স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।

ভুলোমনা ও অলসতার ভোগান্তি

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ল্যাপটপে একটু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ওয়ারেন্টি আছে। সার্ভিসিং সেন্টারে যাওয়া দরকার। আজ যাই কাল যাই করে গেলাম অক্টোবরের শেষ দিকে। নতুন হার্ডডিস্ক লাগিয়ে দিলেন। আর বললেন, একটা স্ক্রু পার্টস বাকি আছে। ওটা এখন নাই। কিছুদিন পরে এসে লাগিয়ে নিয়ে যাবেন।

তারপর আমি আর সমস্যা বোধ করি নি। ওটার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। মাঝে মধ্যে অবশ্য মনে হয়েছে। ভেবেছি একসময় যাবো। এর মধ্যে ডিসেম্বরে ল্যাপটপের ওয়ারেন্টি মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মাসখানিক ধরে দেখছি, ল্যাপটপ ভাঁজ করার সংযোগ স্থল একটু ফাঁকা হয়ে গেছে।


 
পরশু সোহেল নওরোজের বাসায় যাওয়ার সময় ল্যাপটপ নিয়ে গিয়েছিলাম। আসার সময় ভাবলাম, স্ক্রু পার্টসটা আনা যায় কিনা দেখি।
তারা জানালেন, ল্যাপটপের ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে গেছে।
-যখন দেখিয়েছিলাম, তখন তো ছিল।
-তাই বলে আপনি ছয় মাস পরে আসবেন?
-আসা হয় নি, এখন কী করা যায়, তাই বলেন।
-দুঃখিত, সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে নিতে হয়। এখন চার্জ দিয়ে নিতে হবে।
-কত?
-রিসিভ করান। দুই থেকে আড়াই হাজার লাগতে পারে।
-হুম।

আমি না সারাইয়ে চলে আসলাম।

২.
সেবার বাড়ি থেকে ঢাকা আসার সময় বাসে এসে উঠেছি। কিন্তু টিকেট ভুলে বাড়ি ফেলে এসেছি। ভগ্যিস, সিট নাম্বার মুখস্ত ছিল।

সুপারভাইজার বললেন, টিকেট দেখি।
-টিকেট তো করেছি। কিন্তু আনতে মনে নাই।
-আনতে মনে নাই মানে?
-ভুল করে বাড়ি রেখে এসেছি।
-আমি কী করে বুঝবো, আপনি টিকেট করেছেন?
-বোঝার অনেক উপায় আছে। যেমন ধরেন, এই সিটের টিকেট আর কারো কাছে নাই। কেউ যদি টিকেটসহ দাবি করে, আমি ছেড়ে দিবো।
-না, তা বললে হবে না। আপনার সিটের টিকেট আপনি দেখান।
-আচ্ছা, আপনি এক কাজ করেন। কাউন্টারে কল দেন। সেখানে এই সিটের বিপরীতে যার নাম, মোবাইল নম্বর আছে। সেখানে কল দেন। দেখবেন সেটা আমার নাম্বার।
-কী যে ঝামেলা করেন আপনারা! আচ্ছা বসেন দেখি।

৩.
পরীক্ষার হলে কতবার অ্যাডমিট কার্ড ছাড়াই গেছি। স্যার বলেন,
-অ্যাডমিট কার্ড কই?
-স্যার, পরীক্ষার পড়া নিয়ে এত ব্যস্ত ছিলাম। অ্যাডমিট কার্ড আনতে ভুলে গেছি। কাল নিয়ে আসবো।

আরেকদিন,
-অ্যাডমিট কার্ড কই?
-স্যার, কাল যে শার্ট পরে এসেছিলাম। ওটার পকেটে রয়ে গেছে। নিতে মনে নাই।
-আগামীকাল না নিয়ে আসলে তোমার পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না।

৪.
মতিঝিল থেকে বাসে উঠেছি। ক্যাম্পাসে আসবো। পল্টন আসার পর খেয়াল হলো, মানিব্যাগ আনা হয় নি। ভাড়া চাইলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়বো বলে চিন্তা করছি। অদ্ভুত ব্যাপার, ছেলেটা আমার কাছে ভাড়া চাইলো না।

শাহবাগে নামার সময় বললাম, ভাই আমি তো ভাড়া দেই নি। মতিঝিল থেকে উঠেছি। আর আমার কাছে ভাড়া নাই। ভুল করে মানিব্যাগ ফেলে এসেছি। এখন কী করা যাবে?
ছেলেটা বললো, ‘আচ্ছা, সমস্যা নেই।’ তাকে সমস্যার কথা বলেছি। এতেই সে খুশি।

৫.
আড়াই মাস ধরে ভাবছি। একজন ডাক্তারের কাছে যাবো। সময় হয় না। সময় হয় তো, টাকা থাকে না। টাকা-সময় দুটোই থাকে, তো অলসতা লাগে। ইচ্ছা হয় না। মাঝখানে একবার দুটো কাজ নিয়ে বের হয়েছি। ভাবছি, এটা শেষ করে ডাক্তারের কাছে যাবো। প্রথম কাজ শেষ করে আসার জন্য বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পর মনে পড়লো। তখন আর ফেরত যেতে ইচ্ছে হলো না।

এই ভুলোমনা আর অলসতা নিয়ে কী করবো?

ব্যস্ত থাকলে অনেককে বলি, ভাই, পরে কথা বলছি। অথবা পরে মেসেজ দিয়ে জানাবো। কিংবা কল ধরতে পারি না। ভাবি, পরে কলব্যাক করবো।  অথচ ভুলে যাই।

ভাইয়েরা, মাফ করে দিয়েন। কেউ রাগ কইরেন না। আমি ভাব ধরে থাকি না। ভাব ধরার মতো কিছু নাই। একটু স্মরণ করাইয়ে দিয়েন।

[পুনশ্চ: বিফল মনোরথে ল্যাপটপ নিয়ে বাসায় আসার পর এই স্টাটাসটা গতকাল লিখতে চেয়েছিলাম। অলসতা করে লেখা হয় নি।]

ফেসবুক 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন