যে গাছে ফুল ফোটে আগুনের মতো, তীব্র দহন যার নির্জন ঘ্রাণ—সে এক পরিযায়ী নারী।
আমি তাকে আশকারা দিই।
কত কত দেশ মহাদেশ পরে, সীমান্ত ওপার। কংক্রিটের এক শুকনো সমুদ্র, ছিল
অনাদর মরুভূমি। আহত সে ক্লান্ত ডানা, তবু উড়ে এলে তুমি!
শরীরে কী যে শক্তি ছিল, অথবা প্রাণের জোর—পাখনা ছড়িয়ে দিলো
আগুনের শিখা, সেই যে নারী এক আশ্চর্য অগ্নিবতী, আমি তার জ্বালানি হই।
ধীরে সে হয়ে ওঠে নতুন ডানার পরী, বৃক্ষপাখিজল। গ্রীবায় সহস্র ফুল, বাহুতে
বিপুল কোলাহল। আমি তারে আগলে রাখি, গোপন প্রশ্রয়। আমাকে শোনায় সে প্রণয়ের গান, রাগিণীর
ভার, সুরে সুরে ভিজে ওঠে একান্ত দুপুর।
এই বুঝি আমাদের নবজন্ম—সুনীল উৎসব। গাছে
গাছে ফুলে ফুলে ভরে গেছে ঘর। ইচ্ছেমতো ওড়াউড়ি, নোনাজলে সাতাঁর। এবার হলো সে তবে পূর্ণ
রমণী— দিগন্তজোড়া ক্ষেত—সোনালি ফসল। হলুদে
জিরায় নতুন তরকারি—চর্ব্য চোষ্য সুস্বাদু আনাজ। আমি তো তাকেই
বানিয়ে ফেলি আস্ত রেস্তোরাঁ।
একটু প্রশ্রয় পেলে নারী কি তবে হয়ে ওঠে লতা? নিয়ত প্রখর যে সূর্যরশ্মি, সে-ই কি ছড়িয়ে দেয় জোছনা, নরম আলো? আমি যদি তার আহ্লাদী অনুভব হই, বুকের পাজর হয় সাদা ক্যানভাস, সহজেই একেঁ ফেলে চিত্রচারু মেঘ। আকাশভেঙে ঝুম বৃষ্টি নামে, রঙিন ছাতা হাতে আমি তাকে সাজিয়ে দিই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন