স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।

অনন্ত জলিল

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে সবাই হাসি ঠাট্টা করি। সব সিনেমার কাহিনী প্রায় একই। এক মিনিট দেখে পুরো সিনেমার বাকি অংশ বলে দেওয়া যায়। ব্যতিক্রমী কিছু থাকলেও কাহিনী ধার করা। সিনেমার দৃশ্যায়নও চলে ওই এফডিসিতে। ওটাই ঢাকা, ওটাই কলকাতা, সিঙ্গাপুর, আমেরিকা। কলেজ, হাসপাতাল, কর্পোরেট অফিস সবকিছুই ওই ছোট্ট স্থান।

তারেক মাসুদ বা গোলাম রব্বানীর মতো কিছু মেধাবীরা সিনেমায় এগিয়ে এসেছিলেন। গভীর দর্শন ও জীবনবোধের চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছিলেন। সেগুলোর মার্কেটিং প্রচারণা সেভাবে হয় নি।


বাংলা সিনেমা নিয়ে যখন আমরা হতাশা ও হীনম্মন্যতায় ভুগে এই শিল্পের ধারেকাছ দিয়ে যাই না। হলিউড বলিউড নিয়ে মেতে উঠি। তখন অনন্ত জলিল সাহস করে স্ত্রী বর্ষাকে নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পে নামলেন। ব্যাপক বিনিয়োগ ও উন্নত আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তিনিই শুরু করলেন বাংলা সিনেমায়। তাকে নিয়ে নিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ হাসি ঠাট্টা কম হয় নি। ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’য় হৃৎপিণ্ড টেনে বের করা নিয়ে অত্রিমাত্রায় হাসির খোরাক ও সমালোচনার পাত্র হন ‘অসম্ভবকে সম্ভব করা’ অনন্ত।




অনন্ত জলিল মেধাবী না হোক, ভুল উচ্চারণে ইংরেজি বলুক আর আত্মপ্রচারণা করুক। আমি এই নায়ককে শ্রদ্ধা করি। আমি তার সিনেমায় গভীর জীবনবোধ বা দর্শন আশা করি না। শুধু বিনোদনই সরবরাহ করুক। তার সাহস, বিনোয়াগ ও আন্তরিকতাকে সম্মান করি।

গতকাল অনন্ত জলিল ঘোষণা দিয়েছেন,‘অনন্ত থাকতে বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা রাজত্ব চালাবে, এটা হতে পারে না। অনন্ত সেটা হতে দিবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি ছবি বানাই, তাহলে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছবি রিলিজ হয়। এগুলো বিশ্বজুড়ে রিলিজ হয়। কারণ আমি জানি, মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়।’

ব্যক্তিগতভাবে আমি অনন্ত জলিলকে ভালোবাসি। তিনি পারুন আর না পারুন, বাংলা সিনেমাকে বিশ্বমানে উন্নত করতে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক। মেধাবীরা পারলে তাকে সহয়োগিতা করুন, বিদ্রুপ নয়।

ফেসবুক 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন