“ওরা দেখল ক্লাইস তাদের সামনেই নিশ্চল হয়ে পড়ে আছে। এই প্রথম তার চোখে ধূর্ততার বদলে এক অবাক, হতভম্ব দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে। কিমরা এবার সেই জঙ্গলী মানুষগুলোর দিকে অবাক হয়ে তাকাল। এরাই তো আজ ক্লাইসের হাত থেকে তাদেরকে বাঁচাল। বাঁচার এই পৃথিবীকে। অথচ ওরা নিজেরাও তা জানে না! শত্র“-মিত্র চিনতে কখনো সভ্য হতে হয় না।” জিনাত আরিফার সায়েন্স ফিকশন মানেই অন্য অনুভূতি, সাবলীল বর্ণনার অদৃশ্য আকর্ষণ, এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার অবাক ভালোলাগা। প্রত্যাশার প্রতিদান পেয়েছি তার ‘প্রতিদান’ রচনায়। ভয় হয় কখন না তিনি হারিয়ে যান! পি¬জ, এমনটি করবেন না। শত ব্যস্ততায়ও নিয়মিত উপস্থিত থাকার আবদার করি। পাঠকের ভালোবাসার ‘প্রতিদান’ কিন্তু আপনাকেও দিতে হবে।
আশীষ-উর-রহমান। বাংলার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের ছিটেফোটাও তার দৃষ্টি এড়ায় না। রূপসন্ধানী চোখের অদ্ভুত দৃষ্টিজালে তুলে আনে ষড়ঋতুর দৃশ্যমান অদৃশ্যমান চিত্র। তার শৈল্পিক ভাবনায় হেমন্তকে পেয়েছি অন্যরকম আবহে। “দূরে গ্রামের গাঢ় সবুজ রেখার উপর জমে থাকে রান্নাঘর থেকে ওঠা ধোঁয়ার কুণ্ডলী। বাতাসে গা শিরশির করা শীতের স্পর্শ। মাঠের প্রান্তে খড়বিচালী জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে দেয় কেউ কেউ। কমলা রঙের লকলকে শিখার ওপর পাক খেয়ে ওঠা ধোঁয়ার স্তম্ভ নিচু হয়ে আসা কুয়াশার চাদরে মিশে গিয়ে রহস্যময় ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে রাখে।” শিশির ভেজা হেমন্তে সূর্যের নিজের সাথে নিজের লুকোচুরির দৃশ্য ফুটিয়েছেন এভাবে- “দেখতে দেখতেই ডিমের কুসুমের মতো সোনালী থেকে সিঁদুরের মতো লাল। দিগন্তে অকাতরে লাল, কমলা, গৈরিক রঙের ছোপছাপ মাখিয়ে টুপ করে লাপাত্তা।” ধন্যবাদ আশীষ-উর-রহমানকে। তার উপস্থিতি কামনা করবো প্রতিনিয়ত।
একটা ‘রম্যগল্প’ (?) পেলাম এ সংখ্যায়Ñ ‘যন্ত্রণা’। আমার কাছে এটি ‘যন্ত্রণাগল্প’ মনে হয়েছে! হয়তো ‘রম্যগল্প’ মানে কী আমি বুঝি না। দুঃখিত, এটা আমার সীমাবদ্ধতা। এক বন্ধু বললেন, “রম্যগল্পে ‘হাসির উপাদান’ না থাকায় আমার ‘হাসি’ পেয়েছে!” আমি জানি না ‘গল্পবিশেষজ্ঞদের’ (!) ‘রম্যগল্পে’ সর্বদা ‘হাসির উপাদান’ থাকতে হয় কি না!
মুহাম্মদ আরকানুল ইসলামের ‘স্বাদ’ গল্পে অন্যরকম স্বাদ পেয়েছি। বর্ণনায় মুন্সিয়ানার ছাপ চোখে পড়ার মতো। এ সংখ্যার শ্রেষ্ঠ গল্প বলতে দ্বিধা নেই।
কবিতামালায় যাদের নাম উলে¬খ করার মতোÑ হ. ম. সাইফুল ইসলাম মঞ্জু, মীম হুমায়ুন কবীর, জিসান মেহ্বুব, তানজিল রিমন, জাহিদ রুমান, মোল¬া মাজেদ, কাজী জুবাইর ও মাহমুদুল হাসান নিজামী। মোঃ ইয়াহ্ইয়া নিজামী ভালো লিখলেও আঙ্গিক ও ভাবনায় নতুনত্ব বা মৌলিকত্ব নেই। এই খোলসের বাইরে গিয়েও স্রষ্টার পরিচয় জানানো যেতো। ‘নবীন হাতের কলমে’ প্রশংসা করতে হয় ছাবিলা ইয়াছমিন মিতা, সুমাইয়া আযম ও আয়িশা খন্দকার পারভীনের। ঋজুয়ান ফেরদৌস আরেকটু যতœ নিতে পারতো (বিশেষ করে ৮ম ও ৯ম পঙ্ক্তিতে)।
আব্দুল হালিম খাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে যারা হয়রানির চেষ্টা করেছেন তারা নিঃসন্দেহে অরুচিকর ও নিন্দনীয় কাজ করেছেন। অন্যদিকে নবীন সমালোচকদের আক্রমণ করে ‘এক চক্ষুবিশিষ্ট হরিণ’ বা ‘দৈত্য’ তকমা লাগানোও ভালো লাগেনি। সাহিত্য সমালোচনার বিদ্যায়তনিক বৃত্ত থেকে যুক্তিনির্ভর কথা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। তা সে নবীন হোক আর প্রবীন হোক। এ আয়তনের বাইরে গিয়ে সমালোচনা যে হয় না, তা বলছি না। তবে তাদের কথার প্রত্যুত্তর দিতে ‘তাদের অস্ত্র’ ব্যবহার কতটা যুক্তিযুক্ত? কোন লেখা পাঠকের ভালো লাগার কিংবা মানুষকে সম্মান শ্রদ্ধার জন্য ‘সীমিত সীমায় বিচরণ’ বা ‘অবাধ দুনিয়ায় ঘোরাঘুরি’ বড় বিষয় নয়। তবে যারা নিজেরটাকেই শুধু ঠিক মনে করে তাদের কথা আলাদা। তাই গতানুগতিক ধাঁচের গল্পকে ‘ফিচার’ বলায় ‘কী কী কারণে ফিচার নয়’ তা না জানিয়ে ‘মি. মাহমুদ’ সম্বোধন করতে বাঁধে না।
সেপ্টেম্বর’১১ সংখ্যায় প্রকাশিত আমার ‘কেউ’কে বোঝে না কেউ কবিতায় মুদ্রণগত ত্র“টির কারণে কবিতাকে বোঝেনি কেউ! পাঠ প্রতিক্রিয়ায় জিসান মেহ্বুব সেটা জানিয়েছেন। আসলে কবিতাটি ছিল নিুরূপ (১, ২... এর অর্থ উলে¬খ করে দিলাম) :
১. খলিল
তার বুকে বিধে গেছে কষ্টের তীর!
দিনকাল এলোমেলো, মন অস্থির।
কাছে এসে বসে তাই আমার ছায়ায়,
গায়ে দিই হাত বুলে অসীম মায়ায়।
২. নাদিম
সে আমার ‘ভালোবাসা’ ছোট এক ভাই,
তার যত অসুবিধা সমাধান চাই।
প্রীতির শিকড়ে তাকে আগলে যে রাখি,
ব্যথা পাই, তবু তার পাশে পাশে থাকি!
৩. রনি
তার নেই সখী কেউ; বন্ধু স্বজন
সুখ ভালোবাসা তার মিথ্যা স্বপন!
সারাদিন চুপচাপ উদাসীন মনÑ
কাছে টেনে নিই তারে করি যে আপন।
তার যত দুখ-ব্যথা নিশ্চুপ শুনি,
হৃদয়ের সুতো দিয়ে মায়াজাল বুনি।
৪. ঋজুয়ান
হাজার লোকের ভীড়, তবুও সে একা!
বেদনার কালি দিয়ে ভাগ্যটা লেখা!
খেলা-পড়া, ঘোরাঘুরি, মশগুল কাজে
অদ্ভুত বিরহের সুরটাই বাজে!
অবসর পেলে তাই আমাকেই ডাকে,
ব্যথার বোঝাটা তার তুলে নিই শাখে।
৫. সুতরাং...
খলিল, নাদিম কিবা রনি, ঋজুয়ান
সকলের সাথে মিশি কথা অফুরান।
সকলের মন বুঝি আমি ‘গাছপালা’Ñ
বুঝলো না কেউ এই বুকে কত জ্বালা!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন