স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।

রমজান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

টিএসসিতে প্রেমিকার সাথে ইফতার করলেন তিনি। প্রেমিকা নিজের হাতে ইফতারি বানিয়ে এনেছেন। ভালোবাসায় ভরপুর সেই ইফতারে তৃপ্ত প্রেমিক। মহা উৎসাহে সেই গল্প বললেন। অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট, তার মতো সুখী বোধহয় এই মুহূর্তে কেউ নেই।

আমি বলি, ‘তাকে বিয়ে করে ফেলেন। চূড়ান্তভাবে আপন হওয়ার আগে এই ভালোবাসায় সুখী হবার কিছু নেই। হারানোর ভয় তো আছে। আর রোজা রেখে এভাবে প্রেমিকাকে অনুভব করে ইফতার করা ইসলামের দাবি পূরণ করবে?’

তিনি একটু মন খারাপ করলেন। বললেন, ‘আরে ভাই, ইফতারির মধ্যে ধর্ম টেনে আনছেন কেন?’

সত্যিই তো! সবকিছুর মধ্যে ধর্ম টেনে আনার দরকার কী? ধর্ম আলাদা জিনিস। সেটা তার মতো থাকুক। আমি আমার মতো থাকি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো আমাদের কাছে উৎসব। ইফতারি উৎসব, ঈদ উৎসব। এগুলো আনন্দের উপকরণ, আলাদা কোনো চেতনা নেই!



দুঃখজনক হচ্ছে, যার সাথে উপরোক্ত কথোপকথন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নিজেকে দাবি করেন সেক্যুলার হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে একটা ডেম কেয়ার জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব আসে। কারো উপদেশমূলক কথা সহ্য করা যায় না। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তমুক। তুমি জ্ঞান দেওয়ার কে?

জ্ঞান-চর্চার সর্বোচ্চ এই প্রতিষ্ঠানে রমজান মাসে বোধহয় হাজার খানিক ইফতার পার্টি হয়। কোনো ইফতার পার্টিতেই রোজা বা ইফতারের মর্মকথা উদ্দেশ্য নিয়ে একটা কথাও বলা হয় না। দেশের পত্রিকাগুলো যেমন ঈদ-সংখ্যা প্রকাশ করে, কিন্তু ঈদের তাৎপর‌্য নিয়ে একটা লেখাও থাকে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা, তা নিজেই অনেকটা সাম্প্রদায়িক। এখানকার ধর্মনিরপেক্ষতার অনুশীলন চারিত্রিকভাবে উগ্র। ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ মৌলবাদের জন্ম হয়েছে। আমি এর নাম দিয়েছি Secular Fundamentalism। তবে এই ধ্যান-ধারণা যারা লালন করেন, তারা মুষ্টিমেয়। আর তারাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।

এই প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সবকিছু সচেতন থাকলেও সাতে পাঁচে থাকতে চান না। উচ্চতর ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তা, শিল্প-সাহিত্য আর প্রেমে সময় পার হয়।

বলা হয়, কোনো সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে হলে দুটো জিনিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে : সেনাবাহিনী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।সরকারি দল তাই যেকোনোভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। একটি সিট আর ভালোভাবে শিক্ষাজীবন শেষ করার আশায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুখ বুজে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের আনুগত্য করে যায়। হোক তা ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্রদল।

আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন ছিল। আমার আইডি কার্ডের মেয়াদটাও আজ শেষ হলো। পাঁচ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে আমি দুটো জিনিস শিখেছি বলে মনে করি।

এক: কেউই সমালোচনার উর্দ্ধে নয়। সবাইকে ক্রিটিক্যালি দেখতে হবে। কোনো একটি চিন্তাকে সার্বভৌম মনে করার কারণ নেই।

দুই: অপরের মতকে শ্রদ্ধা করা। কারো চিন্তা আমার পছন্দ না হতে পারে। কিন্তু তার মত প্রকাশকে আমি সম্মান করি।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কিছুই গ্যাপ থাকলেও তার ধারে কাছে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। রাজনীতি-সমাজ-সংস্কৃতিতে বিশ্বব্যবস্থার প্রবণতা (Trend) বুঝতে হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হাঁটার বিকল্প নেই। নিজেদের সম্পর্কেও সমালোচনা করার সাহস-সক্ষমতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েই অর্জন করা যায়।

এই প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় আমার জীবনের একটা অংশ ব্যয় করতে পেরে আমি গর্বিত। ভালোবাসি প্রিয় ক্যাম্পাস, প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 ফেসবুক

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন