স্বাগতম!

আমার সাইটে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার লেখাগুলো পড়ুন। ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানান। সবাইকে শুভেচ্ছা।

মন ভালো নেই

‘মন ভালো নেই’ শিরোনাম ‘তোমাদের পাতা’র কোনো লেখার হতে পারে কি? হয়তো পারে, হয়তো পারে না। আমি কিছুই জানি না। আমি শুধু জানি আমার মন ভালো নেই। ‘মন ভালো নেই’ এই কথাটা পাঠকদের জানাতে হবে কেন? সেটাও আমি জানি না। লিখতে পারছি না তো কী করবো? একটা কিছু বলে আপনাদের সাথে থাকার সাধ যে খুব…! আমি কি পাঠকদেরও মন খারাপ করে দিতে চাচ্ছি? নাকি আমার মন খারাপের মাত্রা কমাতে চাচ্ছি? আমি জানি না। কিছু কিছু জিনিস না জানলেও ভালো লাগে।
মন ভালো না থাকায় আমি কিছু লিখতে পারছি না। নাকি লিখতে পারছি না বলেই মন খারাপ? হয়তো লিখতে বসেছি, হঠাৎ মেঘ করে জোরে বৃষ্টি এসেছে। তখন আমার শীত শীত লাগে, সারা শরীর শিহরণে কেঁপে ওঠে। শীত শীত মানে ঠান্ডা নয়, কেমন যেন একাকীত্ব; নিঃসঙ্গতা! অথচ আমার চারপাশ ভর্তি মানুষ। আমার লিখতে ভালো লাগে না, কোনো কিছুই ভালো লাগে না। বিছানায় গা এলিয়ে শুয়ে পড়ি। মাথার কাছে টেবিল থেকে একটা ‘পতাকা’ টেনে নিই। উল্টে পাল্টে দেখি। মন খারাপ করা এক সুখে আমি ভরে উঠি। হ্যাঁ, ‘মন খারাপ করা সুখ’। এপ্রিল সংখ্যায় আমি লিখেছিলাম, ‘অবসর সময়ে আমার খুব মন খারাপ করতে ইচ্ছে করে। কল্পনায় আমি মন খারাপের একটা অবস্থা তৈরি করে নিই। হারানোর গান শুনি, দুখের উপন্যাস পড়ি। …আমার কল্পজগৎ আমি মেঘাচ্ছন্ন করে ফেলি, আয়োজন করে অন্ধকার নামাই। আমি নিজেই মেঘলা হয়ে যাই, কুয়াশার আসত্মরণ বানাই। আমার ভেতরে নদী সৃষ্টি করি, অশ্রুর প্লাবন তুলতে চেষ্টা করি। এটি করতে কেন জানি আমার ভালো লাগে (সময়ের সাতকাহন)। কিন্তু এখন মন খারাপের জগৎ আমি ইচ্ছা করেই তৈরি করি না। বৃষ্টি পড়ার শব্দের সাথে একটা কান্নার সুর বাজে আমার ভেতরে। পতাকা থেকে আমি কবিতা পড়তে থাকি-
হৃদয় সাগরে সাঁতরায় এসে স্বপ্ন বাঁধনহারা
মন ভালো নেই- মনের আকাশে ধূসর মেঘের তাড়া
নির্ঘুম রাতে কাঁচপোকা এসে দেয় না জ্বালিয়ে আলো
মেঘের মাটিতে চাঁদের কবর দেখতে লাগে না ভালো।
(আসিফ মামুন)
মন খারাপের কবিতা পড়তে পড়তে আমি সুখ পাই। আবার রাগ লাগে, এই কবিতা তো আমার লেখার কথা ছিল। একটা লেখা নিয়ে পাতা উল্টাতে উল্টাতে গান শুনি, ‘মন খারাপের একেকটা দিন নিকষ কালো মেঘলা লাগে/ কেউ বোঝে না এই আমাকে, আমারও যে একলা লাগে/ মাঝে মাঝে বৃষ্টি দেখে হাত বাড়ানোর ইচ্ছে জাগে/ ভেতর ভেতর যাই পড়ে যাই, কেউ বোঝে না আমার আগে…।’ পুড়ে যেতে যেতে আমি ভালো হয়ে উঠি। আমি পুড়ে যাই বৃষ্টিতে! বৃষ্টিতে না ভিজে কেউ যদি পুড়ে যায়, তার চেয়ে সুখ কি আর আছে!
আরেকটি কবিতায় চোখ আটকে যায়- ‘কবিদের ভালো থাকতে নেই’। কবির মতে, ‘বেদনা না থাকলে কিসের কাব্য?’ জেনে আমি সুখ পাই। কিন্তু আমি তো কবি না। কবিরা একেকজন দার্শনিক, গল্পকার। দর্শন আর গল্প না থাকলে তা কবিতা হয় না। এই সত্য জানার পর কবিতা লিখতে সাহস হয় না। আরমান আরজুর সাথে এখানে একমত। কবিতার বাইরে গিয়ে পদ্য লিখছেন অধিকাংশই। কিন্তু আরমান ভুলে যান এটি শিশু কিশোর পত্রিকা। কিশোরদের উপযোগী কাঙ্ক্ষিত কবিতা বা পদ্য কিংবা ছড়া তার কাছ থেকে পাই না। অচিরেই পাবো আশা করি।
অনেক অনেক দিন তোমাদের পাতায় লেখা হয় না। মাঝখানে দুটো সংখ্যায় লিখলেও ‘ভালো লেগেছে’, ‘ধন্যবাদ’, কিংবা ‘পান্ডিত্যমূলক উপদেশ’ ধারায় লিখিনি। কেন জানি এই পাতাকে এখন প্রাণবমত্ম লাগে না। একটা সময় ছিল, পাঠকেরা অপেক্ষায় থাকতেন অমুকে অমুকে কী বলে জানার জন্য। বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণ যে ছিল না- তা নয়। তবে পাঠক বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানকেই সমর্থন করতেন। যুক্তি আর তথ্যের আশ্রয় নিতে আলোচনায় উঠে আসতো সাহিত্যের ধারা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, পঞ্চপান্ডব, শনিবারের চিঠি, কবিতার কাসিক-আধুনিক রূপামত্মর, উপমার ব্যবহার, ভাষার নির্মাণ- প্রভৃতি বিষয়। সেসব আলোচকদের অনেকেই আজ অনুপস্থিত। আরমান আরজু, জিসান মেহবুব লেগে থাকলেও সেই ধারায় তাদের প্রবাহ নেই। মনে পড়ে মিত্র খলিল, এবাদাত আলী শেখ, শাহাদাত মাহমুদ সিদ্দিকী, কামাল মাহতাব, মনির মুকুল, রুদ্র সানী ও আবু সুফিয়ানকে। ওসমান মাহমুদ, আরকানুল ইসলাম, সোহেল রানা বীরকেই বা বাদ দিবো কেন? ২০০৭ বা ২০১১ সালের সংখ্যাগুলো কি খুলে দেখা হয়?
তবুও এই পত্রিকা প্রাণের পত্রিকা। একটা নাড়ির টান অনুভব করি। কথাগুলো শুধু বলার জন্য বলা না, অতি বাসত্মব কথা। ওয়েব সংস্করণ থাকার ফলে প্রতি সংখ্যার তোমাদের পাতা পড়া ও অন্যান্য লেখা একনজর দেখা হয়। গত কয়েক সংখ্যা অবশ্য নিয়মিতই পাই। খুব ইচ্ছে করে প্রতি সংখ্যায় উপস্থিত থাকতে। পারি না। সময়ের অভাব- তা নয়, এতোটা ব্যসত্ম আমি এখনও হইনি। কিন্তু আমি লিখতে পারি না, সত্যিই আমার চিমত্মাশক্তি কমে গেছে। এটি বিনয় নয়। যেটুকু অবসর পাই, সেখানে সৃজনশীল চিমত্মার ধারায় ফিরতে পারছি না। ঈদ সংখ্যায় উপস্থিত থাকাটা ফসকে যাচ্ছিল। গল্প লেখার কথা ভেবেছি, ঘটনা নিয়ে মাথার ভেতর ঢেউ তুলেছি। কিন্তু লিখতে গিয়ে কলম সরেনি। এই অক্ষমতা আমাকে একাকীত্বের দিকে ঠেলে দেয়। জনকোলাহলে আমি নিঃসঙ্গতা বোধ করি। শেষে সহজ পন্থা- একটি বিদেশি গল্প অনুবাদ করে দেয়া। জানি না ছাপা হবে কি না।
গত সংখ্যা নিয়ে কিছু বলা যায়। প্রচ্ছদ কাঙ্ক্ষিত হয়নি। ‘আববু, বাবা, আববা, ফাদার’ এগুলো ব্যাকগ্রাউন্ড আকারে দেয়া যেত। ভেতরের ইলাস্ট্রেশনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা যায়। উৎপলকামিত্ম বড়ুয়ার কী অসাধারণ একটা কবিতা! প্রকৃতি আর ধর্মীয় ঐতিহ্যের সাথে হাত ধরাধরি করে এগিয়েছে বাবার গল্প :
আকাশপরে মেঘের ধুতি সাদা কী ফিনফিনে
দুপুর এসে মূল্য দিয়ে রোদ নিয়েছে কিনে
পরম শামিত্ম বটের তলায় আলো ছায়ার রথ
বাবার কাছেই বলতে শিখি, চলতে শিখি পথ।
(আমার বাবা)
হুমায়ূন আজাদের লেখাটাই যেন একজন শিশুর মুখ থেকে বলা। এটা ঠিক স্মৃতিকথা না, একজন শিশু চার/পাঁচ বছরে দাঁড়িয়ে বাবাকে নিয়ে তার অনুভূতি বলছে। এটি লেখার সময় হুমায়ূন আজাদ ফিরে গিয়েছেন তার সেই ছোট্ট বয়সে। ‘আম্মুও আমারই মতো। বারান্দায় দাঁড়ায় বারবার। জানালা দিয়ে উঁকি দেয়। দরজায় কড়া নড়লে লাফিয়ে ওঠে। আমিও আম্মুর মতোই। বারান্দায় দাঁড়াই বারবার। জানালা দিয়ে উঁকি দেই। দরজায় কড়া নড়লেই লাফিয়ে উঠি। দাদুও আমার মতোই…’ আপাত দৃষ্টিতে লেখাটা হালকা মনে হতে পারে। কিন্তু শিশুদের জন্য লেখার সার্থক কায়দা এর চেয়ে আর কী হতে পারে! অনেক বড় সাহিত্যিকরাও এটা ভুলে যান। ‘কতবার যে আম্মুকে দিয়ে পড়ালাম চিঠিটা। আমার একমাত্র চিঠিটা। আমার বুকের ভেতরে আদরের মতো ঢুকে পড়া চিঠিটা।’
(আববুকে মনে পড়ে)
নিজের কবিস্বত্তা জানান দেওয়ার ব্যাপারে যিনি বিনয়ের মতো অভিনয়ের ধার ধারেন না- তিনি কবি আল মাহমুদ। ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও জীবনভর প্রকৃতি আর জীবনের মিল খুঁজতে খুঁজতে আদর্শের অমত্ম্যমিলে জীবন সাজিয়েছেন তিনি। ‘‘কবিরা সব কথা সত্য বলে না, এটা যেমন ঠিক, তেমনি কবিরা যে মিথ্যার উপাসক একথাও তো কেউ মুখের উপর বলার সাহস দেখায় না। কবিকে প্রশ্ন করলে : কী খুঁজছো কবি? সে খুব সংক্ষিপ্ত উত্তর দেয়, ‘মিল’।’’ ছড়াকার জিসান মেহবুবও মিল খোঁজার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সাম্প্রতিকের ‘অমত্ম্যমিল’ অব্যাহত থাকুক। সোহেল রানা বীরের ‘বাবার দ্বিতীয় আত্মা’ নামকরণ দেখে আকর্ষিত হই। কিন্তু লেখা ততটা মন ভরাতে পারেনি। বাবাকে নিয়ে অনেক কথা থাকে। কোন কথাটা পাঠককে জানাতে হবে, তার ভঙ্গিটা কেমন হবে সেটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বাবার দ্বিতীয় আত্মা যেখানে ছেলে, সেখানে শিরোনাম অনুযায়ী লেখাটা ছেলের দিকে ইঙ্গিত করে না? বাবাকে নিয়ে লিখতে হলে বাবার কাছে ছেলে কী- সেটার চেয়ে প্রাধান্য পাবে ছেলের কাছে বাবা কী? নামকরণ তাই আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সৈকত আবদুর রহিমের ‘স্বপ্নডানা’ এক্ষেত্রে ভালো লেগেছে। ‘আমি বাবার পায়ের কাছে যাই। পা দু’টোকে উরুর ওপর নিয়ে ম্যাসেজ করতে থাকি আলতো করে। পা দুটো শীর্ণ যেন দীর্ঘদিন রোদে পোড়া কলাগাছ। এই পায়ের জোরেই তিলে তিলে রক্ত-মাংস বেড়েছে আমার। আমি আজ ছুটে চলছি। রাতের আঁধারে ছোট বাচ্চার জোনাকিকে খপ করে ধরে ফেলার মত হাতের মুঠোয় পুরছি একের পর এক স্বপ্নজোনাকি, আর উঠে যাচ্ছি প্রাপ্তির টুইনটাওয়ারের চূড়ায়।’ শাকির আহমেদ শোয়েবকে ধন্যবাদ সিরাজউদদৌলাকে তুলে ধরার জন্য। নতুন প্রজন্ম ভুলতে বসেছে তাকে, তার ইতিহাসকে।
আবদুল হালীম খাঁর লেখা পড়ে খুশি হতে পারিনি। গাজীর পাঠের মতো একটা রচনাকে অমত্ম্যমিলে (ছন্দে নয়) সাজানোর এক দুর্বল প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই না। সেই অভাব কাটিয়ে ওঠা যায় মাহফুজুর রহমান আখন্দের লেখায়। সুখপাঠ্য হয়েছে সোনিয়া সাইমুম বন্যার ‘একজন বাবা’ : একে একে গাঁথে বছরেরা মালা বয়ে যায় বাবা তরী/ যদিও চুলেতে কাশফুল রঙ চশমাটা আজ ভারী।’ এছাড়া ছন্দমাত্রায় উত্তীর্ণে নামোল্লেখ করা যায় ইকবাল মাহফুজ, তামান্না রহমান সঞ্চিতা, রমজান আলী মামুন, আমিনুল ইসরাম হুসাইনী ও সাইফুল ইসলামের। নবীন হাতের কলমে মুহাম্মদ আবু সাঈদের ছড়া কবিতামালায় দেয়া যেত (হোক সে দশম শ্রেণির ছাত্র, সৃজনশীলতায় পঞ্চম শ্রেণি-পিএইডি বলে কিছু থাকা উচিৎ না):
‘আববুর আদর যায় না মাপা
পাইনা সঠিক ভর,
এদিক হলে বেজায় খুশি
ওদিক হলেই চড়।’ (আববু)
আমি বলি,
উৎসাহটা রাখিস ধরে
স্বপ্নডানায় ভর,
ইতিহাসে জায়গাটা তোর
কে করবে নড়বড়?
এবারের নবীন হাতের পাতাটা খুবই ঋদ্ধ। সবার লেখা নিয়ে আলোচনা করতে পারলে ভালো লাগতো! যাদের নামোল্লেখ না করলেই নয়- রবিউল কমল, কাউচার আলম শরীফ, মিশকাতুল জান্নাত মিশু, লিটন কুমার চৌধুরী, সঞ্জয় দেবনাথ (সঞ্জয়ের সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হয়), রায়হান ফারহী ও মুহাম্মদ আবু জাফর। আমার একটু সমস্যা হলো- শুধু ‘ভালো হয়েছে’ ‘ধন্যবাদ’ বলে পৃষ্ঠা ভর্তি করতে আমার ভালো লাগে না। ‘কেন ভালো হয়েছে?’ ‘কেন ভালো লাগেনি’ ‘লেখাটি কোন কোন বিষয়কে প্রচ্ছন্নভাবে ধারণ করেছে’ ‘কী কারণে তা আমার হৃদয় ছুঁয়েছে’- এগুলো বলতে না পারলে অতৃপ্তি রয়ে যায় (যা বলি তা আমার সীমাবদ্ধ জ্ঞানের ব্যক্তিগত উপলব্ধি। এসব কারো গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার কোনো মানে হয় না)। একথা ঠিক, ভালো লাগার সাথে ব্যাখ্যার সম্পর্ক নেই। একটা ভালো লেখা বুঝতে পারার আগেই হৃদয় ছুঁতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে আমার বুঝার পরিধি পায়রার খোঁপের মতো। তবে বিতর্কে অংশ নিতে আমার ভালো লাগে। সেখান থেকে অনেক কিছুই শেখা যায়। অনেক সময় আমি অনুভব করতে পারি- আমার কথা ঠিক, কিন্তু যুক্তি-প্রমাণ খুঁজে পাই না। তখন বইপত্র পড়তে হয়। ইন্টারনেট ঘাটতে হয়। অলসতা একটু কমে আর কী! শিশু কিশোর দ্বীন দুনিয়ায় অনেক বড় লেখকের ভালো ভালো লেখা ছাপা হয়। সেসব লেখার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হলে, অমত্মর্নিহিত ইঙ্গিতের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলে আমাদের চিমত্মার পরিধি প্রশসত্ম হতো। জয়মত্ম জিল্লু (মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান), মিত্র খলিল, শরিফুল ইসলাম, শাহাদাত মাহমুদ সিদ্দিকী, মনির মুকুলরা এগিয়ে আসলে আমরা উপকৃত হতাম।
এতো কথা বলে ফেলবো- লেখার সময় কল্পনাতেও আসেনি। অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলাম মাত্র। কী যেন এক কারণে আমার মন খারাপ থাকে আমি জানি না। মাঝে মাঝে আমি আমাকে বুঝতে পারি না। নিজেকে বুঝতে পারাটা সবচেয়ে কঠিন কাজ। সক্রেটিস বলেছিলেন ‘নো দাইসেলফ’- নিজেকে জানো। সেই নিজেকে জানা, আর ‘মন-খারাপ বুঝতে না পারা’ যে এক কথা না- তা বুঝতে পারি। বুঝতে পারি না সমাজের সাথে আমত্মসম্পর্কে আমার করণীয়। পতাকায় প্রকাশিত আসিফ মামুনের কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলাম। শেষ করি তা-ই দিয়ে-
সাজানো জীবন এলোমেলো আজ যেমন মুক্ত বেদে
মন ভালো নেই এই সমাজের ব্যর্থ ব্যবচ্ছেদে।

Print 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন