আন্তন চেখভ
ভাষান্তর : তানিম ইশতিয়াক
পঞ্চম শতাব্দীর কথা। আজকের মতো তখনও প্রতি সকালে সূর্য উঠতো, বিশ্রামে যেত প্রতি সন্ধ্যায়। সকালে, যখন প্রথম সূর্যরশ্মি শিশিরে চুম্বন করতো, পৃথিবী জীবন্ত হয়ে উঠতো, উচ্ছ্বসিত প্রত্যাশাময় ধ্বনিতে ভরে উঠতো বাতাস। আবার যখন সন্ধ্যা নামতো, সেই একই পৃথিবী নিস্তব্ধতার ভেতরে তলিয়ে যেতো, ডুবে যেতো গাঢ় বিষণœ অন্ধকারে। একটি দিন হতো অন্য দিনের মতো, রাত আসতো আগের মতো। সময়ে সময়ে ঝড়ো মেঘ জমা হতো, বজ্রের ক্রোধান্বিত আওয়াজ উঠতো, অসহায় তারকা ছিটকে পড়তো মহাশূন্য থেকে। কোনো এক ফ্যাকাশে ভিক্ষু দৌড়ে তার জ্ঞাতি ভাইদের খবর দিতো, এ মঠের অদূরেই সে একটা বাঘ দেখেছে! এসব এমনই হতো। তারপর প্রতিটি দিন আসতো স্বাভাবিক নিয়মে।
ভিক্ষুরা কাজ করে এবং প্রার্থনায় বসে। আর তাদের ‘ফাদার সুপ্রিয়র’ বাদ্য বাজান, ল্যাটিন পদ্য আওড়ান আর গান লেখেন। বিস্ময়কর বৃদ্ধ লোকটি অনন্যসাধারণ উপহার পেয়েছেন। তিনি এমন শিল্পদক্ষতার সাথে সুর তোলেন যে, তার যন্ত্র থেকে সুরেলা ধ্বনি বাতাসে প্রতিধ্বনিত হলেই শ্রোতারা এমনকি তার চেয়েও বয়সে প্রবীণ- যাদের শ্রবণশক্তি প্রায় অকেজো হওয়ার পথে- তারাও অশ্রু সংবরণ করতে পারে না। যখন তিনি কোনো কিছু উচ্চারণ করেন, সেটা খুব সাধারণ বিষয় হলেও, উদাহরণস্বরূপ- গাছ বা বন্য জন্তু কিংবা সমুদ্রের শব্দ, শ্রোতারা তা শুনতো মুখের হাসিতে কিংবা চোখের অশ্রুতে। মনে হতো যন্ত্রের মতো তাদের হৃদয়েও এসব স্বরের মিশ্রন কম্পিত-প্রকম্পিত হচ্ছে। যখন তার আওয়াজ ক্রোধের দিকে মোড় নেয়, অথবা প্রগাঢ় হর্ষের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেন, কিংবা ভয়ংকর কিছু উচ্চারণ করেন- প্রবল আবেগঘন প্রেরণা তাকে পেয়ে বসে, তার চকিত চোখে জল গড়িয়ে পড়ে, তার মুখ চকচক করে, কণ্ঠ বজ্রনিদাঘ হয়। যেসব ভিক্ষু তাকে শোনে, তাদের হৃদয় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যায়। এমন চমৎকার জাদুকরি মুহূর্তে তার ক্ষমতা তাদেরকে আত্মহারা করে ফেলে। যদি এসময় তিনি তাদেরকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেয়ার ইশারা করেন, তাহলে তাদের প্রত্যেকেই তার ইচ্ছা পূরণে দেরি করবে না।
তার গান, তার কণ্ঠ, তার কবিতা- যা দিয়ে সে ঈশ্বর, স্বর্গ, পৃথিবী সবকিছুকে মহিমান্বিত করে- তা ভিক্ষুদের নিয়ত আনন্দের উৎস। মাঝে মাঝে এমন হয় যে, তাদের একঘেয়ে জীবনের সেই গাছে, সেই ফুলে, সেই বসন্তে, সেই শীতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সাগরের শব্দে তাদের কান অবসন্ন হয়ে ওঠে। পাখিদের গান তাদের বিরক্ত করে ফেলে! কিন্তু ফাদার সুপ্রিয়রের প্রতিভা তাদের তেমনই প্রয়োজন, যেমন প্রয়োজন নিত্যদিনের রুটি।
যুগের পর যুগ চলে যায়। প্রতিটি দিন অন্য দিনের মতোই থাকে। প্রতিটি রাত অন্য রাতের মতোই আসে। পাখি আর বুনো জানোয়ার ছাড়া এ আশ্রমে একটি আত্মাও আসে না। নিকটতম মানববসতি এখান থেকে অনেক দূরে। এ আশ্রম থেকে সেখানে পৌঁছাতে কিংবা সেখান খেকে এখানে আসতে সত্তর মাইল মরুভূমি ভ্রমণ করতে হয়। যেসব মানুষ জীবনকে তুচ্ছ ভেবেছে, এই সংসারের মায়া ছেড়েছে, যারা এ আশ্রমকে সমাধিস্থল ভেবেছে, তারাই কেবল এ মরুভূমি পড়ি দেয়ার ঝুঁকি নেয়।
ভিক্ষুদের কাছে যা বিস্ময়কর ছিল, তা হলো- কোনো এক রাতে একজন লোক তাদের দরজায় টোকা দিলো। এ লোকটি শহর ছেড়ে চলে এসেছে, খুব সাধারণ পাপী- জীবনকে ভালোবেসেছে। প্রার্থনা এবং ফাদার সুপ্রিয়রের আশির্বাদের পূর্বে লোকটি মদ এবং খাবার চাইলো। শহর ছেড়ে কী করে সে এই মরুভূমিতে এসেছে- এই প্রশ্নের উত্তরে সে শিকারের এক লম্বা কাহিনী বললো। সে শিকারে বেরিয়েছিলো, প্রচুর মদপান করেছিলো আর পথ হারিয়ে ফেলেছিলো। যখন তাকে এ আশ্রমে প্রবেশের এবং আত্মার পরিত্রাণের পরামর্শ দেয়া হলো, মুচকি হেসে সে বললো, ‘আমি তোমাদের যোগ্য সহচর নই।’
যখন সে খাবার খেলো এবং মদপান করলো, তাকে সেবা করা ভিক্ষুদের দিকে তাকালো। অবজ্ঞাভরে মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, ‘ভিক্ষুরা, তোমরা কিছুই করো না। তোমরা কেবল খাওয়া আর মদ্যপান ছাড়া কিছুই পারো না। এটাই কি একজনের আত্মা পরিত্রাণের উপায়? একটু ভাবো- তোমরা যে এখানে আরামে বসে থাকো; খাও আর মদপান করো; স্বর্গসুখের স্বপ্ন দেখো, আর তোমাদের প্রতিবেশিরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে; জাহান্নামে যাচ্ছে! শহরে কী হচ্ছে তোমাদের দেখা উচিৎ। কিছু লোক না খেয়ে মরছে, অন্যরা বুঝতে পারছে না তাদের স্বর্ণ দিয়ে কী করবে! মানুষে মানুষে কোনো বিশ্বাস নেই, সত্যবাদিতা নেই। তাদেরকে রক্ষা করার দায়িত্ব কার? কার কাজ তাদের মধ্যে ধর্ম প্রচার করা? এটা আমার জন্য না যে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মদপান করো। একটা সুশান্ত আত্মা, একটা ভালোবাসাপূর্ণ ঈশ্বরে বিশ্বাসী হৃদয় কি তোমাকে কোনো কাজ ছাড়াই চার দেয়ালের মধ্যে বসে থাকতে বলে?
শহুরে লোকটির কথাগুলো খুব উদ্ধত এবং অশোভন ছিলো। কিন্তু ফাদার সুপ্রিয়রের ওপর তাদের বিস্ময়কর প্রভাব ছিলো। বৃদ্ধ লোকটি তার ভিক্ষুদের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করলেন, মলিন মুখে বললেন, ‘আমার ভাইয়েরা! লোকটা সত্যি কথাই বলেছে, তোমরা জানো। গরীব মানুষেরা তাদের দুর্বলতা আর উপলব্ধির অভাবে পাপ আর নাস্তিকতায় ডুবে যাচ্ছে। আর আমরা নড়ছি না, যেন এটা আমাদের উদ্বেগের বিষয়ই না। কেন আমি সেখানে যাবো না আর যিশুর কথা স্মরণ করাবো না, যাকে তারা ভুলে গেছে?
শহুরে লোকের কথায় বৃদ্ধের হুশ হলো। পরদিন তিনি তার কর্মচারিকে সাথে নিলেন। তার জ্ঞাতি ভাইদের বিদায় জানালেন। যাত্রা করলেন শহরের উদ্দেশ্যে। ভিক্ষুরা পড়ে থাকলো সেই গান, বক্তৃতা আর পদ্য ছাড়া। একটা মাস তারা কাটিয়ে দিলো নিদারুণ বিষণœতায়। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও বৃদ্ধটি ফিরে আসেননি। তিন মাস কেটে যাবার পর তার কর্মচারির খবর পেলেন। ভিক্ষুরা তার কাছে চলে এলো। প্রশ্নের পর প্রশ্ন করতে লাগলো। কিন্তু তিনি তাদেরকে দেখে খুশি হবার পরিবর্তে কষ্টকরভাবে ফুঁপিয়ে উঠলেন। একটি শব্দও উচ্চারণ করলেন না। ভিক্ষুরা খেয়াল করলো- তাকে অনেক বেশি বয়স্ক দেখাচ্ছে। আগের চেয়ে রোগা হয়ে গেছেন। তার মুখটা বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল, সেখানে গভীর বিষাদের অভিব্যক্তি। যখন তিনি ফুঁপিয়ে উঠেছিলেন, তখন তিনি একজন আহত ব্যক্তিকে বাতাস করছিলেন।
ভিক্ষুদেরও কান্না পাচ্ছিলো। ব্যথিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো, তিনি কেঁদে উঠলেন কেন? কেন তার চেহারা এতো মলিন? কোনো কথা না বলেই তিনি নিজেকে তার কুঠুরে আবদ্ধ করলেন। সাত দিন তার ঘরে বসে থাকলেন। কিছুই খেলেন না, পান করলেন না। শুধু কাঁদলেন। বাদ্যও বাজালেন না। ভিক্ষুরা তার দরজায় কড়া নাড়ে, তাকে বাইরে আসার সনির্বন্ধ অনুরোধ করে, তাদের কাছে তার দুখের কথা বলতে বলে, কিন্তু তিনি উত্তর দেন নিরবিচ্ছিন্ন নীরবতায়।
অবশেষে তিনি বের হলেন। তার চারপাশে ভিক্ষুদের একত্রিত করে অশ্রুমাখা মুখে শোক ও ক্ষোভের অভিব্যক্তি টেনে তিনি বলতে শুরু করলেন- কী ঘটেছিলো সেই তিন মাসে। মঠ থেকে শহর ভ্রমণের বর্ণনা দেওয়ার সময় তার কণ্ঠ স্থির, চোখ পিটপিট করছে। তিনি বলতে লাগলেন, যাওয়ার পথে পাখিরা তাকে গান শুনিয়েছিলো, ¯্রােতস্বিনী ছোট নদীতে বুদবুদ উঠেছিলো। মধুময় তারুণ্যপূর্ণ প্রত্যাশা তার আত্মাকে নাড়া দিচ্ছিলো। তিনি হেঁটে যাচ্ছিলেন আর অনুভব করছিলেন একজন সৈন্য যেন যুদ্ধে যাচ্ছে এবং তার বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তিনি স্বপ্ন দেখতে দেখতে হাঁটছিলেন। রচনা করছিলেন কবিতা, ঈশ্বর বন্দনায় গান। কোনো দিকে না তাকিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছেছিলেন।
কিন্তু তিনি যখন শহর আর তার অধিবাসীদের সম্পর্কে বলতে শুরু করলেন, তার কণ্ঠ কেঁপে উঠলো; চোখ জ্বলে উঠলো; তিনি খুব উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। শহরে গিয়ে তিনি যা দেখেছিলেন, জীবনে কখনো তিনি তা দেখেননি; এমনকি কল্পনাও করতে পারেননি। তার জীবনে এই প্রথমবারের মতো, এই বৃদ্ধ বয়সে দেখলেন; বুঝতে পারলেন বদমাশরা কতটা শক্তিমান! পাপ কতটা চাকচিক্যময়! আর মানুষ কতটা দুর্বল, অক্ষম, অযোগ্য! এক অশুভ সুযোগে যে জায়গাতে প্রথম প্রবেশ করেছিলেন তা ছিল অনাচারের আবাস। গোটা পঞ্চাশেক মানুষ অঢেল সম্পদের মালিক। তারা খাচ্ছে, মদপান করছে সীমাহীনভাবে। মদের উন্মত্ততায় অশ্লীল গান গাইছে, এমনসব ভয়ংকর ঘৃণ্য বিদ্রোহাত্মক কথা জোরে জোরে উচ্চারণ করছে যে, একজন খোদাভীত মানুষ সেখানে নিজেকে উপস্থিত রাখতে পারে না। তারা বল্গাহীন আত্মনিমগ্ন সুখী। তারা না ঈশ্বরকে ভয় করে, না শয়তানকে, না মৃত্যুকে। তারা যা ইচ্ছা তাই করছে। তাদের লালসা, প্রবৃত্তি যেদিকে নিয়ে যাচ্ছে, তারা সেদিকেই যাচ্ছে। সেই মদ- ‘আম্বারের মতো’ স্বচ্ছ, স্বর্ণস্ফুলিঙ্গের মতো বুদবুদ- অপরিসীম মিষ্ট আর সুরভিত। একজন মানুষ এটা পান করলে স্বর্গসুখে হেসে ওঠে, এবং আরো পান করতে চায়। একজনের হেসে ওঠায় অন্যরাও পান করে আর উল্লাসে ফেটে পড়ে। যদিও জানতো যে এটা শয়তানের মোহ। এই মিষ্টতার মধ্যে পাপ লুকানো আছে।
ধুপের মতো জ্বলে উঠতে উঠতে, রোষে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বৃদ্ধ লোকটি বর্ণনা করে চলেছেন, যা তিনি দেখেছিলেন। ‘সেই আনন্দকারীদের মাঝখানে একটা টেবিলের ওপরে এক পাপী অর্ধ-উলঙ্গ মহিলা দাঁড়ানো।’ তিনি বলতে লাগলেন। ‘এমন মনোহরা আকর্ষণীয়া কোনো কিছু কল্পনা করা কঠিন, এই প্রকৃতিতে খুঁজে পাওয়াও দুরুহ। লম্বা চুল, কালো চামড়া, কালো চোখ আর পূর্ণ ঠোটের লজ্জাহীনা উদ্ধত এই সর্পতরুণী তার সাদা দাঁত বের করে হাসছে, যেন বলছে- ‘দেখ আমি কতটা লজ্জাহীন সুন্দরী!’ ঘাড় থেকে তার শরীরের আকর্ষণীয় ভাঁজে ভাঁজে বুটিদার রেশমী কাপড় জড়ানো। কিন্তু তাতে তার সৌন্দর্য ঢাকা পড়ছে না। বরং আরো আকুলতা তৃষ্ণা জাগাচ্ছে, যেন বসন্তের মাঠে উঠতি সবুজ ঘাস। এই নির্লজ্জ মহিলা মদপান করছে, গান গাচ্ছে, আর যে-ই তাকে চাচ্ছে, তার কাছে নিজে বিলিয়ে দিচ্ছে।
এবার বৃদ্ধটি রোষের সাথে তার আঙুলগুলো নড়াচড়া করছিলেন, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, ষাড়ের লড়াই, থিয়েটার, শিল্পস্টুডিও ইত্যাদির বর্ণনা দিলেন। এসব প্রত্যেকটি জায়গায় উলঙ্গ যুবতীর ছবি, বা মাটির মুর্তি। তিনি এসব কথা এমন আগ্রহী আর সুললিতভাবে বলছিলেন যেন তিনি অদৃশ্য কোনো বাদ্যযন্ত্রে সুর তুলছিলেন। আর ভিক্ষুরা তন্ময় হয়ে লোভার্ত মুখে সেসব গিলে খাচ্ছিলো। উত্তেজনায় তাদের নিঃশ্বাস উঠানামা করছিলো...।
শয়তানের মনোহারিতা, মন্দের সৌন্দর্য আর ভয়ংকর ধরনের মহিলাদের লোভনীয় দেহসৌষ্ঠবের বর্ণনা যখন শেষ করলেন, বৃদ্ধ লোকটি শয়তানদের অভিশাপ দিলেন, তারপর নিজেকে তার কুঠুরিতে আবদ্ধ করলেন।
সকালে যখন তিনি বের হলেন, এই মঠে আর একজন ভিক্ষুও ছিলো না। সবাই পালিয়ে শহরে চলে গেছে।**
আন্তন পাভলোভিচ চেখভ (জানুয়ারি ২৯, ১৮৬০ - জুলাই ১৫, ১৯০৪) একজন রুশ চিকিৎসক, ছোটগল্পকার এবং নাট্যকার ছিলেন। তাঁর জন্ম ২৯ জানুয়ারি, ১৮৬০ এ দক্ষিণ রাশিয়ার তাগানরোগ নামক এলাকায়। তাঁকে বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম সেরা ছোটগল্প লেখক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর ছোটগল্পগুলো লেখক, সমালোচক সমাজে প্রভূত সমাদর অর্জন করেছে। নাট্যকার হিসেবে পেশাজীবনে চেখভ চারটি ক্ল্যাসিক রচনা করেন। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে এমন নাট্যকারদের মাে শেকসপিয়র ও ইবসেনের পাশাপাশি চেখভের নামও উল্লেখ করা হয়। ১৮৮০ থেকে ১৯০৩ সালের মধ্যে তিনি সর্বমোট ৬০০টি সাহিত্যকর্ম রচনা ও প্রকাশ করেন। শুরুতে নাট্যকার হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান থ্রি সিস্টারস, দ্য সীগাল এবং দ্য চেরি অরচার্ড এই তিনটি নাটকের মাধ্যমে। চেখভের দ্য লেডি উইদ দ্য ডগ এ যাবতকালের মধ্যে রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ গল্পগুলোর একটি। জার্মানিতে ১৫ জুলাই, ১৯০৪ সালে যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
ভাষান্তর : তানিম ইশতিয়াক
পঞ্চম শতাব্দীর কথা। আজকের মতো তখনও প্রতি সকালে সূর্য উঠতো, বিশ্রামে যেত প্রতি সন্ধ্যায়। সকালে, যখন প্রথম সূর্যরশ্মি শিশিরে চুম্বন করতো, পৃথিবী জীবন্ত হয়ে উঠতো, উচ্ছ্বসিত প্রত্যাশাময় ধ্বনিতে ভরে উঠতো বাতাস। আবার যখন সন্ধ্যা নামতো, সেই একই পৃথিবী নিস্তব্ধতার ভেতরে তলিয়ে যেতো, ডুবে যেতো গাঢ় বিষণœ অন্ধকারে। একটি দিন হতো অন্য দিনের মতো, রাত আসতো আগের মতো। সময়ে সময়ে ঝড়ো মেঘ জমা হতো, বজ্রের ক্রোধান্বিত আওয়াজ উঠতো, অসহায় তারকা ছিটকে পড়তো মহাশূন্য থেকে। কোনো এক ফ্যাকাশে ভিক্ষু দৌড়ে তার জ্ঞাতি ভাইদের খবর দিতো, এ মঠের অদূরেই সে একটা বাঘ দেখেছে! এসব এমনই হতো। তারপর প্রতিটি দিন আসতো স্বাভাবিক নিয়মে।
ভিক্ষুরা কাজ করে এবং প্রার্থনায় বসে। আর তাদের ‘ফাদার সুপ্রিয়র’ বাদ্য বাজান, ল্যাটিন পদ্য আওড়ান আর গান লেখেন। বিস্ময়কর বৃদ্ধ লোকটি অনন্যসাধারণ উপহার পেয়েছেন। তিনি এমন শিল্পদক্ষতার সাথে সুর তোলেন যে, তার যন্ত্র থেকে সুরেলা ধ্বনি বাতাসে প্রতিধ্বনিত হলেই শ্রোতারা এমনকি তার চেয়েও বয়সে প্রবীণ- যাদের শ্রবণশক্তি প্রায় অকেজো হওয়ার পথে- তারাও অশ্রু সংবরণ করতে পারে না। যখন তিনি কোনো কিছু উচ্চারণ করেন, সেটা খুব সাধারণ বিষয় হলেও, উদাহরণস্বরূপ- গাছ বা বন্য জন্তু কিংবা সমুদ্রের শব্দ, শ্রোতারা তা শুনতো মুখের হাসিতে কিংবা চোখের অশ্রুতে। মনে হতো যন্ত্রের মতো তাদের হৃদয়েও এসব স্বরের মিশ্রন কম্পিত-প্রকম্পিত হচ্ছে। যখন তার আওয়াজ ক্রোধের দিকে মোড় নেয়, অথবা প্রগাঢ় হর্ষের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেন, কিংবা ভয়ংকর কিছু উচ্চারণ করেন- প্রবল আবেগঘন প্রেরণা তাকে পেয়ে বসে, তার চকিত চোখে জল গড়িয়ে পড়ে, তার মুখ চকচক করে, কণ্ঠ বজ্রনিদাঘ হয়। যেসব ভিক্ষু তাকে শোনে, তাদের হৃদয় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যায়। এমন চমৎকার জাদুকরি মুহূর্তে তার ক্ষমতা তাদেরকে আত্মহারা করে ফেলে। যদি এসময় তিনি তাদেরকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেয়ার ইশারা করেন, তাহলে তাদের প্রত্যেকেই তার ইচ্ছা পূরণে দেরি করবে না।
তার গান, তার কণ্ঠ, তার কবিতা- যা দিয়ে সে ঈশ্বর, স্বর্গ, পৃথিবী সবকিছুকে মহিমান্বিত করে- তা ভিক্ষুদের নিয়ত আনন্দের উৎস। মাঝে মাঝে এমন হয় যে, তাদের একঘেয়ে জীবনের সেই গাছে, সেই ফুলে, সেই বসন্তে, সেই শীতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সাগরের শব্দে তাদের কান অবসন্ন হয়ে ওঠে। পাখিদের গান তাদের বিরক্ত করে ফেলে! কিন্তু ফাদার সুপ্রিয়রের প্রতিভা তাদের তেমনই প্রয়োজন, যেমন প্রয়োজন নিত্যদিনের রুটি।
যুগের পর যুগ চলে যায়। প্রতিটি দিন অন্য দিনের মতোই থাকে। প্রতিটি রাত অন্য রাতের মতোই আসে। পাখি আর বুনো জানোয়ার ছাড়া এ আশ্রমে একটি আত্মাও আসে না। নিকটতম মানববসতি এখান থেকে অনেক দূরে। এ আশ্রম থেকে সেখানে পৌঁছাতে কিংবা সেখান খেকে এখানে আসতে সত্তর মাইল মরুভূমি ভ্রমণ করতে হয়। যেসব মানুষ জীবনকে তুচ্ছ ভেবেছে, এই সংসারের মায়া ছেড়েছে, যারা এ আশ্রমকে সমাধিস্থল ভেবেছে, তারাই কেবল এ মরুভূমি পড়ি দেয়ার ঝুঁকি নেয়।
ভিক্ষুদের কাছে যা বিস্ময়কর ছিল, তা হলো- কোনো এক রাতে একজন লোক তাদের দরজায় টোকা দিলো। এ লোকটি শহর ছেড়ে চলে এসেছে, খুব সাধারণ পাপী- জীবনকে ভালোবেসেছে। প্রার্থনা এবং ফাদার সুপ্রিয়রের আশির্বাদের পূর্বে লোকটি মদ এবং খাবার চাইলো। শহর ছেড়ে কী করে সে এই মরুভূমিতে এসেছে- এই প্রশ্নের উত্তরে সে শিকারের এক লম্বা কাহিনী বললো। সে শিকারে বেরিয়েছিলো, প্রচুর মদপান করেছিলো আর পথ হারিয়ে ফেলেছিলো। যখন তাকে এ আশ্রমে প্রবেশের এবং আত্মার পরিত্রাণের পরামর্শ দেয়া হলো, মুচকি হেসে সে বললো, ‘আমি তোমাদের যোগ্য সহচর নই।’
যখন সে খাবার খেলো এবং মদপান করলো, তাকে সেবা করা ভিক্ষুদের দিকে তাকালো। অবজ্ঞাভরে মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, ‘ভিক্ষুরা, তোমরা কিছুই করো না। তোমরা কেবল খাওয়া আর মদ্যপান ছাড়া কিছুই পারো না। এটাই কি একজনের আত্মা পরিত্রাণের উপায়? একটু ভাবো- তোমরা যে এখানে আরামে বসে থাকো; খাও আর মদপান করো; স্বর্গসুখের স্বপ্ন দেখো, আর তোমাদের প্রতিবেশিরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে; জাহান্নামে যাচ্ছে! শহরে কী হচ্ছে তোমাদের দেখা উচিৎ। কিছু লোক না খেয়ে মরছে, অন্যরা বুঝতে পারছে না তাদের স্বর্ণ দিয়ে কী করবে! মানুষে মানুষে কোনো বিশ্বাস নেই, সত্যবাদিতা নেই। তাদেরকে রক্ষা করার দায়িত্ব কার? কার কাজ তাদের মধ্যে ধর্ম প্রচার করা? এটা আমার জন্য না যে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মদপান করো। একটা সুশান্ত আত্মা, একটা ভালোবাসাপূর্ণ ঈশ্বরে বিশ্বাসী হৃদয় কি তোমাকে কোনো কাজ ছাড়াই চার দেয়ালের মধ্যে বসে থাকতে বলে?
শহুরে লোকটির কথাগুলো খুব উদ্ধত এবং অশোভন ছিলো। কিন্তু ফাদার সুপ্রিয়রের ওপর তাদের বিস্ময়কর প্রভাব ছিলো। বৃদ্ধ লোকটি তার ভিক্ষুদের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করলেন, মলিন মুখে বললেন, ‘আমার ভাইয়েরা! লোকটা সত্যি কথাই বলেছে, তোমরা জানো। গরীব মানুষেরা তাদের দুর্বলতা আর উপলব্ধির অভাবে পাপ আর নাস্তিকতায় ডুবে যাচ্ছে। আর আমরা নড়ছি না, যেন এটা আমাদের উদ্বেগের বিষয়ই না। কেন আমি সেখানে যাবো না আর যিশুর কথা স্মরণ করাবো না, যাকে তারা ভুলে গেছে?
শহুরে লোকের কথায় বৃদ্ধের হুশ হলো। পরদিন তিনি তার কর্মচারিকে সাথে নিলেন। তার জ্ঞাতি ভাইদের বিদায় জানালেন। যাত্রা করলেন শহরের উদ্দেশ্যে। ভিক্ষুরা পড়ে থাকলো সেই গান, বক্তৃতা আর পদ্য ছাড়া। একটা মাস তারা কাটিয়ে দিলো নিদারুণ বিষণœতায়। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও বৃদ্ধটি ফিরে আসেননি। তিন মাস কেটে যাবার পর তার কর্মচারির খবর পেলেন। ভিক্ষুরা তার কাছে চলে এলো। প্রশ্নের পর প্রশ্ন করতে লাগলো। কিন্তু তিনি তাদেরকে দেখে খুশি হবার পরিবর্তে কষ্টকরভাবে ফুঁপিয়ে উঠলেন। একটি শব্দও উচ্চারণ করলেন না। ভিক্ষুরা খেয়াল করলো- তাকে অনেক বেশি বয়স্ক দেখাচ্ছে। আগের চেয়ে রোগা হয়ে গেছেন। তার মুখটা বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল, সেখানে গভীর বিষাদের অভিব্যক্তি। যখন তিনি ফুঁপিয়ে উঠেছিলেন, তখন তিনি একজন আহত ব্যক্তিকে বাতাস করছিলেন।
ভিক্ষুদেরও কান্না পাচ্ছিলো। ব্যথিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো, তিনি কেঁদে উঠলেন কেন? কেন তার চেহারা এতো মলিন? কোনো কথা না বলেই তিনি নিজেকে তার কুঠুরে আবদ্ধ করলেন। সাত দিন তার ঘরে বসে থাকলেন। কিছুই খেলেন না, পান করলেন না। শুধু কাঁদলেন। বাদ্যও বাজালেন না। ভিক্ষুরা তার দরজায় কড়া নাড়ে, তাকে বাইরে আসার সনির্বন্ধ অনুরোধ করে, তাদের কাছে তার দুখের কথা বলতে বলে, কিন্তু তিনি উত্তর দেন নিরবিচ্ছিন্ন নীরবতায়।
অবশেষে তিনি বের হলেন। তার চারপাশে ভিক্ষুদের একত্রিত করে অশ্রুমাখা মুখে শোক ও ক্ষোভের অভিব্যক্তি টেনে তিনি বলতে শুরু করলেন- কী ঘটেছিলো সেই তিন মাসে। মঠ থেকে শহর ভ্রমণের বর্ণনা দেওয়ার সময় তার কণ্ঠ স্থির, চোখ পিটপিট করছে। তিনি বলতে লাগলেন, যাওয়ার পথে পাখিরা তাকে গান শুনিয়েছিলো, ¯্রােতস্বিনী ছোট নদীতে বুদবুদ উঠেছিলো। মধুময় তারুণ্যপূর্ণ প্রত্যাশা তার আত্মাকে নাড়া দিচ্ছিলো। তিনি হেঁটে যাচ্ছিলেন আর অনুভব করছিলেন একজন সৈন্য যেন যুদ্ধে যাচ্ছে এবং তার বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তিনি স্বপ্ন দেখতে দেখতে হাঁটছিলেন। রচনা করছিলেন কবিতা, ঈশ্বর বন্দনায় গান। কোনো দিকে না তাকিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছেছিলেন।
কিন্তু তিনি যখন শহর আর তার অধিবাসীদের সম্পর্কে বলতে শুরু করলেন, তার কণ্ঠ কেঁপে উঠলো; চোখ জ্বলে উঠলো; তিনি খুব উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। শহরে গিয়ে তিনি যা দেখেছিলেন, জীবনে কখনো তিনি তা দেখেননি; এমনকি কল্পনাও করতে পারেননি। তার জীবনে এই প্রথমবারের মতো, এই বৃদ্ধ বয়সে দেখলেন; বুঝতে পারলেন বদমাশরা কতটা শক্তিমান! পাপ কতটা চাকচিক্যময়! আর মানুষ কতটা দুর্বল, অক্ষম, অযোগ্য! এক অশুভ সুযোগে যে জায়গাতে প্রথম প্রবেশ করেছিলেন তা ছিল অনাচারের আবাস। গোটা পঞ্চাশেক মানুষ অঢেল সম্পদের মালিক। তারা খাচ্ছে, মদপান করছে সীমাহীনভাবে। মদের উন্মত্ততায় অশ্লীল গান গাইছে, এমনসব ভয়ংকর ঘৃণ্য বিদ্রোহাত্মক কথা জোরে জোরে উচ্চারণ করছে যে, একজন খোদাভীত মানুষ সেখানে নিজেকে উপস্থিত রাখতে পারে না। তারা বল্গাহীন আত্মনিমগ্ন সুখী। তারা না ঈশ্বরকে ভয় করে, না শয়তানকে, না মৃত্যুকে। তারা যা ইচ্ছা তাই করছে। তাদের লালসা, প্রবৃত্তি যেদিকে নিয়ে যাচ্ছে, তারা সেদিকেই যাচ্ছে। সেই মদ- ‘আম্বারের মতো’ স্বচ্ছ, স্বর্ণস্ফুলিঙ্গের মতো বুদবুদ- অপরিসীম মিষ্ট আর সুরভিত। একজন মানুষ এটা পান করলে স্বর্গসুখে হেসে ওঠে, এবং আরো পান করতে চায়। একজনের হেসে ওঠায় অন্যরাও পান করে আর উল্লাসে ফেটে পড়ে। যদিও জানতো যে এটা শয়তানের মোহ। এই মিষ্টতার মধ্যে পাপ লুকানো আছে।
ধুপের মতো জ্বলে উঠতে উঠতে, রোষে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বৃদ্ধ লোকটি বর্ণনা করে চলেছেন, যা তিনি দেখেছিলেন। ‘সেই আনন্দকারীদের মাঝখানে একটা টেবিলের ওপরে এক পাপী অর্ধ-উলঙ্গ মহিলা দাঁড়ানো।’ তিনি বলতে লাগলেন। ‘এমন মনোহরা আকর্ষণীয়া কোনো কিছু কল্পনা করা কঠিন, এই প্রকৃতিতে খুঁজে পাওয়াও দুরুহ। লম্বা চুল, কালো চামড়া, কালো চোখ আর পূর্ণ ঠোটের লজ্জাহীনা উদ্ধত এই সর্পতরুণী তার সাদা দাঁত বের করে হাসছে, যেন বলছে- ‘দেখ আমি কতটা লজ্জাহীন সুন্দরী!’ ঘাড় থেকে তার শরীরের আকর্ষণীয় ভাঁজে ভাঁজে বুটিদার রেশমী কাপড় জড়ানো। কিন্তু তাতে তার সৌন্দর্য ঢাকা পড়ছে না। বরং আরো আকুলতা তৃষ্ণা জাগাচ্ছে, যেন বসন্তের মাঠে উঠতি সবুজ ঘাস। এই নির্লজ্জ মহিলা মদপান করছে, গান গাচ্ছে, আর যে-ই তাকে চাচ্ছে, তার কাছে নিজে বিলিয়ে দিচ্ছে।
এবার বৃদ্ধটি রোষের সাথে তার আঙুলগুলো নড়াচড়া করছিলেন, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, ষাড়ের লড়াই, থিয়েটার, শিল্পস্টুডিও ইত্যাদির বর্ণনা দিলেন। এসব প্রত্যেকটি জায়গায় উলঙ্গ যুবতীর ছবি, বা মাটির মুর্তি। তিনি এসব কথা এমন আগ্রহী আর সুললিতভাবে বলছিলেন যেন তিনি অদৃশ্য কোনো বাদ্যযন্ত্রে সুর তুলছিলেন। আর ভিক্ষুরা তন্ময় হয়ে লোভার্ত মুখে সেসব গিলে খাচ্ছিলো। উত্তেজনায় তাদের নিঃশ্বাস উঠানামা করছিলো...।
শয়তানের মনোহারিতা, মন্দের সৌন্দর্য আর ভয়ংকর ধরনের মহিলাদের লোভনীয় দেহসৌষ্ঠবের বর্ণনা যখন শেষ করলেন, বৃদ্ধ লোকটি শয়তানদের অভিশাপ দিলেন, তারপর নিজেকে তার কুঠুরিতে আবদ্ধ করলেন।
সকালে যখন তিনি বের হলেন, এই মঠে আর একজন ভিক্ষুও ছিলো না। সবাই পালিয়ে শহরে চলে গেছে।**
আন্তন পাভলোভিচ চেখভ (জানুয়ারি ২৯, ১৮৬০ - জুলাই ১৫, ১৯০৪) একজন রুশ চিকিৎসক, ছোটগল্পকার এবং নাট্যকার ছিলেন। তাঁর জন্ম ২৯ জানুয়ারি, ১৮৬০ এ দক্ষিণ রাশিয়ার তাগানরোগ নামক এলাকায়। তাঁকে বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম সেরা ছোটগল্প লেখক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর ছোটগল্পগুলো লেখক, সমালোচক সমাজে প্রভূত সমাদর অর্জন করেছে। নাট্যকার হিসেবে পেশাজীবনে চেখভ চারটি ক্ল্যাসিক রচনা করেন। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে এমন নাট্যকারদের মাে শেকসপিয়র ও ইবসেনের পাশাপাশি চেখভের নামও উল্লেখ করা হয়। ১৮৮০ থেকে ১৯০৩ সালের মধ্যে তিনি সর্বমোট ৬০০টি সাহিত্যকর্ম রচনা ও প্রকাশ করেন। শুরুতে নাট্যকার হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান থ্রি সিস্টারস, দ্য সীগাল এবং দ্য চেরি অরচার্ড এই তিনটি নাটকের মাধ্যমে। চেখভের দ্য লেডি উইদ দ্য ডগ এ যাবতকালের মধ্যে রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ গল্পগুলোর একটি। জার্মানিতে ১৫ জুলাই, ১৯০৪ সালে যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন