‘কখন আসলি?’ প্রশ্ন করেই আমাকে জড়িয়ে ধরে খলিল।
-‘এসেছি তো সকালেই। তোর ফোন বন্ধ কেন?’ কিছুটা ঝাঁঝালো কণ্ঠ আমার।
ও জবাব দেয় না। আরও বেশি করে জড়িয়ে ধরে। কথা বাড়াই না আমিও। জানি কিছুক্ষণ চুপ থাকতে হবে। নীরবে কাটবে কিছু সময়।
ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছি। বছরে দু’তিনবার মাত্র আসা পড়ে। মাগরিবের নামাজ শেষে দাঁড়িয়ে আছি রাস্তায়। হঠাত্ খলিলের সঙ্গে দেখা। ও আমার খুব কাছের একজন বন্ধু। স্কুলজীবন একসঙ্গে পার করেছি। আমি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর ও? বলতে কষ্ট হলেও সত্য ‘পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে।’ এইচএসসিতে ফেল করায় সেদিন থেকে ও যেন একটু দূরে সরে গেছে। সূক্ষ্ম দেয়াল গড়ে উঠেছে আমাদের মধ্যে। কথাটা বোধকরি ভুল হয়ে গেল—‘দূরে সরে যেতে চায়, আড়াল করতে চায় নিজেকে।’ হয়তো পারে, হয়তো পারে না। কেন এ সংকোচ বোধ? ও নিজেও মাঝেমাঝে বলে, ‘তোরা সবাই যখন বাড়িতে এসে একসঙ্গে থাকিস, ভার্সিটি-কলেজের গল্প করিস লজ্জা পায় নিজেকে। তোদের কাছে দাঁড়াতে পারি না। আমিও তো পড়তে পারতাম।’ বলতে বলতে কণ্ঠ ভারি হয়ে আসে ওর। কেঁদে ওঠে ও। জড়িয়ে ধরে আমাকে। এ অবস্থাটা আমার জন্য খুব কষ্টের। কারণ, আমার সহজে কান্না আসে না। সিক্ত হয় না গলা। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। আমার কষ্ট হয় আরেকটা সময়, ঈদের দিনে। এদিন ও আমার সঙ্গে বেড়ায় না। অনুরোধ করার পরও না। বাড়িতে গেলেও পাওয়া যায় না। ঈদের মাঠে যদিও দেখা হয়, কোলাকুলি করার সময় ফুঁপিয়ে ওঠে। চোখ মুছে রুমালে। কিছুক্ষণ জড়িয়ে থাকে। একসময় পালিয়ে যায় অন্যদের সঙ্গে। তখনও আমি বুঝতে পারি না আমার কী করা উচিত! সজল হয় না চোখ। মন বেদনাহত হলেও তা প্রকাশ পায় না। আমি কি হৃদয়হীন? রবীন্দ্রনাথের কথাটা মনে পড়ে—‘জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূন্য রোদন।’
-‘এই এখন ছাড় তো। আয় বসে গল্প করি।’ রাস্তার পাশে বসে পড়ি আমরা। কিছুক্ষণ আগে সূর্য ডুবলেও এখন আবছা আলো, আবছা আঁধার।
-‘তারপর, বল্ কেমন আছিস? ময়নার খবর-টবর কী?’ জিগ্যেস করি আমি।
-‘ভালো না রে! ওর বিয়ে হয়ে গেছে...’
- ‘কি বললি?’ অবিশ্বাস ঝরে পড়ে আমার কণ্ঠে। ময়নার সঙ্গে ওর দীর্ঘদিনের প্রেম। ওর জন্য বড় পাগল ছিল মেয়েটা। কিন্তু আমি জানতাম এ বিয়ে হওয়ার নয়। কারণ, মেয়েটা এখন অনার্স পড়ে। তাছাড়া তার ভাইয়েরা সবাই শিক্ষিত।
-‘হ্যাঁ রে। আমার মতো মুর্খের সঙ্গে ওর বিয়ে দেবে ক্যান্ বল?’ হাউমাউ করে ওঠে ও। অন্তরের চাপা বেদনা আর বাঁধ মানে না। উছলে ওঠে কান্নার ঢেউ।
আমি ভেবে পাই না এখন কী বলা যায়! এবারের ঈদটা কি মাটি হয়ে যাবে ওর? সন্ধ্যার আঁধার ঘন হয়ে আসছে, বাড়ছে মন খারাপের মাত্রা।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2011/08/22/100878
-‘এসেছি তো সকালেই। তোর ফোন বন্ধ কেন?’ কিছুটা ঝাঁঝালো কণ্ঠ আমার।
ও জবাব দেয় না। আরও বেশি করে জড়িয়ে ধরে। কথা বাড়াই না আমিও। জানি কিছুক্ষণ চুপ থাকতে হবে। নীরবে কাটবে কিছু সময়।
ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছি। বছরে দু’তিনবার মাত্র আসা পড়ে। মাগরিবের নামাজ শেষে দাঁড়িয়ে আছি রাস্তায়। হঠাত্ খলিলের সঙ্গে দেখা। ও আমার খুব কাছের একজন বন্ধু। স্কুলজীবন একসঙ্গে পার করেছি। আমি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর ও? বলতে কষ্ট হলেও সত্য ‘পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে।’ এইচএসসিতে ফেল করায় সেদিন থেকে ও যেন একটু দূরে সরে গেছে। সূক্ষ্ম দেয়াল গড়ে উঠেছে আমাদের মধ্যে। কথাটা বোধকরি ভুল হয়ে গেল—‘দূরে সরে যেতে চায়, আড়াল করতে চায় নিজেকে।’ হয়তো পারে, হয়তো পারে না। কেন এ সংকোচ বোধ? ও নিজেও মাঝেমাঝে বলে, ‘তোরা সবাই যখন বাড়িতে এসে একসঙ্গে থাকিস, ভার্সিটি-কলেজের গল্প করিস লজ্জা পায় নিজেকে। তোদের কাছে দাঁড়াতে পারি না। আমিও তো পড়তে পারতাম।’ বলতে বলতে কণ্ঠ ভারি হয়ে আসে ওর। কেঁদে ওঠে ও। জড়িয়ে ধরে আমাকে। এ অবস্থাটা আমার জন্য খুব কষ্টের। কারণ, আমার সহজে কান্না আসে না। সিক্ত হয় না গলা। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। আমার কষ্ট হয় আরেকটা সময়, ঈদের দিনে। এদিন ও আমার সঙ্গে বেড়ায় না। অনুরোধ করার পরও না। বাড়িতে গেলেও পাওয়া যায় না। ঈদের মাঠে যদিও দেখা হয়, কোলাকুলি করার সময় ফুঁপিয়ে ওঠে। চোখ মুছে রুমালে। কিছুক্ষণ জড়িয়ে থাকে। একসময় পালিয়ে যায় অন্যদের সঙ্গে। তখনও আমি বুঝতে পারি না আমার কী করা উচিত! সজল হয় না চোখ। মন বেদনাহত হলেও তা প্রকাশ পায় না। আমি কি হৃদয়হীন? রবীন্দ্রনাথের কথাটা মনে পড়ে—‘জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূন্য রোদন।’
-‘এই এখন ছাড় তো। আয় বসে গল্প করি।’ রাস্তার পাশে বসে পড়ি আমরা। কিছুক্ষণ আগে সূর্য ডুবলেও এখন আবছা আলো, আবছা আঁধার।
-‘তারপর, বল্ কেমন আছিস? ময়নার খবর-টবর কী?’ জিগ্যেস করি আমি।
-‘ভালো না রে! ওর বিয়ে হয়ে গেছে...’
- ‘কি বললি?’ অবিশ্বাস ঝরে পড়ে আমার কণ্ঠে। ময়নার সঙ্গে ওর দীর্ঘদিনের প্রেম। ওর জন্য বড় পাগল ছিল মেয়েটা। কিন্তু আমি জানতাম এ বিয়ে হওয়ার নয়। কারণ, মেয়েটা এখন অনার্স পড়ে। তাছাড়া তার ভাইয়েরা সবাই শিক্ষিত।
-‘হ্যাঁ রে। আমার মতো মুর্খের সঙ্গে ওর বিয়ে দেবে ক্যান্ বল?’ হাউমাউ করে ওঠে ও। অন্তরের চাপা বেদনা আর বাঁধ মানে না। উছলে ওঠে কান্নার ঢেউ।
আমি ভেবে পাই না এখন কী বলা যায়! এবারের ঈদটা কি মাটি হয়ে যাবে ওর? সন্ধ্যার আঁধার ঘন হয়ে আসছে, বাড়ছে মন খারাপের মাত্রা।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2011/08/22/100878
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন