‘কবিতা যে মানুষের উপকার বা অপকার কিছুই করতে পারে না, এই তত্ত্বে ফররুখ আহমদ বিশ্বাস করতেন না। তিনি মনে করতেন, কবিতা মানুষের চিত্তে যদি আনন্দের সঞ্চার করতে পারে, তবে সে আঘাত করারও ক্ষমতা রাখে। তার কবিতা যেমন অনেক মানুষের হৃদয়তন্ত্রীতে ঝঙ্কার তুলত, তেমনি আবার অনেক মানুষ তার কবিতার হাত থেকে রেহাই পেতে চাইতেন’- আদর্শের কবি ফররুখ আহমদ সম্পর্কে এমন মন্তব্য আরেক বিশ্বাসী কবি আল মাহমুদের। ফররুখ আহমদ তার কাব্যচর্চাকে মানুষের কল্যাণের পথে উৎসর্গ করতে চেয়েছেন। সাহিত্যসাধনাকে তাই চালিত করেছেন আদর্শের পথে। কাব্যের ঝঙ্কারে জাগাতে চেয়েছেন জগৎকে। কলমের রথ ছুটিয়েছেন শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে।
কবি ফররুখ আহমদ তার চারপাশের পরিবেশ দেখে অত্যন্ত বিচলিত হন। মর্মাহত হন মানবতার দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে। তিনি দেখেন আধুনিক যুগে মানুষ অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়ছে। মানবিক গুণাবলীবর্জিত বিবেকহীন হন্তারক মানুষ নিজেই নিজের মৃত্যু ডেকে আনছে। ধ্বংস ডেকে আনছে সমগ্র মানবতার। দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের হাহাকার, আর্তনাদ, অনাহারক্লিষ্টের করুণ পরিণতি, সমকালের সংকট, জরাগ্রস্ত বাস্তবতা দেখে তিনি আঘাত পান।
কোন প্রকৃতির কাছে আজ ওরা পড়িয়াছে বাঁধা
গোলাপের পাপড়িতে ছুঁড়িতেছে আবর্জনা, কাদা
কোন শয়তান?
বিষাক্ত কামনা দিয়ে কে ভরায় আকাশের
রঙিন খিলান?
[লাশ/ সাত সাগরের মাঝি]
কবি লক্ষ করেন শাসকগোষ্ঠীর চরিত্র। জনতার ভোট পেয়ে যারা ক্ষমতার গাড়ি হাতে পায়, সেই গাড়ি তারা জনতার বুকের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেয়। গণমানুষের মন ধু ধু বালুচর। দুঃখী মানুষের সমর্থন পেয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে শাসক আর আশ্রয়হীন, ক্ষুধার্ত মানুষ কাতরায় ডাস্টবিন-নর্দমার পাশে।
জনতার সিঁড়ি বেয়ে ঊর্ধ্বে উঠি অতি অনায়াসে
তারে তুমি ফেলে যাও পথ-প্রান্তে নর্দমার পাশে।
[লাশ/ সাত সাগরের মাঝি]
মানুষের হাড় দিয়ে করেছো এ নগর পত্তন
মরুভূমি হলো বন, মরুভূমি মানুষের মন।
[পোড়ামাটি]
ফররুখ আহমদ তার সমগ্র অস্তিত্ব দিয়ে পুঁজিপতিদের শোষণ প্রত্যক্ষ করেছেন। চৈতন্যের সবটুকু আলোড়ন দিয়ে অনুভব করেছেন জড়সভ্যতার ভ ামি। বিশ্বশান্তি ও মানবিক ঔদার্যের জন্য স্ফীতমেত শোষকশ্রেণীর প্রতি তীব্র ঘৃণা, ধিক্কার জানিয়েছেন। কবি এ নিষ্ঠুর সভ্যতাকে ধ্বংস করে মানবিক সমাজ গড়তে চান।
হে জড়সভ্যতা!
মৃত সভ্যতার দাস স্ফীতমেদ শোষকসমাজ
মানুষের অভিশাপ নিয়ে যাও আজ
তারপর আসিলে সময়
বিশ্বময়
তোমার শৃঙ্খলগত মাংসপিে পদাঘাত হানি
নিয়ে যাবো জাহান্নাম দ্বারপ্রান্তে টানি
আজ এই উৎপীড়িত মৃত্যু-দীর্ণ নিখিলের অভিশাপ বও
ধ্বংস হও, তুমি ধ্বংস হও।
[লাশ/ সাত সাগরের মাঝি]
কবি তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য আদর্শিক জীবনব্যবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন-দর্শনের সন্ধান করেন। তখন সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। অনাহারি, নির্যাতিত শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তিসনদ হিসেবে সমাজতন্ত্রকে দেখতে পান। তিনি সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হন। কিন্তু কিছুদিন পরেই এ মতবাদের অপূর্ণতা অনুভব করেন। জীবনের অন্যান্য দিক সম্পর্কে মার্কসীয় চিন্তাধারা কবিকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তিনি অন্যান্য মতবাদ, জীবনাদর্শ বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন। লক্ষ করেন জীবন সম্পর্কিত নানা মতবাদের অপূর্ণতা। জীবনের এ পর্যায়ে ইসলামকে একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আদর্শ হিসেবে দেখতে পান। বলা হয়ে থাকে, তিনি আল্লামা ইকবালের কবিতা দ্বারা প্রভাবিত হন। কিন্তু আল্লামা ইকবালের কবিতার তুলনায় ইকবালের জীবনদর্শন ইসলামের শিক্ষায় বেশি মুগ্ধ হন। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ইসলাম সম্পর্কে প্রচুর অধ্যয়ন করেন। তিনি উপলব্ধি করেন ইসলাম মানুষের যেসব অধিকার দিয়েছে, মানবতার কল্যাণে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তায় ইসলাম যা দান করেছে মার্কসীয় ভাবনায় তাকে অতিক্রম করার শক্তি নেই। তিনি দেখতে পান এগুলো কেবলই তত্ত্বকথা নয়, ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তা বাস্তবায়ন করে ইসলামের সাম্য, শান্তি ও অধিকারের স্বরূপ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। এই বিশেষ বোধে উজ্জীবিত হয়ে তিনি নিজের পথ বেছে নেন। কবির এ অবস্থানের জন্য তাকে ‘সাম্প্রদায়িক’ ও ‘অতীতমুখী’ বলা হয়। কিন্তু ইসলামের প্রতি কবির সমর্পণের পেছনে কোনো স্বগোত্রীয় মনোবৃত্তি কাজ করেনি, জাতীয়তাবাদী সংকীর্ণতার স্থান ছিল না। তার বিশ্বাসে ছিল না কোনো খাদ। একমাত্র কারণ ছিল মানবতাবোধে উজ্জীবিত হওয়া। তিনি ইসলামপ্রত্যয় এবং মানবপ্রত্যয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ প্রত্যক্ষ করেননি। তিনি দেখেছেন উভয়টি এক মোহনায় এসে মিলিত হয়েছে। অধ্যাপক আব্দুল গফুর লিখেছেন, “ফররুখের আদর্শ চেতনার একটা বড় বৈশিষ্ট্য এই যে, সাধারণভাবে মুসলমানদের নবজাগরণের জন্য অতীত থেকে প্রেরণা লাভ করলেও বাস্তবে কিন্তু তিনি অতীতমুখী নন। অতীতের পুনরুজ্জীবন নয়, উজ্জ্বলতর ভবিষ্যতের পানে অভিযাত্রার স্বার্থে অতীতের স্বর্ণোজ্জ্বল দিনগুলো থেকে শিক্ষা ও প্রেরণা গ্রহণই তার কাম্য। আধুনিক বিশ্বের বিভিন্ন্ মতবাদের অপূর্ণতা ও ব্যর্থতাই যে তাকে মানবতার মুক্তির তাগিদে এ পথে ঠেলে দিচ্ছে তাও তার কাব্যে সুস্পষ্ট।”
আজকে তোমার পাল ওঠাতেই হবে
ছেঁড়া পালে আজ জুড়তেই হবে তালি
ভাঙা মাস্তুল দেখে দিক করতালি
তবুও জাহাজ আজ ওঠাতেই হবে।
[পাঞ্জেরী/ সাত সাগরের মাঝি]
এখানে এখন রাত্রি এসেছে নেমে
তবু দেখা যায় দূরে বহুদূরে হেরার রাজ তোরণ
এখানে এখন প্রবল ক্ষুধায় মানুষ উঠেছে কেঁপে
এখানে এখন অজস্র ধারা উঠছে দু’চোখ ছেপে
তবু দেখা যায় দূরে বহুদূরে হেরার রাজ তোরণ
[সাত সাগরের মাঝি]
কবি ফররুখ আহমদ শুধু এক বিশেষ ঐতিহ্যানুসারী ছিলেন না। ছিলেন ঐতিহ্যসন্ধানীও। ইসলামের হারানো ইতিহাস আর নানা কাব্য ও কল্পকাহিনীতে তিনি কবিতার উপজীব্য খুঁজেছেন। মেঘনাদ বদ কাব্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত পদে পদে পৌরাণিক উপমার আশ্রয় নিয়েছেন। ফররুখ আহমদ মুসলিম ঐতিহ্যের নিজস্ব ভার থেকে তার উপমা সম্ভার সংগ্রহ করে ভাবি কাব্যকারদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। এই তরুণ কবির মানসরাজ্যে নানা কল্পনারাগের সৃষ্টি করেছে আরব্য উপন্যাসের নাবিক সিন্দাবাদ। নীল দরিয়ার অথই তরঙ্গে অকূলের আহ্বান তার ঘরছাড়া মনকে উতলা করে। অজানার টানে বার বার নোঙর তোলে। তিনি সকল আরাম আয়েশ ছেড়ে, খাকের মমতা ভেঙে নতুন পানিতে সফর করতে চান।
ভেঙে ফেল আজ খাকের মমতা আকাশে উঠেছে চাঁদ
দরিয়ার বুকে দামাল জোয়ার ভাঙছে বালুর বাধ,
ছিড়ে ফেলে আজ আয়েশী রাতের মখমল অবসাদ
নতুন পানিতে হাল খুলে দাও, হে মাঝি সিন্দাবাদ।
[সিন্দাবাদ/ সাত সাগরের মাঝি]
আহা সে নিকষ আকীক বিছানো কতদিন পরে ফিরে
ডেকেছে আমাকে নীল আকশের তীরে
ডেকেছে আমাকে জিন্দেগী আর মওতের মাঝখানে
এবার সফর টানবে আমাকে কোন স্রোতে কে বা জানে
তবে তিনি নিরুদ্দেশ যাত্রা করতে চাননি। তার মনমাঝিকে যাত্রা করতে বলেছেন এক অনাবিল আদর্শের দেশে। তিনি জানেন, এ পথে বিপদ আছে, ব্যর্থতা আছে, আছে বিষাক্ত সাপের উদ্যত ফণা। কিন্তু ‘হেরার রাজ তোরণ’ তাকে নব সৌন্দর্যের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
যদিও শ্বাপদ তোলে বিষাক্ত ফণা
যদিও এখানে অসহ্য হ’ল হীনতার যন্ত্রণা
তবু বহুদূরে ডাক দিল আজ হেরার শিখড় চূড়া
ভেরার কপাট খোলো আজ বন্ধুরা
[এই সংগ্রাম/ সিরাজাম মুনীরা]
আমাকে জাগাও যেখানে সেনানী, মানে না বাঁধন রবি
আমাকে জাগাও যেখানে দীপ্ত সে মদীনাতুন্নবী
বিশ্বকরুণা, মুক্তিপদ্ম- বেদনা লাল
বহিছে চিত্ত সুরভিত শ্বেত আল হেলাল
ফররুখ আহমদ মুসলমানদের বিধ্বস্ত জীবন-অভীপ্সার স্বরূপ অšে¦ষণ করেছেন। মুসলমানদের কাছে নির্ভুল জীবনাদর্শ থাকতেও তাদের পিছিয়ে পড়ার কারণ খোঁজেন। তিনি আবিষ্কার করেনÑ ‘শুধু গাফলতে, শুধু খেয়ালের ভুলে/দরিয়া অথই ভ্রান্তি নিয়েছি তুলে’। দুঃসময়ের সুকঠিন প্রাচীরে মাথা না ঠুকে তাদের সচেতন হবার আহ্বান জানান। সকল আগাছা জঞ্জাল ছুঁড়ে ফেলে আদর্শের নৌকায় উঠে বসতে বলেন। বিরুদ্ধ সময়ের খোলস ছিঁড়ে অন্তর্সত্তায় রক্তাক্ত আত্মা-উন্মোচন নিয়ে ফররুখের কবিতা যাত্রা করেছে আলোকিত ভবিষ্যতে।
তুমি উঠে এসো তুমি উঠে এসো মাঝি মাল্লার দলে
দেখবে তোমার কিশতী আবার ভেসেছে সাগর জলে।
[সাত সাগরের মাঝি]
আর একবার তুমি খুলে দাও জরোকা তোমার
আনুক তারার আলো চিন্তার জটিল ঊর্ণাজালে
যে মন বিভ্রত,আজ জাগুক আবার ছন্দতালে
এখানে সমস্যাকীর্ণ এ জগতে এসো একবার।
কবি আশ্চর্যান্বিত হন মুসলমানদের অলসতা ও ঔদাসীন্য দেখে। শতাব্দীর পথশ্রান্ত আলস্য-জড়িমা ঘুচাতে তিনি গেয়ে যান ঘুম ভাঙানিয়া গান।
তবে তুমি জাগো, কখন সকালে ঝরেছে হাসনা হেনা
এখনো তোমার ঘুম ভাঙল না? তবু তুমি জাগলে না।
[সাত সাগরের মাঝি]
সুরাত জামাল জওয়ানির ঠোঁটে বেকার নওজোয়ান
ভাবে জীবনের সব মধু লোটে কমজোর ভীরু প্রাণ
এ আশ্চর্য আমাদের কাছে! কিশতী ভাসায়ে স্রোতে
আমরা পেয়েছি নিত্য নতুন জীবনের তাজা ঘ্রাণ।
[সিন্দাবাদ/ সাত সাগরের মাঝি]
কবি এক শান্তিপূর্ণ সমাজ নির্মাণের প্রত্যাশা করেন। সমগ্র মানবতা ও তার সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা অধ্যয়ন করেন। জীবনের খণ্ড খণ্ড ঘটনাবলী, মানবিক কার্যক্রম ও খণ্ডিত আবেগ অনুভূতিকে একটি বিশ্বজনীন সত্যের ছাঁচে ঢালাই করে নিয়েছেন। তাই তার দৃষ্টি কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঘুলঘুলিতে আটকে যায়নি। অথবা বিলাসিতার শুড়িখানায় হাত পা ছাড়িয়ে চিৎ হয়ে পড়ে থাকেনি। প্রেমিকার নরম চুলের ভেতর মুখ গুঁজে পারিপার্শ্বিকতাকে ভুলে যায়নি। বরং সব হতাশা ও নৈরাশ্যকে গলা টিপে হত্যা করে, সকল অকল্যাণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামমুখর হয়ে, প্রতিকূল পরিবেশের প্রাচীর ভেঙে নতুন দুনিয়া গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন।
আজকে উমরপন্থী পথীর দিকে দিকে প্রয়োজন
পিঠে বোঝা নিয়ে পাড়ি দেবে যারা প্রান্তর প্রাণপণ।
অথবা,
সত্য ন্যায়ের সে পথে ভাঙুক সব সংকীর্ণতা
হারানো সে-দিন এ রাতের সাথে আবার বলুক কথা।
[উমর-দরাজ দিল/ সিরাজাম মুনীরা]
ফররুখের সাফল্য হলো, তিনি আদর্শের জন্য কবিতার সাথে আপোষ করেননি। বিশ্বাস আর আবেগের তোড়ে খাঁটি কবিতার সীমা লংঘন করেননি। কবিতার মূল্যে কণ্ঠস্বরের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেননি। তার বক্তব্যে উচ্চরোল ছিল, কিন্তু তা উপস্থিত করা হয়েছে কবিতার পোশাকে। কথা বললেই তো কথা সুন্দর হয় না, সুন্দর হয় বলার ভঙ্গিতে। আবুল ফজলের ভাষায়- “একটা সুনির্দিষ্ট মতাদর্শে প্রবল বিশ্বাসী থেকেও ফররুখ আহমদ বিশুদ্ধ কবি ছিলেন। এ কারণে আপন লক্ষ্যে সনিষ্ঠ থেকেও কবিতার নানা স্রোতে বিচরণ তার পক্ষে সহজ হয়েছে। আর্দশনিষ্ঠ কবিতা সাধারণত একচোখা তথা একস্রোতা হয়ে থাকে। সুখের বিষয়, ফররুখ আহমদের বেলায় তা হয়নি। রচনার অজস্রতায়, আঙ্গিক আর ভাবের বৈচিত্র্যে নতুন আমদানি করা শব্দ সম্ভারে এ কবি নিশ্চিতভাবে আমাদের সাহিত্যের সম্পদ বাড়িয়ে দিয়েছে। আবুল ফজল আরও বলেন, তার সমসাময়িক কবিকুলের মধ্যে তিনি এতখানি বিশিষ্ট, স্বতন্ত্র ও একক ছিলেন যে তাকে সহজে কাতারবন্দি করা যায় না। তাই তার তিরোধানে এমন এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে যার জন্যে আমরা বিপরীতমনারাও বেদনাবোধ না করে পারি না। সৈয়দ আলী আহসান লিখেছেন, ফররুখের কাব্য প্রক্রিয়ায় যেহেতু একটা বিশ্বাসের উন্মুখরতা ছিল, তাই তার পাঠকের সংখ্যা আমাদের মাঝে সর্বাধিক। বিশ্বাসের সে একটা কল্লোলিত সর্মথন পেয়েছে। আবার ব্যবহৃত শব্দের পরিধির সার্থক বিবেচনায় এবং ধ্বনি সাম্যের কারণে অবিশ্বাসীরাও তাকে অগ্রাহ্য করতে পারেনি। তার কবিতায় উপমা চিত্রকল্পের কিছু উদাহরণ দেখব :
১. দেখ আসমানে ফোটে সিতারার কলি
আরশির মত নিটোল পানিতে মুখ দেখে বকাওলি
২. ঘন সিন্দোল কাফুরের বনে ঘোরে এ দিল বেহুঁশ
হাতির দাঁতের সাঁজোয়া পরেছে শিলাদৃঢ় আবলুস
পিপুল বনের ঝাঝালো হাওয়ায় চোখে যেন ঘুম নামে
নামে নির্ভীক সিন্ধু-ঈগল দরিয়ার হাম্মামে।
৩. তুফানের ছাঁচে ঘূর্ণাবর্তে সুগঠিত তার তনু
পুষ্ট পালকে পিছলিয়া পড়ে প্রবাল বর্ণধনু
৪. প্রবাল দ্বীপের গোড়া পত্তন হবে
কি করে সে কথা হয়ে গেল জানাজানি
দল বেঁধে এলো অজুত প্রবাল-কীট
কাঁপায়ে দু’পাশে দরিয়ার লোনা পানি।
ভাব প্রকাশের উপযোগী পরিম ল সৃষ্টির প্রয়োজনে উপযুক্ত শব্দ চয়নের কৃতিত্বে কালোত্তীর্ণ। আরবি-ফারসি শব্দের যেমন যথার্থ ব্যবহার করেছেন, তেমনি তৎসম-তদ্ভব শব্দের ব্যবহারেও কার্পণ্য করেননি। বাংলা শব্দের ধ্বনির সঙ্গে আরবি-ফারসি ধ্বনির সাযুজ্যে ফররুখ আহমদের কবিতা আবৃত্তির জন্য সুষম। বলা যায় যে আবৃত্তির একটি বলিষ্ঠ তৎপরতায় বিকশিত। মাত্রাবৃত্ত ছন্দের ছয় মাত্রার সমগতির কয়েকটি পর্বে, চরনান্তের খন্ডপর্বসহ আবৃত্তিযোগ্য একটি সহজপ্রবাহ নির্মিত হয়েছে ফররুখ আহমদের অধিকাংশ কবিতায়। দু’টি চরণ আবৃত্তি করা যাক-
১. আমাদেরি ভূলে পানির কিনারে মুসাফির দল বসি
দেখেছে সভয়ে অস্ত গিয়েছে তাদের সেতারা শশী।
২. ডাকে বাগদাদী খেজুর শাখায় শুক্লা রাতের চাঁদ
মাহাগির বুঝি দজলার বুকে ফেলে জোছনার জাল।
কবির সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ও সফলতা হল, তিনি যা বিশ্বাস করতেন, তার কাব্যে যে সব তত্ত্বকথা আওড়াতেন নিজের জীবনে তা পূূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতেন। ইসলাম, আর্দশ, সততা, সাধুতার কথা অনেক কবি-লেখকই বলেছেন, কিন্তু তাদের ব্যক্তিজীবনে নিজেরাই সেই আদর্শের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন এমন নজির খুব কম। ফররুখ আহমেদ সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বাইরে বিশ্বের সাথে সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার আগে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করেছেন। শাহাবুদ্দীন আহমাদের ভাষায়, “চলিষ্ণু যে চিন্তার স্রোতে শিল্প জগতের অধিকাংশ মানুষ সন্তরণ করছিলেন, সেই একই নদীস্রোত তাকে আকর্ষণ করতে পারেনি। তিনি শিল্পী ছিলেন, শিল্পের পরিধিহীন বন্ধনহীন বিদ্রোহী জীবনের পক্ষপাত ছিলেন না।” আবুল ফজল বলেন, “তার সবচেয়ে বড় গুণ হল, তিনি কখনো নিজের আদর্শকে বিসর্জন দেননি। কোন অবস্থাতেই, কোন প্রলোভনে পড়ে তিনি তার নীতি নিয়ে আপস করেননি। দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করেছেন, অভাবের সাথে যুদ্ধ করেছেন কিন্তু নীতির বিষয়ে কোন আপস করেননি। তার ধর্মচেতনা, নৈতিকতাবোধ অত্যন্ত দৃঢ় ছিল, সেগুলো তার রচনায় প্রতিফলিত হয়েছে।” তার মৃত্যুর পর শামসুর রাহমান লিখেছেন, “তিনি মারা গেছেন একেবারে নিঃস্ব অবস্থায়। না, ভূল বললাম, নিঃস্ব কথাটা তার জন্য প্রযোজ্য নয়। তার মানসিক ঐশ্বর্য্যের কোন কমতি ছিল না। তিনি রেখে গেছেন এমন কয়েকটি গ্রন্থ, যেগুলো পঠিত হবে দীর্ঘকাল। …সারাজীবন তিনি দারিদ্র্যের সাথেই ঘর করেছেন। জাহান্নামে বসে হেসেছেন পুষ্পের হাসি। দারিদ্রতা তার শরীরকে ক্ষইয়ে দিয়েছিল ভীষণভাবে, কিন্তু কখনো কামড় বসাতে পারেনি তার মনের ওপর।” সৈয়দ আবুল মকসুদ মন্তব্য করেছেন, “অমিততেজ ও উর্দ্যত ফররুখ যদি পাক শাসকদের প্রতি একটু মৃদু হেসে তাকাতেন, তা হলেই ফিরে যেত তার জাগতিক অবস্থা। কিন্তু তিনি ঘৃণার সঙ্গে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন আজীবন। তার বিশ্বাসে কোন খাদ ছিল না, তার বক্তব্য ছিল ঋজু ও দ্ব্যর্থহীন। ভাষাআন্দোলনের সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এটা দৃঢ়ভাবেই আশা করা যায় যে, পাকিস্তানের জনগণের বৃহৎ অংশের মতানুযায়ী পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নির্বাচিত হবে। যদি তাই হয় তাহলে একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, বাংলা ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।’ (সওগাত আশ্বিন, ১৩৫৪)।”
বলা হয়ে থাকে, একজন সত্যিকার কবির তিনটি প্রধান গুণ থাকা আবশ্যক। সুস্পষ্ট জীবনদর্শন, কাব্য আঙ্গিকের স্বাতন্ত্র ও মৌলিকত্ব এবং বক্তব্যে তীব্রতা। কবির জীবনদর্শন হতে হয় মানবতার কল্যাণকেন্দ্রিক, সত্য ও ন্যায়ের পথে। তার কলম কেবল আনন্দের গীত গায় না- একই সাথে গায় জাগরণী সঙ্গীত। মানুষের ভেতরের ঘুমন্ত মানবতাকে জাগিয়ে তোলে। নিজের সমালোচনা শক্তির সাহায্যে একজন অভিজ্ঞ সার্জনের মতো সমাজ দেহের অসুস্থতার মূল কেন্দ্রে হাত রাখে। অত্যন্ত সতর্কতা ও আন্তরিকতার সাথে ফোড়া টিপে টিপে তার সব পুঁজ বের করে দেয় এবং সমগ্র সমাজ দেহের রক্ত পরিশুদ্ধ করে। ফররুখের জীবনদর্শন তথা আদর্শ ছিল ইসলাম। মানুষকে ভালোবেসেছিলেন বলেই মানবতার ধর্ম ইসলামকে ভালোবেসেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ আনা হয়। বলা হয়, তিনি কেন শুধু মুসলমানদের নিয়ে লিখেছেন? কথাটা অনেকখানি ‘মধুসূদন, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ কেন মুসলমানদের নিয়ে লিখলেন না’র মতো হয়ে যায়। আমরা দেখতে পাই, ফররুখ আহমদ অন্য ধর্মাবলম্বীদের কটাক্ষ করেননি। তিনি ইসলামী জীবনব্যবস্থাকে সেই জীবনদর্শন মনে করতেন, যার বিধানে কল্যাণ আছে সমগ্র মানবতার, শুধু মুসলমানদের নয়। মোটকথা, ফররুখ বিভ্রান্ত চিন্তার অলিতে গলিতে ছুটে বেড়াতে চাননি। চিন্তার স্থিরতার মাধ্যমে জীবনকে কোন এক লক্ষ্যবিন্দুতে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব পালন করেছেন।
তথ্যসূত্র
১. ফররুখ আহমদ রচনাবলী
- আব্দুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদিত,
২.ফররুখ আহমদ : মানবতার কবি
- গাউসুর রহমান,
৩.ফররুখ আহমদ : ব্যক্তি ও কবি
- শাহাবুদ্দীন আহমদ সম্পাদিত
ক. তার বিশ্বাস অকৃত্রিম
- আবুল ফজল
খ. ফররুখ আহমদ
- সৈয়দ আলী আহসান
গ. নতুন পানিতে সফর এবার
- শামসুর রাহমান
ঘ. ন্যায়ের পথে নিঃসঙ্গ কবি
- আল মাহমুদ
ঙ. ফররুখ মানস : তার কবিতা
- অধ্যাপক আব্দুল গফুর
চ. তার স্বপ্নরাজ্যে তিনি একা
- সৈয়দ আবুল মকসুদ
ছ. ফররুখের অভিনবত্ব
- শাহাবুদ্দীন আহমদ
কবি ফররুখ আহমদ তার চারপাশের পরিবেশ দেখে অত্যন্ত বিচলিত হন। মর্মাহত হন মানবতার দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে। তিনি দেখেন আধুনিক যুগে মানুষ অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়ছে। মানবিক গুণাবলীবর্জিত বিবেকহীন হন্তারক মানুষ নিজেই নিজের মৃত্যু ডেকে আনছে। ধ্বংস ডেকে আনছে সমগ্র মানবতার। দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের হাহাকার, আর্তনাদ, অনাহারক্লিষ্টের করুণ পরিণতি, সমকালের সংকট, জরাগ্রস্ত বাস্তবতা দেখে তিনি আঘাত পান।
কোন প্রকৃতির কাছে আজ ওরা পড়িয়াছে বাঁধা
গোলাপের পাপড়িতে ছুঁড়িতেছে আবর্জনা, কাদা
কোন শয়তান?
বিষাক্ত কামনা দিয়ে কে ভরায় আকাশের
রঙিন খিলান?
[লাশ/ সাত সাগরের মাঝি]
কবি লক্ষ করেন শাসকগোষ্ঠীর চরিত্র। জনতার ভোট পেয়ে যারা ক্ষমতার গাড়ি হাতে পায়, সেই গাড়ি তারা জনতার বুকের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেয়। গণমানুষের মন ধু ধু বালুচর। দুঃখী মানুষের সমর্থন পেয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে শাসক আর আশ্রয়হীন, ক্ষুধার্ত মানুষ কাতরায় ডাস্টবিন-নর্দমার পাশে।
জনতার সিঁড়ি বেয়ে ঊর্ধ্বে উঠি অতি অনায়াসে
তারে তুমি ফেলে যাও পথ-প্রান্তে নর্দমার পাশে।
[লাশ/ সাত সাগরের মাঝি]
মানুষের হাড় দিয়ে করেছো এ নগর পত্তন
মরুভূমি হলো বন, মরুভূমি মানুষের মন।
[পোড়ামাটি]
ফররুখ আহমদ তার সমগ্র অস্তিত্ব দিয়ে পুঁজিপতিদের শোষণ প্রত্যক্ষ করেছেন। চৈতন্যের সবটুকু আলোড়ন দিয়ে অনুভব করেছেন জড়সভ্যতার ভ ামি। বিশ্বশান্তি ও মানবিক ঔদার্যের জন্য স্ফীতমেত শোষকশ্রেণীর প্রতি তীব্র ঘৃণা, ধিক্কার জানিয়েছেন। কবি এ নিষ্ঠুর সভ্যতাকে ধ্বংস করে মানবিক সমাজ গড়তে চান।
হে জড়সভ্যতা!
মৃত সভ্যতার দাস স্ফীতমেদ শোষকসমাজ
মানুষের অভিশাপ নিয়ে যাও আজ
তারপর আসিলে সময়
বিশ্বময়
তোমার শৃঙ্খলগত মাংসপিে পদাঘাত হানি
নিয়ে যাবো জাহান্নাম দ্বারপ্রান্তে টানি
আজ এই উৎপীড়িত মৃত্যু-দীর্ণ নিখিলের অভিশাপ বও
ধ্বংস হও, তুমি ধ্বংস হও।
[লাশ/ সাত সাগরের মাঝি]
কবি তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য আদর্শিক জীবনব্যবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন-দর্শনের সন্ধান করেন। তখন সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। অনাহারি, নির্যাতিত শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তিসনদ হিসেবে সমাজতন্ত্রকে দেখতে পান। তিনি সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হন। কিন্তু কিছুদিন পরেই এ মতবাদের অপূর্ণতা অনুভব করেন। জীবনের অন্যান্য দিক সম্পর্কে মার্কসীয় চিন্তাধারা কবিকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তিনি অন্যান্য মতবাদ, জীবনাদর্শ বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন। লক্ষ করেন জীবন সম্পর্কিত নানা মতবাদের অপূর্ণতা। জীবনের এ পর্যায়ে ইসলামকে একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আদর্শ হিসেবে দেখতে পান। বলা হয়ে থাকে, তিনি আল্লামা ইকবালের কবিতা দ্বারা প্রভাবিত হন। কিন্তু আল্লামা ইকবালের কবিতার তুলনায় ইকবালের জীবনদর্শন ইসলামের শিক্ষায় বেশি মুগ্ধ হন। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ইসলাম সম্পর্কে প্রচুর অধ্যয়ন করেন। তিনি উপলব্ধি করেন ইসলাম মানুষের যেসব অধিকার দিয়েছে, মানবতার কল্যাণে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তায় ইসলাম যা দান করেছে মার্কসীয় ভাবনায় তাকে অতিক্রম করার শক্তি নেই। তিনি দেখতে পান এগুলো কেবলই তত্ত্বকথা নয়, ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তা বাস্তবায়ন করে ইসলামের সাম্য, শান্তি ও অধিকারের স্বরূপ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। এই বিশেষ বোধে উজ্জীবিত হয়ে তিনি নিজের পথ বেছে নেন। কবির এ অবস্থানের জন্য তাকে ‘সাম্প্রদায়িক’ ও ‘অতীতমুখী’ বলা হয়। কিন্তু ইসলামের প্রতি কবির সমর্পণের পেছনে কোনো স্বগোত্রীয় মনোবৃত্তি কাজ করেনি, জাতীয়তাবাদী সংকীর্ণতার স্থান ছিল না। তার বিশ্বাসে ছিল না কোনো খাদ। একমাত্র কারণ ছিল মানবতাবোধে উজ্জীবিত হওয়া। তিনি ইসলামপ্রত্যয় এবং মানবপ্রত্যয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ প্রত্যক্ষ করেননি। তিনি দেখেছেন উভয়টি এক মোহনায় এসে মিলিত হয়েছে। অধ্যাপক আব্দুল গফুর লিখেছেন, “ফররুখের আদর্শ চেতনার একটা বড় বৈশিষ্ট্য এই যে, সাধারণভাবে মুসলমানদের নবজাগরণের জন্য অতীত থেকে প্রেরণা লাভ করলেও বাস্তবে কিন্তু তিনি অতীতমুখী নন। অতীতের পুনরুজ্জীবন নয়, উজ্জ্বলতর ভবিষ্যতের পানে অভিযাত্রার স্বার্থে অতীতের স্বর্ণোজ্জ্বল দিনগুলো থেকে শিক্ষা ও প্রেরণা গ্রহণই তার কাম্য। আধুনিক বিশ্বের বিভিন্ন্ মতবাদের অপূর্ণতা ও ব্যর্থতাই যে তাকে মানবতার মুক্তির তাগিদে এ পথে ঠেলে দিচ্ছে তাও তার কাব্যে সুস্পষ্ট।”
আজকে তোমার পাল ওঠাতেই হবে
ছেঁড়া পালে আজ জুড়তেই হবে তালি
ভাঙা মাস্তুল দেখে দিক করতালি
তবুও জাহাজ আজ ওঠাতেই হবে।
[পাঞ্জেরী/ সাত সাগরের মাঝি]
এখানে এখন রাত্রি এসেছে নেমে
তবু দেখা যায় দূরে বহুদূরে হেরার রাজ তোরণ
এখানে এখন প্রবল ক্ষুধায় মানুষ উঠেছে কেঁপে
এখানে এখন অজস্র ধারা উঠছে দু’চোখ ছেপে
তবু দেখা যায় দূরে বহুদূরে হেরার রাজ তোরণ
[সাত সাগরের মাঝি]
কবি ফররুখ আহমদ শুধু এক বিশেষ ঐতিহ্যানুসারী ছিলেন না। ছিলেন ঐতিহ্যসন্ধানীও। ইসলামের হারানো ইতিহাস আর নানা কাব্য ও কল্পকাহিনীতে তিনি কবিতার উপজীব্য খুঁজেছেন। মেঘনাদ বদ কাব্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত পদে পদে পৌরাণিক উপমার আশ্রয় নিয়েছেন। ফররুখ আহমদ মুসলিম ঐতিহ্যের নিজস্ব ভার থেকে তার উপমা সম্ভার সংগ্রহ করে ভাবি কাব্যকারদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। এই তরুণ কবির মানসরাজ্যে নানা কল্পনারাগের সৃষ্টি করেছে আরব্য উপন্যাসের নাবিক সিন্দাবাদ। নীল দরিয়ার অথই তরঙ্গে অকূলের আহ্বান তার ঘরছাড়া মনকে উতলা করে। অজানার টানে বার বার নোঙর তোলে। তিনি সকল আরাম আয়েশ ছেড়ে, খাকের মমতা ভেঙে নতুন পানিতে সফর করতে চান।
ভেঙে ফেল আজ খাকের মমতা আকাশে উঠেছে চাঁদ
দরিয়ার বুকে দামাল জোয়ার ভাঙছে বালুর বাধ,
ছিড়ে ফেলে আজ আয়েশী রাতের মখমল অবসাদ
নতুন পানিতে হাল খুলে দাও, হে মাঝি সিন্দাবাদ।
[সিন্দাবাদ/ সাত সাগরের মাঝি]
আহা সে নিকষ আকীক বিছানো কতদিন পরে ফিরে
ডেকেছে আমাকে নীল আকশের তীরে
ডেকেছে আমাকে জিন্দেগী আর মওতের মাঝখানে
এবার সফর টানবে আমাকে কোন স্রোতে কে বা জানে
তবে তিনি নিরুদ্দেশ যাত্রা করতে চাননি। তার মনমাঝিকে যাত্রা করতে বলেছেন এক অনাবিল আদর্শের দেশে। তিনি জানেন, এ পথে বিপদ আছে, ব্যর্থতা আছে, আছে বিষাক্ত সাপের উদ্যত ফণা। কিন্তু ‘হেরার রাজ তোরণ’ তাকে নব সৌন্দর্যের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
যদিও শ্বাপদ তোলে বিষাক্ত ফণা
যদিও এখানে অসহ্য হ’ল হীনতার যন্ত্রণা
তবু বহুদূরে ডাক দিল আজ হেরার শিখড় চূড়া
ভেরার কপাট খোলো আজ বন্ধুরা
[এই সংগ্রাম/ সিরাজাম মুনীরা]
আমাকে জাগাও যেখানে সেনানী, মানে না বাঁধন রবি
আমাকে জাগাও যেখানে দীপ্ত সে মদীনাতুন্নবী
বিশ্বকরুণা, মুক্তিপদ্ম- বেদনা লাল
বহিছে চিত্ত সুরভিত শ্বেত আল হেলাল
ফররুখ আহমদ মুসলমানদের বিধ্বস্ত জীবন-অভীপ্সার স্বরূপ অšে¦ষণ করেছেন। মুসলমানদের কাছে নির্ভুল জীবনাদর্শ থাকতেও তাদের পিছিয়ে পড়ার কারণ খোঁজেন। তিনি আবিষ্কার করেনÑ ‘শুধু গাফলতে, শুধু খেয়ালের ভুলে/দরিয়া অথই ভ্রান্তি নিয়েছি তুলে’। দুঃসময়ের সুকঠিন প্রাচীরে মাথা না ঠুকে তাদের সচেতন হবার আহ্বান জানান। সকল আগাছা জঞ্জাল ছুঁড়ে ফেলে আদর্শের নৌকায় উঠে বসতে বলেন। বিরুদ্ধ সময়ের খোলস ছিঁড়ে অন্তর্সত্তায় রক্তাক্ত আত্মা-উন্মোচন নিয়ে ফররুখের কবিতা যাত্রা করেছে আলোকিত ভবিষ্যতে।
তুমি উঠে এসো তুমি উঠে এসো মাঝি মাল্লার দলে
দেখবে তোমার কিশতী আবার ভেসেছে সাগর জলে।
[সাত সাগরের মাঝি]
আর একবার তুমি খুলে দাও জরোকা তোমার
আনুক তারার আলো চিন্তার জটিল ঊর্ণাজালে
যে মন বিভ্রত,আজ জাগুক আবার ছন্দতালে
এখানে সমস্যাকীর্ণ এ জগতে এসো একবার।
কবি আশ্চর্যান্বিত হন মুসলমানদের অলসতা ও ঔদাসীন্য দেখে। শতাব্দীর পথশ্রান্ত আলস্য-জড়িমা ঘুচাতে তিনি গেয়ে যান ঘুম ভাঙানিয়া গান।
তবে তুমি জাগো, কখন সকালে ঝরেছে হাসনা হেনা
এখনো তোমার ঘুম ভাঙল না? তবু তুমি জাগলে না।
[সাত সাগরের মাঝি]
সুরাত জামাল জওয়ানির ঠোঁটে বেকার নওজোয়ান
ভাবে জীবনের সব মধু লোটে কমজোর ভীরু প্রাণ
এ আশ্চর্য আমাদের কাছে! কিশতী ভাসায়ে স্রোতে
আমরা পেয়েছি নিত্য নতুন জীবনের তাজা ঘ্রাণ।
[সিন্দাবাদ/ সাত সাগরের মাঝি]
কবি এক শান্তিপূর্ণ সমাজ নির্মাণের প্রত্যাশা করেন। সমগ্র মানবতা ও তার সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা অধ্যয়ন করেন। জীবনের খণ্ড খণ্ড ঘটনাবলী, মানবিক কার্যক্রম ও খণ্ডিত আবেগ অনুভূতিকে একটি বিশ্বজনীন সত্যের ছাঁচে ঢালাই করে নিয়েছেন। তাই তার দৃষ্টি কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঘুলঘুলিতে আটকে যায়নি। অথবা বিলাসিতার শুড়িখানায় হাত পা ছাড়িয়ে চিৎ হয়ে পড়ে থাকেনি। প্রেমিকার নরম চুলের ভেতর মুখ গুঁজে পারিপার্শ্বিকতাকে ভুলে যায়নি। বরং সব হতাশা ও নৈরাশ্যকে গলা টিপে হত্যা করে, সকল অকল্যাণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামমুখর হয়ে, প্রতিকূল পরিবেশের প্রাচীর ভেঙে নতুন দুনিয়া গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন।
আজকে উমরপন্থী পথীর দিকে দিকে প্রয়োজন
পিঠে বোঝা নিয়ে পাড়ি দেবে যারা প্রান্তর প্রাণপণ।
অথবা,
সত্য ন্যায়ের সে পথে ভাঙুক সব সংকীর্ণতা
হারানো সে-দিন এ রাতের সাথে আবার বলুক কথা।
[উমর-দরাজ দিল/ সিরাজাম মুনীরা]
ফররুখের সাফল্য হলো, তিনি আদর্শের জন্য কবিতার সাথে আপোষ করেননি। বিশ্বাস আর আবেগের তোড়ে খাঁটি কবিতার সীমা লংঘন করেননি। কবিতার মূল্যে কণ্ঠস্বরের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেননি। তার বক্তব্যে উচ্চরোল ছিল, কিন্তু তা উপস্থিত করা হয়েছে কবিতার পোশাকে। কথা বললেই তো কথা সুন্দর হয় না, সুন্দর হয় বলার ভঙ্গিতে। আবুল ফজলের ভাষায়- “একটা সুনির্দিষ্ট মতাদর্শে প্রবল বিশ্বাসী থেকেও ফররুখ আহমদ বিশুদ্ধ কবি ছিলেন। এ কারণে আপন লক্ষ্যে সনিষ্ঠ থেকেও কবিতার নানা স্রোতে বিচরণ তার পক্ষে সহজ হয়েছে। আর্দশনিষ্ঠ কবিতা সাধারণত একচোখা তথা একস্রোতা হয়ে থাকে। সুখের বিষয়, ফররুখ আহমদের বেলায় তা হয়নি। রচনার অজস্রতায়, আঙ্গিক আর ভাবের বৈচিত্র্যে নতুন আমদানি করা শব্দ সম্ভারে এ কবি নিশ্চিতভাবে আমাদের সাহিত্যের সম্পদ বাড়িয়ে দিয়েছে। আবুল ফজল আরও বলেন, তার সমসাময়িক কবিকুলের মধ্যে তিনি এতখানি বিশিষ্ট, স্বতন্ত্র ও একক ছিলেন যে তাকে সহজে কাতারবন্দি করা যায় না। তাই তার তিরোধানে এমন এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে যার জন্যে আমরা বিপরীতমনারাও বেদনাবোধ না করে পারি না। সৈয়দ আলী আহসান লিখেছেন, ফররুখের কাব্য প্রক্রিয়ায় যেহেতু একটা বিশ্বাসের উন্মুখরতা ছিল, তাই তার পাঠকের সংখ্যা আমাদের মাঝে সর্বাধিক। বিশ্বাসের সে একটা কল্লোলিত সর্মথন পেয়েছে। আবার ব্যবহৃত শব্দের পরিধির সার্থক বিবেচনায় এবং ধ্বনি সাম্যের কারণে অবিশ্বাসীরাও তাকে অগ্রাহ্য করতে পারেনি। তার কবিতায় উপমা চিত্রকল্পের কিছু উদাহরণ দেখব :
১. দেখ আসমানে ফোটে সিতারার কলি
আরশির মত নিটোল পানিতে মুখ দেখে বকাওলি
২. ঘন সিন্দোল কাফুরের বনে ঘোরে এ দিল বেহুঁশ
হাতির দাঁতের সাঁজোয়া পরেছে শিলাদৃঢ় আবলুস
পিপুল বনের ঝাঝালো হাওয়ায় চোখে যেন ঘুম নামে
নামে নির্ভীক সিন্ধু-ঈগল দরিয়ার হাম্মামে।
৩. তুফানের ছাঁচে ঘূর্ণাবর্তে সুগঠিত তার তনু
পুষ্ট পালকে পিছলিয়া পড়ে প্রবাল বর্ণধনু
৪. প্রবাল দ্বীপের গোড়া পত্তন হবে
কি করে সে কথা হয়ে গেল জানাজানি
দল বেঁধে এলো অজুত প্রবাল-কীট
কাঁপায়ে দু’পাশে দরিয়ার লোনা পানি।
ভাব প্রকাশের উপযোগী পরিম ল সৃষ্টির প্রয়োজনে উপযুক্ত শব্দ চয়নের কৃতিত্বে কালোত্তীর্ণ। আরবি-ফারসি শব্দের যেমন যথার্থ ব্যবহার করেছেন, তেমনি তৎসম-তদ্ভব শব্দের ব্যবহারেও কার্পণ্য করেননি। বাংলা শব্দের ধ্বনির সঙ্গে আরবি-ফারসি ধ্বনির সাযুজ্যে ফররুখ আহমদের কবিতা আবৃত্তির জন্য সুষম। বলা যায় যে আবৃত্তির একটি বলিষ্ঠ তৎপরতায় বিকশিত। মাত্রাবৃত্ত ছন্দের ছয় মাত্রার সমগতির কয়েকটি পর্বে, চরনান্তের খন্ডপর্বসহ আবৃত্তিযোগ্য একটি সহজপ্রবাহ নির্মিত হয়েছে ফররুখ আহমদের অধিকাংশ কবিতায়। দু’টি চরণ আবৃত্তি করা যাক-
১. আমাদেরি ভূলে পানির কিনারে মুসাফির দল বসি
দেখেছে সভয়ে অস্ত গিয়েছে তাদের সেতারা শশী।
২. ডাকে বাগদাদী খেজুর শাখায় শুক্লা রাতের চাঁদ
মাহাগির বুঝি দজলার বুকে ফেলে জোছনার জাল।
কবির সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ও সফলতা হল, তিনি যা বিশ্বাস করতেন, তার কাব্যে যে সব তত্ত্বকথা আওড়াতেন নিজের জীবনে তা পূূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতেন। ইসলাম, আর্দশ, সততা, সাধুতার কথা অনেক কবি-লেখকই বলেছেন, কিন্তু তাদের ব্যক্তিজীবনে নিজেরাই সেই আদর্শের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন এমন নজির খুব কম। ফররুখ আহমেদ সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বাইরে বিশ্বের সাথে সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার আগে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করেছেন। শাহাবুদ্দীন আহমাদের ভাষায়, “চলিষ্ণু যে চিন্তার স্রোতে শিল্প জগতের অধিকাংশ মানুষ সন্তরণ করছিলেন, সেই একই নদীস্রোত তাকে আকর্ষণ করতে পারেনি। তিনি শিল্পী ছিলেন, শিল্পের পরিধিহীন বন্ধনহীন বিদ্রোহী জীবনের পক্ষপাত ছিলেন না।” আবুল ফজল বলেন, “তার সবচেয়ে বড় গুণ হল, তিনি কখনো নিজের আদর্শকে বিসর্জন দেননি। কোন অবস্থাতেই, কোন প্রলোভনে পড়ে তিনি তার নীতি নিয়ে আপস করেননি। দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করেছেন, অভাবের সাথে যুদ্ধ করেছেন কিন্তু নীতির বিষয়ে কোন আপস করেননি। তার ধর্মচেতনা, নৈতিকতাবোধ অত্যন্ত দৃঢ় ছিল, সেগুলো তার রচনায় প্রতিফলিত হয়েছে।” তার মৃত্যুর পর শামসুর রাহমান লিখেছেন, “তিনি মারা গেছেন একেবারে নিঃস্ব অবস্থায়। না, ভূল বললাম, নিঃস্ব কথাটা তার জন্য প্রযোজ্য নয়। তার মানসিক ঐশ্বর্য্যের কোন কমতি ছিল না। তিনি রেখে গেছেন এমন কয়েকটি গ্রন্থ, যেগুলো পঠিত হবে দীর্ঘকাল। …সারাজীবন তিনি দারিদ্র্যের সাথেই ঘর করেছেন। জাহান্নামে বসে হেসেছেন পুষ্পের হাসি। দারিদ্রতা তার শরীরকে ক্ষইয়ে দিয়েছিল ভীষণভাবে, কিন্তু কখনো কামড় বসাতে পারেনি তার মনের ওপর।” সৈয়দ আবুল মকসুদ মন্তব্য করেছেন, “অমিততেজ ও উর্দ্যত ফররুখ যদি পাক শাসকদের প্রতি একটু মৃদু হেসে তাকাতেন, তা হলেই ফিরে যেত তার জাগতিক অবস্থা। কিন্তু তিনি ঘৃণার সঙ্গে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন আজীবন। তার বিশ্বাসে কোন খাদ ছিল না, তার বক্তব্য ছিল ঋজু ও দ্ব্যর্থহীন। ভাষাআন্দোলনের সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এটা দৃঢ়ভাবেই আশা করা যায় যে, পাকিস্তানের জনগণের বৃহৎ অংশের মতানুযায়ী পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নির্বাচিত হবে। যদি তাই হয় তাহলে একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, বাংলা ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।’ (সওগাত আশ্বিন, ১৩৫৪)।”
বলা হয়ে থাকে, একজন সত্যিকার কবির তিনটি প্রধান গুণ থাকা আবশ্যক। সুস্পষ্ট জীবনদর্শন, কাব্য আঙ্গিকের স্বাতন্ত্র ও মৌলিকত্ব এবং বক্তব্যে তীব্রতা। কবির জীবনদর্শন হতে হয় মানবতার কল্যাণকেন্দ্রিক, সত্য ও ন্যায়ের পথে। তার কলম কেবল আনন্দের গীত গায় না- একই সাথে গায় জাগরণী সঙ্গীত। মানুষের ভেতরের ঘুমন্ত মানবতাকে জাগিয়ে তোলে। নিজের সমালোচনা শক্তির সাহায্যে একজন অভিজ্ঞ সার্জনের মতো সমাজ দেহের অসুস্থতার মূল কেন্দ্রে হাত রাখে। অত্যন্ত সতর্কতা ও আন্তরিকতার সাথে ফোড়া টিপে টিপে তার সব পুঁজ বের করে দেয় এবং সমগ্র সমাজ দেহের রক্ত পরিশুদ্ধ করে। ফররুখের জীবনদর্শন তথা আদর্শ ছিল ইসলাম। মানুষকে ভালোবেসেছিলেন বলেই মানবতার ধর্ম ইসলামকে ভালোবেসেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ আনা হয়। বলা হয়, তিনি কেন শুধু মুসলমানদের নিয়ে লিখেছেন? কথাটা অনেকখানি ‘মধুসূদন, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ কেন মুসলমানদের নিয়ে লিখলেন না’র মতো হয়ে যায়। আমরা দেখতে পাই, ফররুখ আহমদ অন্য ধর্মাবলম্বীদের কটাক্ষ করেননি। তিনি ইসলামী জীবনব্যবস্থাকে সেই জীবনদর্শন মনে করতেন, যার বিধানে কল্যাণ আছে সমগ্র মানবতার, শুধু মুসলমানদের নয়। মোটকথা, ফররুখ বিভ্রান্ত চিন্তার অলিতে গলিতে ছুটে বেড়াতে চাননি। চিন্তার স্থিরতার মাধ্যমে জীবনকে কোন এক লক্ষ্যবিন্দুতে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব পালন করেছেন।
তথ্যসূত্র
১. ফররুখ আহমদ রচনাবলী
- আব্দুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদিত,
২.ফররুখ আহমদ : মানবতার কবি
- গাউসুর রহমান,
৩.ফররুখ আহমদ : ব্যক্তি ও কবি
- শাহাবুদ্দীন আহমদ সম্পাদিত
ক. তার বিশ্বাস অকৃত্রিম
- আবুল ফজল
খ. ফররুখ আহমদ
- সৈয়দ আলী আহসান
গ. নতুন পানিতে সফর এবার
- শামসুর রাহমান
ঘ. ন্যায়ের পথে নিঃসঙ্গ কবি
- আল মাহমুদ
ঙ. ফররুখ মানস : তার কবিতা
- অধ্যাপক আব্দুল গফুর
চ. তার স্বপ্নরাজ্যে তিনি একা
- সৈয়দ আবুল মকসুদ
ছ. ফররুখের অভিনবত্ব
- শাহাবুদ্দীন আহমদ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন