স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।

হারিয়ে যাওয়া ১১ পেশা

মানুষ তার সৃজনশীল মন দিয়ে যুগে যুগে অনেক কিছু করেছে। মনের আনন্দেও মানুষ নানান রকম পেশা ও কাজ উদ্ভাবন করেছে। জরুরি প্রয়োজনের তাগিদেও সৃষ্টি করতে হয়েছে অনেকরকম কাজ। কিন্তু এমন অনেক পেশা মানুষ সৃষ্টি করেছিল, বর্তমানে তা যেন কালের গহবরে হারিয়ে গেছে।  

শুধু স্মৃতিতে ঠাঁই নেয়া এমন ১১টি পেশার কথাই স্মরণ করা যায়। ইউরোপে শুরু হওয়া এসব পেশার কোনো অস্তিত্বই এখন আর দেখা যায় না। যেমন:

১. কাঠের বলে পিন বসানো
এটি এক ধরনের খেলা ছিল। যেটাকে বৌল খেলা বলা হতো। বলটি নিক্ষেপ করে এটি খেলতে হতো। ছোট ছোট ছেলেদের এ খেলায় নেয়া হতো। এতে তাদের কাজ ছিল, যারা এসব খেলা দেখতে আসত তাদের জন্য খেলায় ব্যবহৃত কাঠের বিশেষ গতিপথে পিন বসানো।


২. মানবঘড়ি এলার্ম।
এটাও একধরনের পেশা ছিল। এটি মানুষকে জাগানোর কিংবা কোনো কাজ বা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ছিল এক পেশা।

এতে মানুষ তাদের কর্মক্ষেত্রের সময়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতো। কাজটি করিয়ে দিত একদল লোক। যাদের কোনো ব্যাপারে মনে করিয়ে দেয়ার জরুরত থাকত তারা ওই দলটির সাথে যোগাযোগ করে তাদের ঠিক করতো।
পয়সার বিনিময়ে দলটির লোকেরা গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্ধারিত সময়ে হাজির হতো। এরপর লাঠি, মুগুর, নুড়ি ইত্যাদি দিয়ে তাদের গ্রাহকদের দরজা বা জানালায় টোকা দিত। এতে গ্রাহকরা তাদের পূর্ব নির্ধারিত কাজটি করার জন্য দ্রুত তৈরি হয়ে নিত।  

৩. বরফ-কর্তন
ইউরোপসহ পশ্চিমের প্রায় সব দেশেই বছরের বেশিরভাগ সময় জুড়ে খুব ঠাণ্ডা পড়ে। বরফ জমে যায়। বরফ জমে এমন হয়, যাতে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে যায়। একসময় এই বরফ সরিয়ে যার যার চলাচলের সুবিধার জন্য কোনো আধুনিক প্রযুক্তি ছিল না।  মানুষের হাতের তৈরি যেটুকু শনাতন উপায় বা প্রযুক্তি ছিল সেটাও সবার কাছে সহজলভ্য ছিল না।  


ফলে আধুনিক ফ্রিজ প্রযুক্তির অনেক আগে বরফ-কর্তনকারীরা জমাট হ্রদে বরফ কেটে কেটে মদ বা খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের জন্য হিমায়িত করার ব্যবস্থা করতো। রাস্তাঘাঁট চলাচলের উপযোগী করে তুলত। এর জন্য বিশেষ শ্রমিক শ্রেণী ছিল। যাদের কাজই ছিল বরফ সরানো।

এটি একটি ঝুকিপূর্ণ পেশা। খুব ভয়ংকর অবস্থায় পড়তে হতো কখনো কখনো। তবে এখন আর এ শ্রেণীটি নাই। এখন বরফ কাটার আধুনিক প্রযুক্তি এসে গেছে। আর তাছাড়া রাস্তাঘাঁটসহ বিভিন্ন জায়গায় বরফ সরানোর কাজের জন্য সরকারের বিশেষ টিমই নির্ধারিত রয়েছে।

৪. রাডারপূর্ব শত্রুবিমান সনাক্ত
রাডার যুগের পূর্বে সৈন্যরা এমন এক শ্রবণযোগ্য প্রতিবিম্বক ব্যবহার করতো, যার মাধ্যমে নিকটবর্তী বিমানের বা কোনো ইঞ্জিনের শব্দ শনাক্ত করতে পারে। তবে কাজটি করার জন্য সে সময়কার সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট থাকত যাদের দায়িত্ব ছিল বিশেষ এ কাজটি করা।


৫. ইঁদুর ধরা
ইঁদুরের উৎপাত নিয়ন্ত্রণে ইওরোপে ইঁদুর ধরা আলাদা লোকই ছিল। যারা ইঁদুরের উৎপাতে অতিষ্ট হতো বা যাদের দরকার হতো ইঁদুর ধরা লোকদের ডেকে আনত। এরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে দৌড়ে ইঁদুর ধরতো। এতে তারা ইঁদুরের কামড়, এবঙ অন্যান্য পোকামাকড়কেও সহ্য করত।


৬. বাতি জ্বালানো
যখন বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কৃত হয়নি, তখনো শহরে নগরে রাতের বেলায় বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা ছিল। এখন যেমন নগর উন্নয়নের জন্য সিটি করপোরেশন আছে যাদের অন্যতম কাজ হল, শহরের রাস্তায় রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা করা। এখন যেমন সিটি করপোরেশনের অটো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকে যাতে নির্ধারিত সময়ে নগরের লাইট জ্বলে ও নেভে। সেসময় এমনটি না থাকলেও রাস্তায় দীর্ঘ দূরত্বে বাতি জ্বালানো, নেভানো এবং সেগুলোতে সময়মত জ্বালানি ভরার জন্য লোক নিয়োগ করা হতো।


৭. দুধ সরবরাহ
খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ বা উপযুক্ত সংরক্ষণাগার আগে ছিল না। সেকারণে সেসময় প্রতিদিনই দুধ চালান করতে হতো। অন্যথায় নষ্ট হয়ে যাবে। দৈনন্দিন নির্ধারিত জায়গায় দুধ পৌঁছে দেয়ার জন্য তখন আলোদা লোক নিয়োগ দেয়া হতো।  


৮. কাষ্ঠগাড়ি চালানো
যোগাযোগের অবকাঠামো ও যানবাহনহীন সেই যুগে কাঠের গুড়ি ছিল একপ্রকার গাড়ি। এতে ভারি মাল টানাও হতো। যার সংশোধিত সংস্করণকে আমরা ঠেলাগাড়ি বলতে পারি।

সেসময় কাঠের গুড়ি নদীতে নামিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় কিছুটা দূরত্বে যাওয়া যেতো। এই কাষ্ঠগাড়ির জন্য চালক নিয়োগ করা হতো।

৯. সুইচবোর্ড পরিচালনা
আধুনিক টেলিফোন প্রযুক্তির আগে সুইচ অপারেটররা সেকেলে টেলিফোন নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ। অংশের পরিচালনা করতো। দূরবর্তী কলের সংযোগ ঘটানো এবং এমন অনেক কিছুই করতো যা আজকের যুগে ডিজিটাল কায়দায় করা হয়।


১০. শব উত্তলন করা
১৯ শতকে শব বা লাশ উঠানো লোকদের ভাড়া করা হতো। তারা কবর খুঁড়ে অনেক আগের সমাধিস্থ মানুষের দেহ তুলে আনতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো লাশ এনে গবেষণার কাজে লাগাতো।

সেসময়ে বৈধ উপায়ে মৃতদেহ পাওয়া দুর্লভ এবং কষ্টসাধ্য ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ছাত্রদের জন্য শব জোগাড়ে লোক ঠিক করতো।

১১. লেক্টর
লেক্টর বলা হতো তাদের, যাদের ভাড়া করে নিয়ে আসা হতো ফ্যাক্টরি শ্রমিকদের আনন্দ দেয়ার জন্য।


নিউজ লিংক 
অনলাইন বাংলা 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন