বাম ধারার ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বাসদ) এর কেন্দ্রীয়
সভাপতি তফসীর ভাইসহ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর কয়েকজন ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় নেতার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় ও সুসম্পর্ক রয়েছে।
মতাদর্শের সঙ্গে একমত না হলেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ফি বৃদ্ধির
বিরুদ্ধে সংগ্রামসহ নানা ছাত্রকল্যাণমূলক আন্দোলনে সমর্থন ও সুযোগমতো
অংশগ্রহণ করেছি।
আজ জানলাম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের বুটেক্স সভাপতি ফারুক সাদিক তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মুসলমানদেরকে ‘উন্মত্ত কুকুর’ বলেছেন এবং শপথ করেছেন যতদিন বাঁচবেন ততদিন ‘মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ করে যাবেন। কয়েকটা অনলাইন পত্রিকা এমন সংবাদ প্রচার করছিল। আমি সেসবে কান দিইনি। তবে ফারুক সাদিকের ওয়ালে ঢু মেরে দেখলাম, তিনি নতুন একটি স্টাটাস দিয়েছেন এবং আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মানে ঘটনা সত্য। আগের স্টাটাসটা যে তার তা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।
তবে ফারুক সাদিক এই বক্তব্যকে ছাত্র ইউনিয়নের বক্তব্য নয়, বরং ‘ব্যক্তিগত মতামত’ বলে অভিহিত করেছেন। সাদিক লিখেছেন, এটা আমার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট। এতে ছাত্র ইউনিয়নের কোনো বক্তব্য প্রতিফলিত হয় না। ইউনিয়নের বক্তব্য থাকলে সংগঠনের প্যাডে প্রেস রিলিজ আকারে পাঠাই অথবা সংবাদ সম্মেলনে জানাই। অতএব যেসব পত্রিকা ‘মুসলমানদের উন্মত্ত কুকুর বললেন ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি’ শিরোনাম দিয়েছে, তারা অপসাংবাদিকতা করেছে। বোঝা যাচ্ছে তিনি ছাত্র ইউনিয়নকে বিতর্ক বা সমালোচনার বাইরে রাখতে চাচ্ছেন, সংগঠনকে সেইভ করছেন।
এখানে সাদিক সত্য কথাই বলেছেন। সাদিক নামের অর্থও সত্যবাদী। এখন আমার প্রথম প্রশ্ন হলো, দলের বক্তব্য না হোক, ব্যক্তি হিসেবে তিনি এটা লালন করেন। কিন্তু এমন চরমপন্থী চিন্তাভাবনার ও জঘন্য ভাষা ব্যবহারকারীরা কী করে ছা্ত্র ইউনিয়নের মতো ‘প্রগতিশীল’ সংগঠনের বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন?
দ্বিতীয়ত, ফারুক সাদিক লিখেছেন, ‘মুসলমান’ বলতে তিনি সব মুসলমানকে বুঝাননি, বরং যারা সন্ত্রাসী কাজ করে তাদের বুঝিয়েছেন। আমার সরল প্রশ্ন হচ্ছে, একজন উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি হিসেবে সচেতনভাবে পরিভাষা ব্যবহার করতে পারেননি কেন? এজন্য তো জঙ্গি, মৌলবাদী এ ধরনের শব্দ রয়েছে। মুসলমান এবং জঙ্গি, সন্ত্রাসী একই শব্দ হলে বাংলাদেশকে পাকিস্তান আফগানিস্তান বানাতে এসব নেতারাই ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। পশ্চিমা যুদ্ধ টেনে আনতে চাচ্ছেন।
তৃতীয়ত, যদি তার পরের বক্তব্য সত্য বলে মেনে নিই। তিনি প্রকৃতপক্ষে যদি মুসলমানদের না বুঝিয়ে জঙ্গিদের বুঝিয়ে থাকেন, তবে এই বক্তব্য ছাত্র ইউনিয়নের বক্তব্য হলে সমস্যা কোথায়? ছাত্র ইউনিয়ন কি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে না? ছাত্র ইউনিয়নকে বাঁচানোর চেষ্টা কেন? নাকি পদে সমস্যা হতে পারে সেই ভয়টা কাজ করেছে।
সাদিক যতি সত্যিই সুস্থ মন মানসিকতার হতেন, তবে নিজের অবস্থান তুলে ধরে অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দপ্রয়োগের জন্য ও জঘন্য ভাষা ব্যবহারের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতেন। সাদিকের মতো ব্যক্তিরাই সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভুল ও গন্তব্যে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এমনিতেই বাংলাদেশে বাম মানেই নাস্তিক এমন একটা ‘ইমেজ’ প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকেও ভুল পথে পরিচালিত করেছে এবং করছে বামরা। আওয়ামী লীগ ইসলামবিরোধী কোনো দল নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ নানা ইসলামের জন্য নানা কাজ করেছেন। যখন আওয়ামী লীগের কলকাঠি বামরা নাড়াতে শুরু করলো, তখন থেকে আওয়ালমী লীগ ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন করে ‘ইসলামবিরোধী’ বলে বিতর্কিত ও সমালোচিত হয়েছে। আমাদের মনে আছে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের রাজিবের (থাবা বাবা) কুৎসিত অধ্যায় প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাম ছাত্র সংগঠনের কয়েকজনের নাম সরকারি তালিকায় উঠেছিল। বিতর্কিত লেখার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফকারও করা হয়েছিল।
একথা মনে করার দরকার নেই যে, অভিজিত রায়ের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা যারা নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি, বিচার দাবি করছি, তারা অভিজিতের ধর্মবিদ্বেষী কথাবার্তার সমর্থক। ধর্মীয় জঙ্গিবাদ ও নাস্তিক্য চরমপন্থা- এই দুই ধরনের সন্ত্রাসী থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে হবে।
ফেসবুক
আজ জানলাম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের বুটেক্স সভাপতি ফারুক সাদিক তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মুসলমানদেরকে ‘উন্মত্ত কুকুর’ বলেছেন এবং শপথ করেছেন যতদিন বাঁচবেন ততদিন ‘মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ করে যাবেন। কয়েকটা অনলাইন পত্রিকা এমন সংবাদ প্রচার করছিল। আমি সেসবে কান দিইনি। তবে ফারুক সাদিকের ওয়ালে ঢু মেরে দেখলাম, তিনি নতুন একটি স্টাটাস দিয়েছেন এবং আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মানে ঘটনা সত্য। আগের স্টাটাসটা যে তার তা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।
তবে ফারুক সাদিক এই বক্তব্যকে ছাত্র ইউনিয়নের বক্তব্য নয়, বরং ‘ব্যক্তিগত মতামত’ বলে অভিহিত করেছেন। সাদিক লিখেছেন, এটা আমার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট। এতে ছাত্র ইউনিয়নের কোনো বক্তব্য প্রতিফলিত হয় না। ইউনিয়নের বক্তব্য থাকলে সংগঠনের প্যাডে প্রেস রিলিজ আকারে পাঠাই অথবা সংবাদ সম্মেলনে জানাই। অতএব যেসব পত্রিকা ‘মুসলমানদের উন্মত্ত কুকুর বললেন ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি’ শিরোনাম দিয়েছে, তারা অপসাংবাদিকতা করেছে। বোঝা যাচ্ছে তিনি ছাত্র ইউনিয়নকে বিতর্ক বা সমালোচনার বাইরে রাখতে চাচ্ছেন, সংগঠনকে সেইভ করছেন।
এখানে সাদিক সত্য কথাই বলেছেন। সাদিক নামের অর্থও সত্যবাদী। এখন আমার প্রথম প্রশ্ন হলো, দলের বক্তব্য না হোক, ব্যক্তি হিসেবে তিনি এটা লালন করেন। কিন্তু এমন চরমপন্থী চিন্তাভাবনার ও জঘন্য ভাষা ব্যবহারকারীরা কী করে ছা্ত্র ইউনিয়নের মতো ‘প্রগতিশীল’ সংগঠনের বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন?
দ্বিতীয়ত, ফারুক সাদিক লিখেছেন, ‘মুসলমান’ বলতে তিনি সব মুসলমানকে বুঝাননি, বরং যারা সন্ত্রাসী কাজ করে তাদের বুঝিয়েছেন। আমার সরল প্রশ্ন হচ্ছে, একজন উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি হিসেবে সচেতনভাবে পরিভাষা ব্যবহার করতে পারেননি কেন? এজন্য তো জঙ্গি, মৌলবাদী এ ধরনের শব্দ রয়েছে। মুসলমান এবং জঙ্গি, সন্ত্রাসী একই শব্দ হলে বাংলাদেশকে পাকিস্তান আফগানিস্তান বানাতে এসব নেতারাই ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। পশ্চিমা যুদ্ধ টেনে আনতে চাচ্ছেন।
তৃতীয়ত, যদি তার পরের বক্তব্য সত্য বলে মেনে নিই। তিনি প্রকৃতপক্ষে যদি মুসলমানদের না বুঝিয়ে জঙ্গিদের বুঝিয়ে থাকেন, তবে এই বক্তব্য ছাত্র ইউনিয়নের বক্তব্য হলে সমস্যা কোথায়? ছাত্র ইউনিয়ন কি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে না? ছাত্র ইউনিয়নকে বাঁচানোর চেষ্টা কেন? নাকি পদে সমস্যা হতে পারে সেই ভয়টা কাজ করেছে।
সাদিক যতি সত্যিই সুস্থ মন মানসিকতার হতেন, তবে নিজের অবস্থান তুলে ধরে অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দপ্রয়োগের জন্য ও জঘন্য ভাষা ব্যবহারের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতেন। সাদিকের মতো ব্যক্তিরাই সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভুল ও গন্তব্যে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এমনিতেই বাংলাদেশে বাম মানেই নাস্তিক এমন একটা ‘ইমেজ’ প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকেও ভুল পথে পরিচালিত করেছে এবং করছে বামরা। আওয়ামী লীগ ইসলামবিরোধী কোনো দল নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ নানা ইসলামের জন্য নানা কাজ করেছেন। যখন আওয়ামী লীগের কলকাঠি বামরা নাড়াতে শুরু করলো, তখন থেকে আওয়ালমী লীগ ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন করে ‘ইসলামবিরোধী’ বলে বিতর্কিত ও সমালোচিত হয়েছে। আমাদের মনে আছে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের রাজিবের (থাবা বাবা) কুৎসিত অধ্যায় প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাম ছাত্র সংগঠনের কয়েকজনের নাম সরকারি তালিকায় উঠেছিল। বিতর্কিত লেখার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফকারও করা হয়েছিল।
একথা মনে করার দরকার নেই যে, অভিজিত রায়ের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা যারা নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি, বিচার দাবি করছি, তারা অভিজিতের ধর্মবিদ্বেষী কথাবার্তার সমর্থক। ধর্মীয় জঙ্গিবাদ ও নাস্তিক্য চরমপন্থা- এই দুই ধরনের সন্ত্রাসী থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে হবে।
ফেসবুক
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন