কারে কয়/সে কি কেবলই যাতনাময়/ সে কি কেবলই চোখের জল/সে কি কেবলই দুখের শ্বাস?
দিনবদলের এ সময়ে প্রেমেও চলে দিনবদল। সামান্য সন্দেহে তুমি আর কখনও ফোন করবে না’ বলে সম্পর্ক শেষ। আবার শুরু। নতুন আরেকজন। নতুন নম্বর। ফেসবুকের নতুন বন্ধু। প্রেমে ঢুকেছে যৌনতা। মিথ্যা প্রেমের ফাঁদে ফেলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ছেড়ে দেয় ইন্টারনেট। কাচের মতো টুকরো টুকরো হচ্ছে মূল্যবোধ, বিশ্বাস, নৈতিকতা। নাটক-ছায়াছবির মাধ্যমে যারা প্রেম শিখায় তাদের ব্যক্তিজীবনে এগুলো বেশি। এদের প্রেম, এদের বিবাহ স্থায়ী হয় না। কিছুদিন আগে বাংলাদেশি এক মডেল কন্যার কথা আমরা শুনেছি। তাহলে কি সুবীর নন্দীর মতো বলতে হবে—
‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই?’
অনেকে বলেন, সত্যিকার প্রেম হলো বিয়ের পর। বিয়ে-পূর্ব প্রেম অযৌক্তিক যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থায়ী হয় না। গত বছর এ সময়ে যার জীবন ছিল ভালোবাসায় ভরপুর, আজ সে একা, নিঃসঙ্গ। তবে কি সবার ভালোবাসায় ফাগুন আসে না?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন