স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।

বৈশাখের উত্সব, উত্সবের বৈশাখ

‘আজ বাংলা মাসের কত তারিখ?’ এমন প্রশ্নে কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি। হঠাত্ মনে পড়লো, এখন এপ্রিল মাস, আর ১৪ এপ্রিল হলো পহেলা বৈশাখ। মনে মনে হিসাব কষতে থাকি। গুণে গুণে বের করার চেষ্টা করি আজকের বাংলা তারিখ। কিন্তু সমস্যা বাধে আরেক জায়গায়। চৈত্র মাস ৩০ দিনে নাকি ৩১ দিনে? দ্বিধায় পড়ে যাই। এমন অবস্থা আমার মতো অনেকের। বাংলা মাসের হিসাব রাখি না। কেননা, আমাদের সবকিছু চলে ইংরেজী মাস অনুযায়ী। তবু আমরা ভুলে যাই না পহেলা বৈশাখের কথা, পান্তা-ইলিশ উত্সবের কথা। মঙ্গল শোভাযাত্রার কথা। বৈশাখকে বরণ করতে নানা আয়োজন করি। আমরা বলে উঠি-‘এসো হে বৈশাখ এসো/তাপস নিঃশ্বাস বায়ে/মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে/বছরের আবর্জনা/দূর হয়ে যাক যাক/এসো এসো. . .।’

পহেলা বৈশাখে আমাদের ঘুম ভাঙে অন্যরকম উন্মাদনায়। জেগে দেখি এক নতুন প্রভাত। আজকের আকাশে উদিত হবে নতুন বছরের সূর্য, তাই নতুন করে দেখি ভোরের আকাশ। গায়ে মাখি ভোরের হাওয়া। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘বৈশাখের এই ভোরের হাওয়া/আসে মৃদুমন্দ/আনে আমার মনের কোণে/সেই চরণের ছন্দ।’ এই ছন্দে আমরা মাতাল হই। ছেলেরা লাল সাদা পাঞ্জাবি পরে। মেয়েরা শাড়ি পড়ে, গালে রঙিন আল্পনা এঁকে। খোপায় ফুলের মালা সাজিয়ে রাস্তায় বের হই। সবাই হাটতে থাকি। রমনার বটমূলে যাই। জড়ো হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে। চারুকলার শোভাযাত্রায়। চারপাশে ভিন্ন আমেজ। বর্ণিল পরিবেশ। সর্বত্র আজ অনুষ্ঠান। শহীদ মিনার, শিশু একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি, ঢাকা ক্লাব, গুলশানে ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব, পুরনো ঢাকাসহ সব জায়গায় উত্সবের ঢেউ। শুধু ঢাকা নয়; সারাদেশেই। কাজী নজরুল ইসলাম বলেন-ওই নতুনের কেতন ওড়ে/কালবোশেখীর ঝড়/তোরা সব জয়ধ্বনি কর. . .।’


পহেলা বৈশাখ ঘিরে এত আনন্দ উত্সব হলেও সারা বৈশাখ জুড়ে এখন আর আগের আমেজ পাওয়া যায় না। কবিতার সেই ‘ঝড়ের দিনে মামার দেশে’ আর ‘আম কুড়ানো’ নেই। ঘুড়ি উড়ানোর উত্সবও দেখা যায় না। ঢাকার আকাশ তো হারিয়ে গেছে বহুতল ভবনে। গ্রামের আকাশও আজকাল রঙিন ঘুড়িতে বর্ণিল হয়ে ওঠে না। যান্ত্রিক জীবনযাতহ্রার আনন্দ বর্ষবরণ কেন্দ্রীক। এ দিনই সবাই আনন্দ মাতে। যদিও দরিদ্র নিরন্নদের কাছে সব দিনই সমান। উত্সবের উচ্ছ্বলতা তাদের স্পর্শ করে না। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘মানুষের উত্সব কবে? মানুষ যেদিন আপন মনুষত্বের বিশেষভাবে স্মরণ করে, বিশেষভাবে উপলব্ধি করে সেই দিন।. . . প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন একাকী। কিন্তু উত্সবের দিনে মানুষ বৃহত্, সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহত্, সেদিন সে সমস্ত মানুষত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহত্।’


পহেলা বৈশাখ মানে নতুন বছরের শুরু। কালের গর্ভে একটি বছর হারিয়ে যাওয়া। জীবন থেকে ৩৬৫টি দিন চলে যাওয়া। কবি বলেন, ‘কালের যাত্রার ধ্বনি শুনতে কি পাও?’ এ যাত্রার ধ্বনি আমরা অনুধাবন করতে চাই। অতীতের ভুলগুলো শুধরে নিতে চাই। আকাঙ্ক্ষা করি আগামীর দিনগুলো সুন্দর হবে। নিজের একটি কবিতায় লিখেছি-‘প্রতিদিনই পড়ছে খসে/জীবন ডালের পাতা/আগামীর ঐ দিনগুলো হোক/সফল বিজয়গাঁথা।’ 


দৈনিক আমার দেশ, ১১ এপ্রিল ২০১১।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন