কবি ও ছড়াকার জিসান মেহবুবকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই, বিশেষ করে শিশু কিশোর দ্বীন দুনিয়ার পাঠকদের কাছে। জিসান মেহবুবের ছড়া মানেই শব্দ নিয়ে খেলা। শব্দকে নিয়ে যে ইচ্ছেমতো খেলা করা যায়, মাধুর্যের সাথে দোমড়ানো যায়, বাঁকা করা যায় তা আমরা জিসানের ছড়াগুলোতে দেখতে পাই। অন্ত্যমিল দিতে গিয়ে চার অক্ষরের সাথে সন্ধি করে ছন্দে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন তিনি। পঠনে বাঁধাহীন, গতিশীল প্রাণপ্রবাহে ছন্দের দোলায় দুলতে থাকি আমরা। প্রতি সংখ্যায় আরো ছড়ার আকর্ষণ রেখে যান তিনি।
পাঠকের জন্য সুসংবাদ হলো এবারের বইমেলায় এসেছে জিসান মেহবুবের প্রথম কিশোর কাব্যগ্রন্থ ‘নিসর্গটা কাব্য হবে’। এই গ্রন্থের সব লেখাই ‘নিসর্গকেন্দ্রিক’। জিসান মেহবুবের কাছে বাংলাদেশই তার নিসর্গ, তার পুরো পৃথিবী। তাই ‘নিসর্গটা কাব্য হবে’ গ্রন্থে সব কিশোর কবিতাতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের অপার সৌন্দর্য, রূপের বৈচিত্র্য। প্রকৃতিপ্রেমিক জিসান মেহবুব এদেশের নদী, আকাশ, গাঁয়ের মেঠোপথ আর ষড়ঋতুকে প্রত্যক্ষ করেছেন অন্যরকম ব্যঞ্জনায়, কাব্যিক আবহে। ছড়ার প্রতিটি পঙক্তিতে আছে সবুজের ছড়াছড়ি। পাঠক সেখানে ঢুকে নিঃশ্বাস নিতে পারবেন, কাব্যিক অক্সিজেনে পূর্ণ স্বস্তি পাবেন, দুলতে পারবেন ছন্দের দোলায়। শ্যামল বাংলাকে ছুঁয়ে যেতে পারবেন, বিশ্রাম নিতে পারবেন প্রকৃতির শান্ত স্নিগ্ধ ছায়ায়। এখানে প্রকৃতিই কাব্য, কাব্যই প্রকৃতি। গ্রন্থটির প্রথম কয়েকটি কবিতা দেশকে নিয়ে। পর্যায়ক্রমে আছে গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সব ঋতুকে দেখার নানা ভঙ্গি, বিবিধ দৃষ্টিকোণ। রয়েছে সকাল, দুপুর, বিকাল, সন্ধ্যা, রাতের নানা রূপ, নানা রঙ। আছে আনন্দের ছোঁয়া, বিষণœতার উপস্থিতি। ‘এই দেশ জনপদ’ ছড়ায় ছড়াকার সমগ্র দেশকে তুলে এনেছেন অল্প কথায়। চলুন না তার মুখ থেকেই শুনি,
মায়ের স্নেহের ছোঁয়া সুশীতল মাটি
সবুজ গালিচা মোড়া ছবি পরিপাটি।
প্রকৃতির কোলে-পিঠে গড়া এই দেশ
অনুপম রূপ আহা দেখি অনিমেষ।
‘আসে যায় বারো মাস’ কবিতায় পাবেন একসাথে বারো মাসের চিত্র। বারো মাসের চরিত্রের মধ্যে পাবেন ষড়ঋতুর এই দেশের পূর্ণ প্রতিচ্ছ্ববি। পঞ্চাশ পঙক্তি এক নিঃশ্বাসে পড়ার মতো। ‘ভাদর’ এর বর্ণনাটা এখানে তুলে দিচ্ছি,
ভাদর বিছায় মাঠে সবুজ চাদর
ঘাসে ঘাসে শিশিরের মিষ্টি আদর।
আলো-ছায়ে লুকোচুরি মনটা উদাস
বেনারশি শাড়ি পরে রাতের আকাশ।
মন হারানোর দেশ এই বাংলাদেশ। প্রতিটি দৃশ্যই করতে পারে হৃদয় হরণ। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত প্রতিটির স্বতন্ত্র সৌন্দর্য মন কাড়তে পারে। জিসান মেহবুব প্রতিটি মুহূর্ত অনুভব করেছেন খুব কাছে থেকে, যেন ছুঁয়ে দিয়েছেন সব। তাদের সাথে মিশে সৌন্দর্যের ভীড়ে হারিয়েছেন নিজের স্বত্তা। ‘মন যে হারায়’ ছড়ায় রাতের দৃশ্যে লিখেছেন,
নিশির দোসর হয়ে চাঁদ জেগে ওঠে,
বাগিচায় জুঁই-বেলি চুপিচুপি ফোটে।
ডালিম ডালেতে বসে জ্বলে যে জোনাক,
ঝোপঝাড়ে মিটিমিটি মনোহর আঁক।
রজনীর ফুল ফোটে তারায় তারায়
মায়াবী জোছনা মেখে মন যে হারায়।
প্রকৃতির উপর মানুষের অত্যাচারে কবি কখনো ভারাক্রান্ত হয়েছেন, দুঃখ পেয়েছেন। আবার কখনো হয়েছেন প্রতিবাদী। অতিথি পাখিদের শীতকালের নিরাপদ আশ্রয় ও স্বস্তির জায়গা এই বাংলাদেশ। কিন্তু এদেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া, মূল্যবোধের অবক্ষয় মানুষকে করেছে নৈতিকতাহীন, হিংসুটে ও লোভী। আতিথ্যের পরিবর্তে অতিথি পাখিকে শিকার করে কিছু লোভী। জিসান তার অতিথি বন্ধুকে ব্যথাতুর মনে তাই বলেন,
লোভী ওরা খাবে তোমার মাংশ ছিঁড়ে!
হয়তো ফেরা হবে না আর আপন নীড়ে।
অতিথিদের আপ্যায়নের রীতিই এটা!
তুমি নিজেই ভুনা হবে সইবে সেটা?
নিরাপদে থাকার যে নেই নিশ্চয়তা,
যাও ভুলে এই জলাভূমির নিমগ্নতা।
কবি বর্তমানে তার আপন গ্রাম ছেড়ে অবস্থান করছেন কর্মক্ষেত্র ভৈরবে। হঠাৎ হঠাৎ মনে পড়ে যায় সেই চির চেনা মাঠ-ঘাট, দীঘির জল, ঘাস অথবা ফড়িং। কখনো কখনো নস্টালজিয়া পেয়ে বসে। স্মৃতিতে হানা দেয় উচ্ছ্বল কৈশোর। দুরন্ত সেই কিশোরবেলা’তে তাই বলেছেন,
লাটাই হাতে মাঠ হতে মাঠ ভরদুপুরে ছুটি,
রোদের সাথে বুক মিলিয়ে করি লুটোপুটি।
উপমা ব্যবহারের অভিনবত্ব একজন কবি বা ছড়াকারের মৌলিকত্ব প্রকাশ করে। জিসান এক্ষেত্রে পোক্ততার পরিচয় দিয়ে নিজের স্বাতন্ত্র সংরক্ষণ করতে পেরেছেন। ঋতু, সময়, চাঁদ,
নদী, আকাশকে নায়ক- নায়িকা করে দেশীয় ঐতিহ্যের অন্তহীন অনুভূতি, প্রকৃতির রূপবদল, ইসলামী চেতনা আর আজানের লহরী দিয়ে সাজিয়েছেন উপমার ডালি। গ্রামের চেনা পথঘাটের সাথে করেছেন বিষয়-ছন্দ-ছড়ার অপরূপ সমন্বয়। ইচ্ছে করছে প্রতিটি রচনা থেকেই উদ্ধৃতি দিই।
রেলের চাকা থামে এসে জংশনে,
আকাশ কোঁকায় পাংশু মেঘের দংশনে
সকাল-দুপুর বিরামহীন
টাপুরটুপুর রিনিকঝিন
ব্যাঙ ডেকে কয়Ñ আয় জিকিরে অংশ নে।
[বৃষ্টির স্বরূপ]
বিল পেরিয়ে একটু বাঁয়ে স্বপ্নকাঁকনপুর,
মেঘ মুলুকে ঢাকীর ঢোলে দড়াম দড়াম সুর।
[বর্ষাবন্দী]
আউশ ধানের কচি চারা খুশির নাচন তোলে
পদ্মফোটা কাজলদীঘি রূপের পেখম খোলে।
[শরতের হাসি]
থিরথিরে কৌমুদি চুমু দেয় শশীরে
ঘুমটুলু তারকারা জাগে রাত বসিরে।
[দেখেছি যা ভাদরে]
মাছরাঙাটা বায় যেন আজ চণ্ডিদাশের বড়শি
মেঘ হয়ে যায় শিমুলতুলো আকাশ পারের পড়শি।
[নিসর্গটা কাব্য হবে]
শিশির কাননের প্রচ্ছদে এই কিশোর কাব্যগন্থটি প্রকাশ করেছে ঢাকার সাহিত্যদেশ প্রকাশন। মিত্র খলিলকে উৎসর্গকৃত এই বইটি একুশে বইমেলা ২০১২ এ সাহিত্যদেশের স্টলে পাওয়া যাবে। এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার উপযোগী, সংগ্রহে রাখার মতো সুন্দর এই গ্রন্থটির মূল্য মাত্র ১০০ টাকা। আশা করি বইটি বহুল প্রচার পাবে।
http://www.skdeendunia.com/?p=48
পাঠকের জন্য সুসংবাদ হলো এবারের বইমেলায় এসেছে জিসান মেহবুবের প্রথম কিশোর কাব্যগ্রন্থ ‘নিসর্গটা কাব্য হবে’। এই গ্রন্থের সব লেখাই ‘নিসর্গকেন্দ্রিক’। জিসান মেহবুবের কাছে বাংলাদেশই তার নিসর্গ, তার পুরো পৃথিবী। তাই ‘নিসর্গটা কাব্য হবে’ গ্রন্থে সব কিশোর কবিতাতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের অপার সৌন্দর্য, রূপের বৈচিত্র্য। প্রকৃতিপ্রেমিক জিসান মেহবুব এদেশের নদী, আকাশ, গাঁয়ের মেঠোপথ আর ষড়ঋতুকে প্রত্যক্ষ করেছেন অন্যরকম ব্যঞ্জনায়, কাব্যিক আবহে। ছড়ার প্রতিটি পঙক্তিতে আছে সবুজের ছড়াছড়ি। পাঠক সেখানে ঢুকে নিঃশ্বাস নিতে পারবেন, কাব্যিক অক্সিজেনে পূর্ণ স্বস্তি পাবেন, দুলতে পারবেন ছন্দের দোলায়। শ্যামল বাংলাকে ছুঁয়ে যেতে পারবেন, বিশ্রাম নিতে পারবেন প্রকৃতির শান্ত স্নিগ্ধ ছায়ায়। এখানে প্রকৃতিই কাব্য, কাব্যই প্রকৃতি। গ্রন্থটির প্রথম কয়েকটি কবিতা দেশকে নিয়ে। পর্যায়ক্রমে আছে গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সব ঋতুকে দেখার নানা ভঙ্গি, বিবিধ দৃষ্টিকোণ। রয়েছে সকাল, দুপুর, বিকাল, সন্ধ্যা, রাতের নানা রূপ, নানা রঙ। আছে আনন্দের ছোঁয়া, বিষণœতার উপস্থিতি। ‘এই দেশ জনপদ’ ছড়ায় ছড়াকার সমগ্র দেশকে তুলে এনেছেন অল্প কথায়। চলুন না তার মুখ থেকেই শুনি,
মায়ের স্নেহের ছোঁয়া সুশীতল মাটি
সবুজ গালিচা মোড়া ছবি পরিপাটি।
প্রকৃতির কোলে-পিঠে গড়া এই দেশ
অনুপম রূপ আহা দেখি অনিমেষ।
‘আসে যায় বারো মাস’ কবিতায় পাবেন একসাথে বারো মাসের চিত্র। বারো মাসের চরিত্রের মধ্যে পাবেন ষড়ঋতুর এই দেশের পূর্ণ প্রতিচ্ছ্ববি। পঞ্চাশ পঙক্তি এক নিঃশ্বাসে পড়ার মতো। ‘ভাদর’ এর বর্ণনাটা এখানে তুলে দিচ্ছি,
ভাদর বিছায় মাঠে সবুজ চাদর
ঘাসে ঘাসে শিশিরের মিষ্টি আদর।
আলো-ছায়ে লুকোচুরি মনটা উদাস
বেনারশি শাড়ি পরে রাতের আকাশ।
মন হারানোর দেশ এই বাংলাদেশ। প্রতিটি দৃশ্যই করতে পারে হৃদয় হরণ। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত প্রতিটির স্বতন্ত্র সৌন্দর্য মন কাড়তে পারে। জিসান মেহবুব প্রতিটি মুহূর্ত অনুভব করেছেন খুব কাছে থেকে, যেন ছুঁয়ে দিয়েছেন সব। তাদের সাথে মিশে সৌন্দর্যের ভীড়ে হারিয়েছেন নিজের স্বত্তা। ‘মন যে হারায়’ ছড়ায় রাতের দৃশ্যে লিখেছেন,
নিশির দোসর হয়ে চাঁদ জেগে ওঠে,
বাগিচায় জুঁই-বেলি চুপিচুপি ফোটে।
ডালিম ডালেতে বসে জ্বলে যে জোনাক,
ঝোপঝাড়ে মিটিমিটি মনোহর আঁক।
রজনীর ফুল ফোটে তারায় তারায়
মায়াবী জোছনা মেখে মন যে হারায়।
প্রকৃতির উপর মানুষের অত্যাচারে কবি কখনো ভারাক্রান্ত হয়েছেন, দুঃখ পেয়েছেন। আবার কখনো হয়েছেন প্রতিবাদী। অতিথি পাখিদের শীতকালের নিরাপদ আশ্রয় ও স্বস্তির জায়গা এই বাংলাদেশ। কিন্তু এদেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া, মূল্যবোধের অবক্ষয় মানুষকে করেছে নৈতিকতাহীন, হিংসুটে ও লোভী। আতিথ্যের পরিবর্তে অতিথি পাখিকে শিকার করে কিছু লোভী। জিসান তার অতিথি বন্ধুকে ব্যথাতুর মনে তাই বলেন,
লোভী ওরা খাবে তোমার মাংশ ছিঁড়ে!
হয়তো ফেরা হবে না আর আপন নীড়ে।
অতিথিদের আপ্যায়নের রীতিই এটা!
তুমি নিজেই ভুনা হবে সইবে সেটা?
নিরাপদে থাকার যে নেই নিশ্চয়তা,
যাও ভুলে এই জলাভূমির নিমগ্নতা।
কবি বর্তমানে তার আপন গ্রাম ছেড়ে অবস্থান করছেন কর্মক্ষেত্র ভৈরবে। হঠাৎ হঠাৎ মনে পড়ে যায় সেই চির চেনা মাঠ-ঘাট, দীঘির জল, ঘাস অথবা ফড়িং। কখনো কখনো নস্টালজিয়া পেয়ে বসে। স্মৃতিতে হানা দেয় উচ্ছ্বল কৈশোর। দুরন্ত সেই কিশোরবেলা’তে তাই বলেছেন,
লাটাই হাতে মাঠ হতে মাঠ ভরদুপুরে ছুটি,
রোদের সাথে বুক মিলিয়ে করি লুটোপুটি।
উপমা ব্যবহারের অভিনবত্ব একজন কবি বা ছড়াকারের মৌলিকত্ব প্রকাশ করে। জিসান এক্ষেত্রে পোক্ততার পরিচয় দিয়ে নিজের স্বাতন্ত্র সংরক্ষণ করতে পেরেছেন। ঋতু, সময়, চাঁদ,
নদী, আকাশকে নায়ক- নায়িকা করে দেশীয় ঐতিহ্যের অন্তহীন অনুভূতি, প্রকৃতির রূপবদল, ইসলামী চেতনা আর আজানের লহরী দিয়ে সাজিয়েছেন উপমার ডালি। গ্রামের চেনা পথঘাটের সাথে করেছেন বিষয়-ছন্দ-ছড়ার অপরূপ সমন্বয়। ইচ্ছে করছে প্রতিটি রচনা থেকেই উদ্ধৃতি দিই।
রেলের চাকা থামে এসে জংশনে,
আকাশ কোঁকায় পাংশু মেঘের দংশনে
সকাল-দুপুর বিরামহীন
টাপুরটুপুর রিনিকঝিন
ব্যাঙ ডেকে কয়Ñ আয় জিকিরে অংশ নে।
[বৃষ্টির স্বরূপ]
বিল পেরিয়ে একটু বাঁয়ে স্বপ্নকাঁকনপুর,
মেঘ মুলুকে ঢাকীর ঢোলে দড়াম দড়াম সুর।
[বর্ষাবন্দী]
আউশ ধানের কচি চারা খুশির নাচন তোলে
পদ্মফোটা কাজলদীঘি রূপের পেখম খোলে।
[শরতের হাসি]
থিরথিরে কৌমুদি চুমু দেয় শশীরে
ঘুমটুলু তারকারা জাগে রাত বসিরে।
[দেখেছি যা ভাদরে]
মাছরাঙাটা বায় যেন আজ চণ্ডিদাশের বড়শি
মেঘ হয়ে যায় শিমুলতুলো আকাশ পারের পড়শি।
[নিসর্গটা কাব্য হবে]
শিশির কাননের প্রচ্ছদে এই কিশোর কাব্যগন্থটি প্রকাশ করেছে ঢাকার সাহিত্যদেশ প্রকাশন। মিত্র খলিলকে উৎসর্গকৃত এই বইটি একুশে বইমেলা ২০১২ এ সাহিত্যদেশের স্টলে পাওয়া যাবে। এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার উপযোগী, সংগ্রহে রাখার মতো সুন্দর এই গ্রন্থটির মূল্য মাত্র ১০০ টাকা। আশা করি বইটি বহুল প্রচার পাবে।
http://www.skdeendunia.com/?p=48
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন